পাটের সোনালি দিন কি ফিরবে?
পর্ব ১: সোনালি আঁশের স্মৃতি
১৯৬৫ সাল। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে দাঁড়ালে একটা শব্দ শোনা যেত, তাঁতের ঘটঘট শব্দ। আদমজী জুট মিলস। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাটকল। ২৭,০০০ শ্রমিক। ৩০০ একর জায়গা। দিনে ২৪ ঘণ্টা, তিন শিফটে চলতো। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত, পাকিস্তান আমলে বিস্তৃত, এই মিল ছিল এই অঞ্চলের শিল্পায়নের প্রতীক।
সেই সময়ে পাট ছিল "সোনালি আঁশ"। এই নামটা কবিতা বা রূপক ছিল না, এটা ছিল আক্ষরিক সত্য। পূর্ব পাকিস্তানের (আজকের বাংলাদেশ) মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০% আসতো পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ (তখন পূর্ব পাকিস্তান) আর পাট ছিল সমার্থক।
এই চার্টটা দেখুন:
১৯৬০ এর দশকে পাটের অংশ ছিল মোট রপ্তানির ৮০%। ১৯৮০ তে নেমে এলো ৫০%। ১৯৯০ তে ২৫%। ২০০০ সালে ৮%। আর আজ ২০২৫ সালে? ২% এরও কম। আশি শতাংশ থেকে দুই শতাংশ। এক প্রজন্মের মধ্যে একটা পুরো শিল্পের বিলুপ্তপ্রায় হওয়ার গল্প।
কিন্তু এই পতনটা কি অনিবার্য ছিল? পাট কি সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে? নাকি আমরা একটা সম্পদ নষ্ট করেছি যেটা আজকের পৃথিবীতে আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে আগে বুঝতে হবে: পাটের পতন কীভাবে হলো।
পর্ব ২: পতনের ইতিহাস
পাটের পতনের গল্প শুরু হয় একটা সাদা গুঁড়ো দিয়ে। পলিপ্রোপিলিন। ১৯৫০ এর দশকে ইতালীয় রসায়নবিদ জুলিও নাত্তা এই পলিমার আবিষ্কার করলেন। ১৯৬০ এর দশকে পলিপ্রোপিলিন থেকে বস্তা, ব্যাগ, প্যাকেজিং তৈরি শুরু হলো। সিন্থেটিক ব্যাগ। পাটের ব্যাগের চেয়ে সস্তা, হালকা, টেকসই, আর পানি প্রতিরোধী।
এই চার্টটা দেখুন:
১৯৭০ এর দশক থেকে পাট ও সিন্থেটিকের দামের পার্থক্য ক্রমাগত বেড়েছে। পাটের বস্তা তৈরিতে যে খরচ, পলিপ্রোপিলিন ব্যাগে তার অর্ধেক। ওজন? পাটের ব্যাগ ভারী, সিন্থেটিক হালকা। পরিবহন খরচ কম। আর সবচেয়ে বড় কথা: সিন্থেটিক ব্যাগ মেশিনে বানানো যায়, প্রচুর পরিমাণে, অল্প শ্রমিক দিয়ে। পাটের ব্যাগ বানাতে বেশি শ্রমিক, বেশি সময়, বেশি যত্ন।
বিশ্ববাজার পাটের বদলে প্লাস্টিক বেছে নিলো। খাদ্যশস্য রপ্তানিতে পাটের বস্তার বদলে পলিপ্রোপিলিন ব্যাগ এলো। কফি, চিনি, সিমেন্ট, সব কিছুতে সিন্থেটিক। পাটের বাজার সংকুচিত হতে থাকলো।
কিন্তু শুধু সিন্থেটিকের আগমন পাটকে মারেনি। বাংলাদেশের নিজের ব্যর্থতাও সমান দায়ী।
আদমজী জুট মিলসের কথাই ধরুন। ২৭,০০০ শ্রমিকের এই মিল প্রতি বছর লোকসান দিচ্ছিল। মেশিন পুরনো, কিছু ব্রিটিশ আমলের। প্রযুক্তি আপডেট হয়নি। ব্যবস্থাপনা দুর্নীতিগ্রস্ত। রাজনৈতিক নিয়োগ, ফুলে যাওয়া কর্মী সংখ্যা, ট্রেড ইউনিয়নের সংঘাত। মিল লাভ করার কথা ছিল, কিন্তু প্রতি বছর সরকারকে ভর্তুকি দিতে হতো।
এই চার্টটা দেখুন:
বাংলাদেশের পাট উৎপাদন ১৯৮৫ সালে সর্বোচ্চ ছিল, প্রায় ৫৫ লাখ বেল। তারপর ধীরে ধীরে কমেছে। ২০১০ সালের দিকে ৮০ লাখ বেলে বেড়েছিল, কিন্তু সেটা চাষের এলাকা বাড়ায়, উৎপাদনশীলতায় না। আবার কমেছে। উৎপাদনশীলতা ভারতের তুলনায় কম। গবেষণায় বিনিয়োগ নেই। উন্নত জাত উদ্ভাবন ধীর। চাষিরা পাট ছেড়ে ধান, সবজি, মাছ চাষে চলে যাচ্ছে, কারণ সেগুলোতে লাভ বেশি।
পর্ব ৩: বন্ধ কারখানা, হারানো মানুষ
২০০২ সালের ৩০ জুন। আদমজী জুট মিলস চিরতরে বন্ধ হলো। ২৭,০০০ শ্রমিক কাজ হারালো। একদিনে। সরকার বললো, "মিল লোকসান দিচ্ছে, আর চালানো সম্ভব না।" বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে, কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিল বন্ধ করা হলো।
আদমজী শুধু শুরু ছিল। পরের দুই দশকে সরকারি পাটকলগুলো একটার পর একটা বন্ধ হলো।
এই চার্টটা দেখুন:
১৯৯০ সালে সরকারি খাতে চালু পাটকলের সংখ্যা ছিল ৩৫ এর বেশি। ২০০২ তে আদমজী বন্ধ হলো। ২০২০ সালে সরকার একসাথে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করলো। আজ সরকারি খাতে চালু পাটকল কার্যত নেই। বেসরকারি খাতে কিছু আছে, কিন্তু সেগুলোও সংগ্রাম করছে।
আর এই কারখানা বন্ধের মানবিক মূল্য? সেটা কেউ হিসাব করেনি।
আদমজী বন্ধের সময় ২৭,০০০ শ্রমিক কাজ হারিয়েছিল। ২০২০ সালে ২৫টি মিল বন্ধে আরো প্রায় ৫০,০০০। মোট হিসাবে, ১৯৯০ থেকে ২০২৫ এর মধ্যে পাট শিল্পে কাজ হারিয়েছে প্রায় ১.৫ লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগ নিম্নশিক্ষিত, বয়স্ক, গ্রামীণ পটভূমির। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান? গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি? সেখানে তরুণ নারী শ্রমিক চায়, ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ পাটকল শ্রমিক না। রিকশা চালানো? দিনমজুরি? অনেকের গল্প তেমনই শেষ হয়েছে।
সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। কত? জনপ্রতি ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কয়েক মাস চলে, তারপর? কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছিল না। কোনো দক্ষতা প্রশিক্ষণ ছিল না। কোনো বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। শুধু একটা চেক আর "শুভকামনা"।
কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন করতে চাই: এই কারখানাগুলো কি সত্যিই বাঁচানো সম্ভব ছিল না, নাকি আমরা চেষ্টাই করিনি? ভারত কী করলো, সেটা দেখলে উত্তরটা পরিষ্কার হয়।
পর্ব ৪: ভারত যা করলো, আমরা যা করিনি
ভারত আর বাংলাদেশ, দুটো দেশই পাটের দেশ। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ, উর্বর পলিমাটি, প্রচুর বৃষ্টি। দুটো দেশেই পাটের চাষ হয়, পাটকল আছে, পাটের ইতিহাস আছে। কিন্তু দুটো দেশ সম্পূর্ণ আলাদা পথ বেছে নিয়েছে।
ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম পাট উৎপাদক (বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ৬০%)। বাংলাদেশ দ্বিতীয় (প্রায় ৩০%)। কিন্তু পার্থক্য হলো: ভারত পাট শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতে Jute Packaging Materials (Compulsory Use in Packing Commodities) Act আছে। এই আইনে বলা আছে, খাদ্যশস্য (চাল, গম, চিনি) প্যাকেজিংয়ে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। মানে ভারতের সরকারি মজুদ ব্যবস্থায় (FCI, Food Corporation of India) যত চাল-গম কেনা হয়, সব পাটের বস্তায় প্যাক করতে হয়। এটা একটা বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করেছে। প্রতি বছর প্রায় ৮-৯ লাখ টন পাটের ব্যাগ শুধু এই আইনের কারণে বিক্রি হয়।
বাংলাদেশে? এরকম কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন কার্যকরভাবে নেই। ২০১০ সালে পাটপণ্য বাধ্যতামূলক প্যাকেজিং আইন হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। প্লাস্টিক সস্তা, দোকানদারদের লবি শক্তিশালী, সরকারের ইচ্ছা নেই। ফলাফল: বাংলাদেশে পাটের অভ্যন্তরীণ বাজার ক্রমাগত সংকুচিত হয়েছে।
আর পাট চাষিদের অবস্থা?
পাট চাষির আয় ধান চাষির তুলনায় কম। প্রতি একরে পাট চাষে যে আয় হয়, ধান বা সবজি চাষে তার চেয়ে বেশি হয়। তার উপর পাট চাষে শ্রম বেশি লাগে, পাট পচানো কঠিন কাজ, আর বাজারে দাম অনিশ্চিত। সরকারি ক্রয়মূল্য থাকে, কিন্তু সময়মতো কেনা হয় না। চাষি পাট বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলে দেয়, এরকম খবর প্রতি বছর আসে।
তাহলে চাষি কেন পাট ফলাবে? সে ধান ফলাবে, মাছ চাষ করবে, সবজি ফলাবে। আর পাটের উৎপাদন কমতে থাকবে।
পর্ব ৫: কিন্তু পৃথিবী বদলে যাচ্ছে
এতক্ষণ যে গল্প বললাম, সেটা শুনে মনে হতে পারে পাট শেষ। এই শিল্পের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু একটু থামুন। পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, আর সেই বদলটা পাটের পক্ষে।
প্লাস্টিক দূষণ। এটা আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবেশগত সমস্যাগুলোর একটা। প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক সমুদ্রে যাচ্ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের রক্তে পাওয়া যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করছে। ভারত ইতোমধ্যে কিছু প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক-বিরোধী আন্দোলন জোরদার হচ্ছে।
আর প্লাস্টিকের বিকল্প কী? পাট। ১০০% বায়োডিগ্রেডেবল। মাটিতে ২-৩ মাসে পচে যায়। উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কম। চাষে কীটনাশক কম লাগে। মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
বৈশ্বিক ইকো-প্যাকেজিং বাজার ২০২০ সালে ছিল প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন। ২০৩০ সালে এটা ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে অনুমান। এই বিশাল বাজারে পাটের অংশ এখন নগণ্য। কিন্তু সম্ভাবনা বিশাল।
আর পাট শুধু বস্তা না। আজকের প্রযুক্তি দিয়ে পাট থেকে অনেক কিছু তৈরি করা সম্ভব:
জিওটেক্সটাইল: মাটির ক্ষয়রোধে, রাস্তা নির্মাণে, নদীতীর সুরক্ষায়। ভারত ইতোমধ্যে পাটের জিওটেক্সটাইল রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করছে। জুট কম্পোজিট: গাড়ির ড্যাশবোর্ড, দরজার প্যানেল, ফার্নিচার। মার্সিডিজ-বেঞ্জ ইতোমধ্যে পাটের কম্পোজিট ব্যবহার করছে গাড়ির অভ্যন্তরে। জুট ভিসকস: পাট থেকে রেয়ন-সদৃশ কাপড়। জুট চারকোল: সক্রিয় কার্বন হিসেবে পানি বিশুদ্ধিকরণে ব্যবহার। জুট পাল্প: কাগজ তৈরিতে। জুট বায়োগ্যাস: পাটের বর্জ্য থেকে জ্বালানি।
এগুলো গবেষণাগারের কল্পনা না। এগুলো বাস্তব পণ্য, বাস্তব বাজার, বাস্তব চাহিদা। কিন্তু বাংলাদেশ এই বৈচিত্র্যময় পণ্যে প্রায় কিছুই করছে না। রপ্তানিতে এখনো কাঁচা পাট আর ঐতিহ্যবাহী পাটের বস্তা। উচ্চমূল্যের পাটপণ্যে আমাদের অংশ নগণ্য।
পর্ব ৬: পুনর্জন্ম কি সম্ভব?
আসুন একটা হিসাব করি।
বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে। এটা মোট রপ্তানির ২% এরও কম। কিন্তু যদি আমরা পাটকে পুরনো বস্তা-শিল্প থেকে বের করে নতুন বাজারে নিয়ে যেতে পারি?
বর্তমান অবস্থায় পাটের রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু যদি জিওটেক্সটাইল, কম্পোজিট, ভিসকস, ইকো-প্যাকেজিং, এসব বৈচিত্র্যময় পণ্যে প্রবেশ করা যায়, বিশেষজ্ঞদের হিসাবে পাট খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি সম্ভব। এটা বর্তমানের পাঁচ গুণ। আর এই বাজারে প্রতিযোগী কম, কারণ পাট তো বাংলাদেশ আর ভারত ছাড়া কেউ তেমন উৎপাদন করে না। এটা গার্মেন্টস না, যেখানে ৫০টা দেশ প্রতিযোগিতা করছে।
কিন্তু এর জন্য কী দরকার?
প্রথমত, গবেষণায় বিনিয়োগ। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) আছে, কিন্তু বাজেট নগণ্য। বিশ্বমানের গবেষণা হচ্ছে না। পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ২০১০ সালে করেছিলেন, এটা ছিল যুগান্তকারী। কিন্তু সেই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে উন্নত জাত, রোগ প্রতিরোধী জাত, বেশি ফলনের জাত উদ্ভাবনে আমরা পিছিয়ে আছি।
দ্বিতীয়ত, আধুনিক মিল স্থাপন। পুরনো ব্রিটিশ আমলের মেশিন দিয়ে আধুনিক পাটপণ্য তৈরি সম্ভব না। কম্পোজিট, জিওটেক্সটাইল, ভিসকস, এসব তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি দরকার। বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে। কর ছাড়, জমি, সহজ ঋণ।
তৃতীয়ত, চাষিকে লাভজনক করা। চাষি যদি পাট চাষে লাভ না পায়, কাঁচামালের সরবরাহই থাকবে না। ন্যায্য ক্রয়মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাট পচানোর আধুনিক পদ্ধতি (রিবন রেটিং) প্রচলন করতে হবে, যাতে চাষির শ্রম ও সময় কমে।
চতুর্থত, বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন কার্যকর করা। ভারতের মতো খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্ট প্যাকেজিংয়ে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ২০১০ সালের আইন আছে, বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা একটা বড় অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করবে।
পঞ্চমত, গ্লোবাল মার্কেটিং। "মেড ফ্রম বাংলাদেশি জুট" কে একটা ব্র্যান্ড বানাতে হবে। ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়ায় ইকো-সচেতন ভোক্তারা প্রাকৃতিক তন্তুর পণ্য চায়। তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এই ব্র্যান্ডিংয়ে পাটের সবচেয়ে বড় শক্তি ব্যবহার করতে হবে: এটা ১০০% প্রাকৃতিক, ১০০% বায়োডিগ্রেডেবল, কার্বন-নেগেটিভ।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
আদমজী জুট মিলসের জায়গায় এখন আদমজী ইপিজেড। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। সেলাই মেশিনের শব্দ, তাঁতের শব্দ না। পাটকলের চিমনিগুলো নেই আর। ২৭,০০০ শ্রমিকের সেই মিলের কোনো চিহ্ন নেই। শুধু পুরনো ছবিতে দেখা যায় সেই বিশাল কারখানা, শত শত তাঁত, পাটের গন্ধ।
পাটের সোনালি দিন কি ফিরবে? সেই আশি শতাংশ রপ্তানির দিন? না। সেটা ফিরবে না, ফেরার দরকারও নেই। কিন্তু পাট একটা নতুন ভূমিকায় ফিরতে পারে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে। সবুজ প্যাকেজিংয়ের কাঁচামাল হিসেবে। উচ্চমূল্যের কম্পোজিট পণ্য হিসেবে। কার্বন-নেগেটিভ শিল্পের ভিত্তি হিসেবে।
পৃথিবী প্লাস্টিক ছাড়তে চাইছে। এটা পাটের জন্য ষাট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুযোগ। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাবে, নাকি অন্য কেউ লাগাবে? ভারত ইতোমধ্যে এগিয়ে আছে। আমরা কি আরো দেরি করবো?
সোনালি আঁশ এখনো আমাদের মাটিতে জন্মায়। প্রশ্ন হলো: আমরা কি সেটাকে আবার সোনায় রূপান্তর করার ইচ্ছা আর সাহস রাখি?