ব্যাংক লুট: হলমার্ক থেকে ই-অরেঞ্জ
পর্ব ১: যে ডাকাতিতে বন্দুক লাগেনি
২০১২ সালের কথা। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো সরকারি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, একটা চিঠি পেলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। চিঠির বিষয়: সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ৩,৫৪৭ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে।
৩,৫৪৭ কোটি টাকা। একটা শাখা থেকে। একটা কোম্পানির কাছে।
কোম্পানির নাম: হলমার্ক গ্রুপ। এদের ব্যবসা ছিল তৈরি পোশাক রপ্তানি। সোনালী ব্যাংকের এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) সুবিধা নিয়ে তারা কাঁচামাল আমদানি করতো। অন্তত কাগজে তাই লেখা ছিল। বাস্তবে? কোনো কাঁচামাল আসেনি। এলসির কাগজপত্র ভুয়া ছিল। ব্যাংক ম্যানেজার জানতেন। কর্মকর্তারা জানতেন। কিন্তু টাকা যেতে থাকলো। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।
কীভাবে সম্ভব হলো? কারণ হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদের ছিল "সঠিক সংযোগ"। সোনালী ব্যাংকের এমডি, শাখা ম্যানেজার, এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত এই জালিয়াতিতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
হলমার্ক কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। এটা ছিল বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চলমান একটা সিস্টেমের সবচেয়ে নগ্ন উদাহরণ।
এই চার্টটা দেখুন। ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বড় বড় ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা সাজানো আছে। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক, ই-অরেঞ্জ, ফার্মার্স ব্যাংক (এখন পদ্মা ব্যাংক)। প্রতিটা ঘটনায় একই প্যাটার্ন: রাজনৈতিক সংযোগ, ভুয়া কাগজপত্র, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ, আর শেষে কোনো কার্যকর শাস্তি নেই।
এবার মোট ক্ষতির হিসাব দেখুন।
বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, আর বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার হিসাব মেলালে গত দুই দশকে ব্যাংক জালিয়াতির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৯০,০০০ কোটি টাকার বেশি। এই টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বিশবার বানানো যেত। অথবা প্রতিটা জেলায় একটা করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সাথে একটা আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল।
কিন্তু সেই টাকা গেছে। কিছু মানুষের পকেটে, কিছু বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, কিছু ঢাকা-চট্টগ্রামের জমি আর ফ্ল্যাটে।
আর উদ্ধার? সেই অংশটাই সবচেয়ে লজ্জার।
পর্ব ২: ৯৫ পয়সায় ১ টাকাও ফেরত আসেনি
বাংলাদেশের ব্যাংক জালিয়াতির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক চুরি না। চুরি তো সারা পৃথিবীতে হয়। ভয়ংকর দিক হলো উদ্ধারের হার।
এই চার্টটা দেখে থামুন। মোট জালিয়াতির ৫% এরও কম উদ্ধার হয়েছে। হলমার্কের ৩,৫৪৭ কোটি থেকে উদ্ধার? ২০০ কোটির মতো, মানে ৫.৬%। বেসিক ব্যাংকের ৪,৫০০ কোটি থেকে? ১৫০ কোটি, মানে ৩.৩%। ই-অরেঞ্জের ৩,২০০ কোটি থেকে? প্রায় শূন্য।
কেন এত কম? তিনটা কারণ।
প্রথমত, মামলা চলে দশকের পর দশক। হলমার্ক মামলা শুরু হয়েছে ২০১২ সালে। ২০২৬ সালেও চলছে। ততদিনে সম্পদ পাচার হয়ে গেছে, সাক্ষী "হারিয়ে" গেছে, কাগজপত্র "নষ্ট" হয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, সম্পদ ক্রোক হয় না সময়মতো। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর অভিযুক্তদের সম্পদ তাৎক্ষণিক জব্দ করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। মামলা শুরু হতে হতে তারা বাড়ি, জমি, গাড়ি, সব বিক্রি করে ফেলে বা পরিবারের নামে হস্তান্তর করে।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সুরক্ষা। অভিযুক্তদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সংযুক্ত। তাই মামলা ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে চলে, সাক্ষ্যপ্রমাণ "দুর্বল" হয়ে যায়, বিচারক বদলি হয়ে যান।
এবার দেখুন কোন ধরনের ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে।
অবাক হওয়ার কিছু নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে জালিয়াতির পরিমাণ বেসরকারি ব্যাংকের প্রায় তিন গুণ। কারণ সোজা: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বোর্ডে বসেন রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তরা। তারা পেশাদার ব্যাংকার না, তারা দলীয় লোক। তাদের কাজ ব্যাংক চালানো না, তাদের কাজ "ম্যানেজ" করা। অর্থাৎ দলের লোকদের ঋণ দেওয়া, জালিয়াতিতে চোখ বন্ধ রাখা, আর বিনিময়ে নিজের ভাগটা নেওয়া।
এটা কোনো গোপন তথ্য না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. আতিউর রহমান নিজেই বলেছেন যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে "রাজনৈতিক ঋণ" একটা কাঠামোগত সমস্যা। কিন্তু জানা থাকলেও কিছু হয়নি। কারণ এই ব্যবস্থা থেকে যারা লাভবান, তারাই ক্ষমতায়।
পর্ব ৩: ডাকাতদের মুখগুলো
বাংলাদেশের বড় ব্যাংক জালিয়াতিগুলো খুঁটিয়ে দেখলে একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়: প্রায় প্রতিটা বড় জালিয়াতির পেছনে রাজনৈতিক সংযোগ আছে।
হলমার্কের তানভীর মাহমুদ ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু নিজেই একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফার্মার্স ব্যাংকের পেছনে ছিলেন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। ই-অরেঞ্জের মালিকদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা না। এটা একটা সিস্টেম। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই আকারের জালিয়াতি সম্ভব না। একটা ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার একা ৩,৫০০ কোটি টাকা লুট করতে পারেন না। এর জন্য লাগে ওপর থেকে সবুজ সংকেত। আর সেই সবুজ সংকেত আসে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছ থেকে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কি কিছু করেনি?
দুদক মামলা করেছে, হ্যাঁ। কিন্তু এই চার্টটা ভালো করে দেখুন। মামলা দায়ের হয় অনেক, কিন্তু সাজার হার? মোট দায়ের করা মামলার ১০% এরও কম সাজা পেয়েছে। আর সেই সাজাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কর্মচারীদের হয়, বড় মাছ পার পেয়ে যায়। হলমার্ক মামলায় প্রধান অভিযুক্ত তানভীর মাহমুদের সাজা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু টাকা উদ্ধার? প্রায় শূন্য। বেসিক ব্যাংক মামলায় আব্দুল হাই বাচ্চু মারা গেছেন বিচার শেষ হওয়ার আগেই। টাকা? হাওয়া।
এটা কি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা? অন্য দেশে কি ব্যাংক জালিয়াতি হয় না? হয়। কিন্তু পার্থক্যটা হলো প্রতিক্রিয়ায়।
পর্ব ৪: নীরভ মোদি আর আমাদের পার্থক্য
২০১৮ সালে ভারতের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB) থেকে ১৩,০০০ কোটি রুপি (প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা) জালিয়াতি ধরা পড়লো। অভিযুক্ত: হীরা ব্যবসায়ী নীরভ মোদি। পদ্ধতি? ভুয়া LoU (Letters of Undertaking) ব্যবহার করে বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ তোলা।
এখানে পর্যন্ত হলমার্কের সাথে মিল আছে। কিন্তু এরপর যা হলো, সেখানেই পার্থক্য।
ভারত কী করলো? প্রথমত, নীরভ মোদির সম্পদ তাৎক্ষণিক জব্দ করা হলো: লন্ডনের ফ্ল্যাট, হীরার স্টক, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। দ্বিতীয়ত, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি হলো। তৃতীয়ত, ব্রিটেন থেকে তাকে প্রত্যর্পণ করা হলো। চতুর্থত, ভারতের Enforcement Directorate ও CBI মিলে প্রায় ২,০০০ কোটি রুপি উদ্ধার করলো। পঞ্চমত, PNB-র দায়ী কর্মকর্তাদের দ্রুত শাস্তি হলো।
বাংলাদেশে? হলমার্ক ধরা পড়ার পর অভিযুক্তরা বছরের পর বছর জামিনে ঘুরে বেড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিচারের মুখ দেখেননি। ই-অরেঞ্জের টাকা কোথায় গেছে কেউ জানে না। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনার কোনো কার্যকর প্রচেষ্টা নেই।
পার্থক্যটা প্রাতিষ্ঠানিক। ভারতে CBI, ED, SFIO, NCLT এই সংস্থাগুলো তুলনামূলকভাবে স্বাধীন। বাংলাদেশে দুদক সরকারের ইচ্ছার বাইরে কাজ করতে পারে না। অর্থঋণ আদালতে একটা মামলা ৫ থেকে ১০ বছর ঝুলে থাকে।
এই জালিয়াতিগুলো শুধু সংখ্যা না। এগুলোর একটা সরাসরি প্রভাব আছে সাধারণ মানুষের ওপর।
পর্ব ৫: আপনার পকেট থেকে যাচ্ছে
আপনি হয়তো ভাবছেন, "আমি তো সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখিনি। আমার কী?" আপনার অনেক কিছু।
প্রথমত, ব্যাংক জালিয়াতির ক্ষতি পূরণে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে "রিক্যাপিটালাইজেশন" করে, মানে জনগণের ট্যাক্সের টাকা ঢালে। গত দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রিক্যাপিটালাইজেশন হয়েছে ২০,০০০ কোটি টাকার বেশি। এই টাকা কোথা থেকে এলো? আপনার ভ্যাট থেকে, আপনার আয়কর থেকে, আপনার সন্তানের শিক্ষা বাজেট থেকে কেটে।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংক জালিয়াতি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুদের হার বাড়ায়। খেলাপি ঋণের ক্ষতি পোষাতে ব্যাংক সৎ ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি সুদ নেয়। আপনি যখন গৃহঋণ নিচ্ছেন ১২% সুদে, সেই উচ্চ সুদের একটা কারণ হলো অন্য কেউ ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি।
তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই পরিসংখ্যান দেখেন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ কম কেন? কারণ কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী এমন দেশে টাকা রাখতে চায় না যেখানে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যায় আর কিছু হয় না।
এই প্রবণতা কি কমছে? না।
এই চার্ট দেখুন। বছর অনুযায়ী জালিয়াতির পরিমাণ বাড়ছে, কমছে না। ২০০৫ থেকে ২০১০ এর মধ্যে বড় কেলেঙ্কারি ছিল কম। ২০১০ এর পর থেকে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংক, ই-অরেঞ্জ, একের পর এক আসতে থাকলো। সিস্টেম শক্তিশালী হয়নি, বরং দুর্বল হয়েছে।
আর ব্যাংকগুলো যখন এই খেলাপি ঋণ মোকাবেলা করতে পারে না, তখন তারা কী করে? ঋণ অবলোপন (write-off) করে। মানে হিসাবের বই থেকে মুছে দেয়। টাকা ফেরত আসেনি, কিন্তু আর দেখাচ্ছেও না।
গত এক দশকে ব্যাংকগুলো ৬০,০০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ অবলোপন করেছে। এটা একটা হিসাবের কৌশল যেটা ব্যাংকের ব্যালান্স শিট "পরিষ্কার" দেখায়, কিন্তু আসলে টাকা হারিয়ে গেছে। অবলোপন মানে ক্ষমা না, আইনত ঋণগ্রহীতা এখনো দায়ী। কিন্তু বাস্তবে? অবলোপনের পর কেউ আর সেই টাকা খোঁজে না।
পর্ব ৬: কী করা যেতো, কী করা উচিত
হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ১৩ বছর পার হয়ে গেছে। এই ১৩ বছরে কী হয়েছে? আরো জালিয়াতি। আরো খেলাপি। আরো অবলোপন। মানে কিছুই হয়নি।
কিন্তু সমাধান অসম্ভব না। অন্য দেশ করে দেখিয়েছে। চারটা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ।
পদক্ষেপ ১: ঋণ জালিয়াতি আইনকে শক্তিশালী করুন। বর্তমানে ব্যাংক জালিয়াতি অর্থঋণ আদালতে বিচার হয়, যেটা ক্ষমতায় দুর্বল এবং গতিতে ধীর। ভারতের মতো বিশেষায়িত আর্থিক ট্রাইবুনাল দরকার যেখানে ৩৬৫ দিনের মধ্যে রায় বাধ্যতামূলক। জালিয়াতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি হলে সম্পদ তাৎক্ষণিক জব্দ হবে, পাসপোর্ট বাতিল হবে, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসবে।
পদক্ষেপ ২: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বোর্ড থেকে রাজনীতি সরান। বোর্ড সদস্য নিয়োগ হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে না। একটা স্বাধীন নিয়োগ কমিটি থাকবে যেটা পেশাদার ব্যাংকারদের মধ্য থেকে বোর্ড সদস্য বাছবে। সিঙ্গাপুরের Temasek মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে, যেখানে সরকারি কোম্পানিগুলো পেশাদার ব্যবস্থাপনায় চলে।
পদক্ষেপ ৩: হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন চালু করুন। ব্যাংকের ভেতর থেকে জালিয়াতি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মচারীদের সুরক্ষা দিন। আমেরিকায় Dodd-Frank Act-এর অধীনে হুইসেলব্লোয়াররা জালিয়াতি উদ্ধারের ১০-৩০% পুরস্কার পান। বাংলাদেশে এরকম ব্যবস্থা থাকলে হলমার্ক জালিয়াতি হয়তো প্রথম বছরেই ধরা পড়তো, ১২ বছর পর না।
পদক্ষেপ ৪: ঋণ তথ্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করুন। কে কত ঋণ নিয়েছে, কত ফেরত দিয়েছে, কার ঋণ খেলাপি, এই তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন। ভারতের Credit Information Bureau (CIBIL), আমেরিকার FICO, এগুলো প্রমাণ করেছে যে স্বচ্ছতা নিজেই একটা প্রতিরোধক। যখন কেউ জানে যে তার খেলাপির তথ্য সবাই দেখতে পাবে, সে দশবার ভাবে ঋণ না ফেরত দেওয়ার আগে।
এই পদক্ষেপগুলো বিপ্লব না। এগুলো বিশ্বের বহু দেশে প্রমাণিত পদ্ধতি। বাংলাদেশ শুধু পিছিয়ে আছে।
কিন্তু পিছিয়ে থাকা আর পিছিয়ে পড়া এক কথা না। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে, পড়ে যায়নি। সময় আছে।
তবে সময় অসীম না। প্রতিটা নতুন জালিয়াতি, প্রতিটা অবলোপন, প্রতিটা ব্যর্থ মামলা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরেকটু কমিয়ে দেয়। আর যেদিন আস্থা পুরোপুরি ভেঙে যাবে, সেদিন কোনো রিক্যাপিটালাইজেশন কাজ করবে না।
হলমার্কের তানভীর মাহমুদ জেলে আছেন। কিন্তু ৩,৫৪৭ কোটি টাকা? সেই টাকা কখনো ফেরত আসবে না। সেই টাকা ছিল আপনার, আমার, শামিমের, রিকশাচালক করিমের, স্কুলশিক্ষিকা নাসরিনের। আমরা সবাই একটু একটু করে হারিয়েছি। জানিও না কত হারিয়েছি।
প্রশ্ন একটাই: পরবর্তী হলমার্ক কখন আসবে? আর সেটা ঠেকানোর জন্য আমরা কিছু করবো, নাকি আবারও শুধু দেখবো?