Back to publications
Narrative 2026-03-06

শিশুর উচ্চতা কেন বাড়ে না?

২৮% শিশু খর্বকায়: পুষ্টি সংকটের নীরব মহামারী

শিশুর উচ্চতা কেন বাড়ে না?

পর্ব ১: ফাতেমার ছেলে

ফাতেমা থাকে সাতক্ষীরায়। তার ছেলে রাফি, বয়স তিন বছর। পাশের বাড়ির সমবয়সী ছেলে ইমন রাফির চেয়ে মাথায় প্রায় আধা হাত লম্বা। ইমনের বাবা ইউনিয়ন পরিষদে চাকরি করে, মাসে আঠারো হাজার টাকা আয়। ফাতেমার স্বামী দিনমজুর, দিনে তিনশো পঞ্চাশ টাকা পায়, যদি কাজ থাকে।

ফাতেমা ভাবে রাফি অসুখে ভুগছে। সে ডাক্তারের কাছে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার রাফির উচ্চতা মাপেন, ওজন নেন, তারপর বলেন: "আপনার ছেলে stunted। মানে বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। এটা অসুখ না, এটা দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টির অভাবের ফল।"

কিন্তু ২৮% মানে প্রতি চারজনে একজনেরও বেশি শিশু তার সম্পূর্ণ উচ্চতায় বাড়ছে না।
২২-২৩%
কে বেশি খর্বকায়
৯-১১%
শুধু খর্বকায়তা না
প্রায় ২-৩%
বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে

ফাতেমা বোঝে না। সে তো রাফিকে তিনবেলা খাওয়ায়। ভাত দেয়, ডাল দেয়, মাঝে মাঝে সবজি। কিন্তু ডাক্তার যেটা বোঝান সেটা হলো: তিনবেলা পেট ভরানো আর পুষ্টি পাওয়া এক জিনিস না। রাফির শরীরে আয়রন কম, জিঙ্ক কম, ভিটামিন এ কম, প্রোটিন কম। ভাত আর ডালের পানি দিয়ে পেট ভরে, কিন্তু হাড় বাড়ে না, মস্তিষ্ক বাড়ে না।

রাফি একা না। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ শিশু রাফির মতো খর্বকায়। ২০২২ সালের BDHS (Bangladesh Demographic and Health Survey) অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৮% খর্বকায়। এটা ২০০৭ সালে ছিল ৪৩%। কমেছে, সেটা সত্য। কিন্তু ২৮% মানে প্রতি চারজনে একজনেরও বেশি শিশু তার সম্পূর্ণ উচ্চতায় বাড়ছে না। তার মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হচ্ছে না। তার ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে, জন্মের আগেই।

চার্টটা দেখুন। ২০০৪ সালে খর্বকায় শিশুর হার ছিল ৫১%। দুই দশকে সেটা ২৮% এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই সাফল্য। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে হ্রাসের গতি কমে গেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭, তিন বছরে ৫ পয়েন্ট কমেছে। ২০১৭ থেকে ২০২২, পাঁচ বছরে মাত্র ৩ পয়েন্ট। যেন একটা দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছে। সহজ অগ্রগতিগুলো হয়ে গেছে, এখন যা বাকি সেটা কঠিন।


পর্ব ২: কে বেশি খর্বকায়?

খর্বকায়তা সবার সমান না। বাংলাদেশে সবচেয়ে গরিব পরিবারের শিশুদের ৩৮% খর্বকায়, আর সবচেয়ে ধনী পরিবারের মাত্র ১৫%। দুই গুণেরও বেশি পার্থক্য। টাকার সাথে শিশুর উচ্চতার সরাসরি সম্পর্ক। এটা জৈবিক নিয়তি না, এটা অর্থনৈতিক নিয়তি।

প্রতিটা ধাপে স্পষ্ট: যত গরিব, তত খর্বকায়। প্রথম কুইন্টাইল (সবচেয়ে গরিব) ৩৮%, দ্বিতীয় ৩২%, তৃতীয় ২৭%, চতুর্থ ২২%, পঞ্চম (সবচেয়ে ধনী) ১৫%। এটা Engel's Law এর আরেকটা রূপ। গরিব পরিবার আয়ের বেশিরভাগ খাদ্যে খরচ করে, কিন্তু সেই খাদ্যও পুষ্টিকর না। শস্তা ক্যালরি কেনে, ভাত, আলু, তেল। দামি পুষ্টি কিনতে পারে না, ডিম, দুধ, মাছ, ফল।

বিভাগভিত্তিক পার্থক্যও ভয়াবহ।

সিলেটে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা, ৩৭%। ময়মনসিংহে ৩৩%। বরিশালে ৩০%। অন্যদিকে, ঢাকা আর খুলনায় তুলনামূলক ভালো, ২২-২৩%। সিলেটের উচ্চ হারের পেছনে কয়েকটা কারণ আছে: চা বাগান এলাকার চরম দারিদ্র্য, হাওর অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতা, আর সাংস্কৃতিক কিছু বিষয় যেমন শিশুকে তাড়াতাড়ি শক্ত খাবার না দেওয়া। ময়মনসিংহেও হাওর এলাকার প্রভাব আছে, যেখানে ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে, স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানো কঠিন।

শহর আর গ্রামেও পার্থক্য আছে, তবে সেটা আপনি হয়তো যতটা ভাবছেন ততটা বড় না।

গ্রামে ৩০%, শহরে ২৪%। পার্থক্য ৬ পয়েন্ট। কিন্তু শহরের বস্তিতে হার ৩৫%, যেটা গ্রামের চেয়েও বেশি। মানে শহর/গ্রাম ভাগটা আসল ছবি দেখায় না। আসল ভাগটা হলো: কার টাকা আছে আর কার নেই।


পর্ব ৩: শুধু খর্বকায়তা না

খর্বকায়তা দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি সংকটের চিহ্ন। কিন্তু বাংলাদেশে আরো দুটো ভয়ংকর সংখ্যা আছে: wasting (কৃশতা) আর underweight (কম ওজন)।

কৃশতা মানে উচ্চতার তুলনায় ওজন কম, এটা তীব্র পুষ্টি সংকটের চিহ্ন। এই মুহূর্তে শিশু হয়তো অনাহারে আছে বা গুরুতর অসুস্থ। BDHS 2022 অনুযায়ী কৃশতার হার ১০%। কম ওজন (বয়সের তুলনায় ওজন কম) ২২%। কম ওজন আসলে খর্বকায়তা আর কৃশতার মিশ্র প্রভাব।

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, কৃশতা গত দশ বছরে প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে, ৯-১১% এর মধ্যে ঘুরছে। এটা কমছে না। কারণ কৃশতা তীব্র ধাক্কার ফল, হঠাৎ অসুস্থতা, বন্যা, আয় হারানো। আর বাংলাদেশে এই ধাক্কাগুলো প্রতি বছর আসে। এক বন্যায় যে অগ্রগতি হারায়, পরের বছর আবার সেই জায়গায় ফিরে আসে।

কিন্তু সবচেয়ে নীরব ঘাতক হলো অণুপুষ্টির (micronutrient) অভাব।

এটাকে বলে "লুকানো ক্ষুধা" (hidden hunger)। শিশু পেট ভরে খাচ্ছে, কিন্তু তার শরীরে আয়রন নেই, জিঙ্ক নেই, ভিটামিন এ নেই। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩৩% আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। ২১% ভিটামিন এ এর ঘাটতিতে। ৩৬% জিঙ্কের ঘাটতিতে। ৩০% আয়োডিনের ঘাটতিতে। এই সংখ্যাগুলো ভয়ংকর কারণ আয়রনের অভাব মস্তিষ্কের বিকাশ কমায়, ভিটামিন এ এর অভাব দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, জিঙ্কের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়।

এই সমস্যার একটা মূল কারণ হলো শিশুখাদ্য অভ্যাস।

বাংলাদেশে ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৫%, যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক ভালো। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় ৬ মাসের পর। ৬-২৩ মাস বয়সী শিশুদের মাত্র ৩৪% "ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য" (minimum acceptable diet) পাচ্ছে। ৬৬% শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার পাচ্ছে না। প্রথম ১,০০০ দিন (গর্ভধারণ থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত) শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পুষ্টির ঘাটতি হলে ক্ষতি অপূরণীয়।


পর্ব ৪: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?

প্রতিবেশী আর তুলনীয় দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশকে রাখলে ছবিটা স্পষ্ট হয়।

ভিয়েতনাম ১৯%, ইন্দোনেশিয়া ২২%, শ্রীলঙ্কা ১৭%, বাংলাদেশ ২৮%, ভারত ৩৫%, পাকিস্তান ৪০%। ভারত আর পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো, সেটা সত্য। কিন্তু ভিয়েতনামের সাথে তুলনা করুন। ভিয়েতনাম ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দরিদ্র ছিল। তাদের মাথাপিছু আয় ছিল বাংলাদেশের চেয়ে কম। কিন্তু আজ তাদের খর্বকায়তার হার ১৯%, বাংলাদেশের ২৮%। কেন? কারণ ভিয়েতনাম পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ করেছে, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু করেছে, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফর্টিফিকেশনে জোর দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কা আরেকটা উদাহরণ। অর্থনৈতিক সংকটের পরেও তাদের খর্বকায়তা ১৭%। কারণ তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত শক্ত, দশকের পর দশক বিনিয়োগের ফল।

এখন প্রশ্ন হলো, এত শিশু খর্বকায় হওয়ার অর্থনৈতিক মূল্য কত?

World Bank এর হিসাব অনুযায়ী, পুষ্টিহীনতার কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ২-৩% হারায়। ২০২৫ সালের জিডিপিতে ($৪৬০ বিলিয়ন) হিসাব করলে এটা বছরে $৯-১৪ বিলিয়ন। কীভাবে? খর্বকায় শিশু বড় হয়ে গড়ে ১০-১৫% কম আয় করে। তাদের স্কুলে কর্মক্ষমতা কম, ড্রপআউটের হার বেশি। প্রাপ্তবয়সে দীর্ঘমেয়াদী রোগের (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ) ঝুঁকি বেশি, যেটা স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়ায়। এটা একটা দুষ্টচক্র: পুষ্টিহীনতা থেকে কম উৎপাদনশীলতা, কম উৎপাদনশীলতা থেকে দারিদ্র্য, দারিদ্র্য থেকে আবার পুষ্টিহীনতা।


পর্ব ৫: কী হচ্ছে, কী হওয়া দরকার?

বাংলাদেশে পুষ্টি কার্যক্রম একেবারে নেই, তা না। কিন্তু কভারেজ আর মান দুটোতেই ঘাটতি আছে।

National Nutrition Services (NNS) প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু এর আওতায় লক্ষ্যমাত্রার ৫৫% গর্ভবতী মা। আয়রন-ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট পাচ্ছে ৪২% গর্ভবতী মা। ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট পাচ্ছে ৭৮% শিশু (এটা তুলনামূলক ভালো)। Growth monitoring হচ্ছে মাত্র ৩০% শিশুর। CMAM (Community-based Management of Acute Malnutrition) চলছে মাত্র ১৫টা জেলায়, ৬৪ জেলার মধ্যে। মানে বেশিরভাগ তীব্র পুষ্টিহীন শিশু চিকিৎসার বাইরে।

তুলনা করুন। পেরু ২০০০ সালে ৩১% খর্বকায়তা থেকে ২০২০ সালে ১২% এ নামিয়ে এনেছে। কীভাবে? তিনটা কাজ করেছে: (১) প্রথম ১,০০০ দিনে পুষ্টি কার্যক্রমে ব্যাপক বিনিয়োগ, (২) সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাথে পুষ্টি শর্ত যুক্ত করা (conditional cash transfer), (৩) জেলাভিত্তিক ডেটা ব্যবহার করে সবচেয়ে খারাপ এলাকায় সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেওয়া।

বাংলাদেশ কী করতে পারে?

  1. বাজেট বাড়ানো। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১.১% খরচ করে। এর মধ্যে পুষ্টিতে যায় অতি সামান্য। Lancet এর হিসাবে, প্রমাণিত পুষ্টি হস্তক্ষেপে (proven nutrition interventions) শিশু প্রতি বছরে মাত্র $১০-১৫ খরচ করলে খর্বকায়তা ২০% কমানো সম্ভব। ১.৮ কোটি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য এটা বছরে $১৮০-২৭০ মিলিয়ন। বাংলাদেশের বাজেটে এটা সম্ভব।
  2. প্রথম ১,০০০ দিনে ফোকাস। গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি, জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ, তারপর পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার। এই তিনটা জায়গায় মনোযোগ দিলে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায়।
  3. খাদ্যে ফর্টিফিকেশন। ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ, আটায় আয়রন ও ফলিক এসিড, লবণে আয়োডিন (এটা আছে, কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল)। এগুলো কম খরচে বড় জনগোষ্ঠীতে পুষ্টি ঘাটতি কমাতে পারে।
  4. সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুরে বিশেষ মনোযোগ। সব জেলায় সমান বাজেট বিতরণ করলে হবে না। যেখানে সমস্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে সবচেয়ে বেশি সম্পদ যেতে হবে।
  5. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাথে পুষ্টি সংযোগ। ভাতা দেওয়ার সময় শর্ত রাখা, শিশুকে growth monitoring এ আনতে হবে, টিকা নিতে হবে, পুষ্টি পরামর্শ নিতে হবে। ব্রাজিল আর মেক্সিকো এই মডেলে সাফল্য পেয়েছে।

পর্ব ৬: ফাতেমার ছেলের ভবিষ্যৎ

রাফি এখন তিন বছর। তার মস্তিষ্কের ৮০% বিকাশ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, বা হওয়ার কথা ছিল। যেটুকু পুষ্টি সে পায়নি, সেটা এখন আর পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব না। গবেষণা বলে, জীবনের প্রথম দুই বছরে যে খর্বকায়তা হয়, তার বেশিরভাগ স্থায়ী। রাফি হয়তো তার সম্ভাব্য উচ্চতার চেয়ে ৫-৮ সেন্টিমিটার খাটো থাকবে সারাজীবন। তার IQ হয়তো ৫-১১ পয়েন্ট কম হবে। সে স্কুলে পিছিয়ে পড়বে, যদি আদৌ স্কুলে থাকে।

কিন্তু রাফির ছোট বোন সুমাইয়া এখনো মায়ের পেটে। তার জন্য এখনো সময় আছে। যদি ফাতেমা গর্ভাবস্থায় আয়রন-ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট পায়, যদি সুমাইয়া জন্মের পর ছয় মাস শুধু বুকের দুধ পায়, যদি তারপর ডিম, মাছ, সবজি দিয়ে তৈরি পরিপূরক খাবার পায়, তাহলে সুমাইয়ার ভাগ্য রাফির চেয়ে আলাদা হতে পারে।

পুষ্টি সংকট নীরব। এটা নিয়ে রাস্তায় মানুষ নামে না। টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ হয় না। কেউ মারা যাচ্ছে না সরাসরি, তাই জরুরি মনে হয় না। কিন্তু প্রতিদিন, প্রতিটা খাবারে, লাখ লাখ শিশুর শরীর আর মস্তিষ্ক একটু একটু করে কম বাড়ছে। এটা ভূমিকম্পের মতো আসে না, এটা ভূমিক্ষয়ের মতো। ধীরে ধীরে, নীরবে, একটু একটু করে ভিত্তি সরিয়ে নেয়।

৫০ লাখ খর্বকায় শিশু মানে ৫০ লাখ কম উৎপাদনশীল প্রাপ্তবয়স্ক, দশ-পনেরো বছর পরে। মানে একটা দেশের অর্থনীতি তার সম্ভাবনার চেয়ে ছোট থেকে যাওয়া। মানে দারিদ্র্যের চক্র আরেকটা প্রজন্মে গড়িয়ে যাওয়া।

রাফির জন্য হয়তো দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু সুমাইয়ার জন্য এখনো সময় আছে। প্রশ্ন হলো, আমরা সেই সময়টা কাজে লাগাব কিনা।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50