Back to publications
Narrative 2026-03-06

মানসিক স্বাস্থ্য: ১৭ কোটি মানুষ, ২০০ সাইকিয়াট্রিস্ট

অদৃশ্য সংকট, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা, সীমাহীন কলঙ্ক

মানসিক স্বাস্থ্য: ১৭ কোটি মানুষ, ২০০ সাইকিয়াট্রিস্ট

পর্ব ১: যে রোগের নাম নেই

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় আমিনা বেগমের মেয়ে ফাতেমার বয়স ১৯। গত দুই বছর ধরে ফাতেমা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। খাওয়া কমে গেছে। পড়াশোনায় মন বসে না। কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সারাদিন ঘরে বসে থাকে, কথা বলে না। মাঝে মাঝে কাঁদে।

আমিনা বেগম প্রথমে ভাবলেন, চোখ লেগেছে। কবিরাজের কাছে গেলেন। তাবিজ নিলেন। কাজ হলো না। তারপর ভাবলেন, জিনের আসর। একজন ফকিরের কাছে নিয়ে গেলেন। ফকির পানি পড়া দিলেন। তিন মাস। কোনো পরিবর্তন নেই। স্থানীয় ডাক্তার বললেন, "দুর্বলতা, ভিটামিন দিচ্ছি।" দিলেন। কাজ হলো না।

কিন্তু পুরুষদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও আচরণগত সমস্যা বেশি। এর কারণ কাঠামোগত: বাল্যবিবাহ, যৌতুক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা, এগুলো নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে।
১৭ কোটি মানুষ
যে রোগের নাম নেই
৯২.৩%
নীরব মহামারি
০.৫%
অর্থ, অবকাঠামো, আর কলঙ্ক

ফাতেমার সমস্যা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন। কিন্তু এই শব্দটা আমিনা বেগম কখনো শোনেননি। তার গ্রামে কেউ শোনেনি। মানসিক রোগ? সেটা তো "পাগল" দের হয়। ফাতেমা তো পাগল না। ফাতেমা শুধু "মন খারাপ" করে বসে থাকে।

এটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের গল্প। যে দেশে মানসিক রোগের ধারণাটাই অস্তিত্বহীন, সেখানে চিকিৎসার প্রশ্ন তো অনেক পরের বিষয়।

সংখ্যাগুলো দেখলে ছবিটা পরিষ্কার হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৬.৮% কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই হার ১৮.৪%। মানে প্রায় তিন কোটি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। তিন কোটি। এই সংখ্যাটা মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যার সমান।

কিন্তু তাদের চিকিৎসা করার মতো ডাক্তার কতজন আছে? এই চার্টটা দেখুন:

বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মাত্র ০.১৩ জন সাইকিয়াট্রিস্ট আছে। পুরো দেশে সাইকিয়াট্রিস্টের সংখ্যা ২৫০ এর কাছাকাছি। WHO বলছে ন্যূনতম ১ জন দরকার প্রতি লাখে। ভারতে ০.৩, শ্রীলঙ্কায় ০.৪, বৈশ্বিক গড় ১.৩। মানে বাংলাদেশে WHO মানদণ্ডের তুলনায় সাইকিয়াট্রিস্ট আছে মাত্র ১৩%। বাকি ৮৭% ঘাটতি।

সাইকোলজিস্ট? আরো খারাপ অবস্থা। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট আছে ৫০০ এর কম। কাউন্সেলর? কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। সামাজিক কর্মী? মানসিক স্বাস্থ্যে প্রশিক্ষিত প্রায় কেউ নেই।


পর্ব ২: নীরব মহামারি

মানসিক রোগের কথা বলতে গেলে আত্মহত্যার কথা বলতে হয়। বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটা নীরব মহামারি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১৩,০০০ মানুষ আত্মহত্যা করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন আসল সংখ্যা আরো বেশি, কারণ অনেক আত্মহত্যা রিপোর্ট হয় না। পরিবার লুকিয়ে রাখে। "দুর্ঘটনা" বলে দেয়। কারণ আত্মহত্যা মানে লজ্জা, কলঙ্ক।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার প্রতি লাখে প্রায় ৬ থেকে ৭.৮, যদিও আন্ডাররিপোর্টিং হিসাব করলে আসল হার প্রতি লাখে ৯ থেকে ১০ হতে পারে। তরুণদের মধ্যে, বিশেষত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে, আত্মহত্যা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার পুরুষদের চেয়ে বেশি, যেটা বৈশ্বিক প্রবণতার উল্টো। কারণ? বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক নির্যাতন।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো: যারা আত্মহত্যা করে, তাদের ৯০% এর বেশি কখনো কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। কারণ সেবা নেই। আর যেটুকু আছে, সেটা পৌঁছায় না।

এই চার্টটা দেখুন:

মানসিক রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৯২% কোনো চিকিৎসাই পায় না। এটাকে বলে "ট্রিটমেন্ট গ্যাপ"। বাংলাদেশে এই গ্যাপ ৯২.৩%। মানে প্রতি ১০০ জন মানসিক রোগীর মধ্যে মাত্র ৮ জন কোনো না কোনো চিকিৎসা পায়। বাকি ৯২ জন ভোগে, চুপচাপ, একা, কোনো সাহায্য ছাড়া। ভারতে ট্রিটমেন্ট গ্যাপ ৮৩%, সেটাও ভয়াবহ। কিন্তু বাংলাদেশ আরো খারাপ।

কেন এত বিশাল ট্রিটমেন্ট গ্যাপ? তিনটা কারণ।

প্রথমত, সেবাদানকারী নেই। ২৫০ সাইকিয়াট্রিস্ট দিয়ে তিন কোটি রোগীর চিকিৎসা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামো নেই। তৃতীয়ত, মানুষ যেতে চায় না। কারণ কলঙ্ক।


পর্ব ৩: অর্থ, অবকাঠামো, আর কলঙ্ক

বাংলাদেশ সরকার মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা খরচ করে? উত্তরটা জানলে অবাক হবেন না, কিন্তু হতাশ হবেন।

মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৫% মানসিক স্বাস্থ্যে বরাদ্দ। জিডিপির হিসাবে? প্রায় ০.০০৫%। ভারত ০.০৫% দেয়, সেটাও খুব কম। থাইল্যান্ড ২%, যুক্তরাজ্য ১৩%। বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য বাজেট কার্যত অস্তিত্বহীন।

এই টাকায় কী হয়? পাবনা মানসিক হাসপাতাল চলে, যেটা দেশের একমাত্র বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল। ৫০০ শয্যা। ১৭ কোটি মানুষের দেশে একটি মাত্র মানসিক হাসপাতাল, ৫০০ শয্যায়।

অবকাঠামোর অবস্থা দেখুন:

পুরো দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো সুবিধা (facility) কতটুকু আছে? বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল ১টি (পাবনা)। মেডিকেল কলেজে সাইকিয়াট্রি বিভাগ আছে ২৫ থেকে ৩০ টিতে। জেলা হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট আছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টিতে। উপজেলা পর্যায়ে? কার্যত শূন্য। কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা? নেই। মানে ফরিদপুরের মধুখালী থেকে ফাতেমাকে যদি সত্যিই একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে হয়, তাহলে তাকে ঢাকা বা পাবনা যেতে হবে। খরচ, সময়, আর সামাজিক কলঙ্কের ভয় মিলিয়ে, সে যাবে না।

কলঙ্কের কথাই আসুক। বাংলাদেশে মানসিক রোগ নিয়ে কতটা কলঙ্ক আছে?

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ এবং বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭৫% মানুষ মনে করে মানসিক রোগ "ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা"। ৬৫% মনে করে মানসিক রোগ "জিনের আসর" বা অতিপ্রাকৃত কারণে হয়। ৮০% পরিবার মানসিক রোগীকে প্রথমে কবিরাজ বা ফকিরের কাছে নিয়ে যায়। ৬০% পরিবার মানসিক রোগীকে বিয়ে দিতে বা বিয়ে পেতে সমস্যায় পড়ে।

এই কলঙ্ক শুধু গ্রামে না, শহরেও। ঢাকায়ও মানুষ সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে লুকিয়ে যায়। অফিসে বলে না। পরিবারে বলে না। কারণ "পাগলের ডাক্তারের কাছে যাও?" এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে কেউ চায় না।


পর্ব ৪: জেন্ডার ও প্রজন্মের ভার

মানসিক স্বাস্থ্য সংকট সবাইকে সমানভাবে আক্রান্ত করে না। লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট।

নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত রোগের হার পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ। নারীদের বিষণ্নতার হার ১১.২%, পুরুষদের ৬.৮%। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও আচরণগত সমস্যা বেশি। এর কারণ কাঠামোগত: বাল্যবিবাহ, যৌতুক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা, এগুলো নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে, "পুরুষ কাঁদে না" এই সামাজিক চাপ তাদের সাহায্য চাইতে বাধা দেয়। ফলে তারা মাদকে আশ্রয় নেয়।

তরুণ প্রজন্মের অবস্থা আরো উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৮% থেকে ৩৫% শিক্ষার্থী বিষণ্নতার লক্ষণ দেখায়। চাকরির অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতার চাপ, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব, পারিবারিক প্রত্যাশা, সব মিলিয়ে তরুণদের মানসিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সেলিং সেবা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কাউন্সেলর আছেন। ৩৭,০০০ শিক্ষার্থীর জন্য। একজন।

স্বাস্থ্যকর্মীর চিত্র আরো হতাশাজনক:

পুরো মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীবাহিনী (সাইকিয়াট্রিস্ট, সাইকোলজিস্ট, নার্স, সামাজিক কর্মী মিলিয়ে) প্রতি লাখে ০.৫ জনেরও কম। বৈশ্বিক গড় ৯.০। মানে বাংলাদেশে বৈশ্বিক গড়ের ৫% এরও কম মানসিক স্বাস্থ্য কর্মী আছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে প্রায় ১৫,০০০ নতুন প্রশিক্ষিত কর্মী দরকার। বর্তমান গতিতে সেটা হতে কয়েক দশক লাগবে।


পর্ব ৫: আইন আছে, বাস্তবায়ন নেই

২০১৮ সালে বাংলাদেশ "মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮" পাশ করেছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। আইনটি মানসিক রোগীদের অধিকার সুরক্ষা, জোরপূর্বক চিকিৎসার নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবার কথা বলে। কাগজে কলমে চমৎকার।

কিন্তু বাস্তবে?

আইন পাশ হয়েছে সাত বছর হয়ে গেছে। বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। "মানসিক স্বাস্থ্য বোর্ড" গঠন হয়নি। কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা চালু হয়নি। বাজেট বাড়েনি। ফলে আইনটা একটা কাগজ, যেটা সংসদে পাশ হয়েছে কিন্তু মাটিতে নামেনি।

অন্যদের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশ কোথায়, সেটা স্পষ্ট।

ভারত ২০১৭ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইন পাশ করেছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি (NMHP) দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। শ্রীলঙ্কায় মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। থাইল্যান্ডে প্রতিটা জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট আছে, প্রতি লাখে ০.৯ জন সাইকিয়াট্রিস্ট আছে। বৈশ্বিক গড়ে প্রতি লাখে ১.৩ সাইকিয়াট্রিস্ট। বাংলাদেশ? ০.১৩।

তাহলে কী করা উচিত?

প্রথমত, মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করা। প্রতিটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রাখা। বাংলাদেশে ৪৯৫ টি উপজেলা আছে। ৪৯৫ জন কর্মী নিয়োগ দিলেই একটা বিশাল পরিবর্তন আসবে।

দ্বিতীয়ত, mhGAP (Mental Health Gap Action Programme) বাস্তবায়ন। WHO এর এই প্রোগ্রাম অনুযায়ী, সাধারণ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক রোগ চিনতে ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। সাইকিয়াট্রিস্ট না পেলেও, একজন MBBS ডাক্তার বিষণ্নতার ওষুধ দিতে পারেন, যদি প্রশিক্ষণ থাকে।

তৃতীয়ত, টেলিসাইকিয়াট্রি। স্মার্টফোন আছে, ইন্টারনেট আছে। ঢাকার সাইকিয়াট্রিস্ট ভিডিও কলে মধুখালীর রোগী দেখতে পারেন। কান পেতে রই, মনের খবর, এরকম কিছু হেল্পলাইন ইতোমধ্যে চালু আছে। এগুলোকে আরো শক্তিশালী করা দরকার।

চতুর্থত, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। কলঙ্ক দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায় শিক্ষা। শিশুরা যদি জানে যে বিষণ্নতা একটা রোগ, জ্বরের মতো, চিকিৎসা করলে সারে, তাহলে তারা বড় হয়ে "পাগল" বলবে না।


পর্ব ৬: ফাতেমার শেষ কী হলো?

ফরিদপুরের ফাতেমা শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা পেয়েছিল। কীভাবে? একটা NGO এর স্বাস্থ্যকর্মী তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন অন্য কাজে। ফাতেমাকে দেখে বুঝলেন কিছু একটা ঠিক নেই। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রেফার করলেন। সেখানে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট আছেন। ফাতেমা গেল। ওষুধ পেল। তিন মাসে অনেকটা ভালো।

কিন্তু কতজন ফাতেমা এভাবে ভাগ্যক্রমে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর নজরে পড়ে? কতজনের বাড়িতে NGO কর্মী যায়? কতজন ফরিদপুরের কাছে থাকে, যেখানে অন্তত একজন সাইকিয়াট্রিস্ট আছে?

বেশিরভাগ ফাতেমা কবিরাজের কাছে যায়। বা ঘরে বসে থাকে। বা একদিন, আর সহ্য করতে না পেরে, এমন কিছু করে ফেলে যেটা ফেরানো যায় না।

বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ১৩,০০০ মানুষ আত্মহত্যায় মারা যায়। প্রতিটা মৃত্যুর পেছনে আছে চিকিৎসা না পাওয়ার গল্প। একজন ডাক্তারের সাথে একটা কথোপকথন, একটা সঠিক ওষুধ, একটা কাউন্সেলিং সেশন হয়তো সেই প্রাণটা বাঁচাতে পারতো।

১৭ কোটি মানুষের দেশে ২৫০ জন সাইকিয়াট্রিস্ট। এই সংখ্যাটা একটা দেশের অগ্রাধিকারের কথা বলে। বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেয়নি। কখনো দেয়নি। ২০১৮ এর আইন একটা শুরু, কিন্তু সাত বছরে সেই শুরু থেকে একচুলও এগোয়নি।

পরিবর্তন সম্ভব। ৪৯৫ জন প্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে শুরু করা যায়। টেলিসাইকিয়াট্রি দিয়ে পৌঁছানো যায়। স্কুলে শিক্ষা দিয়ে কলঙ্ক কমানো যায়। বাজেট ০.৫% থেকে ২% করলেই বিশাল পার্থক্য হবে।

কিন্তু সবার আগে দরকার একটা স্বীকৃতি: মানসিক রোগ রোগ। পাগলামি না। ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা না। জিনের আসর না। এটা মস্তিষ্কের রোগ, শরীরের অন্য যেকোনো অঙ্গের রোগের মতো। চিকিৎসা আছে। চিকিৎসায় সারে। শুধু চিকিৎসা পৌঁছাতে হবে।

ফাতেমাদের কাছে। তিন কোটি ফাতেমার কাছে।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50