এনজিও ছাড়া বাংলাদেশ চলবে?
পর্ব ১: সমান্তরাল রাষ্ট্র
১৯৭২ সাল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ। রাস্তা ভাঙা, সেতু উড়ে গেছে, স্কুল পুড়ে ছাই। নতুন সরকার দাঁড়াতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সাহায্য আসছে, কিন্তু বিতরণ করার কেউ নেই। সরকারি কাঠামো প্রায় অস্তিত্বহীন। এই শূন্যতায় একজন মানুষ দাঁড়ালেন। ফজলে হাসান আবেদ। শেল অয়েলে চাকরি ছেড়ে সিলেটের শাল্লায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেন। সংগঠনের নাম দিলেন BRAC, Bangladesh Rural Advancement Committee।
সেটা ছিল শুরু। আজ, ৫৪ বছর পর, BRAC পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনজিও। ১১টি দেশে কাজ করে। বার্ষিক রাজস্ব ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। চালায় ৪৮,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি হাসপাতাল, একটি ব্যাংক, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি ডেইরি কোম্পানি, একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি। BRAC শুধু একটি এনজিও না। BRAC হলো একটি সমান্তরাল রাষ্ট্র।
আর BRAC একা না। গ্রামীণ ব্যাংক, ASA, প্রশিকা, কেয়ার বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন। বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা কত? এই চার্টটা দেখুন:
১৯৯০ সালে NGOAB (NGO Affairs Bureau) এ নিবন্ধিত ছিল মাত্র ৫০০ এনজিও। আজ সেই সংখ্যা ২,৬০০ এর বেশি। আর এটা শুধু বিদেশি অর্থায়নে চলা এনজিও। স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত সংগঠন যোগ করলে সংখ্যাটা ৩০,০০০ ছাড়িয়ে যায়। প্রতি ৬,০০০ মানুষের জন্য একটি এনজিও।
এই সংখ্যাটা ভাবুন। বাংলাদেশে উপজেলা আছে ৪৯৫টি। মানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ৬০টি করে এনজিও কাজ করছে। কোনো কোনো উপজেলায় ১০০ এর বেশি। এরা কী করে? স্বাস্থ্যসেবা দেয়, স্কুল চালায়, ক্ষুদ্রঋণ দেয়, পানি সরবরাহ করে, স্যানিটেশন তৈরি করে, দুর্যোগ ত্রাণ দেয়, নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে, পরিবেশ সংরক্ষণ করে। মানে, সরকার যা করে, এনজিওরাও তাই করে। কখনো সরকারের পাশাপাশি, কখনো সরকারের বদলে।
প্রশ্ন হলো: এটা কি ভালো? নাকি এটা একটা সমস্যার লক্ষণ?
পর্ব ২: টাকার হিসাব
এনজিও খাত বোঝার জন্য প্রথমে টাকার হিসাব বুঝতে হবে। বাংলাদেশের এনজিওগুলো কোথা থেকে টাকা পায়? দুটো প্রধান উৎস: বিদেশি অনুদান আর নিজস্ব আয়। তবে গত দুই দশকে এই মিশ্রণটা নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এই চার্টটা দেখুন:
২০০০ সালে বাংলাদেশের এনজিওগুলো বিদেশ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার পেত। ২০১৫ তে সেটা বেড়ে ৯০০ মিলিয়নের কাছে গেছে। কিন্তু তারপর? ২০২০ থেকে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন। বৈশ্বিক সাহায্যের ধারা বদলে যাচ্ছে। দাতা দেশগুলো নিজেদের সমস্যায় ব্যস্ত। ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, মধ্যপ্রাচ্য সংকট। বাংলাদেশ এখন "মধ্যম আয়ের দেশ" হতে যাচ্ছে, তাই দাতারা মনে করছে বাংলাদেশের আর সাহায্য লাগে না।
কিন্তু বাংলাদেশের এনজিও খাত শুধু বিদেশি সাহায্যে চলে না। এটা অনেকেই জানে না। এই চার্টটা দেখুন:
বিদেশি অনুদান মোট এনজিও আয়ের মাত্র ২৮%। বাকি ৭২% আসে কোথা থেকে? ক্ষুদ্রঋণের সুদ (৩৮%), সামাজিক উদ্যোগ ও ব্যবসা (১৮%), সরকারি প্রকল্পের অর্থায়ন (৯%), আর দেশীয় দান ও সদস্যপদ ফি (৭%)। BRAC এর কথাই ধরুন। BRAC এর মোট আয়ের ৭৫% আসে নিজস্ব উৎস থেকে। ব্র্যাক ব্যাংক, আড়ং, BRAC ডেইরি, ক্ষুদ্রঋণ। বিদেশি অনুদান মাত্র ২৫%। BRAC কার্যত একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য যেটি সামাজিক উদ্দেশ্যে চলে।
আর এই সাম্রাজ্য কতটা বড়, সেটা BRAC এর রাজস্ব দেখলে বোঝা যায়:
২০০৫ সালে BRAC এর রাজস্ব ছিল ২৫০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে সেটা ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ বছরে চারগুণেরও বেশি বৃদ্ধি। তুলনা করুন: বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বাজেট প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। মানে BRAC একা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের প্রায় ১৪% এর সমান রাজস্ব তৈরি করে। একটি এনজিও।
পর্ব ৩: চাকরি, সেবা, আর ছায়া সরকার
এনজিও খাত শুধু সেবা দেয় না, কর্মসংস্থানও তৈরি করে। বাংলাদেশে এনজিও খাতে কত মানুষ কাজ করে? এই চার্টটা দেখুন:
সরাসরি কর্মী প্রায় ৫ লাখ। স্বেচ্ছাসেবক ও খণ্ডকালীন কর্মী আরো ২০ লাখ। মোট ২৫ লাখ মানুষ এনজিও খাতের সাথে যুক্ত। এটা বাংলাদেশের পুরো সরকারি কর্মচারীর সংখ্যার (১৫ লাখ) চেয়ে বেশি। মানে, এনজিও খাত সরকারের চেয়ে বেশি মানুষকে কাজ দেয়।
আর এই কর্মীরা কোন কোন খাতে কাজ করে? এই চার্টটা দেখুন:
ক্ষুদ্রঋণ ও আর্থিক সেবায় ৩৫%, মানে সবচেয়ে বড় অংশ। শিক্ষায় ২০%। স্বাস্থ্যসেবায় ১৫%। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৮%। নারী ক্ষমতায়নে ৭%। পানি ও স্যানিটেশনে ৬%। পরিবেশে ৫%। অন্যান্যতে ৪%। প্রতিটা খাতে সরকারেরও কর্মসূচি আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এনজিওর সেবাই মানুষের কাছে আগে পৌঁছায়।
এটা আরো স্পষ্ট হয় যখন সেবার কভারেজ দেখা যায়। বাংলাদেশের মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় সরকারের ওপর নির্ভর করে, নাকি এনজিওর ওপর? এই চার্টটা দেখুন:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এনজিওর কভারেজ ৪৫%, সরকারের ৫৫%। ক্ষুদ্রঋণে এনজিও ৮৫%, ব্যাংক মাত্র ১৫%। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় এনজিও ৬০%, সরকার ৪০%। দুর্যোগ সতর্কতায় এনজিও ৫৫%, সরকার ৪৫%। মানে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটা ক্ষেত্রে এনজিও একটা বিশাল ভূমিকা রাখছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে বড় ভূমিকা।
এটা একদিক থেকে ভালো। মানুষ অন্তত সেবা পাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিক থেকে? এটা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক সেবা দিতে পারছে না। এনজিও সেই ঘাটতি পূরণ করছে। রাষ্ট্র ব্যর্থ বলেই এনজিও সফল।
পর্ব ৪: সরকার বনাম এনজিও
সরকার এবং এনজিওর মধ্যে সম্পর্কটা সবসময়ই জটিল ছিল। একদিকে সরকার এনজিওদের দরকার, কারণ এরা সরকারের অক্ষমতা ঢেকে রাখে। অন্যদিকে সরকার এনজিওদের ভয় পায়, কারণ এদের নিজস্ব ক্ষমতা, অর্থ, আর আন্তর্জাতিক সংযোগ আছে।
সরকার আর এনজিও কে কত খরচ করে? এই তুলনাটা চমকপ্রদ:
শিক্ষায় সরকার খরচ করে জিডিপির ২%, এনজিওরা ০.৮%। স্বাস্থ্যে সরকার ১.১%, এনজিও ০.৫%। সামাজিক সুরক্ষায় সরকার ১.৭%, এনজিও ০.৯%। ক্ষুদ্রঋণে? সরকার ০.২%, এনজিও ১.৫%। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকার ০.৩%, এনজিও ০.৪%। মোটের ওপর, এনজিও খাত বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রায় ৬% অবদান রাখে। এটা পুরো কৃষি খাতের প্রায় অর্ধেক।
আর এই ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে সরকার ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। গত দুই দশকে এনজিও নিয়ন্ত্রণ আইন ক্রমাগত কঠোর হয়েছে। এই সময়রেখাটা দেখুন:
১৯৯০ সালে NGOAB তৈরি হলো। ২০০৬ সালে বিদেশি অনুদান অনুমোদনের নিয়ম কঠোর হলো। ২০০৯ সালে NGO Affairs Bureau আরো ক্ষমতা পেল। ২০১৬ সালে Foreign Donations (Voluntary Activities) Regulation Act কড়া হলো। ২০১৭ তে তিনটি এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিল। ২০২০ তে কোভিডের সময় এনজিও কার্যক্রমে অতিরিক্ত নজরদারি শুরু। ২০২৩ সালে নতুন আইনে এনজিওদের জন্য সরকারি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হলো। ২০২৫ সালে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু।
প্রতিটা পদক্ষেপের পেছনে সরকারের যুক্তি: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ। কিন্তু বাস্তবে? অনেক এনজিও বলছে এই নিয়ন্ত্রণ তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। অনুমোদন পেতে মাসের পর মাস লাগছে। ছোট এনজিওগুলো টিকতে পারছে না। শুধু বড় এনজিওগুলো (BRAC, ASA, গ্রামীণ) সরকারি আমলাতন্ত্রের জটিলতা সামলাতে পারছে।
পর্ব ৫: পৃথিবী কী বলছে?
বাংলাদেশের এনজিও খাত কি অনন্য? একটা আন্তর্জাতিক তুলনা করলে বোঝা যায়:
জিডিপিতে এনজিও খাতের অবদানে বাংলাদেশ (৬%) পৃথিবীর শীর্ষে। নেদারল্যান্ডসে ৫.৪%, কেনিয়ায় ৩.৫%, ভারতে ২%, ফিলিপাইনে ১.৫%। মানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এনজিওর ওজন পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। কেউ কেউ একে "সুশীল সমাজের বিপ্লব" বলে। কেউ কেউ বলে "রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।"
নেদারল্যান্ডস একটি সমৃদ্ধ দেশ। সেখানে এনজিও খাত বড় কারণ নাগরিকরা স্বেচ্ছায় সামাজিক কাজে অংশ নেয়। সরকার শক্তিশালী, কিন্তু সুশীল সমাজও সক্রিয়। এটা সুস্থ ভারসাম্য। বাংলাদেশে? এনজিও খাত বড় কারণ সরকার দুর্বল। মানুষের চাহিদা আছে, রাষ্ট্র পূরণ করতে পারছে না, তাই এনজিও ঢুকে পড়ছে। এটা ভারসাম্য না, এটা নির্ভরতা।
পর্ব ৬: ভবিষ্যতের প্রশ্ন
এখন আসল প্রশ্নে আসি: এনজিও ছাড়া বাংলাদেশ চলবে কি?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: না। এই মুহূর্তে চলবে না।
BRAC এর ৪৮,০০০ স্কুল বন্ধ হলে ১১ লাখ শিশু পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়বে। গ্রামীণ ব্যাংক আর ASA বন্ধ হলে ৩ কোটি নারী ক্ষুদ্রঋণ হারাবে। এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ হলে গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রায় অর্ধেক কমে যাবে। দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থার ৫৫% ভেঙে পড়বে। সাইক্লোনে মৃত্যুর সংখ্যা আবার বাড়বে।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে? একটা দেশ চিরকাল এনজিওর ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। তিনটা কারণে।
প্রথমত, বিদেশি অর্থায়ন কমছে। বাংলাদেশ LDC থেকে বের হচ্ছে ২০২৬ সালে। উন্নয়ন সাহায্যের শর্ত বদলে যাবে। দাতা দেশগুলো আফ্রিকা আর জলবায়ু সংকটে মনোযোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সাহায্যের তালিকা থেকে সরে যাবে। এনজিওগুলো যতই নিজস্ব আয় বাড়াক, বিদেশি অনুদান কমলে ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলো টিকতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, জবাবদিহিতার সমস্যা। সরকার নির্বাচিত, এনজিও না। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি, এনজিও দাতাদের কাছে। একটা দেশের মৌলিক সেবা যখন অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তখন গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ওঠে। BRAC যদি কাল সিদ্ধান্ত নেয় ৪৮,০০০ স্কুল বন্ধ করবে, বাংলাদেশের মানুষ কিছু করতে পারবে না। এটা সরকারি স্কুল হলে মানুষ ভোটের মাধ্যমে চাপ দিতে পারত।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্র গড়ার প্রশ্ন। যতদিন এনজিও সেবা দেবে, ততদিন সরকারের ওপর চাপ কম থাকবে নিজে সক্ষমতা তৈরি করার। এটা একটা paradox। এনজিও যত ভালো কাজ করে, রাষ্ট্র তত দুর্বল থাকে। কারণ রাষ্ট্রের আর শেখার, বড় হওয়ার, সক্ষম হওয়ার তাগিদ থাকে না।
তাহলে সমাধান কী?
এনজিও বন্ধ করা না। সেটা হবে আত্মঘাতী। সমাধান হলো ধীরে ধীরে দায়িত্ব হস্তান্তর। এনজিওরা যা ভালো করে (উদ্ভাবন, পাইলট প্রকল্প, সম্প্রদায় সংগঠন), সেটা তারা করুক। কিন্তু বড় পরিসরে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাতে আসতে হবে। BRAC যে মডেলে ক্ষুদ্রঋণ চালায়, সেটা সরকার শিখুক আর নিজে চালাক। গ্রামীণ ব্যাংকের পদ্ধতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো গ্রহণ করুক। এনজিওর ভূমিকা হোক পথ দেখানো, পথ চলানো না।
ফজলে হাসান আবেদ বেঁচে থাকতে বলতেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো নিজেদের অপ্রয়োজনীয় করে তোলা।" মানে, এমন একটি দিন আসবে যেদিন BRAC এর দরকার হবে না, কারণ রাষ্ট্রই সব কাজ করতে পারবে। সেই দিন এখনো আসেনি। কিন্তু যদি আমরা এনজিও নির্ভরতাকে স্বাভাবিক মনে করে বসে থাকি, সেই দিন কখনোই আসবে না।
বাংলাদেশের এনজিও খাত পৃথিবীর সবচেয়ে সফল সুশীল সমাজ পরীক্ষা। কিন্তু এটা একটা পরীক্ষা, স্থায়ী সমাধান না। একটা দেশ যেদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখে, সেদিন এনজিওর কাজ শেষ। বাংলাদেশ এখনো সেই পায়ে দাঁড়াতে পারেনি।
প্রশ্ন হলো: কবে পারবে?