Back to publications
Narrative 2026-03-06

ক্রিকেটে কত টাকা, ফুটবলে কেন নেই?

বিপিএল অর্থনীতি, খেলোয়াড় বেতন, আর ক্রীড়া বৈষম্য

ক্রিকেটে কত টাকা, ফুটবলে কেন নেই?

পর্ব ১: দুটো মাঠ, দুটো বাস্তবতা

শুক্রবার সন্ধ্যা। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর। বিপিএল ম্যাচ চলছে। ২৫,০০০ দর্শক। ফ্লাডলাইট জ্বলছে। টিভি ক্যামেরা ঘুরছে। স্পনসরের ব্যানার চারদিকে। মাঠে ঢুকছেন সাকিব আল হাসান, যার বিপিএল-এ একটা সিজনের বেতন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ষোলো ম্যাচ খেললে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৭.৫ লাখ টাকা। প্রতিটা বল ফেলায়, প্রতিটা শটে।

একই শুক্রবার। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ শিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ফুটবল) চলছে। দর্শক? ৩০০ থেকে ৫০০ জন। টিভি কভারেজ? নেই বললেই চলে। মাঠে খেলছেন জামাল ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। তার মাসিক বেতন ৮০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা। বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ। সাকিব এক ম্যাচে যা পান, জামাল পুরো বছরেও পান না।

কিন্তু বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতিতে বিপিএল-এর অবস্থান কোথায়? আইপিএল-এর বার্ষিক ইকোসিস্টেম মূল্য প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (২০২৫ অনুমান)।
১৭ কোটি মানুষ
যাদের কথা কেউ বলে না
প্রায় ৭.৫ লাখ টাকা
দুটো মাঠ, দুটো বাস্তবতা
প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকা
বিসিবির টাকার হিসাব

দুটো খেলা। দুটো জাতীয় খেলোয়াড়। দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন আর্থিক বাস্তবতা। কেন?

এটা শুধু "ক্রিকেট বনাম ফুটবল" এর গল্প না। এটা বাংলাদেশের ক্রীড়া অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যার গল্প। টাকা কোথায় যায়, কে পায়, কে পায় না, আর সেই বৈষম্য কীভাবে পুরো ক্রীড়া খাতকে পঙ্গু করে রাখছে।

প্রথমে দেখি, টাকাটা আসলে কত।


পর্ব ২: বিসিবির টাকার হিসাব

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থাগুলোর একটা। তাদের বার্ষিক আয় গত এক দশকে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

২০১৫ সালে বিসিবির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সেটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকা। দশ বছরে সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি। এই আয়ের বড় অংশ আসে আইসিসির রেভিনিউ শেয়ার থেকে। আইসিসি তাদের টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, আর টুর্নামেন্ট আয় থেকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থ বণ্টন করে। বাংলাদেশ প্রতি চক্রে (চার বছরে) প্রায় ২৮০ থেকে ৩২০ মিলিয়ন ডলার পায়। এর বাইরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, আর বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি আছে।

কিন্তু বিসিবির এই টাকা কোথায় যায়? খেলোয়াড় উন্নয়নে? তৃণমূলে? অবকাঠামোতে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কঠিন, কারণ বিসিবির আর্থিক প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে প্রকাশ হয় না। যেটুকু জানা যায়, তাতে প্রশাসনিক ব্যয়ের অনুপাত অনেক বেশি।

এবার বিপিএল-এর অর্থনীতি দেখি:

বিপিএল-এ সাতটা ফ্র্যাঞ্চাইজি। প্রতিটা ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবিকে বার্ষিক ফি দেয়, খেলোয়াড় কেনে, ম্যানেজমেন্ট চালায়। কিন্তু লাভজনকতা? বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লোকসানে চলে। কারণ আয়ের উৎস সীমিত। টিকিট বিক্রি কম (টিকিটের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর স্টেডিয়ামও ভরে না)। স্পনসরশিপ আছে, কিন্তু আইপিএল-এর তুলনায় নগণ্য। টিভি স্বত্বের টাকাও আইপিএল-এর ভগ্নাংশ। তারপরও ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বিনিয়োগ করে, কারণ বিপিএল একটা প্রেস্টিজ প্রজেক্ট, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং-এর মাধ্যম, আর রাজনৈতিক সংযোগের সরঞ্জাম।


পর্ব ৩: খেলোয়াড়দের পকেটে কত?

এবার আসল প্রশ্নে আসি। খেলোয়াড়রা কত পায়?

বিপিএল-এ শীর্ষ বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সিজন বেতন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিদেশি তারকারা পান ৩০ থেকে ৫০ লাখ। মাঝারি সারির খেলোয়াড়রা ১৫ থেকে ২৫ লাখ। আর নতুন বা অপরিচিত খেলোয়াড়? ৩ থেকে ৫ লাখ।

এটার সাথে তুলনা করুন ফুটবল লিগের। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (ফুটবল) সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের বেতন বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। গড় খেলোয়াড় পায় ৫ থেকে ৮ লাখ। তৃতীয় বিভাগের খেলোয়াড়? মাসে ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের সমান।

বিসিবি-র কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা জাতীয় ক্রিকেটাররা ক্যাটাগরি অনুযায়ী বছরে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পান (ম্যাচ ফি, বোনাস, স্পনসরশিপ বাদে)। আর জাতীয় ফুটবলাররা? বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে কেন্দ্রীয় চুক্তির ব্যবস্থাই নেই ঠিকমতো। ম্যাচ ফি হিসেবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পান।

কিন্তু শুধু ক্রিকেট বনাম ফুটবল না। সরকার থেকে পুরো ক্রীড়া খাতে কত যায়?

বিসিবি-র বার্ষিক বাজেট প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। বাফুফে-র বাজেট? ৩৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা। বিসিবি-র বাজেট বাফুফে-র ১৫ থেকে ২০ গুণ। আর অন্যান্য খেলা? হকি ফেডারেশনের বাজেট ৩ থেকে ৫ কোটি, সাঁতার ফেডারেশনের ১ থেকে ২ কোটি। এথলেটিক্সের কথা না-ই বললাম।

সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেট প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রীড়ায় সরাসরি ব্যয় প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি। বাকিটা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন, আর অন্যান্য খাতে যায়। আর সেই ক্রীড়া বাজেটের সিংহভাগ? ক্রিকেটে। কারণ বিসিবি রাষ্ট্রপতির সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় চলে, তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা আলাদা।

মোট জাতীয় বাজেটের অনুপাতে ক্রীড়া বরাদ্দ ১% এরও কম। ভারত ১.৫%, অস্ট্রেলিয়া ৩%, যুক্তরাজ্য ২.৫%। বাংলাদেশে ক্রীড়া জাতীয় অগ্রাধিকার না, এটা বাজেটের সংখ্যাই বলে দেয়।


পর্ব ৪: স্টেডিয়াম আছে, ব্যবস্থা নেই

অবকাঠামোর দিকে তাকালে বৈষম্যটা আরো স্পষ্ট।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেনু আছে ৭টা। শেরেবাংলা স্টেডিয়াম (ধারণক্ষমতা ২৫,০০০), জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম চট্টগ্রাম (২৫,০০০), সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম (১৮,৫০০)। এগুলোতে ফ্লাডলাইট আছে, মিডিয়া বক্স আছে, আধুনিক সুবিধা আছে। বিসিবি নতুন স্টেডিয়ামও বানাচ্ছে, পবনাতে ৩০,০০০ আসনের স্টেডিয়াম নির্মাণাধীন।

আর ফুটবল? বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে ঘাস টিকে থাকে না। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দর্শকদের বসার ব্যবস্থা বেহাল। জেলা পর্যায়ে ফুটবল মাঠ আছে, কিন্তু অধিকাংশই দখল হয়ে গেছে বা ব্যবহারের অনুপযোগী। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ভেনু বলতে গেলে একটাও নেই।

এবার দর্শক আর দর্শকপ্রিয়তার দিকে তাকানো যাক:

ক্রিকেটে বাংলাদেশের টিভি দর্শকসংখ্যা বিশাল। ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একটা ম্যাচে টিভি দর্শক ছিল ৩ থেকে ৪ কোটি। বিপিএল-এর গড় দর্শকসংখ্যা ম্যাচ প্রতি ৫০ থেকে ৮০ লাখ (টিভিতে)। আর ফুটবল? জাতীয় দলের ম্যাচে টিভি দর্শক ৮ থেকে ১৫ লাখ। ফুটবল লিগ? টিভিতে সম্প্রচারই হয় না নিয়মিত।

এখানে একটা মুরগি-ডিম সমস্যা আছে। ফুটবলে বিনিয়োগ নেই বলে মান ভালো না। মান ভালো না বলে দর্শক নেই। দর্শক নেই বলে স্পনসর নেই। স্পনসর নেই বলে বিনিয়োগ নেই। এই চক্র ভাঙতে কেউ এগিয়ে আসছে না।


পর্ব ৫: বিপিএল বনাম আইপিএল, সত্যিকারের তুলনা

বিপিএল-কে আমরা গর্ব করে "আমাদের প্রিমিয়ার লিগ" বলি। কিন্তু বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতিতে বিপিএল-এর অবস্থান কোথায়?

আইপিএল-এর বার্ষিক ইকোসিস্টেম মূল্য প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (২০২৫ অনুমান)। পিএসএল (পাকিস্তান) প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। বিপিএল? প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার। মানে আইপিএল-এর ইকোসিস্টেম বিপিএল-এর ৩০০ গুণেরও বেশি। এমনকি পিএসএল-ও বিপিএল-এর ১০ গুণ।

শুধু টাকার পরিমাণ না, কাঠামোগত পার্থক্যটা আরো গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএল-এ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, তাদের নিজস্ব তারকা স্কাউটিং, একাডেমি, ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম আছে। বিপিএল-এ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মূলত বিসিবি-নির্ভর, স্বায়ত্তশাসন সীমিত।

পিএসএল পাকিস্তান ক্রিকেটকে পুনর্গঠিত করেছে। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েছে, পাকিস্তানে ক্রিকেট ফিরিয়ে এনেছে (নিরাপত্তা সংকটের পর)। বিপিএল কি বাংলাদেশ ক্রিকেটে সেই ভূমিকা রাখতে পেরেছে? আংশিকভাবে হ্যাঁ, তবে ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, ফ্র্যাঞ্চাইজি অস্থিরতা, আর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বিপিএল-এর সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করেছে।


পর্ব ৬: যাদের কথা কেউ বলে না

এতক্ষণ পুরুষ ক্রিকেট আর ফুটবলের কথা বলেছি। এবার একটু অন্যদিকে তাকানো যাক। নারী ক্রীড়াবিদদের অবস্থা কেমন?

বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচে ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পান। পুরুষ দলের খেলোয়াড়রা ৩ থেকে ৫ লাখ। অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য ১০ থেকে ২০ গুণ। মহিলা ফুটবলারদের অবস্থা আরো খারাপ। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই অন্য চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, কারণ শুধু খেলে সংসার চলে না।

অথচ বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল গত কয়েক বছরে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলেছে। সালমা খাতুন, নিগার সুলতানা জ্যোতি, মুর্শিদা খাতুন, এরা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের স্বীকৃতি কোথায়? পুরুষ ক্রিকেটারদের একটা ম্যাচের ফি-র সমান তাদের পুরো মাসের বেতন।

এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না, বৈশ্বিক সমস্যা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে পুরুষ-নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি সমান করেছে। ভারতও নারী আইপিএল (WPL) চালু করেছে। বাংলাদেশ? কোনো পরিকল্পনা নেই।

শেষ চার্টটা দেখুন:

একজন শীর্ষ বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে আনুমানিক মোট আয় (খেলা, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ মিলিয়ে) ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। একজন শীর্ষ ফুটবলারের? ৩ থেকে ৫ কোটি। একজন শীর্ষ নারী ক্রিকেটারের? ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি। একজন হকি বা সাঁতারু এথলিটের? ২০ থেকে ৪০ লাখ পুরো ক্যারিয়ারে।

এই বৈষম্যের ফলাফল কী? প্রতিভাবান তরুণরা ক্রিকেট ছাড়া অন্য কিছু ভাবে না। একটা ছেলে যদি দৌড়ে ভালো হয়, সাঁতারে ভালো হয়, বা ফুটবলে ভালো হয়, তার বাবা-মা তাকে বলবে "ক্রিকেট ধর।" কারণ ক্রিকেটে টাকা আছে, বাকিতে নেই। একটা পুরো জাতির ক্রীড়া প্রতিভা একটা মাত্র খেলায় চলে যাচ্ছে। বাকি সব খেলা শুকিয়ে যাচ্ছে।


শুক্রবার রাত দশটা। বিপিএল ম্যাচ শেষ হয়েছে। সাকিব ম্যান অফ দ্য ম্যাচ। ক্যামেরার সামনে হাসছেন। স্পনসরের চেক হাতে।

একই রাতে, কমলাপুরের মাঠে আলো নেই। জামাল ভূঁইয়া রিকশায় বাড়ি ফিরছেন। কাল সকালে আবার প্র্যাকটিস। ম্যাচ আছে পরশু। দর্শক আসবে ৩০০ জন। টিভিতে দেখাবে না।

বাংলাদেশের ক্রীড়া অর্থনীতি একটা পিরামিড। চূড়ায় ক্রিকেট, চকচকে, টাকায় ভরপুর। নিচে বাকি সব খেলা, অন্ধকারে, অবহেলায়। এটা কোনো দুর্ঘটনা না। এটা নীতিগত পছন্দের ফলাফল। বিসিবি-তে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালা হয়েছে, কিন্তু একটা জাতীয় ক্রীড়া নীতি তৈরি হয়নি যেটা সব খেলায় ন্যূনতম বিনিয়োগ নিশ্চিত করে।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে শক্তিশালী, কিন্তু তারা সাঁতার, রাগবি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্সেও সমানভাবে বিনিয়োগ করে। ভারত ক্রিকেটপ্রধান দেশ, কিন্তু তাদের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ (SAI) অলিম্পিক খেলাগুলোতে আলাদা তহবিল রাখে। নীরজ চোপড়া জ্যাভলিনে সোনা পেয়েছেন, কারণ ভারত শুধু ক্রিকেটে থেমে থাকেনি।

বাংলাদেশ কি শুধু ক্রিকেটের দেশ হয়ে থাকবে? ১৭ কোটি মানুষের দেশে কি শুধু একটা খেলায় প্রতিভা থাকবে? বিশ্ব ক্রীড়ার মঞ্চে বাংলাদেশ কি চিরকাল অলিম্পিকে শূন্য মেডেল নিয়ে ফিরবে?

উত্তর নির্ভর করছে একটা সিদ্ধান্তের উপর: আমরা কি ক্রীড়াকে শুধু ক্রিকেট মনে করব, নাকি একটা সামগ্রিক জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখব? সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখন। জামাল ভূঁইয়ারা অপেক্ষায় আছেন। তাদের পায়ে বল আছে, শুধু মাঠটা দরকার।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50