ঢাকা: পৃথিবীর সবচেয়ে অবাসযোগ্য শহর?
পর্ব ১: করিমের যাত্রা
করিম সকাল ৬টায় বাসা থেকে বের হয়। মিরপুরে থাকে, অফিস মতিঝিলে। দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। গুগল ম্যাপ বলে ২৫ মিনিটের রাস্তা। বাস্তবে? তিন ঘণ্টা। কখনো সাড়ে তিন।
প্রথমে রিকশায় চড়ে মিরপুর-১০ পর্যন্ত। সেখান থেকে বাসে ফার্মগেট। ফার্মগেটে নেমে আরেকটা বাস ধরে মতিঝিল। তিনটা যানবাহন, তিনবার ভিড়ের মধ্যে ঢোকা, তিনবার ঘাম মুছে আবার দাঁড়ানো। রাস্তায় বাস দাঁড়িয়ে থাকে, ট্রাক আটকে থাকে, রিকশা আর সিএনজি জট পাকায়। ট্রাফিক সিগন্যাল কাজ করে না, পুলিশ হাত নেড়ে ক্লান্ত। করিম বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে ঘামে ভেজে, ব্যাগ বুকে চেপে ধরে রাখে যেন পকেটমার না পায়।
সকাল ৯টার আগে অফিসে পৌঁছাতে হয়। তাই ৬টায় বের হয়। ৬টায় বের হতে গেলে ৫টায় উঠতে হয়। রাতে ১১টার আগে ঘুমাতে পারে না, কারণ ঢাকার রাত কখনো শান্ত হয় না। পাশের বাসার নির্মাণ কাজ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। রাস্তায় হর্ন বাজে সারারাত।
করিম একা না। ঢাকার প্রায় ৩৫ লাখ কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এই যাত্রা করে। গড়ে প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াতে সময় যায় ২.৫ ঘণ্টা। কিছু রুটে ৪ ঘণ্টা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকার গড় ট্রাফিক গতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার। হাঁটার চেয়ে সামান্য বেশি। পৃথিবীর ধীরতম শহরগুলোর একটি।
কিন্তু করিমের কাহিনি শুধু ট্রাফিকের গল্প না। এটা ঢাকার গল্প। দুই কোটি মানুষের একটা শহর, যেখানে বাঁচা প্রতিদিনের যুদ্ধ।
ঢাকা কীভাবে এই জায়গায় এলো? এই চার্টটা দেখুন:
১৯৭০ সালে ঢাকায় মানুষ ছিল প্রায় ২০ লাখ। ২০০০ সালে ১ কোটি। ২০২৫ সালে ২.২ কোটি। পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা দশ গুণেরও বেশি বেড়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো মেগাসিটি এত দ্রুত বাড়েনি। এই গতিতে বাড়লে কোনো শহর ভালো থাকতে পারে না, কোনো অবকাঠামো টিকে থাকতে পারে না।
পর্ব ২: পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন শহর
ঢাকা শুধু বড় না। ঢাকা ঘন। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মেগাসিটি।
পুরান ঢাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ মানুষ থাকে। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের অনেক এলাকায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের গড় ঘনত্ব প্রায় ২৩,০০০ প্রতি বর্গকিলোমিটার।
এই সংখ্যাটা কতটা অস্বাভাবিক? অন্য মেগাসিটির সাথে তুলনা করলে বোঝা যাবে:
মুম্বাই, যেটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন শহর বলা হতো, সেখানে ঘনত্ব ২০,৭০০। লাগোসে ১৩,০০০। টোকিওতে ৬,২০০। নিউইয়র্কে ১১,০০০। ঢাকা সবার ওপরে, ২৩,০০০। আর পুরান ঢাকায় গেলে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
এত মানুষ এত ছোট জায়গায় কীভাবে থাকে? উত্তর হলো: ভালোভাবে থাকে না। প্রতিদিন বেঁচে থাকে, কিন্তু বাঁচে না।
তার প্রমাণ? Economist Intelligence Unit (EIU) প্রতি বছর পৃথিবীর শহরগুলোকে "বাসযোগ্যতা" অনুযায়ী র্যাংকিং করে। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা, অবকাঠামো, এই পাঁচটা মাপকাঠিতে স্কোর দেয়। ঢাকা কোথায়? এই চার্টটা দেখুন:
ঢাকা ধারাবাহিকভাবে তলানিতে। ১৭৩টা শহরের মধ্যে ১৬৮তম। ঢাকার নিচে আছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলো: ত্রিপোলি, আলজিয়ার্স, কারাচি, লাগোস। মানে ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে অবাসযোগ্য শহরগুলোর একটি, যুদ্ধ ছাড়াই।
কিন্তু EIU-র র্যাংকিং বিমূর্ত সংখ্যা। বাস্তবটা আরো কঠোর। চলুন দেখি ঢাকায় মানুষ কীভাবে চলাফেরা করে।
পর্ব ৩: গতিহীন শহর, ঘরহীন মানুষ
ঢাকার ট্রাফিক শুধু বিরক্তিকর না। এটা অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ট্রান্সপোর্ট স্টাডি অনুযায়ী, ট্রাফিক জটে ঢাকায় প্রতি বছর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। কর্মঘণ্টা নষ্ট, জ্বালানি অপচয়, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, এই সব মিলিয়ে। ৩.৮ বিলিয়ন ডলার মানে ঢাকার মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ৩.৫%।
গত বিশ বছরে ঢাকার ট্রাফিক গতি ক্রমাগত কমেছে। এই চার্টটা দেখুন:
২০০৫ সালে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। খুব ভালো ছিল না, কিন্তু চলনসই। ২০১৫ সালে নেমে এসেছে ৯ কিলোমিটার। ২০২৫ সালে ৫ কিলোমিটার। হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৪-৫ কিলোমিটার। মানে ঢাকায় গাড়ি চালানো আর হাঁটা, একই কথা।
আর ঢাকাবাসী তাদের জীবনের কতটা সময় এই রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে? এই চার্টটা দেখুন:
৩৮% মানুষের যাতায়াত সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা (একপাশে)। ২২% মানুষের দুই থেকে তিন ঘণ্টা। ১২% মানুষের তিন ঘণ্টার বেশি। মানে ঢাকায় কাজ করলে আপনার দিনের ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা শুধু রাস্তায় যায়। ঘুমের পর দিনের বাকি যে ১৬ ঘণ্টা থাকে, তার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয় শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে।
ট্রাফিকের কথা ছাড়ুন। ঢাকায় থাকার জায়গা কোথায়?
ঢাকায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের ৫০ থেকে ৬০% যায় শুধু বাড়িভাড়ায়। আন্তর্জাতিক মানে, আয়ের ৩০%-এর বেশি বাড়িভাড়ায় গেলে সেটাকে "অতিরিক্ত আবাসন ব্যয়" ধরা হয়। ঢাকায় সেটা ৫০% ছাড়িয়ে গেছে। এই চার্টটা দেখুন:
সবচেয়ে গরিব ২০% মানুষের আয়ের ৬৫% যায় বাড়িভাড়ায়। পরের ২০%-এর যায় ৫২%। মাঝামাঝি আয়ের পরিবারেও ৪০%। এর মানে হলো বেশিরভাগ ঢাকাবাসীর জীবনে ভাড়া দেওয়ার পর খাবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য অতি সামান্য টাকা থাকে।
আর যারা ভাড়াও দিতে পারে না? তারা বস্তিতে যায়। ঢাকায় প্রায় ৪০% মানুষ বস্তিতে বা অনানুষ্ঠানিক বসতিতে থাকে। এই চার্টটা দেখুন:
২০০০ সালে ঢাকায় বস্তিবাসী ছিল ২৮%। ২০১০ সালে ৩৫%। ২০২৫ সালে প্রায় ৪০%। সংখ্যায়? প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। ৮০ লাখ মানুষ, যাদের বিশুদ্ধ পানি নেই, স্যানিটেশন নেই, বিদ্যুৎ অনিয়মিত, আগুন লাগলে পালানোর রাস্তা নেই।
আর পানির কথা বলতে গেলে আরেকটা সংকটের কথা আসে। ঢাকা শহর মাটির নিচ থেকে পানি তোলে। গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠানো হয়, কারণ ভূপৃষ্ঠের নদীগুলো দূষিত। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, এগুলোতে পানি নয়, বর্জ্যের স্রোত বহে। ফলে ঢাকা তার পানির প্রায় ৮০% ভূগর্ভ থেকে নেয়।
কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে। প্রতি বছর ২ থেকে ৩ মিটার করে। এই চার্টটা দেখুন:
১৯৯০ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটার নিচে। ২০১০ সালে ৪০ মিটার। ২০২৫ সালে ৭৫ মিটার। এই গতিতে নামতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে অনেক এলাকায় পাম্পে পানি উঠবে না। ঢাকা একটা পানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেটা ট্রাফিক বা আবাসনের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর।
পর্ব ৪: মেট্রো রেল কি ঢাকাকে বাঁচাবে?
২০২২ সালে ঢাকায় মেট্রো রেল চালু হলো। MRT Line-6, উত্তরা থেকে মতিঝিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণপরিবহন ব্যবস্থা যেটা আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়মতো চলে। ঢাকাবাসীর আশা তৈরি হলো: মেট্রো কি ঢাকাকে বাঁচাবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: শুধু মেট্রো দিয়ে না।
MRT Line-6 একটা করিডোর কভার করে। ঢাকার মোট যাতায়াত চাহিদার ৫% এর বেশি এটা পূরণ করতে পারে না। ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ২.৫ কোটি ট্রিপ হয়। মেট্রো দিনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ যাত্রী বহন করতে পারে। বাকি ২.৪৫ কোটি ট্রিপ? সেগুলো আগের মতোই বাস, রিকশা, সিএনজি, পায়ে হাঁটায় চলবে।
কিন্তু মেট্রো করিডোরে যারা চলাচল করে, তাদের জন্য প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এই চার্টটা দেখুন:
মেট্রো চালু হওয়ার আগে উত্তরা থেকে মতিঝিলে বাসে সময় লাগতো গড়ে ১২০ মিনিট। মেট্রোতে ৪০ মিনিট। ৮০ মিনিট সাশ্রয়। কিন্তু সেটা শুধু একটা রুটের জন্য। গাজীপুর থেকে মতিঝিল? টঙ্গী থেকে সাভার? নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুর? সেগুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ঢাকার আসল সমস্যা শুধু যানজট না। আসল সমস্যা হলো ঢাকা একটা মাত্র শহরে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সব কিছু ঢাকায়। সরকার ঢাকায়, ব্যবসা ঢাকায়, বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায়, হাসপাতাল ঢাকায়। দেশের ৩৫% জিডিপি ঢাকায় উৎপন্ন হয়। সব সুযোগ ঢাকায় কেন্দ্রীভূত, তাই সব মানুষ ঢাকায় আসে। মেট্রো রেল ঢাকার ভেতরের সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু ঢাকায় মানুষ আসা বন্ধ করতে পারে না।
ট্রাফিক জটের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। এটা বাংলাদেশের পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের প্রায় সমান। মানে ঢাকার রাস্তায় যে সময় নষ্ট হচ্ছে, তার মূল্য দিয়ে দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যেত।
পর্ব ৫: ঢাকাকে কি বাঁচানো সম্ভব?
ঢাকাকে বাঁচাতে হলে ঢাকার বাইরে তাকাতে হবে। শুধু ঢাকার ভেতরে ফ্লাইওভার, মেট্রো, বা এক্সপ্রেসওয়ে বানিয়ে সমস্যা সমাধান হবে না। সমাধান হলো: ঢাকায় মানুষ আসার কারণ কমানো।
সিউল এটা করেছে। ১৯৭০-৮০ এর দশকে সিউল ঢাকার মতোই সমস্যায় ভুগছিল। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট, দূষণ। দক্ষিণ কোরিয়া কী করলো? ১৯৮০ এর দশকে "Administrative Capital Relocation Plan" নিলো। সরকারি অফিস সিউলের বাইরে সেজং সিটিতে সরানো হলো। একই সাথে সিউলের চারপাশে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হলো: সোংনাম, বুন্দাং, ইলসান। প্রতিটা শহরে আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবকিছু পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হলো। সিউলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি থেমে গেলো। আজ সিউলের জনসংখ্যা কমছে।
বোগোতা, কলম্বিয়া। ১৯৯০ এর দশকে বোগোতা ছিল যানজট, অপরাধ আর বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত। মেয়র এনরিকে পেনালোসা একটা সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন: গাড়ির জন্য শহর বানানো বন্ধ। TransMilenio BRT (Bus Rapid Transit) চালু করলেন, আলাদা লেনে দ্রুতগামী বাস। সাইকেল লেন তৈরি করলেন ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। পথচারীদের জন্য পার্ক, ফুটপাত, পাবলিক স্পেস তৈরি করলেন। বোগোতা আজ দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে গতিশীল শহরগুলোর একটি।
ঢাকার জন্য কী করা সম্ভব? ধরুন, ঢাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ২০% যদি সেকেন্ডারি শহরগুলোতে সরানো যায়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, গাজীপুর, সাভার, তাহলে কী হতে পারে? এই চার্টটা দেখুন:
ঢাকার জনসংখ্যা ১৫-২০% কমবে। ট্রাফিক জটের অর্থনৈতিক ক্ষতি ৩.৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২.৪ বিলিয়নে নামবে। ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে। বাতাসের মান উন্নত হবে। আর একই সাথে সেকেন্ডারি শহরগুলো বিকশিত হবে, সেখানকার মানুষের ঢাকায় আসার দরকার হবে না।
এটা কি সম্ভব? হ্যাঁ। কিন্তু কেউ করবে কি? সেটাই প্রশ্ন।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
করিম আজ রাতেও অফিস থেকে তিন ঘণ্টা ধরে বাসায় ফিরবে। ক্লান্ত শরীরে ঘরে ঢুকে দেখবে লোডশেডিংয়ে সব অন্ধকার। পানির ট্যাঙ্কে পানি নেই, কারণ পাম্পে আর পানি ওঠে না। ছেলের স্কুলের বেতনের টাকা জোগাড় করতে গেলে এই মাসে ভাড়ায় ঘাটতি পড়বে। বাসাওয়ালা ইতোমধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলেছে, কারণ ভাড়া বাড়াতে চায়। কোথায় যাবে?
করিম ঢাকা ছেড়ে যেতে পারে না। কারণ তার চাকরি ঢাকায়। ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশে কোথায় চাকরি আছে? কোথায় হাসপাতাল আছে? কোথায় ছেলের জন্য ভালো স্কুল আছে?
ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে অবাসযোগ্য শহরগুলোর একটি। কিন্তু দুই কোটি মানুষ এখানে থাকে, কারণ তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
প্রশ্নটা হলো: আমরা কি ঢাকাকে বাসযোগ্য করবো? নাকি ঢাকার বাইরে বাসযোগ্য বিকল্প তৈরি করবো? নাকি দুটোই? নাকি, যেমন সবসময় হয়, কিছুই করবো না, আর পরের প্রজন্মকে আরো ভয়ংকর একটা ঢাকায় ফেলে রেখে যাবো?
করিমের ছেলে এখন ৮ বছর। সে যখন বড় হবে, ২০৪০ সালে ঢাকায় মানুষ হবে ৩ কোটি। তখন গড় ট্রাফিক গতি হবে ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার। পানির স্তর নামবে ১২০ মিটার। বস্তিবাসী হবে ১ কোটি। সেই ঢাকায় কি কেউ বাঁচতে পারবে?