Back to publications
Narrative 2026-03-06

বিদ্যুৎ চুরি: কে চুরি করে, কে দাম দেয়?

সিস্টেম লস, ভর্তুকি, আর ক্রস-সাবসিডির অন্যায়

বিদ্যুৎ চুরি: কে চুরি করে, কে দাম দেয়?

পর্ব ১: অদৃশ্য বিদ্যুৎ

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হলো। ট্রান্সমিশন লাইনে উঠলো। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সারা দেশে ছড়িয়ে গেলো। কিন্তু যে বিদ্যুৎ তৈরি হলো আর যে বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকরা বিল দিলো, তার মধ্যে একটা ফাঁক আছে। একটা বিশাল ফাঁক।

এই ফাঁকটার সরকারি নাম "সিস্টেম লস"।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু অনেকগুলো ব্যবহার হচ্ছে না।
প্রায় ২৫ লাখ পরিবার
কে চুরি করে
৫-৭%
অদৃশ্য বিদ্যুৎ
প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা
যে বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে না, তার জন্যও টাকা দিতে হয়

সিস্টেম লস মানে কী? সোজা কথায়, বিদ্যুৎ তৈরি হয়েছে কিন্তু বিল আদায় হয়নি। কিছুটা কারিগরি কারণে হারায়, তারের রেজিস্ট্যান্স, ট্রান্সফরমারের তাপ, পুরনো লাইন। এটা পৃথিবীর সব দেশেই আছে, সাধারণত ৫-৭%। কিন্তু বাংলাদেশে? এই চার্টটা দেখুন:

বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (BPDB) অধীনে যে বিতরণ কোম্পানিগুলো কাজ করে, তাদের সিস্টেম লসের হার ৮% থেকে ৩০% পর্যন্ত। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (DPDC) ১২%। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (DESCO) ৮%। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর কিছু কিছুতে ২৫-৩০%।

৩০% সিস্টেম লস মানে কী? মানে প্রতি ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরি করলে ৩০ ইউনিটের কোনো বিল আদায় হয় না। ৫-৭% কারিগরি লস বাদ দিলে বাকি ২৩-২৫% কোথায় যায়?

চুরি হয়।

অবৈধ সংযোগ, মিটার ম্যানিপুলেশন, হুকিং, বাইপাস লাইন, মিটার বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ ব্যবহার। এগুলো "নন-টেকনিক্যাল লস" বা সোজা কথায় চুরি। আর এই চুরির আর্থিক মূল্য? প্রচুর।

বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর বিদ্যুৎ চুরির আনুমানিক পরিমাণ ১২,০০০ থেকে ১৮,০০০ মিলিয়ন ইউনিট (kWh)। টাকার হিসাবে? প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকা। প্রতি বছর। এটা পদ্মা সেতুর মোট খরচের প্রায় অর্ধেক। প্রতি বছর অর্ধেক পদ্মা সেতু চুরি হচ্ছে।

কিন্তু কারা চুরি করে? গরিব মানুষ, যাদের বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়ার সামর্থ্য নেই? নাকি অন্য কেউ?


পর্ব ২: কে চুরি করে?

একটা ভুল ধারণা আছে যে বিদ্যুৎ চুরি শুধু বস্তির মানুষ বা গরিব পরিবার করে। বাস্তবতা আলাদা। বড় বড় শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানও বিদ্যুৎ চুরির সাথে জড়িত। মিটার ম্যানিপুলেশন করে বিলের পরিমাণ কমিয়ে রাখা হয়। ডিস্ট্রিবিউশন লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়া হয় মিটার ছাড়া।

রাজনৈতিক সংযোগ একটা বড় ভূমিকা রাখে। বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনা পর্ষদে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা থাকেন। তাদের এলাকায় অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। লাইনম্যান বা মিটার রিডার যদি কারো অবৈধ সংযোগ কাটে, পরদিন তাকে হুমকি দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনও হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফল? BPDB প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান করে। এই চার্টটা দেখুন:

BPDB-র বার্ষিক লোকসান ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫,০০০ কোটি টাকার বেশি। দশ বছরে পাঁচ গুণ। এই লোকসান কে বহন করে? সরকার। মানে করদাতা। মানে আপনি।

BPDB-র লোকসানের কারণ শুধু চুরি না। উচ্চ উৎপাদন খরচ, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, আর IPP (Independent Power Producer) ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, সবকিছু মিলিয়ে। কিন্তু সিস্টেম লস, মানে চুরি, এটা একটা বিশাল অবদানকারী।

সিস্টেম লস গত দুই দশকে কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে? এই চার্টটা দেখুন:

২০০৫ সালে জাতীয় গড় সিস্টেম লস ছিল ২৮%। ২০২৫ সালে নেমে এসেছে প্রায় ১২%। এটা একটা অগ্রগতি, সেটা অস্বীকার করা ঠিক হবে না। প্রিপেইড মিটার, ডিজিটাল মনিটরিং, সংস্কার কিছু ফল দিয়েছে। কিন্তু ১২% এখনো অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটা কোথায় দাঁড়ায়?

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরে সিস্টেম লস ৩-৫%। চীনে ৬%। ভিয়েতনামে ৭%। ভারতে ১৮% (গড়, তবে কিছু রাজ্যে ৩০%+)। পাকিস্তানে ১৭%। বাংলাদেশে ১২%। ভারত আর পাকিস্তানের চেয়ে ভালো, কিন্তু পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এখনো দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি।

একটা হিসাব করা যাক। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৯০,০০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরি হয়। সিস্টেম লস যদি ১২% থেকে ৬% এ নামানো যায়, তাহলে বছরে ৫,৪০০ মিলিয়ন ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কোনো নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া, কোনো গ্যাস পোড়ানো ছাড়া, কোনো তেল আমদানি ছাড়া। শুধু চুরি বন্ধ করলে।

সেই ৫,৪০০ মিলিয়ন ইউনিট দিয়ে কী হতো? প্রায় ২৫ লাখ পরিবারের এক বছরের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যেত। অথবা ১০,০০০ ছোট কারখানা চালানো যেত।

কিন্তু চুরি একটা মাত্র সমস্যা। আরেকটা সমস্যা আছে যেটা চুরির চেয়েও বেশি টাকা খরচ করাচ্ছে: ক্যাপাসিটি পেমেন্ট।


পর্ব ৩: যে বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে না, তার জন্যও টাকা দিতে হয়

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটা অদ্ভুত ব্যবস্থা আছে। সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে (IPP) বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্র চলুক আর না চলুক, সরকারকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এটাকে বলে "ক্যাপাসিটি পেমেন্ট" বা "ক্যাপাসিটি চার্জ"।

এই চার্টটা দেখুন:

IPP ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সেটা ২৫,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু অনেকগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র চলে না। ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালালে প্রতি ইউনিটের দাম এত বেশি পড়ে যে চালানো অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব হয় না। কিন্তু টাকা দিতে হচ্ছে।

এটা একটা দুষ্টচক্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো হয়েছে যেগুলোর দরকার নেই। সেগুলোর জন্য টাকা দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ না পেয়েও। সেই টাকা আসছে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকি থেকে। ভর্তুকি আসছে করদাতার টাকা থেকে। মানে আপনি দুইবার দাম দিচ্ছেন: একবার বিদ্যুতের বিল হিসেবে, আরেকবার ট্যাক্সের মাধ্যমে।

আর ভর্তুকির পরিমাণ? এই চার্টটা দেখুন:

বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকি ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে? ৩৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি। সাত গুণ বৃদ্ধি। এই টাকা দিয়ে কী হতে পারতো? প্রায় ৭০,০০০ গ্রামে সোলার মাইক্রোগ্রিড বসানো যেত। অথবা ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্কলারশিপ দেওয়া যেত।

কিন্তু ভর্তুকির চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো: এই ভর্তুকি কে পাচ্ছে? আর কার কাছ থেকে টাকাটা আসছে?


পর্ব ৪: ক্রস-সাবসিডির অন্যায়

বাংলাদেশের বিদ্যুতের দাম সবার জন্য সমান না। আবাসিক গ্রাহকরা কম দাম দেন। শিল্প গ্রাহকরা বেশি দাম দেন। কৃষিতে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থাকে বলে "ক্রস-সাবসিডি"।

আবাসিক গ্রাহক দেন প্রতি ইউনিটে গড়ে ৬.৫ টাকা। শিল্প গ্রাহক দেন ১১ টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহক দেন ১৩ টাকা। কৃষি গ্রাহক দেন ৪.৫ টাকা। উৎপাদন খরচ ইউনিটপ্রতি প্রায় ১১-১২ টাকা।

মানে কী দাঁড়ালো? শিল্প গ্রাহকরা প্রায় উৎপাদন খরচেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। বাণিজ্যিক গ্রাহকরা সেটার চেয়ে বেশি দিচ্ছেন। কিন্তু আবাসিক আর কৃষি গ্রাহকরা উৎপাদন খরচের অনেক নিচে পাচ্ছেন। ফারাকটা কে বহন করছে? দুটো উৎস: (১) শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল, এবং (২) সরকারি ভর্তুকি।

এই ক্রস-সাবসিডি শুনতে ভালো লাগে, "গরিব মানুষের জন্য সস্তায় বিদ্যুৎ!" কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ।

শিল্পে বিদ্যুতের দাম বেশি মানে উৎপাদন খরচ বেশি। উৎপাদন খরচ বেশি মানে পণ্যের দাম বেশি। পণ্যের দাম বেশি মানে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে। নতুন কারখানা খোলার আগ্রহ কমে। চাকরি কমে। আর যখন চাকরি কমে, গরিব মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাহলে সস্তা বিদ্যুৎ দিয়ে যাদের "সাহায্য" করা হচ্ছে, তারাই আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরোক্ষভাবে। কারণ শিল্পের বিদ্যুৎ খরচ বেশি হওয়ায় কারখানা কম হচ্ছে, চাকরি কম হচ্ছে, আয় কম হচ্ছে।

বাংলাদেশের শিল্প বিদ্যুতের দাম প্রতি kWh প্রায় ১১ টাকা (প্রায় ০.১০ ডলার)। ভিয়েতনামে ০.০৭ ডলার। ভারতে ০.০৮ ডলার। ইন্দোনেশিয়ায় ০.০৭ ডলার। বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিক, স্টিল মিল মালিক, সিরামিক কারখানার মালিক, সবাই প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি দাম দিচ্ছেন বিদ্যুতের জন্য। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত শ্রমিকের বেতন থেকে কাটা হয়, অথবা শ্রমিক নিয়োগই কমিয়ে দেওয়া হয়।


পর্ব ৫: প্রিপেইড মিটার আর সমাধানের সূত্র

চুরি কমানোর একটা কার্যকর উপায় আছে: প্রিপেইড মিটার। মোবাইল ফোনের প্রিপেইড ব্যালেন্সের মতো, আগে টাকা দিন, তারপর বিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। ব্যালেন্স শেষ হলে বিদ্যুৎ বন্ধ। চুরির সুযোগ কমে কারণ মিটার বাইপাস করলে সিস্টেম সেটা শনাক্ত করতে পারে।

বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটারের সংখ্যা ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ৫ লাখ। ২০২৫ সালে সেটা বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ হয়েছে। মোট গ্রাহকের প্রায় ৩৫%। যেসব এলাকায় প্রিপেইড মিটার বসেছে, সেখানে সিস্টেম লস ৫-৮% কমে গেছে। DESCO, যেখানে প্রিপেইড মিটার সবচেয়ে বেশি, সেখানে সিস্টেম লস মাত্র ৮%, জাতীয় গড়ের চেয়ে ৪ পয়েন্ট কম।

কিন্তু ৩৫% যথেষ্ট না। বাকি ৬৫% এখনো পোস্টপেইড মিটারে আছে, যেখানে চুরির সুযোগ অনেক বেশি। এবং গ্রামাঞ্চলে, যেখানে সিস্টেম লস সবচেয়ে বেশি, সেখানে প্রিপেইড মিটার সবচেয়ে কম।

পুরো ছবিটা দেখুন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত একসাথে কয়েকটা সমস্যায় ডুবে আছে: (১) সিস্টেম লস ১২%, যার অর্ধেকের বেশি চুরি। (২) BPDB বছরে ২৫,০০০ কোটি টাকা লোকসান করছে। (৩) IPP ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বছরে ২৫,০০০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ না নিয়েও। (৪) সরকারি ভর্তুকি ৩৫,০০০ কোটি টাকা। (৫) ক্রস-সাবসিডিতে শিল্প বেশি দিচ্ছে, যেটা কর্মসংস্থান কমাচ্ছে।

সমাধান কী? কয়েকটা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ আছে।

প্রথমত, ১০০% প্রিপেইড মিটার। দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে প্রতিটা সংযোগে প্রিপেইড মিটার বসান। বিনিয়োগ লাগবে, কিন্তু সিস্টেম লস ৬% এ নামলে যে টাকা বাঁচবে, সেটা দিয়ে মিটারের খরচ দুই বছরে উঠে আসবে।

দ্বিতীয়ত, IPP চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন। যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চলে না, তাদের চুক্তি পুনর্বিবেচনা করুন। অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে বা রূপান্তর করে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বোঝা কমান। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এই পথে হেঁটেছে।

তৃতীয়ত, ক্রস-সাবসিডি ক্রমশ কমান। শিল্প বিদ্যুতের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক করুন। আবাসিক ভর্তুকি শুধু সত্যিকারের দরিদ্র পরিবারে সীমাবদ্ধ রাখুন, সবার জন্য ভর্তুকি দেওয়া জাতীয় অপচয়। বিদ্যুতের প্রথম ১০০ ইউনিট ভর্তুকি মূল্যে, তারপর প্রকৃত খরচে, এই মডেল ভারতের কিছু রাজ্যে চালু আছে।

চতুর্থত, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনুন। সিস্টেম লস ৮% এর বেশি হলে ম্যানেজমেন্ট বদলানো হবে, এই নীতি চালু করুন। কর্মচারীদের জন্য পারফরম্যান্স বোনাস চালু করুন: সিস্টেম লস কমলে বোনাস, বাড়লে দায়ভার।

পঞ্চমত, সৌরশক্তি। ছাদে সোলার বসলে গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ নিজে তৈরি করে। ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। সিস্টেম লসের প্রশ্নই আসে না। বিকেন্দ্রীকৃত উৎপাদন চুরির সুযোগ কমায়।


কল্পনা করুন এটা ২০৩০ সাল। সারাদেশে ১০০% স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসেছে। সিস্টেম লস নেমে এসেছে ৬%। BPDB আর লোকসানে নেই। অপ্রয়োজনীয় IPP চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন হয়েছে, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট অর্ধেক হয়েছে। শিল্প বিদ্যুতের দাম ভিয়েতনামের সমান হয়েছে, নতুন কারখানা খুলছে, চাকরি হচ্ছে। ভর্তুকি শুধু সত্যিকারের গরিবের জন্য, বাকি টাকা শিক্ষা আর স্বাস্থ্যে যাচ্ছে।

এটা অসম্ভব না। কোনো নতুন প্রযুক্তি লাগবে না, কোনো বিদেশি সাহায্য লাগবে না। লাগবে শুধু সিদ্ধান্ত।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নিতে হলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে: যারা বিদ্যুৎ চুরি করে, তাদের রাজনৈতিক সুরক্ষা কি বন্ধ হবে? যে IPP মালিকরা বিদ্যুৎ না দিয়ে হাজার কোটি টাকা পাচ্ছেন, তাদের চুক্তি কি পুনর্মূল্যায়ন হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর যতদিন "না" থাকবে, ততদিন আপনার বিদ্যুতের বিলে একটা অদৃশ্য চার্জ থাকবে: চুরির ভর্তুকি।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50