মাটির নিচে বিষ
পর্ব ১: কালো দাগ
আনোয়ারা বেগমের হাতের তালুতে কালো কালো দাগ। বয়স ৪৫, কিন্তু দেখতে ৬০-এর মতো। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার একটা ছোট গ্রাম। ১৯৯৫ সালে একটা এনজিও এসে তাদের গ্রামে নলকূপ বসিয়ে দিয়েছিল। পুকুরের পানি খেয়ে ডায়রিয়া হতো, কলেরা হতো, বাচ্চারা মারা যেত। নলকূপের পানি পরিষ্কার, নিরাপদ, এই ছিল প্রতিশ্রুতি।
আনোয়ারা বিশ বছর ধরে সেই নলকূপের পানি খেয়েছে। রান্না করেছে, গোসল করেছে, ধান ধুয়েছে। তারপর একদিন হাতে দাগ দেখা গেল। পায়ে দাগ। ত্বক শক্ত হয়ে গেল, খসখসে। ডাক্তার বললেন, আর্সেনিকোসিস। নলকূপের পানিতে আর্সেনিক। ভূগর্ভের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে মিশে থাকা আর্সেনিক, যেটা মাটির নিচ থেকে টেনে তোলা হচ্ছিল প্রতিদিন।
আনোয়ারা একা নয়।
বাংলাদেশে আনুমানিক ২ কোটি মানুষ আর্সেনিক-দূষিত পানি পান করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে বলেছে "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণবিষক্রিয়া"। কলেরা থেকে বাঁচাতে গিয়ে আমরা মানুষকে ধীরে ধীরে বিষ খাওয়াচ্ছি। একটা সমাধান তৈরি করেছে আরেকটা সমস্যা, আর সেই সমস্যা দশকের পর দশক ধরে চুপচাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে।
এই চার্টটা দেখুন:
১৯৯৩ সালে প্রথম বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হয়। তখন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল কম, পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কম ছিল। কিন্তু যত পরীক্ষা হলো, সংখ্যা বাড়তে থাকলো। ২০০০ সালে ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে আর বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) মিলে যে জরিপ করলো, তার ফল ছিল ভয়াবহ। দেশের ৬১টি জেলার মধ্যে ৫৯টিতে আর্সেনিক পাওয়া গেলো। প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে।
কিন্তু আর্সেনিক সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। কিছু এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। চাঁদপুর, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, এই জেলাগুলোতে আর্সেনিকের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা বিভাগ আর চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জনসংখ্যা। রাজশাহী আর রংপুরে তুলনামূলক কম, কারণ সেখানকার ভূতত্ত্ব ভিন্ন। কিন্তু "কম" মানেও লাখ লাখ মানুষ।
আর্সেনিকোসিস ধীরে কাজ করে। প্রথমে ত্বকে দাগ। তারপর হাত-পায়ে ঘা। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনি দুর্বল হয়। সবশেষে ক্যান্সার। মূত্রাশয়, ফুসফুস, ত্বকের ক্যান্সার। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিক-দূষিত পানি পান করা মানুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫-৭ গুণ বেশি।
আনোয়ারা এখন জানে তার পানি বিষাক্ত। কিন্তু বিকল্প কোথায়? গভীর নলকূপ বসাতে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে। পাইপলাইনের পানি তার গ্রামে আসেনি। পুকুরের পানি এখনো অনিরাপদ। আনোয়ারা এখনো সেই একই নলকূপ থেকে পানি খায়। কারণ বিকল্প নেই।
কিন্তু আর্সেনিক বাংলাদেশের মাটির একমাত্র সমস্যা নয়। মাটি নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে।
পর্ব ২: মাটি যখন শেষ হয়ে যায়
বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে প্রতিদিন। প্রতিদিন গড়ে ২২০ একর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। বছরে প্রায় ৮০,০০০ একর। কোথায় যাচ্ছে এই জমি?
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষপ্রতি আবাদযোগ্য জমি ছিল ০.১৩ হেক্টর। আজ সেটা ০.০৫ হেক্টরের কম। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটিতে মানুষ বাড়ছে, জমি কমছে। এই দুটো রেখা যেখানে মিলবে, সেটা একটা সংকটের নাম।
কিন্তু শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি না। জমি হারানোর কারণ অনেক, এবং প্রতিটা কারণ মানুষের তৈরি।
নগরায়ণ সবচেয়ে বড় কারণ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, শহরগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ধানের মাঠ ভরাট হচ্ছে বালু দিয়ে, তার উপর উঠছে আবাসন প্রকল্প, শপিং মল, কারখানা। ঢাকার চারপাশের কেরানীগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, এই এলাকাগুলোতে একটু জমি থাকলেই কেউ না কেউ ভরাট করছে।
দ্বিতীয় বড় কারণ: ইটভাটা।
বাংলাদেশে প্রায় ৮,০০০ ইটভাটা আছে। প্রতিটা ইটভাটা প্রতি বছর উপরের মাটির একটা স্তর তুলে নেয়, পোড়ায়, ইট বানায়। এই উপরের মাটি, যেটাকে বলে টপসয়েল, সেটাই কৃষির জন্য সবচেয়ে উর্বর অংশ। একবার তুলে নিলে সেই জমিতে আর আগের মতো ফসল হয় না।
প্রতি বছর ইটভাটাগুলো আনুমানিক ১,৫০০-২,০০০ একর জমির টপসয়েল গ্রাস করে। আর এই ইট দিয়ে কী হয়? বাড়ি বানানো হয়, সেই বাড়ি বানাতে আরো কৃষিজমি ভরাট করতে হয়। একটা ধ্বংসের চক্র।
তৃতীয় কারণ: নদীভাঙন। বাংলাদেশের নদীগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমি গ্রাস করে। পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, তিস্তা, এই নদীগুলোর তীরে বসবাসকারী মানুষ জানে, যেকোনো বর্ষায় তাদের বাড়ি, জমি, সবকিছু নদীতে চলে যেতে পারে। নদীভাঙন একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে বন্যার তীব্রতা বাড়ায় এটা আরো খারাপ হচ্ছে।
চতুর্থ কারণ: শিল্পায়ন। অর্থনৈতিক অঞ্চল, গার্মেন্টস কারখানা, ওষুধ কোম্পানি, সবকিছুর জন্য জমি লাগে। এবং সেই জমি আসে কৃষি থেকে।
একটা দেশ যেখানে ১৭ কোটি মানুষের খাবার দরকার, সেখানে প্রতিদিন ২২০ একর কৃষিজমি হারানো মানে ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলা। আমরা আজ চাল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু যদি জমি এই হারে কমতে থাকে, আর জনসংখ্যা বাড়তে থাকে, সেই স্বয়ংসম্পূর্ণতা কতদিন টিকবে?
আর দক্ষিণে আরেকটা শত্রু এগিয়ে আসছে। লবণ।
পর্ব ৩: লবণের আগ্রাসন
বাংলাদেশের দক্ষিণে সুন্দরবন, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা। এই এলাকাগুলোতে একটা নীরব যুদ্ধ চলছে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ধীরে ধীরে উত্তরে এগিয়ে আসছে।
কেন? তিনটা কারণ। প্রথমত, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, উজানে পানি প্রবাহ কমে যাওয়া। ভারত ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে গঙ্গার পানি সরিয়ে নেওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদীতে মিঠা পানির চাপ কমে যায়, ফলে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। তৃতীয়ত, ঘূর্ণিঝড়। আইলা, সিডর, আম্পান, প্রতিটা ঘূর্ণিঝড় বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে দেয়, যেটা বছরের পর বছর মাটিতে থেকে যায়।
১৯৭৩ সালে লবণাক্ততার সীমানা ছিল সুন্দরবনের কাছাকাছি। আজ সেটা ১৬০ কিলোমিটারেরও বেশি উত্তরে চলে এসেছে। প্রতি দশকে ১৫-২০ কিলোমিটার করে এগিয়ে আসছে।
এর প্রভাব কৃষিতে সরাসরি পড়ছে।
লবণাক্ত এলাকায় ধানের ফলন অলবণাক্ত এলাকার তুলনায় ২৫-৪০% কম। কিছু জায়গায় ধান চাষ একেবারে সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা বাধ্য হয়ে চিংড়ি চাষে ঢুকছে, কারণ চিংড়ি লবণাক্ত পানিতে হয়। কিন্তু চিংড়ির ঘেরে যে পানি ঢোকানো হয়, সেটা আশেপাশের কৃষিজমিকেও লবণাক্ত করে দেয়। একজনের চিংড়ি চাষ পাশের কৃষকের ধানের মাঠ নষ্ট করছে।
সাতক্ষীরা জেলায় ২০০৯ সালের আইলার পর হাজার হাজার একর জমি লবণাক্ত হয়ে গেছে। ১৫ বছরেও সেই জমি পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কৃষকরা জমি ছেড়ে শহরে চলে যাচ্ছে। জলবায়ু শরণার্থী, এই শব্দটা বাংলাদেশে আর তাত্ত্বিক না। এটা বাস্তব।
আইপিসিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ১৭% ভূমি তলিয়ে যাবে। ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। আর সেই আগে থেকেই লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়বে অনেক দূর পর্যন্ত। দক্ষিণের কৃষি যদি ভেঙে পড়ে, সেই চাপ পড়বে মধ্য ও উত্তর বাংলাদেশের উপর, যেখানে জমি ইতিমধ্যেই কমছে নগরায়ণ আর ইটভাটার কারণে।
পর্ব ৪: বন কেটে ন্যাড়া করা
কৃষিজমি হারাচ্ছি, লবণাক্ততা বাড়ছে, আর একই সাথে আমরা বনও ধ্বংস করছি। বন মাটিকে ধরে রাখে, বৃষ্টির পানি শোষণ করে, বন্যা ঠেকায়, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে। বন না থাকলে মাটি ক্ষয় হয়, নদী ভরাট হয়, বন্যা বাড়ে, তাপমাত্রা বাড়ে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বনাচ্ছাদন ছিল মোট ভূমির প্রায় ১৫-১৬%। আজ সরকারি হিসাবে ১১-১২% বলা হয়, কিন্তু প্রকৃত ঘন বনাচ্ছাদন সম্ভবত ৬-৭%। পৃথিবীর গড় বনাচ্ছাদন ৩১%। বাংলাদেশ তার অর্ধেকেরও কম।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) বাংলাদেশের বনের একটা বড় অংশ ধারণ করে। কিন্তু জুম চাষ, অবৈধ বন উজাড়, বসতি স্থাপন, তামাক চাষ, এসব কারণে প্রতি বছর বন কমছে। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাছের আচ্ছাদন হারিয়ে গেছে।
মধুপুর গড়ের শালবন আরেকটা উদাহরণ। একসময় ঘন শালবনে ঢাকা ছিল এই এলাকা। আজ সেখানে কলা বাগান, আনারস বাগান, রাবার বাগান। বন কেটে একফসলি বাগান করা হয়েছে। জীববৈচিত্র্য শেষ। মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট। গারো, কোচ, এই আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জীবনযাত্রা ধ্বংস।
সুন্দরবন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, সেটাও চাপে আছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুন্দরী গাছের মরে যাওয়া, চোরাই কাঠ পাচার, চিংড়ি ঘেরের জন্য বন কাটা। সুন্দরবন দক্ষিণ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল। ঘূর্ণিঝড়ের সময় সুন্দরবন বাতাসের গতি ৩০-৪০% কমিয়ে দেয়। এই ঢাল যদি দুর্বল হয়ে যায়, পরবর্তী আইলা বা সিডরে ক্ষয়ক্ষতি কয়েকগুণ বাড়বে।
বনের সাথে মানুষের সম্পর্ক বাংলাদেশে সবসময়ই টানাপোড়েনের। গরিব মানুষ বন থেকে জ্বালানি কাঠ আনে, ঘর বানায়, পশুর খাবার যোগাড় করে। তাদের কাছে "পরিবেশ সংরক্ষণ" একটা বিলাসিতা। আগে পেট ভরুক, তারপর পরিবেশ। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে বন রক্ষা করা যাবে না।
পর্ব ৫: কত খরচ করছি, কত দরকার
আমরা সমস্যাগুলো দেখলাম। আর্সেনিক, জমি হারানো, লবণাক্ততা, বন ধ্বংস। এবার প্রশ্ন: সরকার কী করছে? কত খরচ করছে?
আর্সেনিক প্রশমনে সরকারি ও দাতা সংস্থার খরচ বছরে ৮০-১০০ কোটি টাকা। ২ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে প্রকৃত প্রয়োজন? বছরে ৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি। মানে যা খরচ হচ্ছে, তা প্রয়োজনের ২% এরও কম।
একই চিত্র লবণাক্ততায়। বাঁধ মেরামত, লবণসহিষ্ণু ফসল গবেষণা, বিকল্প জীবিকা, সব মিলিয়ে বরাদ্দ অতি সামান্য। বন বিভাগের বাজেট দিয়ে পুরো দেশের বন রক্ষা করা সম্ভব না।
কিন্তু আশা একদম নেই, এমনও না। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BRRI) লবণসহিষ্ণু ধানের জাত তৈরি করেছে। BRAC আর্সেনিক-মুক্ত পানির জন্য কমিউনিটি ফিল্টার বসাচ্ছে। সোলার চালিত পানি শোধনাগার পরীক্ষামূলকভাবে চলছে কিছু জেলায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ছোট পরিসরে কাজ করছে। ইটভাটার বিকল্প হিসেবে কম্প্রেসড আর্থ ব্লক আর কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ছে।
কিন্তু এগুলো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ। ছোট স্কেল। সমস্যা যেখানে জাতীয়, সমাধান সেখানে স্থানীয় আর সীমিত। এটাই মূল সমস্যা।
এবার আনোয়ারার কাছে ফিরে আসি।
আনোয়ারা বেগম আজও চাঁদপুরে আছে। তার হাতের কালো দাগ আরো ছড়িয়েছে। ডাক্তার বলেছে লিভারের সমস্যা হচ্ছে। নিরাপদ পানির নলকূপ তার গ্রামে এখনো আসেনি। তার ছেলে ঢাকায় চলে গেছে কাজের খোঁজে, কারণ তাদের জমি নদীতে গেছে। তার মেয়ে সাতক্ষীরায় বিয়ে হয়েছিল, সেখানে জমি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় জামাই কাজ হারিয়েছে।
একটা পরিবার। তিনটা সমস্যা। আর্সেনিক, নদীভাঙন, লবণাক্ততা। এই তিনটা সমস্যা আলাদা মনে হয়, কিন্তু আসলে এগুলো একই সমস্যার তিনটা মুখ: বাংলাদেশের মাটি আর পানির উপর চাপ সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
১৭ কোটি মানুষ। ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। প্রতিদিন ২২০ একর জমি হারানো। ২ কোটি মানুষ আর্সেনিক-দূষিত পানি খাচ্ছে। দক্ষিণে লবণ এগিয়ে আসছে। বন কমছে।
এই দেশের মানুষ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, সবকিছু সামলায়। কিন্তু প্রকৃতি যখন মানুষের শত্রু হয় নীরবে, ধীরে ধীরে, দাগে দাগে, লবণে লবণে, তখন সেটা সামলানো কঠিন। কারণ তখন শত্রুটাকে চোখে দেখা যায় না।
আনোয়ারা চোখে দেখতে পায় না তার পানিতে কী মেশানো। কৃষক বুঝতে পারে না তার মাটি কেন আর আগের মতো ফসল দেয় না। মা বুঝতে পারে না তার বাচ্চার ত্বকে কেন দাগ হচ্ছে।
মাটির নিচে বিষ। আর আমরা সেটা দেখেও না দেখার ভান করছি। প্রশ্ন হলো: কতদিন?