Back to publications
Narrative 2026-03-06

ইন্টারনেট বন্ধ: কত টাকার ক্ষতি?

শাটডাউন, থ্রটলিং, আর ডিজিটাল অধিকারের সংকট

ইন্টারনেট বন্ধ: কত টাকার ক্ষতি?

পর্ব ১: অন্ধকারে পাঁচ দিন

২০২৪ সালের জুলাই। ঢাকার রাস্তায় ছাত্র আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে লাখো শিক্ষার্থী পথে নেমেছে। সরকারের জবাব? গুলি, কাঁদানে গ্যাস, আর একটা অদৃশ্য অস্ত্র: ইন্টারনেট বন্ধ।

১৮ জুলাই রাত থেকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন। মোবাইল ডেটা বন্ধ। ব্রডব্যান্ড বন্ধ। ফাইবার অপটিক বন্ধ। ১৭ কোটি মানুষের দেশ রাতারাতি ডিজিটাল অন্ধকারে তলিয়ে গেল। পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

ব্যান্ডউইথ থ্রটলিং আরেকটি অস্ত্র যেটা পূর্ণ শাটডাউনের চেয়ে কম দৃশ্যমান কিন্তু সমানভাবে কার্যকর।
১৭ কোটি মানুষ
অন্ধকারে পাঁচ দিন
৫০-৬০ মিলিয়ন ডলার
কার কত ক্ষতি
৩.৭%
সংযোগ আর সংযোগহীনতার মানচিত্র

ফারহানা ঢাকায় ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার। Upwork-এ তিনটা চলমান প্রজেক্ট ছিল। ডেডলাইন ২০ জুলাই। ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার মুহূর্তে সে ক্লায়েন্টকে জানাতেও পারেনি। পাঁচ দিন পর যখন ইন্টারনেট ফিরল, তিনটা প্রজেক্টই বাতিল। ক্লায়েন্ট অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছে। রেটিং কমেছে। ৪৫,০০০ টাকার কাজ হাওয়া।

ফারহানার মতো বাংলাদেশে প্রায় সাত লক্ষ ফ্রিল্যান্সার আছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে ইন্টারনেট শুধু সুবিধা না, জীবিকা। ইন্টারনেট বন্ধ মানে তাদের কারখানা বন্ধ।

কিন্তু শুধু ফ্রিল্যান্সাররা না। বিকাশে টাকা পাঠানো বন্ধ। নগদে বেতন দেওয়া বন্ধ। ব্যাংকের অনলাইন সেবা বন্ধ। ই-কমার্স বন্ধ। রাইড শেয়ারিং বন্ধ। ফুড ডেলিভারি বন্ধ। পুরো ডিজিটাল অর্থনীতি পাঁচ দিনে হিমায়িত।

এই শাটডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি কত ছিল?

Netblocks আর Top10VPN-এর হিসাবে, শুধু জুলাই ২০২৪-এর পূর্ণ শাটডাউনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। দিনপ্রতি প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার। এটা শুধু সরাসরি আর্থিক ক্ষতি। ব্যবসায়িক সুনাম হারানো, ক্লায়েন্ট হারানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়া, এসবের হিসাব আলাদা।

কিন্তু ২০২৪ কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার ইতিহাস দীর্ঘ।


পর্ব ২: বন্ধের খতিয়ান

বাংলাদেশ কতবার ইন্টারনেট বন্ধ করেছে? উত্তরটা আপনাকে অবাক করবে।

২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১২টি বড় ইন্টারনেট শাটডাউন বা তীব্র থ্রটলিং ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫-তে একটানা ৬ দিন বন্ধ ছিল BNP-র হরতালে। ২০১৯-এ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, যেটা ১৫ মাসেরও বেশি সময় চলেছিল। ২০২১-এ নির্বাচনী সহিংসতায় আংশিক বন্ধ। ২০২৪-এ সবচেয়ে বড় শাটডাউন, পূর্ণ ব্ল্যাকআউট।

মোট হিসাবে, গত এক দশকে বাংলাদেশ কমপক্ষে ২০০ দিন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন বা তীব্রভাবে সীমিত ছিল। প্রতিটা দিনের অর্থনৈতিক মূল্য ছিল।

এবার একটু বৈশ্বিক তুলনায় যাওয়া যাক। বাংলাদেশ কি একা এই কাজ করে?

Access Now-এর #KeepItOn প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট শাটডাউন হয়েছে ভারতে (প্রধানত কাশ্মীরে)। তারপর মিয়ানমার, ইরান, ইথিওপিয়া, আর বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচে। কিন্তু একটা পার্থক্য আছে। ভারতের শাটডাউন বেশিরভাগ আঞ্চলিক, একটা রাজ্য বা জেলায়। বাংলাদেশ পুরো দেশ বন্ধ করে দেয়। সারা পৃথিবীতে পুরো দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করার দেশের তালিকা ছোট: উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার, ইরান, আর বাংলাদেশ। এটা কোনো গর্বের তালিকা না।

শুধু পূর্ণ শাটডাউন নয়, সোশ্যাল মিডিয়া ব্লকের ইতিহাসও দেখুন।

Facebook, YouTube, WhatsApp, Telegram, এগুলো বিভিন্ন সময়ে আংশিক বা পূর্ণভাবে ব্লক করা হয়েছে। ২০১৫-তে Facebook বন্ধ ছিল ২২ দিন। ২০২৪-এ শাটডাউন শেষেও Facebook আর Messenger সপ্তাহখানেক বন্ধ ছিল। ২০১৯-তে WhatsApp কল বন্ধ করা হয়েছিল। Telegram একাধিকবার ব্লক হয়েছে। এই প্রতিটা ব্লকের অর্থনৈতিক আর সামাজিক মূল্য আছে। ছোট ব্যবসা যারা Facebook Page-এ বিক্রি করে, তাদের জন্য Facebook বন্ধ মানে দোকান বন্ধ।


পর্ব ৩: কার কত ক্ষতি?

ইন্টারনেট শাটডাউনের ক্ষতি সবার সমান না। কিছু খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রথমে ফ্রিল্যান্সারদের কথা।

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং কর্মীবাহিনীর দেশ। Oxford Internet Institute-এর Online Labour Index অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত লক্ষ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার কাজ করে। তাদের বার্ষিক আয় প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-এর জুলাই শাটডাউনে ফ্রিল্যান্সাররা সরাসরি হারিয়েছে আনুমানিক ৫০-৬০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আসল ক্ষতি আরো গভীর। দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্ট হারানো, প্ল্যাটফর্ম রেটিং কমে যাওয়া, "unreliable country" হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। এই সুনামের ক্ষতি পূরণ হতে বছর লাগে। অনেক ক্লায়েন্ট এখন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার এড়িয়ে চলে, কারণ "আবার বন্ধ হতে পারে।"

এবার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS)।

বিকাশ, নগদ, রকেট, এগুলো এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্তনালী। প্রতিদিন MFS-এ লেনদেন হয় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি। গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন MFS-এ আসে। গ্রামে মায়ের কাছে টাকা পাঠানো MFS-এ। দোকানে পেমেন্ট MFS-এ। ইন্টারনেট বন্ধ মানে এই পুরো ব্যবস্থা অচল। ২০২৪-এর শাটডাউনে পাঁচ দিনে MFS লেনদেন প্রায় শূন্যে নেমে গিয়েছিল। মানুষ ATM-এ লাইন দিয়েছে। নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রামে টাকা পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। একটা ডিজিটাল অর্থনীতি পাঁচ দিনে আবার নগদনির্ভর অর্থনীতিতে ফিরে গেছে।

সবচেয়ে দুর্বল যারা, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক যার বেতন বিকাশে আসার কথা, সে পায়নি। গ্রামের বৃদ্ধা মা যার ছেলে ঢাকা থেকে টাকা পাঠায়, সে পায়নি। ছোট দোকানদার যে বিকাশে পেমেন্ট নেয়, তার বিক্রি বন্ধ। ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু প্রযুক্তির সমস্যা না। এটা জীবিকার সমস্যা।


পর্ব ৪: স্বাধীনতার থার্মোমিটার

ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি না। এটা গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।

Freedom House-এর "Freedom on the Net" সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছিল "Partly Free" ক্যাটাগরিতে, স্কোর ৫৩/১০০। ২০২৪ সালে সেটা নেমে এসেছে ২৫/১০০, "Not Free" ক্যাটাগরিতে। নয় বছরে প্রায় অর্ধেক স্কোর হারিয়েছে। শাটডাউন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক, সাংবাদিক গ্রেপ্তার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, এসব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম ইন্টারনেট স্বাধীনতার দেশগুলোর একটি।

ব্যান্ডউইথ থ্রটলিং আরেকটি অস্ত্র যেটা পূর্ণ শাটডাউনের চেয়ে কম দৃশ্যমান কিন্তু সমানভাবে কার্যকর।

পূর্ণ শাটডাউন না করেও সরকার ইন্টারনেটের গতি এতটা কমিয়ে দিতে পারে যে কার্যত অব্যবহারযোগ্য হয়ে যায়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০-তে বিভিন্ন সময়ে 3G/4G থ্রটল করা হয়েছে। ২০২৪-এ পূর্ণ শাটডাউনের আগে এবং পরে সপ্তাহখানেক থ্রটলিং চলেছে। থ্রটলিং-এর সুবিধা হলো সরকার বলতে পারে "ইন্টারনেট তো চালু আছে।" কিন্তু 56 kbps গতিতে আধুনিক ইন্টারনেট চালানো সম্ভব না। ভিডিও লোড হয় না। ছবি লোড হয় না। VoIP কল হয় না। কার্যত বন্ধই থাকে, কিন্তু পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।

এবার বৈশ্বিক ডিজিটাল অধিকারের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দেখি।

V-Dem Institute-এর Digital Society Survey, Reporters Without Borders-এর Press Freedom Index, আর Freedom House-এর Internet Freedom Score, তিনটা সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান খারাপ হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ (পরে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩) এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করলে গ্রেপ্তার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, VPN ব্যবহারে ভয়ভীতি, এগুলো একটা নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে মানুষ স্ব-সেন্সরশিপ করে। অনেকে লিখতে ভয় পায়। অনেকে শেয়ার করতে ভয় পায়। এটা শাটডাউনের চেয়েও ভয়ংকর, কারণ শাটডাউন শেষ হয়, কিন্তু ভয় থাকে।


পর্ব ৫: সংযোগ আর সংযোগহীনতার মানচিত্র

ইন্টারনেট শাটডাউনের পুরো ছবি বুঝতে হলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোর দিকে তাকাতে হবে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ২০১০ সালে ছিল মোট জনসংখ্যার ৩.৭%। ২০২৫ সালে সেটা প্রায় ৪০%। দেড় দশকে বিশাল অগ্রগতি। কিন্তু এই ৪০%-এর মধ্যে অর্থপূর্ণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে কত শতাংশ? মোবাইল ডেটা দিয়ে Facebook আর ইমো চালানো আর কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এক জিনিস না।

আর যখন সরকার একটা সুইচ টিপে পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে পারে, তখন এই ৪০% প্রবেশগম্যতারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আপনি ব্রডব্যান্ড কিনেছেন, মাসিক বিল দিচ্ছেন, কিন্তু সরকার যেকোনো মুহূর্তে সেটা বন্ধ করতে পারে, কোনো আদালতের অনুমোদন ছাড়া, কোনো পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়া। টেলিযোগাযোগ আইনে BTRC-কে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় যেকোনো সেবা বন্ধ করা সম্ভব। কোনো জবাবদিহিতা নেই। কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।

এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন তৈরি করে: ইন্টারনেট কি একটা অধিকার, নাকি একটা সুবিধা যা সরকার ইচ্ছামতো দিতে পারে বা কেড়ে নিতে পারে?

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ২০১৬ সালে একটা প্রস্তাবে বলেছে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস একটা মৌলিক মানবাধিকার এবং ইন্টারনেট শাটডাউন মানবাধিকার লঙ্ঘন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে রায় দিয়েছে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ভারতীয় সংবিধানের Article 19(1)(a)-এর অধীনে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। বাংলাদেশে এরকম কোনো আইনি সুরক্ষা নেই।


পর্ব ৬: এবার কী করা যায়?

সমস্যাটা চিহ্নিত করা সহজ। সমাধান কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না।

  1. আইনি সুরক্ষা। ইন্টারনেট শাটডাউনের জন্য আদালতের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভারতে ২০২০ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, কাশ্মীর ছাড়া বাকি ভারতে শাটডাউন কমে গেছে। আইনি জবাবদিহিতা থাকলে সরকার সহজে সুইচ টিপতে পারে না।
  2. অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ। শাটডাউনের কারণে যাদের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা থাকা দরকার। এস্তোনিয়া আর ফিনল্যান্ডে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস আইনি অধিকার, সেটা বন্ধ করলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
  3. বিকেন্দ্রীকৃত অবকাঠামো। বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো কেন্দ্রীভূত। একটা সুইচ টিপলে পুরো দেশ বন্ধ। একাধিক আন্তর্জাতিক গেটওয়ে, বিকেন্দ্রীকৃত রাউটিং, আর কমিউনিটি নেটওয়ার্ক দিয়ে এই কেন্দ্রীভবন কমানো সম্ভব।
  4. আন্তর্জাতিক চাপ। Access Now, Article 19, Reporters Without Borders, এসব সংস্থা ইন্টারনেট শাটডাউনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। বাণিজ্য চুক্তি আর উন্নয়ন সহায়তায় ডিজিটাল অধিকারের শর্ত যুক্ত করলে সরকারের উপর চাপ বাড়ে।
  5. নাগরিক সচেতনতা। বেশিরভাগ মানুষ জানে না শাটডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি কত। জানে না এটা আন্তর্জাতিক আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন। জানলে প্রতিরোধ বাড়বে।

আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।

ফারহানা এখন Upwork-এ আবার কাজ পাচ্ছে, ধীরে ধীরে। রেটিং আবার তুলছে। কিন্তু প্রতিটা নতুন প্রজেক্ট নেওয়ার সময় ক্লায়েন্টকে বলতে হয়, "Yes, I'm from Bangladesh. No, the internet is working now." এই একটা বাক্য বলতে গিয়ে প্রতিবার একটু ভেঙে যায় ফারহানা। কারণ সে জানে, পরের শাটডাউন কখন আসবে কেউ জানে না।

ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু কেবল বা সার্ভার বন্ধ করা না। এটা লক্ষ মানুষের জীবিকা বন্ধ করা। এটা গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর বন্ধ করা। এটা একটা দেশের ভবিষ্যৎ বন্ধ করা।

প্রতিটা শাটডাউনের একটা আর্থিক মূল্য আছে। কিন্তু আসল ক্ষতি? সেটা সংখ্যায় মাপা যায় না। সেটা ফারহানার হারানো আত্মবিশ্বাস। সেটা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা। সেটা লক্ষ তরুণের হারানো সম্ভাবনা, যারা ডিজিটাল পৃথিবীতে নিজের জায়গা করে নিতে পারত, যদি সুইচটা বন্ধ না করা হতো।

সুইচটা সরকারের হাতে। কিন্তু ক্ষতিটা জনগণের।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50