Back to publications
Narrative 2026-03-06

মাদ্রাসা শিক্ষা: কওমি থেকে আলিয়া

২৫,০০০ মাদ্রাসার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

মাদ্রাসা শিক্ষা: কওমি থেকে আলিয়া

পর্ব ১: একটা গ্রামে দুটো মাদ্রাসা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় একটা গ্রাম আছে। নাম ধরি পাকুড়িয়া। জনসংখ্যা দুই হাজারের কিছু বেশি। গ্রামে একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। একটা উচ্চ বিদ্যালয় আছে পাশের গ্রামে, দুই কিলোমিটার দূরে। আর মাদ্রাসা? দুটো। একটা আলিয়া মাদ্রাসা, সরকারি অনুদানে চলে। আরেকটা কওমি মাদ্রাসা, পুরোটাই দান-সদকায়।

আব্দুল করিম সাহেবের দুই ছেলে। বড় ছেলে রাশেদ পড়ে আলিয়া মাদ্রাসায়। দাখিল পাশ করেছে, এখন আলিম ক্লাসে। সরকারি সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত পড়ে। সাথে আরবি, কুরআন, হাদিস। ছোট ছেলে ফারুক পড়ে কওমি মাদ্রাসায়। সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। পুরো আরবি, উর্দু, ফার্সি। বাংলা নেই বললেই চলে। ইংরেজি একদম নেই। গণিত? শূন্য।

উত্তরবঙ্গে (রংপুর, রাজশাহী) মাদ্রাসার ঘনত্ব তুলনামূলক কম, তবে সেখানেও সংখ্যা বাড়ছে।
১৪ থেকে ১৮ লাখ
দুই ধারা, দুই জগৎ
প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা
টাকার হিসাব
১৫ থেকে ২০%
কওমি স্বীকৃতি, তারপর কী

করিম সাহেব জিজ্ঞেস করলে বলেন, "দুনিয়ার জন্য একটা, আখিরাতের জন্য একটা।"

কিন্তু দুনিয়ার হিসাবটা একটু করে দেখা যাক। রাশেদ আলিম পাশ করে একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে। ফারুক দাওরা হাদিস শেষ করে কী করবে? মসজিদে ইমামতি, মাদ্রাসায় শিক্ষকতা, অথবা ওয়াজ মাহফিল। তৃতীয় কোনো পথ প্রায় নেই।

এটা শুধু করিম সাহেবের পরিবারের গল্প না। এটা বাংলাদেশের ২৫ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসার গল্প। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর গল্প। এবং কোটি কোটি টাকার অর্থনীতির গল্প।

সংখ্যাগুলো দেখি।

বাংলাদেশে মাদ্রাসার সংখ্যা গত দুই দশকে ক্রমাগত বেড়েছে। ২০০৫ সালে মোট মাদ্রাসা ছিল প্রায় ১৫,০০০। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ২৫,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। BANBEIS-এর হিসাবে আলিয়া মাদ্রাসা প্রায় ৯,৩০০। কওমি মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা কেউ জানে না, কারণ এগুলোর বড় অংশ নিবন্ধিত নয়। তবে অনুমান ১৫,০০০ থেকে ১৯,০০০ এর মধ্যে।

একটা দেশে যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫,৬২০টা, সেখানে ২৫,০০০+ মাদ্রাসা। প্রতি তিনটা স্কুলের বিপরীতে একটা মাদ্রাসা। এটা কোনো ছোট বিষয় না। এটা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বিশাল অংশ, যেটা নিয়ে গভীর আলোচনা হয় খুবই কম।


পর্ব ২: দুই ধারা, দুই জগৎ

আলিয়া আর কওমি। নাম দুটো শুনলে মনে হতে পারে একই জিনিস। কিন্তু বাস্তবে এরা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ।

আলিয়া মাদ্রাসা সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা হয়। সিলেবাসে ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান আছে। দাখিল (SSC সমমান), আলিম (HSC সমমান), ফাজিল (ডিগ্রি সমমান), কামিল (মাস্টার্স সমমান)। সরকার শিক্ষকদের বেতন দেয়। MPO (Monthly Payment Order) ভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি স্কেলে বেতন পান।

কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোনো সরকারি বোর্ডের অধীনে না। নিজস্ব সিলেবাস, যেটা মূলত দারসে নেজামী পদ্ধতি অনুসরণ করে। ১৮ শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতি, যেটা মূলত অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। অর্থায়ন আসে জনগণের দান-সদকা, যাকাত, ফিতরা, আর লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে।

আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি শিক্ষার্থী প্রায় ২৫ লাখ। কওমিতে? সঠিক সংখ্যা নেই, তবে অনুমান ১৪ থেকে ১৮ লাখ। মোট মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়। এটা বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ।

কিন্তু এই দুই ধারায় কী পড়ানো হয়?

আলিয়া মাদ্রাসার দাখিল স্তরে সিলেবাসের প্রায় ৪৫% ধর্মীয় বিষয়, বাকি ৫৫% সাধারণ বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান)। কওমি মাদ্রাসায়? ৯০% এর বেশি ধর্মীয় এবং আরবি ভাষাকেন্দ্রিক। সাধারণ শিক্ষার কোনো কাঠামোবদ্ধ উপস্থিতি নেই।

তুলনায়, সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০% সাধারণ শিক্ষা। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে আন্তর্জাতিক কারিকুলাম। চারটা আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা একটা দেশে। চারটা আলাদা ভাষায়, চারটা আলাদা মানে, চারটা আলাদা গন্তব্যে শিক্ষার্থী তৈরি করছে।

একটা জাতি হিসেবে এটা কতটা সুস্থ?


পর্ব ৩: টাকার হিসাব

মাদ্রাসা শিক্ষার অর্থনীতি দুই ভাগে ভাগ করতে হবে।

আলিয়া মাদ্রাসার অর্থায়নের বড় অংশ আসে সরকার থেকে। MPO ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, পরিচালনা ব্যয়, ভবন নির্মাণ অনুদান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মাদ্রাসা শিক্ষায় যায়।

২০১৫-১৬ সালে মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারি বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪,৫০০ কোটি টাকা। দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি। এটা মোট শিক্ষা বাজেটের প্রায় ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ।

প্রশ্ন হলো, এই টাকায় কী পাচ্ছে দেশ?

কওমি মাদ্রাসার অর্থনীতি আরো জটিল। সরকারি কোনো অনুদান নেই (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। পুরোটা চলে জনগণের অর্থায়নে। একটা বড় কওমি মাদ্রাসা বছরে কোটি টাকার উপরে দান সংগ্রহ করে। সারাদেশের ১৫,০০০+ কওমি মাদ্রাসার মোট বার্ষিক অর্থপ্রবাহ কত? কোনো অফিসিয়াল হিসাব নেই। গবেষকদের অনুমান বছরে ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থপ্রবাহের কোনো অডিট নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই।

দুটো ধারা মিলিয়ে, মাদ্রাসা শিক্ষায় প্রতি বছর প্রায় ২২,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই টাকা দিয়ে কেমন মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে?


পর্ব ৪: চাকরি কোথায়?

মাদ্রাসা শিক্ষার সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান। আলিয়া মাদ্রাসার গ্র্যাজুয়েটদের অবস্থা সাধারণ শিক্ষার গ্র্যাজুয়েটদের চেয়ে অনেক খারাপ। আর কওমি মাদ্রাসার গ্র্যাজুয়েটদের অবস্থা? আরো করুণ।

আলিয়া মাদ্রাসার গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ২২% ধর্মীয় খাতে কাজ করে (ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসা শিক্ষক)। ১৮% সাধারণ চাকরিতে যায়। ১২% ক্ষুদ্র ব্যবসায়। বাকি ৪৮%? হয় বেকার, নয়তো অনানুষ্ঠানিক খাতে অদক্ষ শ্রমিক।

কওমি মাদ্রাসার চিত্র আরো একমুখী। প্রায় ৬৫% ধর্মীয় খাতে থাকে। ১০% মাদ্রাসায় পড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না। বাকি ২৫% সম্পূর্ণ অনিশ্চিত জীবিকায়।

কেন? কারণ চাকরির বাজার যা চায়, মাদ্রাসা শিক্ষা তা দেয় না। একটা ব্যাংকে চাকরি করতে হলে ইংরেজি লাগে, কম্পিউটার লাগে, হিসাবরক্ষণ লাগে। একটা কারখানায় সুপারভাইজার হতে হলে টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে। আইটি সেক্টরে ঢুকতে হলে প্রোগ্রামিং লাগে। মাদ্রাসা থেকে এগুলোর কোনোটাই আসে না।

শিক্ষকদের যোগ্যতার দিকেও তাকানো দরকার।

আলিয়া মাদ্রাসায় কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রিধারী শিক্ষক প্রায় ৩৮%। ফাজিল (ডিগ্রি সমমান) ৩০%। বাকি ৩২% এর নিচে। B.Ed বা পেশাগত শিক্ষক প্রশিক্ষণ আছে মাত্র ১৫% শিক্ষকের। কওমি মাদ্রাসায়? "দাওরা হাদিস" সনদই একমাত্র যোগ্যতা। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান, পাঠদান পদ্ধতি, শিশু মনোবিজ্ঞান, এসব ধারণাই অপরিচিত।

কে পড়ছে মাদ্রাসায়? কোন পরিবারের সন্তানরা?

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৭২% আসে গ্রামীণ পরিবার থেকে। ৬৫% দারিদ্র্যসীমার নিচে বা কাছাকাছি পরিবারের। ভূমিহীন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক, এদের সন্তানরাই মূলত মাদ্রাসায় পড়ে। কারণ সরল: মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া-পড়াশোনা হয়। একটা দরিদ্র পরিবারের জন্য এটাই সবচেয়ে সস্তা বিকল্প। সন্তানকে স্কুলে পাঠালে বই কিনতে হবে, ইউনিফর্ম কিনতে হবে, টিউশন ফি দিতে হবে, কোচিং ফি দিতে হবে। মাদ্রাসায়? কিছুই লাগে না।

ফলে মাদ্রাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে গরিবের স্কুল। আর এই "গরিবের স্কুল" থেকে বের হয়ে তারা আবার গরিবই থাকছে। শিক্ষা যেটা দারিদ্র্যের চক্র ভাঙার কথা ছিল, সেটাই চক্রটা আরো শক্ত করছে।


পর্ব ৫: কওমি স্বীকৃতি, তারপর কী?

২০১৭ সালে একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হলো। সরকার কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ "দাওরা হাদিস"কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দিলো। হেফাজতে ইসলামসহ কওমি মাদ্রাসা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটা।

স্বীকৃতি পেয়ে কী বদলালো?

কাগজে বদলালো অনেক কিছু। দাওরা পাশ করা একজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হিসেবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে? BCS পরীক্ষায় যে সিলেবাস, সেখানে ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, মানসিক দক্ষতা, এসব আছে। একজন কওমি গ্র্যাজুয়েট যে কখনো ইংরেজি পড়েনি, গণিত পড়েনি, সে কীভাবে BCS পাশ করবে?

স্বীকৃতির পর কওমি গ্র্যাজুয়েটদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের হার ১% এরও কম। স্বীকৃতি দিয়ে সনদের মর্যাদা বাড়ানো গেছে, কিন্তু দক্ষতার ঘাটতি পূরণ হয়নি। যে শিক্ষার্থী ১৪ বছর ধরে শুধু আরবি আর ইসলামি জ্ঞান অর্জন করেছে, তাকে একটা কাগজ দিয়ে "মাস্টার্স" বললেই বাজারমূল্য তৈরি হয় না।

তবে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। কিছু কওমি মাদ্রাসা স্বেচ্ছায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত যোগ করেছে। সংখ্যায় কম, কিন্তু প্রবণতাটা গুরুত্বপূর্ণ। আল হাইয়াতুল উলয়া (কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ পর্ষদ) কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও বাস্তবায়ন অত্যন্ত ধীর।

মাদ্রাসা শিক্ষায় ঝরে পড়ার হারটাও দেখা দরকার।

আলিয়া মাদ্রাসায় দাখিল (মাধ্যমিক) পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৪২%। আলিম পর্যায়ে ৫৫%। ফাজিল পর্যায়ে ৬৮%। কওমি মাদ্রাসায় সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, তবে গবেষকদের অনুমান হরতান (প্রাথমিক) পর্যায়ে ৩৫% এবং দাওরা পর্যন্ত পৌঁছায় মাত্র ১৫ থেকে ২০% শিক্ষার্থী। বাকিরা মাঝপথে ছেড়ে দেয়, কোনো সনদ ছাড়াই।

এই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা কোথায় যায়? বেশিরভাগ অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে ঢোকে। দোকানে কাজ, রিকশা চালানো, ছোটখাটো ব্যবসা। তারা না সাধারণ শিক্ষার সনদ পেয়েছে, না মাদ্রাসার পূর্ণ সনদ। একটা শূন্যতায় পড়ে আছে।


পর্ব ৬: কোন জেলায় কত মাদ্রাসা?

মাদ্রাসার ভৌগোলিক বিন্যাসটাও গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা, প্রায় ৬,২০০। এরপর ঢাকা বিভাগ, ৪,৮০০। সিলেট বিভাগে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব। চট্টগ্রামে কওমি মাদ্রাসার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, যা ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের ইসলামি শিক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত। হাটহাজারী মাদ্রাসা, পটিয়া মাদ্রাসা, এগুলো উপমহাদেশের বৃহত্তম কওমি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পড়ে।

উত্তরবঙ্গে (রংপুর, রাজশাহী) মাদ্রাসার ঘনত্ব তুলনামূলক কম, তবে সেখানেও সংখ্যা বাড়ছে। আর একটা লক্ষণীয় বিষয়: যে এলাকায় দারিদ্র্যের হার বেশি, সেখানে মাদ্রাসায় ভর্তির হারও বেশি। এটা কাকতালীয় না। দারিদ্র্য আর মাদ্রাসা শিক্ষা পরস্পর সম্পর্কিত, এবং এই সম্পর্ক দুইমুখী।


এবার শেষের প্রশ্নগুলো।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করা উচিত? না। সেটা না সম্ভব, না কাঙ্ক্ষিত। লাখো পরিবার এই শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। ধর্মীয় শিক্ষার চাহিদা বাস্তব। সেটা অস্বীকার করলে সমাধান পাওয়া যাবে না।

কিন্তু কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এক. ২৫,০০০ মাদ্রাসায় যে ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের সবাইকে কি অন্তত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আর বিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞান দেওয়া যায়? আলিয়া মাদ্রাসায় সেটা আংশিকভাবে হচ্ছে। কওমি মাদ্রাসায় হচ্ছে না।

দুই. কওমি মাদ্রাসার অর্থপ্রবাহে (অনুমান ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ কোটি টাকা) কি ন্যূনতম স্বচ্ছতা আনা যায়? অন্যান্য দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরও আর্থিক অডিট হয়। বাংলাদেশে কেন হবে না?

তিন. মাদ্রাসা গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কি কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা যায়? ধর্মীয় জ্ঞানের সাথে একটা কারিগরি দক্ষতা (কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মোবাইল সার্ভিসিং) যোগ করলে কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।

চার. স্বীকৃতি দিয়ে সনদের মর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। এবার কি দক্ষতার মানও বাড়ানো যাবে? সনদ ছাড়া দক্ষতা অসম্পূর্ণ, আবার দক্ষতা ছাড়া সনদ অর্থহীন।

ফারুক আর রাশেদ, করিম সাহেবের দুই ছেলে, দুইজনই বাংলাদেশের সন্তান। তাদের দুইজনেরই অধিকার আছে এমন শিক্ষা পাওয়ার যেটা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে সাহায্য করবে। ধর্মীয় শিক্ষা আর জীবিকার দক্ষতা, এই দুটোকে পরস্পরবিরোধী ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রশ্ন হলো: আমরা কি সেই সংযোগটা তৈরি করতে পারবো?

প্রতি বছর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়া লাখো তরুণের জীবন নির্ভর করছে উত্তরটার ওপর।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50