মাছে-ভাতে বাঙালি, কিন্তু মাছ কোথায়?
পর্ব ১: জসিমের পদ্মা
পদ্মার পাড়ে একটা গ্রাম। নাম ধরুন চরভদ্রাসন। জসিম শেখের বয়স ৪৫। জেলে। তার বাবাও জেলে ছিল, দাদাও। তিন প্রজন্ম এই পদ্মায় মাছ ধরে সংসার চালিয়েছে।
জসিমের বাবা একসময় দিনে ৫০ কেজি ইলিশ ধরতো। ভরা মৌসুমে একটা নৌকা ভরে মাছ আসতো। ইলিশের রুপালি ঝলক দেখে মনে হতো নদী রুপা ফলিয়েছে। পদ্মার পাড়ে বসে হিসাব করার দরকার হতো না, মাছই ছিল হিসাব। সেই মাছে ছেলেমেয়েদের পড়ানো হয়েছে, মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে, টিনের ঘর পাকা হয়েছে।
আর জসিম? সে এখন সারাদিন জাল ফেলে পায় ৫ কেজি। কখনো ৩ কেজি। কখনো শূন্য। ইলিশ তো দূরের কথা, সাধারণ মাছও কমে গেছে। পদ্মায় পানি কমেছে, ফারাক্কা বাঁধের পর থেকে শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়। কারখানার বর্জ্য, শহরের নর্দমা, সব এসে পড়ে নদীতে। পানি কালচে, গন্ধ বের হয়। মাছ আর আসে না।
জসিম বলে, "বাবার আমলে নদী ছিল মায়ের মতো, খাওয়াতো। এখন নদী অসুস্থ, নিজেই বাঁচতে পারে না।"
এটা শুধু জসিমের গল্প না। এটা পুরো বাংলাদেশের গল্প। "মাছে-ভাতে বাঙালি", এই প্রবাদটা আমরা গর্ব করে বলি। কিন্তু সেই মাছ কোথায়?
এই চার্টটা দেখুন:
অন্তর্দেশীয় মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ গত তিন দশকে কীভাবে বদলেছে। নদী, হাওর, বিল, খাল থেকে মাছ ধরার পরিমাণ ক্রমশ কমেছে। ১৯৯০ সালে যেখানে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়তো, এখন সেটা ১০ লাখ টনের কাছাকাছি দেখালেও প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। কারণ জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, নদীতে জেলেও বেড়েছে, কিন্তু মাথাপিছু আহরণ কমেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, নদীর মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য ভয়ংকরভাবে কমে গেছে। এক সময় বাংলাদেশের নদীতে ২৬০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। এখন তার ৬৪টি বিলুপ্তপ্রায়।
জসিমের পদ্মা মরে যাচ্ছে। কিন্তু একটা মাছ আছে যেটা নিয়ে আশা আর হতাশা দুটোই মিশে আছে। সেই মাছের নাম ইলিশ।
পর্ব ২: ইলিশের যুদ্ধ
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। শুধু মাছ না, সাংস্কৃতিক প্রতীক। পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ ছাড়া উৎসব হয় না। বিয়ের অনুষ্ঠানে ইলিশ না থাকলে মেনু অসম্পূর্ণ। প্রবাসী বাঙালি দেশে ফিরলে প্রথম যে খাবার চায়, সেটা ইলিশ ভাজা।
কিন্তু ইলিশ সংকটে পড়েছিল। ২০০০ দশকের শুরুতে অতিরিক্ত আহরণ, প্রজনন মৌসুমে ধরা, জাটকা (ছোট ইলিশ) নিধন, এসব মিলিয়ে ইলিশের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছিল।
এই চার্টটা দেখুন:
সরকার ২০০৩ সাল থেকে ইলিশ সংরক্ষণে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। জাটকা ধরা বেআইনি। ছয়টি অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে। জেলেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাল দেওয়ার কর্মসূচি চালু হয়েছে। এই নীতিগুলোর কিছুটা ফল পাওয়া গেছে। ইলিশের উৎপাদন আবার বেড়েছে, ২০২৩ সালে প্রায় ৫.৭ লাখ মেট্রিক টন। এটা একটা আংশিক সাফল্যের গল্প।
কিন্তু "আংশিক" শব্দটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, ইলিশের দাম এত বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ১ কেজি ইলিশের দাম ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। যে মাছ একসময় গরিবের খাবার ছিল, সেটা এখন বিলাসদ্রব্য। দ্বিতীয়ত, ইলিশ সংরক্ষণ হচ্ছে কিন্তু অন্য মাছের কী হচ্ছে? রুই, কাতলা, মৃগেল, পাবদা, শিং, মাগুর, এসব দেশি মাছ নদী থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। ইলিশের জন্য আমরা নীতি বানিয়েছি কারণ ইলিশের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। কিন্তু নদীর সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং সেটা নিয়ে কেউ কথা বলছে না।
নদীতে মাছ কমছে, এটা সত্য। কিন্তু বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদন কিন্তু বাড়ছে। কীভাবে? একটা শব্দ: একুয়াকালচার।
পর্ব ৩: পুকুরে বিপ্লব, কিন্তু কোন মূল্যে?
বাংলাদেশ একুয়াকালচারে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। চীন আর ভারতের পরেই। একটা মুহূর্ত থামুন আর এই তথ্যটা হজম করুন। ১৭ কোটি মানুষের এই ছোট দেশটা মাছ চাষে পুরো পৃথিবীতে তৃতীয়।
এই চার্টটা দেখুন:
১৯৯০ সালে একুয়াকালচার উৎপাদন ছিল ২ লাখ মেট্রিক টনের কম। ২০২৫ সালে সেটা ২৮ লাখ মেট্রিক টনের উপরে। ত্রিশ বছরে ১৪ গুণ বৃদ্ধি। এটা একটা অসাধারণ অর্জন। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দেখলে আরো পরিষ্কার হবে।
চীন একা বিশ্বের ৫৮% একুয়াকালচার উৎপাদন করে। তারপর ভারত, তারপর বাংলাদেশ। আমাদের পরে আছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে। বাংলাদেশের এই সাফল্যের মূল চালক তিনটি মাছ: পাঙাস, তেলাপিয়া, আর চিংড়ি।
পাঙাস চাষ ময়মনসিংহ বিভাগে একটা বিপ্লব ঘটিয়েছে। ছোট পুকুরে, অল্প জায়গায়, অল্প পুঁজিতে পাঙাস চাষ করা যায়। মাছ দ্রুত বাড়ে, দাম সাধারণ মানুষের নাগালে। গরিবের প্রোটিনের উৎস হিসেবে পাঙাস অবিশ্বাস্য ভূমিকা রেখেছে।
কিন্তু চিংড়ি? চিংড়ি অন্য গল্প।
বাংলাদেশ একসময় চিংড়ি রপ্তানিতে বড় খেলোয়াড় ছিল। ২০১৩-১৪ সালে চিংড়ি রপ্তানি ছিল প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। তারপর থেকে ক্রমাগত পতন। ২০২৪-২৫ সালে এটা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। কারণ কী?
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট অঞ্চলে চিংড়ি ঘের তৈরি করতে হাজার হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করা হয়েছে। লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে ধানি জমি চিংড়ি ঘেরে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে কৃষিজমি নষ্ট, পানীয় জলের সংকট, আর সুন্দরবনের সীমান্তে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি। তার উপরে রোগ, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, আন্তর্জাতিক বাজারে মান নিয়ে প্রশ্ন, এসব মিলে চিংড়ি শিল্প সংকটে।
ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইকুয়েডর আধুনিক প্রযুক্তি আর কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ দিয়ে বাজার দখল করে নিয়েছে। বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।
একুয়াকালচার বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে বাঁচিয়ে রেখেছে, এটা সত্য। কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে: নদীর মাছ হারিয়ে পুকুরের মাছ দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা কি সত্যিকারের সমাধান? পুকুরের পাঙাস আর নদীর রুই কি একই জিনিস? পুষ্টিগত মান, স্বাদ, জীববৈচিত্র্য, সবকিছু বিবেচনা করলে উত্তর হলো: না।
আর মাছের গল্প যদি জটিল হয়, ভাতের গল্প আরো জটিল।
পর্ব ৪: ভাতের দেশে ভাত ছাড়া কিছু নেই
বাংলাদেশের কৃষি মানে ধান। ধান মানে ভাত। আর ভাত মানে জীবন। কিন্তু এই নির্ভরতা কতটা বিপজ্জনক, সেটা বেশিরভাগ মানুষ জানে না।
এই চার্টটা দেখুন:
বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ৭৭% শুধু ধান চাষে ব্যবহৃত হয়। সবজি মাত্র ৭%। ডাল ৩%। তেলবীজ ৪%। ফল ৩%। গম ৩%। মসলা ২%। অন্যান্য ১%। এটা মনোকালচারের চরম একটা উদাহরণ। পুরো কৃষি ব্যবস্থা একটা মাত্র ফসলের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ সফল, সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই।
১৯৭০ সালে ধান উৎপাদন ছিল ১ কোটি মেট্রিক টনের কাছে। ২০২৫ সালে সেটা প্রায় ৩.৮ কোটি মেট্রিক টন। সবুজ বিপ্লব, উচ্চফলনশীল জাত, সেচ সম্প্রসারণ, সার ব্যবহার, এসব মিলে উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। BRRI একাই ১০০টিরও বেশি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এটা বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার একটা বড় সাফল্য।
কিন্তু সমস্যা হলো, এই সাফল্যের ফাঁদে আটকে গেছি আমরা।
ধান চাষে পানি লাগে অনেক বেশি। ১ কেজি চাল উৎপাদনে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ লিটার পানি লাগে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। সেচের জন্য ডিজেল পাম্প চালাতে খরচ বাড়ছে। সারের দাম বাড়ছে। কিন্তু ধানের দাম? কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভ নিচ্ছে, কৃষক ঋণে ডুবছে।
বাংলাদেশের কৃষি পরিবারের প্রায় ৬১% ঋণগ্রস্ত। এদের মধ্যে অনেকে মহাজনের কাছে ঋণী, যেখানে সুদের হার ৩৬% থেকে ৬০% পর্যন্ত। প্রতি মৌসুমে কৃষক ধার করে বীজ কেনে, সার কেনে, সেচের জন্য ডিজেল কেনে। ফসল তুলে বিক্রি করে দেখে, খরচ বাদ দিলে কিছু থাকে না। পরের মৌসুমে আবার ধার। এটা একটা চক্র, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নেই।
কৃষি বৈচিত্র্যকরণ হলে কৃষক সবজি, ফল, ডাল, তেলবীজ চাষ করে বেশি লাভ করতে পারতো। কিন্তু সরকারের ভর্তুকি, নীতি, গবেষণা, সব ধানকেন্দ্রিক। কারণ ধানের রাজনীতি আছে। চালের দাম বাড়লে সরকার পড়ে। তাই সরকার ধানের দাম কম রাখে, কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয় না, আর কৃষক আটকে থাকে ধানের ফাঁদে।
এদিকে বাংলাদেশের খাদ্য আমদানি বাড়ছে। কারণ আমরা নিজেরা চাল ছাড়া প্রায় কিছুই যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন করি না।
গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, দুধ, ফল, এসবের বিশাল অংশ আমদানি করতে হয়। ২০১৫ সালে খাদ্য আমদানির বিল ছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের কাছে। ২০২৫ সালে সেটা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মোট আমদানির প্রায় ১৫%। ডলারের দাম বাড়লে খাদ্যের দামও বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়লে বাংলাদেশের রুটির দাম বাড়ে। আমরা খাদ্য সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছি, এবং এটা কেউ বলছে না।
পর্ব ৫: ২০৫০ সালে কী খাবো?
এখন একটু সামনে তাকানো যাক। ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০ কোটির কাছাকাছি। শহরে থাকবে ৫৫-৬০% মানুষ। আয় বাড়বে, খাদ্যাভ্যাস বদলাবে। মানুষ বেশি মাংস, দুধ, ডিম, ফল, সবজি খাবে। শুধু ভাত-ডাল দিয়ে চলবে না।
এই চার্টটা দেখুন:
ক্যালরির চাহিদা আর দেশীয় উৎপাদনের তুলনা। ২০২৫ সালে আমরা মোটামুটি চাহিদার কাছাকাছি উৎপাদন করি, কিন্তু সেটা শুধু ক্যালরির হিসাবে। প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থের হিসাব করলে বিশাল ঘাটতি আছে। ২০৫০ সালে? জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মিলিয়ে ঘাটতি আরো বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তন কৃষির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়বে, চাষযোগ্য জমি কমবে। অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সবকিছু বাড়বে। IPCC-এর হিসাবে বাংলাদেশের ধান উৎপাদন ২০৫০ সালে ৮-১৫% কমতে পারে। অন্যদিকে শহরায়ন প্রতি বছর প্রায় ১% কৃষিজমি গ্রাস করছে। ইটভাটা, হাউজিং, সড়ক, কারখানা, সব কিছু কৃষিজমির বিনিময়ে হচ্ছে।
তাহলে উত্তর কী? কিছু সম্ভাবনার কথা বলি।
প্রথমত, মৎস্য খাতে বাংলাদেশের একুয়াকালচারের সাফল্যকে আরো এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু টেকসইভাবে। অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত চাষ, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের সাথে চিংড়ি চাষের সমন্বয়, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ, এগুলো করা সম্ভব। ভিয়েতনাম ২০ বছরে মৎস্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ কেন পারবে না?
দ্বিতীয়ত, নদী বাঁচাতে হবে। মাছের আগে নদী। ফারাক্কা ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ, শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন, প্লাবনভূমি সংরক্ষণ, এগুলো ছাড়া নদীর মাছ ফিরবে না।
তৃতীয়ত, কৃষি বৈচিত্র্যকরণ। ধানের একচেটিয়া ভাঙতে হবে। কৃষককে সবজি, ফল, ডাল, তেলবীজ চাষে উৎসাহিত করতে হবে। ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ, কোল্ড চেইন, সব দরকার। থাইল্যান্ড ধানকেন্দ্রিক কৃষি থেকে বৈচিত্র্যময় কৃষিতে রূপান্তর করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য রপ্তানিকারক হয়েছে।
চতুর্থত, প্রযুক্তি। স্মার্ট সেচ, ড্রোন, মাটি পরীক্ষা, আবহাওয়া পূর্বাভাস, ডিজিটাল বাজার, এগুলো বাংলাদেশের কৃষিকে বদলে দিতে পারে। ভারতের কৃষি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশে? প্রায় শূন্য।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
পদ্মার পাড়ে জসিম আজও জাল ফেলে। মাছ কম আসে, কিন্তু সে অন্য কিছু জানে না। তার ছেলে অবশ্য আর জেলে হতে চায় না। সে ঢাকায় গেছে, গার্মেন্টসে কাজ করে। নদী আর তার ছেলেকে ধরে রাখতে পারেনি।
বাংলাদেশ "মাছে-ভাতে বাঙালি" বলে গর্ব করে। কিন্তু নদীর মাছ হারিয়ে যাচ্ছে, পুকুরের মাছ পরিবেশের মূল্যে আসছে, ভাতের জন্য কৃষক ঋণে ডুবছে, আর খাদ্য আমদানির বিল প্রতি বছর বাড়ছে।
২০৫০ সালে ২০ কোটি মানুষকে খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ বিশাল। শুধু ধান আর পুকুরের মাছ দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মেটানো যাবে না। দরকার নদী বাঁচানো, কৃষি বৈচিত্র্যকরণ, টেকসই একুয়াকালচার, আর খাদ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কার।
প্রশ্ন হলো: আমরা কি সেই সংস্কারের জন্য প্রস্তুত? নাকি আমরা "মাছে-ভাতে বাঙালি" প্রবাদটাকে শুধু অতীতের স্মৃতি হিসেবে মনে রাখবো?