জলবায়ু তহবিল: পাওনা কত, পাচ্ছি কত?
পর্ব ১: কক্সবাজারের জাহানারা
জাহানারা বেগমের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে ছিল। "ছিল" শব্দটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই বাড়ি এখন সমুদ্রের তলায়। ২০২২ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তার টিনের ঘর উড়ে গেছে। তার আগে ২০২০ সালে আম্ফানে ভিটেমাটি ভেসে গেছে। তার আগে ২০১৯ সালে বুলবুলে ফসল নষ্ট হয়েছে।
জাহানারা এখন কক্সবাজার শহরে এক আত্মীয়ের বাড়ির পেছনে একটা ঝুপড়িতে থাকে। তার স্বামী মাছ ধরতে যায়, কিন্তু মাছও কমে গেছে। সমুদ্র গরম হচ্ছে, মাছ গভীরে চলে যাচ্ছে, ছোট নৌকায় আর ধরা যায় না।
জাহানারা জানে না COP কী। জানে না GCF কী। জানে না Loss and Damage Fund কী। কিন্তু সে জানে তার সবকিছু হারিয়ে গেছে, আর কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।
এই গল্পটা শুধু জাহানারার না। এটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের গল্প। বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটা, যে দেশটা বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে ০.৪% এরও কম অবদান রাখে, সেই দেশটা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে কঠিন মূল্য দিচ্ছে। আর উন্নত দেশগুলো যে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটা বেশিরভাগই কাগজে রয়ে গেছে।
আজ আমরা সংখ্যা দিয়ে এই গল্পটা বলবো। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মাঝে ফারাকটা কতটা বড়, সেটা দেখবো।
পর্ব ২: দোষ কার, দাম কে দিচ্ছে?
শুরু করা যাক মূল অন্যায়টা দিয়ে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে কতটুকু দায়ী?
এই চার্টটা পরিষ্কার একটা ছবি দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু CO₂ নির্গমন মাত্র ০.৫ টন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৪.০ টন, চীনের ৮.০ টন, জার্মানির ৭.৫ টন। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ সবার ওপরে। একজন আমেরিকান একজন বাংলাদেশির চেয়ে ২৮ গুণ বেশি কার্বন নির্গমন করে, কিন্তু তার জলবায়ু ঝুঁকি বাংলাদেশির এক-তৃতীয়াংশ।
এটাকে পরিবেশবিদরা বলেন "ক্লাইমেট ইনজাস্টিস"। যারা সমস্যা তৈরি করেছে, তারা নিরাপদ। যারা সমস্যা তৈরি করেনি, তারা ডুবছে।
বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে সেটা দেখুন:
ND-GAIN সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটা। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ তিনটা: বিশাল নিচু ব-দ্বীপ ভূগোল, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ঘনত্ব, আর সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।
তাহলে প্রশ্ন হলো, এই অন্যায়ের ক্ষতিপূরণ কোথায়? উন্নত দেশগুলো কি দায়িত্ব নিচ্ছে?
পর্ব ৩: প্রতিশ্রুতির রাজনীতি
২০০৯ সালে কোপেনহেগেন COP সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো একটা ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল: ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন। এই টাকা যাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। কিন্তু বাস্তবতা কী?
প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে বিতরণ হয়েছে ৮৩ বিলিয়ন। ২০২১ সালে ৯০ বিলিয়ন। ২০২২ সালে প্রথমবার ১০০ বিলিয়ন ছুঁয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু এই হিসাবে গলদ আছে। কারণ এই "অর্থায়নের" বেশিরভাগ হলো ঋণ, অনুদান না। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। ক্ষতিপূরণকে ঋণে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।
আর ২০২৪ সালের বাকু COP29-এ নতুন লক্ষ্য ঠিক হয়েছে: ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ১০০ বিলিয়নই যেখানে সময়মতো পূরণ হয়নি, সেখানে ৩০০ বিলিয়নের প্রতিশ্রুতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
এই প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ কতটুকু পায়? দেখুন:
Green Climate Fund (GCF) থেকে বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থ প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু প্রকৃত বিতরণ মাত্র ১২০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। অর্থাৎ অনুমোদিত অর্থের মাত্র ৩২% বাস্তবে এসেছে। বাকি ৬৮% আটকে আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়, শর্তের বেড়াজালে, আর ধীরগতির প্রক্রিয়ায়।
প্রতিটা COP সম্মেলনে বড় বড় ঘোষণা হয়। মিডিয়ায় শিরোনাম হয়। নেতারা হাত মেলান। কিন্তু টাকা আসে কই?
পর্ব ৪: নিজের পকেট থেকে
উন্নত দেশগুলো যখন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসে আছে, বাংলাদেশ কিন্তু বসে নেই। নিজের পকেট থেকে খরচ করছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে Bangladesh Climate Change Trust Fund (BCCTF) গঠন করেছে। এটা ছিল একটা সাহসী পদক্ষেপ, একটা উন্নয়নশীল দেশ নিজের টাকায় জলবায়ু তহবিল তৈরি করছে।
BCCTF-এ সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা (প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দিয়েছে। বছর বছর ব্যয় বাড়ছে। ৬০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, সোলার প্যানেল, লবণসহিষ্ণু ফসল গবেষণা, বনায়ন, পানীয় জল সরবরাহ। কিন্তু যা দরকার তার তুলনায় এটা সামান্য।
এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? অভিযোজন (adaptation) আর প্রশমন (mitigation)-এ কত ভাগ হচ্ছে?
বাংলাদেশের জলবায়ু ব্যয়ের প্রায় ৭০% যায় অভিযোজনে, ৩০% যায় প্রশমনে। এটা যৌক্তিক, কারণ বাংলাদেশের নির্গমন কমানোর দায় কম, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের চিত্র উল্টো। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নের ৬০% যায় প্রশমনে (সোলার প্যানেল, বায়ু বিদ্যুৎ, ইলেকট্রিক গাড়ি) আর মাত্র ৩৫% যায় অভিযোজনে। বাকি ৫% ক্রস-কাটিং প্রকল্পে।
মানে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন মূলত উন্নত দেশগুলোর সবুজ শিল্পায়নে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, আর খাদ্য নিরাপত্তায় না।
পর্ব ৫: মাথাপিছু হিসাব আর আন্তর্জাতিক তুলনা
জলবায়ু অর্থায়নের আরেকটা অন্যায় বুঝতে হলে মাথাপিছু হিসাব দেখতে হবে:
বাংলাদেশ মাথাপিছু জলবায়ু অর্থায়ন পায় মাত্র ২.৫ ডলার। তুলনায় মালদ্বীপ পায় ৬০ ডলার, তুভালু পায় ২০০ ডলারের বেশি, ফিজি পায় ১২০ ডলার। ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বেশি পাচ্ছে কারণ তাদের জনসংখ্যা কম, প্রকল্প পরিচালনা সহজ। কিন্তু বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে, মাথাপিছু হিসাবে প্রায় কিছুই পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের উৎসগুলো কোথা থেকে আসছে?
বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (MDB) সবচেয়ে বড় উৎস, প্রায় ৪০%। এরপর দ্বিপাক্ষিক সাহায্য ২৫%। GCF মাত্র ১২%। বেসরকারি খাত ১৫%। আর জলবায়ু তহবিলগুলো (Adaptation Fund, LDCF ইত্যাদি) মাত্র ৮%। সমস্যা হলো MDB-র অর্থায়নের বেশিরভাগ ঋণ। অনুদানের হার মাত্র ২৫-৩০%।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রবাহ দেখুন:
২০১৫ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন পেয়েছিল। ২০২৫ সালে সেটা বেড়ে প্রায় ১,২০০ মিলিয়ন ডলার। বাড়ছে বটে, কিন্তু বাংলাদেশের বার্ষিক জলবায়ু ক্ষতি যেখানে ৩-৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ১.২ বিলিয়ন ডলার তো ক্ষতির এক-তৃতীয়াংশও পূরণ করে না।
পর্ব ৬: ক্ষয়ক্ষতি, আর সেই অনন্ত অপেক্ষা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটা হলো Loss and Damage নিয়ে। অভিযোজন মানে ভবিষ্যৎ ক্ষতি কমানোর চেষ্টা। কিন্তু যে ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, সেটার কী হবে? জাহানারার ঘর ভেঙে গেছে, কুতুবদিয়ার জমি সমুদ্রে গেছে, সিলেটে বন্যায় কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?
বাংলাদেশের বার্ষিক জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১৫ সালে এটা ছিল আনুমানিক ১.৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে এটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের প্রক্ষেপণ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ক্ষতির মধ্যে ফসল নষ্ট, অবকাঠামো ভাঙন, স্বাস্থ্য ব্যয়, জীবিকা হারানো, আর বাস্তুচ্যুতির খরচ।
২০২২ সালে COP27-এ শর্ম আল-শেখে Loss and Damage Fund গঠনের ঘোষণা হয়েছিল। বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছিল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তারপর কী হলো? তহবিলের কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলেছে, কে কত দেবে তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, আর বিশ্ব ব্যাংকে তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত তহবিলে মোট প্রতিশ্রুতি ছিল মাত্র ৭০০ মিলিয়ন ডলারের মতো। এটা বিশ্বব্যাপী বার্ষিক ক্ষতির (৪০০+ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় হাস্যকর পরিমাণ।
COP-এর ইতিহাসটা আসলে ভাঙা প্রতিশ্রুতির ইতিহাস। ২০০৯ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি, ২০২০ সালেও পূরণ হয়নি। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রাখার প্রতিশ্রুতি, ২০২৫ সালে সেই সীমা কার্যত অতিক্রান্ত। ২০২২ সালে Loss and Damage Fund ঘোষণা, ২০২৬ সালেও বিতরণ শুরু হয়নি ঠিকমতো।
প্রতিটা প্রতিশ্রুতির মাঝে একটা প্যাটার্ন আছে: ঘোষণা, উদ্যম, ধীরগতি, ব্যর্থতা, নতুন প্রতিশ্রুতি। চক্রটা ঘুরতে থাকে। আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অপেক্ষা করতে থাকে।
শেষ কথা: জাহানারার কাছে ফিরে যাই
জাহানারা জানে না বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে কত বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জানে না GCF-এর বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু টাকা আসেনি। জানে না COP সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কী বক্তৃতা দিয়েছেন।
জাহানারা শুধু জানে তার ঘর নেই। জমি নেই। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
সংখ্যাগুলো একটু মিলিয়ে দেখুন। বিশ্বব্যাপী বার্ষিক সামরিক ব্যয় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ১০০ বিলিয়ন, যার পূরণ নিয়ে দশ বছর ধরে হিসাবের খেলা চলছে। সামরিক ব্যয়ের ৫% দিলেই পুরো বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের করণীয় কী?
প্রথমত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরো জোরালো অবস্থান নেওয়া। Climate Vulnerable Forum, V20, LDC গ্রুপ, সব মঞ্চে একসাথে কাজ করা। Loss and Damage Fund থেকে ন্যায্য অংশ আদায়ের জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো।
দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ জলবায়ু বাজেট বাড়ানো। BCCTF-এর বরাদ্দ দ্বিগুণ করা। জলবায়ু ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা। প্রতিটা টাকা যেন ঠিক জায়গায় যায়।
তৃতীয়ত, বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা। গ্রিন বন্ড, ক্লাইমেট ইন্স্যুরেন্স, কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোজন। শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।
চতুর্থত, হিসাব রাখা। কোন দেশ কত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কত দিয়েছে, কত বাকি আছে। এই হিসাব প্রকাশ্যে আনা। লজ্জা দেওয়া। কারণ কূটনীতিতে লজ্জা একটা শক্তিশালী অস্ত্র।
জাহানারা প্রতিদিন সকালে উঠে কক্সবাজারের দিকে তাকায়। সমুদ্র দেখে। সেই সমুদ্র তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু সমুদ্র দায়ী না। দায়ী তারা যারা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ভরেছে। আর দায়ী তারাও, যারা ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখেনি।
পাওনা কত? হিসাব বলছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। পাচ্ছি কত? প্রায় কিছুই না।
এই ফারাকটাই জলবায়ু অর্থায়নের আসল গল্প। আর এই গল্প বদলানোর দায়িত্ব শুধু উন্নত দেশগুলোর না। বাংলাদেশকেও নিজের অধিকার আদায়ে আরো সোচ্চার হতে হবে। কারণ ন্যায়বিচার কেউ এমনি দেয় না, আদায় করতে হয়।