বুড়িগঙ্গার মৃত্যু সনদ
পর্ব ১: কালো জল
ঢাকার সদরঘাট। ভোর পাঁচটা। রহমত মিয়া তার জালটা পানিতে ফেলে বসে আছে। বয়স ষাটের কোঠায়। চল্লিশ বছর ধরে এই নদীতে মাছ ধরেন। আগে ইলিশ পেতেন, রুই পেতেন, কাতলা পেতেন। এখন? কিছু পান না। জাল ফেললে উঠে আসে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, আর কালো কাদা।
"আশির দশকে এই পানি পরিষ্কার ছিল," রহমত মিয়া বলেন। "আমরা গোসল করতাম এই নদীতে। পানি খেতাম। মাছ ধরে সংসার চালাতাম। এখন এই পানিতে হাত ডোবালে চামড়া জ্বলে।"
রহমত মিয়া একা না। বুড়িগঙ্গার তীরে এক সময় হাজার হাজার জেলে পরিবার ছিল। এখন তারা প্রায় সবাই পেশা বদলে রিকশা চালাচ্ছে, নির্মাণ শ্রমিক হয়েছে, কিংবা ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে। একটা নদী মরে গেছে, আর তার সাথে মরে গেছে হাজারো মানুষের জীবিকা।
কিন্তু বুড়িগঙ্গা "মরেছে" মানে কী? সংখ্যা দিয়ে বুঝি।
একটা নদী বেঁচে আছে কি না, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen, DO)। মাছ বাঁচতে হলে DO দরকার লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম। ৩ মিলিগ্রামের নিচে নামলে বেশিরভাগ জলজ প্রাণী মারা যায়। ১ মিলিগ্রামের নিচে? সেটা জৈবিকভাবে মৃত পানি।
এই চার্টটা দেখুন:
বুড়িগঙ্গায় শুষ্ক মৌসুমে DO প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। ০.১ থেকে ০.৫ মিলিগ্রাম/লিটার। এটা পানি না, এটা রাসায়নিক বর্জ্যের মিশ্রণ। বর্ষায় পানি বাড়লে কিছুটা ভালো হয়, কিন্তু তখনও মান অত্যন্ত খারাপ। গত তিন দশকে DO ক্রমাগত কমেছে। ১৯৯০ সালে শুষ্ক মৌসুমেও ৩-৪ মিলিগ্রাম পাওয়া যেত। এখন? শূন্যের কাছাকাছি।
কিন্তু বুড়িগঙ্গার এই হাল হলো কেন? কে এই নদীকে মারলো? উত্তর জানতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে, হাজারীবাগের গলিতে।
পর্ব ২: শিল্পের বিষ
ঢাকার হাজারীবাগ। একটা নাম যেটা শুনলেই নাকে গন্ধ আসে। এই এলাকায় ছিল ২০০টির বেশি ট্যানারি (চামড়া কারখানা)। দেড় শতাধিক বছর ধরে এই কারখানাগুলো বুড়িগঙ্গায় সরাসরি বর্জ্য ফেলেছে। ক্রোমিয়াম, সীসা, সালফিউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া। প্রতিদিন ২২,০০০ ঘনলিটার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে।
ট্যানারি একা না। ঢাকার চারপাশে টেক্সটাইল কারখানা, ডাইং ফ্যাক্টরি, প্লাস্টিক কারখানা, ওষুধ কারখানা, সবাই মিলে বুড়িগঙ্গাকে ব্যবহার করেছে ড্রেনেজ হিসেবে। নদী তাদের কাছে পানির উৎস না, বর্জ্যের ভাগাড়।
এই চার্টটা দেখুন:
বুড়িগঙ্গার দূষণের উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: শিল্প বর্জ্য ৬০%, পৌর পয়ঃনিষ্কাশন ৩০%, কঠিন বর্জ্য ও অন্যান্য ১০%। শিল্প বর্জ্যের মধ্যে ট্যানারি একাই দায়ী ছিল প্রায় অর্ধেকের জন্য।
২০১৭ সালে সরকার অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো: হাজারীবাগের ট্যানারি সাভারের হেমায়েতপুরে সরানো হবে। সেখানে আধুনিক কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র (CETP) থাকবে। পরিকল্পনা চমৎকার ছিল। বাস্তবায়ন? বিপর্যয়।
ট্যানারিগুলো সাভারে গেছে। কিন্তু CETP পুরোপুরি চালু হয়নি। যতটুকু চালু হয়েছে তার ক্ষমতা যথেষ্ট নয়। ফলে? এখন বুড়িগঙ্গার বদলে ধলেশ্বরী দূষিত হচ্ছে। দূষণ এক নদী থেকে আরেক নদীতে স্থানান্তর হয়েছে, সমাধান হয়নি।
আর বুড়িগঙ্গা? ট্যানারি চলে গেলেও নদীর অবস্থা খুব বেশি উন্নতি হয়নি। কারণ ঢাকার ১.৮ কোটি মানুষের পয়ঃবর্জ্য এখনও সরাসরি এই নদীতে পড়ছে। শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (sewage treatment) কতটুকু কাজ করে?
ঢাকায় দৈনিক পয়ঃবর্জ্য তৈরি হয় প্রায় ৪,৫০০ মিলিয়ন লিটার। পরিশোধন ক্ষমতা? ১২০ মিলিয়ন লিটার। মানে মাত্র ২.৫%। বাকি ৯৭.৫% অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি নদীতে যায়। একটা ১.৮ কোটি মানুষের শহর তার বর্জ্যের মাত্র আড়াই শতাংশ পরিশোধন করে। এটা শুধু অবহেলা না, এটা অপরাধ।
কিন্তু বুড়িগঙ্গা ঢাকার একমাত্র পরিবেশ বিপর্যয় না। পানির উপরে আছে আরেক বিষ: বাতাস।
পর্ব ৩: শ্বাস নেওয়ার মূল্য
প্রতি শীতে ঢাকা ধোঁয়াশায় ঢেকে যায়। আকাশ দেখা যায় না। সূর্য উঠলেও আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না। শিশুরা কাশছে, বয়স্করা হাঁপাচ্ছে, হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। এটা প্রকৃতির দোষ না, মানুষের তৈরি বিপর্যয়।
ঢাকার বায়ুমান সূচক (AQI) নিয়মিত ২০০ ছাড়িয়ে যায়। AQI ১৫০-এর উপরে মানে "অস্বাস্থ্যকর", ২০০-এর উপরে "খুব অস্বাস্থ্যকর", ৩০০-এর উপরে "বিপজ্জনক"। ঢাকায় বছরে প্রায় ১৫০ দিন AQI ২০০-এর উপরে থাকে।
মাসিক গড় AQI দেখুন। নভেম্বর থেকে মার্চ, পাঁচ মাস ধরে ঢাকার বাতাস বিষাক্ত। জানুয়ারিতে গড় AQI ২৫০ ছাড়িয়ে যায়। এটা এমন মাত্রা যেখানে সুস্থ মানুষেরও বাইরে থাকা উচিত না। কিন্তু ঢাকায় কোটি মানুষ প্রতিদিন এই বাতাসে শ্বাস নেয়, কাজে যায়, শিশুরা স্কুলে যায়।
ঢাকা কি একা? না। কিন্তু তুলনাটা ভয়ঙ্কর।
ঢাকা এখন নিয়মিতভাবে দিল্লি আর লাহোরের সাথে প্রতিযোগিতা করে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায়। বেইজিং, যেটা এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল, তারা কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দূষণ অনেকটা কমিয়েছে। জাকার্তাও ঢাকার চেয়ে ভালো অবস্থানে। ঢাকা পিছিয়ে আছে, আর পিছিয়ে যাচ্ছে।
এই দূষণের উৎস কী? তিনটা প্রধান কারণ: ইটভাটা, যানবাহন, আর নির্মাণ ধূলা।
বাংলাদেশে প্রায় ৮,০০০ ইটভাটা চালু আছে। এদের বেশিরভাগই পুরনো প্রযুক্তির (Fixed Chimney Kiln), যেগুলো প্রচুর কয়লা পোড়ায় আর ভয়ঙ্কর পরিমাণ কার্বন, সালফার ডাইঅক্সাইড, আর সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) ছড়ায়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রায় ৫৮% আসে ইটভাটা থেকে। বাকিটা আসে যানবাহন (ডিজেল ট্রাক, বাস, পুরনো অটোরিকশা), নির্মাণ কাজের ধূলা, আর শিল্প কারখানা থেকে।
এই দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মূল্য কত? শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের AQLI (Air Quality Life Index) গবেষণা একটা ভয়ঙ্কর সংখ্যা দিয়েছে।
বায়ু দূষণের কারণে গড় বাংলাদেশি নাগরিক তার জীবন থেকে ৭.৪ বছর হারাচ্ছে। ঢাকা বিভাগে এই সংখ্যা আরো বেশি, প্রায় ৮.১ বছর। তুলনায়, ধূমপানে হারানো গড় আয়ু ২.৫ বছর। মানে ঢাকার বাতাসে শ্বাস নেওয়া ধূমপানের চেয়ে তিন গুণ বেশি ক্ষতিকর।
৭.৪ বছর। প্রতিটা মানুষের জীবন থেকে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে। এটা কোটি কোটি বছরের সম্মিলিত জীবন, শুধু বাতাসের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে।
পর্ব ৪: রোগের ফসল
দূষিত পানি আর বিষাক্ত বাতাসের সম্মিলিত ফল কী? রোগ। অসুখ। মৃত্যু।
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে শীতকালে একটা দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়: শিশু ওয়ার্ড ভর্তি। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি। বয়স্কদের ওয়ার্ডে COPD (ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ), ফুসফুসের ক্যান্সার। পানিবাহিত রোগ সারা বছর চলে: ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ।
শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ গত দশকে ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটা শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে না। দূষণ বাড়ছে, তাই রোগ বাড়ছে।
শিল্প এলাকার কাছে বসবাসকারী মানুষের অবস্থা আরো ভয়াবহ। হাজারীবাগের আশেপাশের এলাকায় গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সেখানকার মানুষের রক্তে ক্রোমিয়াম ও সীসার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ক্যান্সারের হার ঢাকার গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। চর্মরোগ, কিডনি রোগ, স্নায়ু রোগ, এসব এলাকায় মহামারির মতো।
কিন্তু স্বাস্থ্য খরচটা কত? সেটা কেউ হিসাব করে? বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণা অনুমান করেছে যে বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতি জিডিপির ৩.৪% থেকে ৪.৬%। টাকার অঙ্কে? বছরে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা। পানি দূষণের খরচ আলাদা।
এই সংখ্যাগুলো কাগজে থাকে। সরকারি প্রতিবেদনে থাকে। কিন্তু নীতি নির্ধারণে? প্রতিফলিত হয় না। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সরকারি বাজেটের ১%-এরও কম। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের (DoE) লোকবল আর সক্ষমতা, দুটোই অপ্রতুল।
আমরা রোগ হলে চিকিৎসায় টাকা খরচ করি। কিন্তু রোগের কারণ (দূষণ) দূর করতে টাকা খরচ করি না। এটা যেন জ্বরে প্যারাসিটামল খেয়ে ম্যালেরিয়ার মশা মারার কথা ভুলে যাওয়া।
তাহলে কি নদী বাঁচানো সম্ভব? বাতাস পরিষ্কার করা সম্ভব? হ্যাঁ। অন্য দেশেরা করে দেখিয়েছে।
পর্ব ৫: নদী বাঁচে, শহর বাঁচে
লন্ডনের টেমস নদী। ১৯৫৭ সালে এটাকে "জৈবিকভাবে মৃত" ঘোষণা করা হয়েছিল। ঠিক বুড়িগঙ্গার মতো। শিল্প বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, সব মিলে টেমস ছিল একটা চলমান নর্দমা। দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রায় শূন্য। মাছ নেই, জীবন নেই।
তারপর ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিলো: এই নদী বাঁচাতে হবে। দশকের পর দশক ধরে বিনিয়োগ করলো। আধুনিক পয়ঃপরিশোধন কেন্দ্র বসালো। শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করলো। কঠোর আইন করলো এবং প্রয়োগ করলো। ফল? আজ টেমসে ১২৫ প্রজাতির মাছ আছে। সিল দেখা যায়। ডলফিনও দেখা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হান নদী। ১৯৬০-৭০ দশকে দূষণে প্রায় মৃত ছিল। দ্রুত শিল্পায়নের মূল্য দিয়েছিল সিউলের প্রাণের নদী। কিন্তু কোরিয়া সরকার সিদ্ধান্ত নিলো, আর ২০ বছরে নদী ফিরিয়ে আনলো। চেওংগেচেওন স্ট্রিম পুনরুদ্ধার প্রকল্প বিশ্বে মডেল হয়ে আছে।
টেমস আর হান নদীর DO পুনরুদ্ধারের সময়রেখা দেখুন। দুটোতেই একটা জিনিস লক্ষ্য করুন: পরিবর্তন রাতারাতি হয়নি। ১৫-২৫ বছর লেগেছে। কিন্তু শুরু করতে হয়েছে।
বুড়িগঙ্গার জন্য কী দরকার? তিনটা জিনিস: পর্যাপ্ত পয়ঃপরিশোধন কেন্দ্র, শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর প্রয়োগ, আর নদীর তলদেশ থেকে দশকের জমানো বিষাক্ত পলি অপসারণ।
খরচ কত? বিশ্বব্যাংক আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, ঢাকার পয়ঃব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও নদী পরিষ্কারে প্রয়োজন প্রায় ৩-৫ বিলিয়ন ডলার। বাতাস পরিষ্কার করতে (ইটভাটা আধুনিকায়ন, যানবাহন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ) আরো ২-৩ বিলিয়ন ডলার।
অনেক টাকা মনে হচ্ছে? তুলনা করুন:
দূষণের কারণে প্রতি বছর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতায় ক্ষতি হচ্ছে ১৫,০০০-২০,০০০ কোটি টাকা। পরিষ্কারের মোট খরচ ৫-৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৫,০০০-৮৮,০০০ কোটি টাকা), যেটা ৫-৬ বছরের স্বাস্থ্য ক্ষতির সমান। মানে পরিষ্কারে বিনিয়োগ করলে ৬-৭ বছরের মধ্যে সেই টাকা স্বাস্থ্য খরচ বাঁচিয়ে উঠে আসবে। তারপর? প্রতি বছর লাভ। এটা খরচ না, এটা বিনিয়োগ।
কিন্তু আমরা করছি না। কেন? কারণ দূষণের খরচ দেয় গরিব মানুষ, তাদের ফুসফুস দিয়ে, তাদের কিডনি দিয়ে, তাদের সন্তানের আয়ু দিয়ে। আর পরিষ্কারের খরচ দিতে হবে সরকারকে, করদাতাকে, শিল্পপতিকে। ক্ষমতাবানদের কাছে হিসাবটা সোজা: যার ক্ষতি সে তো ভোট দেবে যেভাবেই হোক।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
রহমত মিয়া আজও সদরঘাটে বসে আছেন। জাল আর ফেলেন না। চায়ের দোকান দিয়েছেন নদীর পাড়ে। তাঁর দোকানের সামনে দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কালো পানি বয়ে যায়। বাতাসে ভারী রাসায়নিকের গন্ধ। তাঁর নাতি-নাতনিরা এই বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। এই পানি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে।
টেমস মরেছিল, ফিরে এসেছে। হান নদী মরেছিল, ফিরে এসেছে। সিঙ্গাপুর নদী মরেছিল, ফিরে এসেছে। পৃথিবীতে কোনো নদীর মৃত্যু চিরস্থায়ী হতে হয় না, যদি মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় বাঁচাতে।
বুড়িগঙ্গা কি বাঁচবে? এটা প্রযুক্তির প্রশ্ন না, টাকার প্রশ্ন না। এটা ইচ্ছার প্রশ্ন। আমরা কি আমাদের সন্তানদের একটা পরিষ্কার নদী দিতে চাই? একটা শ্বাস নেওয়ার যোগ্য শহর দিতে চাই? নাকি আমরা ঢাকাকে ধীরে ধীরে বাসের অযোগ্য করে তুলবো, আর যাদের সামর্থ্য আছে তারা পালাবে, আর যাদের নেই তারা ভুগবে?
৭.৪ বছর। প্রতিটা বাংলাদেশি তার জীবন থেকে হারাচ্ছে। শুধু শ্বাস নেওয়ার কারণে। এই সংখ্যাটা মনে রাখুন। কারণ এই ৭.৪ বছর আপনার, আমার, আমাদের সন্তানদের।