পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তিচুক্তির ২৯ বছর
পর্ব ১: পাহাড়ে যে মানুষগুলো থাকে
কল্পনা চাকমার বয়স ৬৫। রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তার পূর্বপুরুষরা কয়েক শতক ধরে বাস করেছে। পাহাড়ের ঢালে জুমচাষ করেছে, ঝিরির পানি খেয়েছে, প্রকৃতির সাথে মিশে থেকেছে। কিন্তু কল্পনা এখন আর সেই জমিতে নেই। ২০০৮ সালে একদল বাঙালি বসতি স্থাপনকারী তার পরিবারের জমি দখল করে নিয়েছে। থানায় মামলা করেছে কল্পনা, ভূমি কমিশনে আবেদন দিয়েছে। সতেরো বছর হলো, কোনো সুরাহা হয়নি।
কল্পনার গল্প ব্যক্তিগত, কিন্তু এটাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যার প্রতিচ্ছবি। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান হয়েছিল সেদিন। চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি ছিল: আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আঞ্চলিক পরিষদকে ক্ষমতা দেওয়া হবে, সামরিক ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কাজ করবে।
২৯ বছর পরে, সেই প্রতিশ্রুতির কতটুকু পূরণ হয়েছে?
এই চার্টটা দেখুন। শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ৩৬টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ৩৬টি ধারা কাগজেই রয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ধারাগুলো, ভূমি কমিশনের কার্যকর কার্যক্রম, সামরিক প্রত্যাহার, পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, সেগুলোই সবচেয়ে পিছিয়ে। অর্ধেক বাস্তবায়ন মানে অর্ধেক শান্তি, আর অর্ধেক শান্তি কোনো শান্তি না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম মানে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় এক দশমাংশ। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, তিনটি জেলা মিলিয়ে ১৩,২৯৫ বর্গকিলোমিটার। আর এখানে বাস করে ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের সংস্কৃতি, ভাষা, জীবনযাত্রা সমতলের বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এই চার্টটা দেখুন। চাকমা সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী, মোট আদিবাসী জনসংখ্যার প্রায় ৪৫%। তারপর মারমা (২৭%), ত্রিপুরা (১১%), আর বাকি আটটি গোষ্ঠী মিলে বাকিটুকু। প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা আছে, সংস্কৃতি আছে, পরিচয় আছে। কিন্তু এই বৈচিত্র্য ক্রমশ হুমকির মুখে, কারণ তাদের জনসংখ্যার অনুপাত ক্রমাগত কমছে।
কেন কমছে? সেটাই পরবর্তী অধ্যায়।
পর্ব ২: বাঙালি বসতি আর ভূমি দখলের ইতিহাস
১৯৭১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭%। ২০২৫ সালে সেটা নেমে এসেছে ৫০% এরও নিচে। এটা কীভাবে হলো?
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সরকার পরিকল্পিতভাবে সমতল থেকে বাঙালি পরিবারগুলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করেছিল। সরকারি হিসাবে প্রায় চার লাখ বাঙালি বসতি স্থাপন করেছে সেই সময়ে। তাদের জমি দেওয়া হয়েছে, রেশন দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়ে।
এই চার্টটা দেখুন। ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২%। ১৯৮১ সালে সরকারি বসতি কার্যক্রমের পর সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১%। ২০২৫ সালে বাঙালি জনসংখ্যা ৫২% ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ আদিবাসীরা এখন নিজের ভূমিতে সংখ্যালঘু।
শান্তিচুক্তিতে স্পষ্ট বলা ছিল: অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু সেটা কখনো হয়নি। বরং বসতি স্থাপন অব্যাহত আছে। প্রতি বছর নতুন নতুন বাঙালি পরিবার আসছে। পাহাড়ি জমি দখল হচ্ছে। কৃষি জমি, বসতভিটা, এমনকি ধর্মীয় স্থানও।
ভূমি বিরোধের সংখ্যা আকাশছোঁয়া।
এই চার্টটা দেখুন। ভূমি কমিশনে দায়ের করা মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫,০০০ এর বেশি মামলা জমা পড়েছে। কিন্তু নিষ্পত্তি হয়েছে কত? সেই প্রশ্নের উত্তর পরে আসছে।
কল্পনার মতো হাজার হাজার পরিবার বছরের পর বছর অপেক্ষা করছে। তাদের পূর্বপুরুষের জমি, তাদের হাতে ফেরত আসছে না। আইনি প্রক্রিয়া ধীর, জটিল, আর প্রায়ই পক্ষপাতমূলক।
পর্ব ৩: সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা, নাকি দখলদারিত্ব?
শান্তিচুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রতিশ্রুতি ছিল সামরিক প্রত্যাহার। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্থায়ী সেনানিবাস (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) ছাড়া সব অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে। ২৯ বছর পরে বাস্তবতা কী?
এই চার্টটা দেখুন। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ৫০০ ক্যাম্প ছিল। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৩৫০ এর কাছে এসেছে। কিছু ক্যাম্প সরানো হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ এখনো সক্রিয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে সামরিকায়িত অঞ্চল।
প্রতি ৩৮ বর্গকিলোমিটারে একটি করে সামরিক ক্যাম্প, এই হিসাবটা মাথায় রাখুন। দৈনন্দিন জীবনে এর মানে কী? প্রতিটি গ্রামের কাছে সেনা চেকপোস্ট। পাহাড়ে যেতে হলে অনুমতি লাগে। আদিবাসী মানুষদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত। জমি কেনাবেচায় সেনাবাহিনীর অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন লাগে বলে অভিযোগ আছে। বিনিয়োগকারীরা সেনাবাহিনীর সাথে "বোঝাপড়া" করে জমি পায়। আদিবাসীরা নিজেদের ভূমিতে পরবাসী হয়ে যাচ্ছে।
সরকারের যুক্তি: নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, তাই সেনা প্রত্যাহার সম্ভব না। কিন্তু আদিবাসী নেতারা বলেন: সেনা উপস্থিতিই অস্থিতিশীলতার কারণ। যখন মানুষ নিজের জমিতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে না, তখন অসন্তোষ জন্ম নেয়। এটা একটা দুষ্টচক্র।
ভূমি কমিশনের অবস্থাও হতাশাজনক।
চার্টটা দেখুন। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ২০০১ সালে গঠিত হয়েছিল। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এর কাছে জমা পড়া মোট মামলার মধ্যে মাত্র ৩% এর নিষ্পত্তি হয়েছে। এই গতিতে সব মামলা নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে ২০০ বছর লাগবে। কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বিতর্ক আছে, আদিবাসীরা চায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি চেয়ারম্যান হোক, কিন্তু সরকার নিজের পছন্দের লোক বসাচ্ছে বলে অভিযোগ। কমিশনের সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না, সেটা আলাদা সমস্যা।
পর্ব ৪: উন্নয়নের আলো কি পাহাড়ে পৌঁছায়?
শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প বেড়েছে। রাস্তাঘাট হয়েছে, বিদ্যুৎ কিছুটা পৌঁছেছে, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু জাতীয় গড়ের তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো অনেক পিছিয়ে।
চার্টটা দেখুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্যহার জাতীয় গড়ের চেয়ে ক্রমাগত বেশি। ২০২৪ সালে জাতীয় দারিদ্র্যহার যখন ১৮.৭%, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটা ৩৫% এর কাছে। গ্রামীণ পাহাড়ি এলাকায় দারিদ্র্যহার আরও বেশি, কিছু কিছু উপজেলায় ৫০% এর উপরে। দারিদ্র্যের এই গভীরতার কারণ বহুস্তরীয়: ভূমি হারানো, বাজারে প্রবেশাধিকার কম, সরকারি চাকরিতে প্রতিনিধিত্ব নগণ্য, আর সামরিকায়নের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা।
শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের চিত্রও একই রকম হতাশাজনক।
চার্টটা দেখুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে সাক্ষরতার হার, মাধ্যমিক পাসের হার, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার, সবকিছুতেই জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৫-২৫ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি পথ হাঁটতে হয়। বর্ষায় রাস্তা বন্ধ থাকে মাসের পর মাস। আদিবাসী ভাষায় পাঠ্যপুস্তক নেই, শিক্ষা মাধ্যম বাংলা, যেটা অনেক পাহাড়ি শিশুর মাতৃভাষা না। প্রথম শ্রেণিতে যে শিশুটি চাকমা বা মারমা ভাষায় কথা বলে, তাকে বাংলায় পড়তে হচ্ছে। এটা শিক্ষার অন্তরায়, বৈষম্য না বললেও।
স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও করুণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতি ১০,০০০ জনে চিকিৎসক সংখ্যা জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। শিশু মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের চেয়ে দেড় গুণ বেশি। প্রসূতি মৃত্যুহারও উদ্বেগজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদ ফাঁকা থাকে বছরের পর বছর, কারণ কেউ পাহাড়ে যেতে চায় না। ওষুধ সরবরাহ অনিয়মিত। অনেক গ্রামে নিকটতম হাসপাতাল ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরে। জরুরি রোগীকে বাঁশের মাচায় বহন করে আনতে হয়। রাস্তা নেই, অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারে না।
পর্ব ৫: বাজেট, পর্যটন, আর বাণিজ্যিক স্বার্থ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ দেখলে সরকারের অগ্রাধিকার বোঝা যায়।
চার্টটা দেখুন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ১% এরও কম। আর এই বরাদ্দের বেশিরভাগ যায় প্রশাসনিক খরচে আর অবকাঠামো প্রকল্পে। আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণ, মাতৃভাষায় শিক্ষা, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, এসব খাতে বরাদ্দ নগণ্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে: পর্যটন বুম। সাজেক, নীলগিরি, নীলাচল, রেমাক্রি, এসব জায়গায় পর্যটকের ঢল নামছে। রাস্তা হচ্ছে, রিসোর্ট উঠছে, হোটেল হচ্ছে। কিন্তু এই পর্যটন কার জন্য?
স্থানীয় আদিবাসীরা বলে, পর্যটন তাদের জমি দখলের নতুন অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিসোর্ট বানাতে পাহাড়ি জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। প্রভাবশালী বাঙালি ব্যবসায়ীরা আদিবাসীদের জমি কিনে নিচ্ছে (আইনত পার্বত্য চট্টগ্রামে অ-আদিবাসীদের জমি কেনা নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে)। পর্যটন থেকে আয় হচ্ছে, কিন্তু সেই আয়ের বেশিরভাগ যাচ্ছে বাইরের বিনিয়োগকারীদের পকেতে। স্থানীয়রা পাচ্ছে গাইড, রিকশাচালক, বা হোটেল কর্মচারীর কাজ। ন্যূনতম মজুরিতে।
আর পরিবেশগত ক্ষতি? পাহাড় কাটা হচ্ছে, বন উজাড় হচ্ছে, ঝিরি ভরাট হচ্ছে। যে প্রকৃতি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণ, সেই প্রকৃতিই ধ্বংস হচ্ছে পর্যটনের নামে।
পর্ব ৬: শান্তি ছাড়া শান্তিচুক্তি
তাহলে ২৯ বছরে কী পেলো পার্বত্য চট্টগ্রাম?
সড়ক যোগাযোগ কিছুটা উন্নত হয়েছে। বিদ্যুৎ পৌঁছেছে কিছু এলাকায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক এসেছে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, কোটার সুযোগে চাকরি পাচ্ছে কেউ কেউ। এগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু মূল প্রতিশ্রুতিগুলো অপূরণই রয়ে গেছে। ভূমি ফেরত পায়নি আদিবাসীরা। সেনাবাহিনী যায়নি। আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। বাঙালি বসতি বেড়েই চলেছে। ভূমি কমিশন কার্যত অচল। আদিবাসীরা নিজের ভূমিতে সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছে।
PCJSS এখনো শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF), যারা শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেছিল, তারা বলছে চুক্তিটাই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে মাঝে মাঝে। আর সাধারণ আদিবাসী মানুষ দুই পক্ষের রাজনীতির মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বলছে: শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করুন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এটাকে "অভ্যন্তরীণ বিষয়" বলে এড়িয়ে যায়। আর আদিবাসী মানুষের কণ্ঠস্বর দেশের মূলধারার মিডিয়ায় পৌঁছায় না। ঢাকার সংবাদপত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের খবর আসে দুটো সময়ে: শান্তিচুক্তি দিবসে (ডিসেম্বর ২) আর কোনো সংঘর্ষ হলে। বাকি ৩৬৩ দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অদৃশ্য।
আসুন শেষ করি যেখান থেকে শুরু করেছিলাম।
কল্পনা চাকমা এখনো বাঘাইছড়িতে আছে। অন্যের জমিতে আশ্রিত। তার ভূমি কমিশনের মামলা নম্বর ১২,৪৩৭। সতেরো বছর হলো। সে জানে, তার জীবদ্দশায় হয়তো রায় পাবে না।
তার নাতনি মিতু চাকমা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। পাহাড়ি কোটায় ভর্তি হয়েছে। সে চায় আইনজীবী হতে, ফিরে গিয়ে দাদির জমি ফেরত আনতে। কিন্তু মিতু জানে, আইন আছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। ক্ষমতা আছে, কিন্তু সেই ক্ষমতা আদিবাসীদের হাতে নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার প্রমাণ। একটি সশস্ত্র সংঘাত রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছিল। সেটা একটা সাহসী পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর করা আর চুক্তি বাস্তবায়ন করা এক জিনিস না। ২৯ বছরের অবহেলা একটি চুক্তিকে কাগজের টুকরোয় পরিণত করেছে।
প্রশ্নটা সোজা: বাংলাদেশ কি ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার মানবে, নাকি তাদের নিজের ভূমিতেই বিলুপ্ত হতে দেবে?
উত্তরটা ২৯ বছর ধরে পেন্ডিং আছে।