প্লাস্টিকে ডুবছে বাংলাদেশ
পর্ব ১: পলিথিনের রাজত্ব
২০০২ সালের ১ জানুয়ারি। বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিলো: পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ। পৃথিবীর প্রথম দেশগুলোর একটি যেটা এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই সময় বিশ্ব সংবাদমাধ্যম প্রশংসায় ভাসছিল। "বাংলাদেশ পথ দেখাচ্ছে," লিখেছিল গার্ডিয়ান।
২৪ বছর পেরিয়ে গেছে। আজ ঢাকার রাস্তায় হাঁটুন। কদমতলীর গলিতে, মিরপুরের বাজারে, গুলশানের সুপারশপে। সব জায়গায় পলিথিন। ফলের দোকানে, মাছের বাজারে, চায়ের কাপে, এমনকি রুটির ভেতরে। পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ, কিন্তু প্লাস্টিক? প্লাস্টিক সর্বত্র। নিষেধাজ্ঞা কাগজে আছে, বাস্তবে নেই।
সংখ্যা দিয়ে বুঝি। বাংলাদেশ এখন বছরে ৮ লাখ টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করে। ২০০৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ টনের কাছাকাছি। মাত্র দুই দশকে চার গুণ বেড়েছে।
এই বৃদ্ধির কারণ সহজ: মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, শহরায়ন বেড়েছে, আর একক ব্যবহারের (single-use) প্লাস্টিকের বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্যাকেটজাত খাবার, মিনারেল ওয়াটারের বোতল, শ্যাম্পুর স্যাশে, চিপসের প্যাকেট। এক কাপ চায়ের সাথে আসে একটা প্লাস্টিকের কাপ, একটা স্ট্র, একটা চামচ, একটা ঢাকনা। চার টুকরো প্লাস্টিক, পাঁচ মিনিটের ব্যবহারের জন্য।
কিন্তু এই ৮ লাখ টনের কতটুকু পুনর্ব্যবহার হয়? এখানেই আসল ভয়ংকর সংখ্যা।
বাংলাদেশে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার হার মাত্র ৫%। বাকি ৯৫%? সেটা যায় ভাগাড়ে, নদীতে, নালায়, রাস্তার পাশে, খোলা মাঠে। কিছু পোড়ানো হয়, যেটা বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে। কিছু মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়, যেটা মাটি দূষিত করে। আর একটা বড় অংশ সরাসরি জলাশয়ে চলে যায়।
তুলনা করুন: জাপানে পুনর্ব্যবহার হার ৮৪%, ইউরোপে ৩৩%, ভারতে ৬০%। বাংলাদেশ? ৫%। এই পাঁচ শতাংশও সরকারের কৃতিত্ব না। এই কাজটা করে একদল অদৃশ্য মানুষ, যাদের কথা আমরা পরে বলবো।
কিন্তু আগে, আসুন দেখি ঢাকা শহরে এই প্লাস্টিকের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ প্রভাব কোথায়: আপনার পায়ের নিচে, ড্রেনেজ ব্যবস্থায়।
পর্ব ২: যখন বৃষ্টি আসে
ঢাকায় বৃষ্টি মানে জলাবদ্ধতা। এটা নতুন কিছু না। কিন্তু কেন? ঢাকায় কি ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই? আছে। ব্রিটিশ আমলের ড্রেনেজ আছে, নতুন ড্রেনও আছে। সমস্যা হলো, সেগুলো কাজ করে না। কারণ? প্লাস্টিক।
ঢাকা ওয়াসা আর সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রায় ৮০% কোনো না কোনো সময়ে প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে বন্ধ থাকে। আশি শতাংশ।
প্রতিটা বর্ষা মৌসুমে ঢাকা তলিয়ে যায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঢাকার অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি জমেছিল। যানবাহন চলেনি, স্কুল বন্ধ ছিল, ব্যবসা বন্ধ ছিল। প্রতি বছর জলাবদ্ধতায় ঢাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি অনুমান করা হয় ৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এর একটা বড় অংশের জন্য দায়ী প্লাস্টিক বর্জ্য।
কিন্তু পলিথিন তো ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল? হ্যাঁ, কাগজে। বাস্তবে?
পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ, কিন্তু আজও ঢাকায় শত শত অবৈধ কারখানায় পলিথিন তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঝে মাঝে অভিযান হয়, কিছু কারখানা সিলগালা হয়, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরেই আবার চালু হয়। ভোক্তা পর্যায়ে পলিথিনের ব্যবহার কমেনি। কাঁচাবাজারে এখনও প্রতিটা সবজি আলাদা আলাদা পলিথিনে দেওয়া হয়। বিকল্প (কাপড়ের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ) আছে, কিন্তু মানুষ ব্যবহার করে না। কারণ পলিথিন সস্তা, সহজলভ্য, আর অভ্যাস পরিবর্তন কঠিন।
এই ব্যর্থতার মূলে আছে দুটো সমস্যা: প্রয়োগের দুর্বলতা আর বিকল্পের অভাব। রুয়ান্ডা পলিথিন নিষিদ্ধ করে সফল হয়েছে কারণ তারা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করেছে এবং বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ আইন করেছে কিন্তু প্রয়োগ করেনি।
ইতিমধ্যে, একক ব্যবহারের প্লাস্টিকের বাজার রকেটের গতিতে বাড়ছে।
২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একক ব্যবহারের প্লাস্টিকের ভোগ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। এর পেছনে আছে খাদ্য ডেলিভারি সেবা (ফুডপান্ডা, পাঠাও ফুড), প্যাকেটজাত খাবারের বিস্ফোরণ, আর ই-কমার্স প্যাকেজিং। প্রতিটা অনলাইন অর্ডারে আসে বাবল র্যাপ, প্লাস্টিকের প্যাকেট, টেপ, ফোম। একটা জামা কিনলে চার-পাঁচ টুকরো প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়।
এই প্লাস্টিকের একটা বড় অংশ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় নদীতে।
পর্ব ৩: নদীর বিষ, সমুদ্রের কান্না
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্লাস্টিক নদী-দূষণকারী দেশ। এটা বলতে কষ্ট লাগে, কিন্তু তথ্য মিথ্যা বলে না। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা দিয়ে প্রতি বছর আনুমানিক ৭৩,০০০ টন প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। এই পরিমাণ বিশ্বের নদী-বাহিত প্লাস্টিক দূষণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ঢাকার চারপাশের এই চার নদী এখন প্লাস্টিকের স্রোত। গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গার পানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৫০০-এরও বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা আছে। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের শরীরে ঢুকছে, আর সেই মাছ আমরা খাচ্ছি।
কিন্তু এত প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে একটা অদৃশ্য অর্থনীতি চলে। রাস্তার শিশু থেকে শুরু করে বড় বড় রিসাইক্লিং কারখানা, একটা পুরো ইকোসিস্টেম আছে। এদের কথা কেউ বলে না।
বাংলাদেশে আনুমানিক ১.৫ থেকে ২ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক (informal) প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার খাতে কাজ করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তরে আছে "টোকাই" বা বর্জ্য কুড়ানো শিশুরা। তারা ভাগাড় ঘেঁটে, ড্রেন থেকে, রাস্তা থেকে প্লাস্টিক কুড়ায়। প্রতি কেজি প্লাস্টিকের জন্য পায় ৫ থেকে ১৫ টাকা। এই প্লাস্টিক যায় ফেরিওয়ালার কাছে, তারপর গুদামদারের কাছে, তারপর রিসাইক্লিং কারখানায়।
এই ব্যবস্থাটা কোনো সরকারি পরিকল্পনার ফল না। এটা বাজারের স্বাভাবিক ক্রিয়া। দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার তাগিদ থেকে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই মানুষগুলো কোনো সুরক্ষা পায় না: স্বাস্থ্যবিমা নেই, গ্লাভস নেই, মাস্ক নেই। অনেকে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারে ভোগে। শিশু শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
এই অনানুষ্ঠানিক খাত বাংলাদেশের মোট প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের প্রায় পুরোটাই করে। সরকারের অবদান? প্রায় শূন্য। কোনো আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার অবকাঠামো নেই, কোনো বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা নেই, কোনো উৎপাদক দায়বদ্ধতা (Extended Producer Responsibility) আইন নেই।
পর্ব ৪: বিশ্বের আয়নায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মাথাপিছু প্লাস্টিক বর্জ্য পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। একজন আমেরিকান বছরে গড়ে ১৩০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করে। একজন বাংলাদেশি? মাত্র ৫ কেজি। কিন্তু এই কম সংখ্যার মধ্যেই একটা বিপদ লুকিয়ে আছে।
মাথাপিছু কম হলেও বাংলাদেশের সমস্যা তীব্র কারণ তিনটি কারণে: প্রথমত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নেই বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, জনঘনত্ব পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি, তাই অল্প বর্জ্যও ভয়ঙ্কর ঘনীভূত হয়। তৃতীয়ত, নদীমাতৃক ভূগোল, তাই বর্জ্য দ্রুত জলপথে ছড়িয়ে পড়ে।
আর প্লাস্টিকের এই স্রোত শুধু দেশের ভেতরে তৈরি হচ্ছে না। বাইরে থেকেও আসছে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁচা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক আমদানি করে। প্লাস্টিক কাঁচামাল (পলিমার, রেজিন) আমদানি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একটা অংশ শিল্পে ব্যবহার হয়, কিন্তু আরেকটা অংশ হলো উন্নত দেশের "রিসাইক্লেবল" বর্জ্য যেটা আসলে এখানে এসে ভাগাড়ে যায়। চীন ২০১৮ সালে প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই প্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ সেই বোঝার একটা অংশ বহন করছে।
এই প্লাস্টিক দূষণের স্বাস্থ্য প্রভাব এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
গবেষণায় পাওয়া গেছে, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ধোঁয়া শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়াচ্ছে। প্লাস্টিকের রাসায়নিক (BPA, phthalates) হরমোন বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। বর্জ্য কুড়ানো শ্রমিকদের মধ্যে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, আর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সাধারণ মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। প্লাস্টিক দূষণ এখন শুধু পরিবেশের সমস্যা না, এটা জনস্বাস্থ্য সংকট।
পর্ব ৫: পথ আছে, ইচ্ছা নেই
সমস্যা জানা। সমাধানও জানা। পৃথিবীর অনেক দেশ এই সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করছে এবং ফল পাচ্ছে।
রুয়ান্ডা: ২০০৮ সালে পলিথিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং কঠোরভাবে প্রয়োগ করেছে। আজ কিগালি আফ্রিকার সবচেয়ে পরিষ্কার শহরগুলোর একটি। কেনিয়া: ২০১৭ সালে বিশ্বের কঠোরতম পলিথিন আইন করেছে। উৎপাদন বা ব্যবহারের জন্য ৪ বছরের জেল বা ৩৮,০০০ ডলার জরিমানা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০২১ থেকে একক ব্যবহারের প্লাস্টিক (প্লেট, কাটলারি, স্ট্র, কাপ) নিষিদ্ধ। উৎপাদক দায়বদ্ধতা (EPR) আইন কার্যকর।
বাংলাদেশের জন্য কী করণীয়?
প্রথম: পলিথিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে প্রয়োগ করা। ২৪ বছর ধরে কাগজে থাকা আইনটাকে মাঠে নামাতে হবে। অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ আদালতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়: উৎপাদক দায়বদ্ধতা (EPR) আইন। যারা প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ে পণ্য বিক্রি করে, তাদের সেই প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব নিতে হবে। কোকা-কোলা, ইউনিলিভার, নেসলে, এরা বাংলাদেশে কোটি কোটি প্লাস্টিক বোতল ও প্যাকেট বিক্রি করে, কিন্তু সেগুলো সংগ্রহের দায়িত্ব নেয় না।
তৃতীয়: অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার খাতকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। যে টোকাইরা আজ ভাগাড় ঘেঁটে দেশের পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা চালাচ্ছে, তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ: বর্জ্য পৃথকীকরণ বাধ্যতামূলক করা। ঘরে ঘরে জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করা, আর সেটা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা।
পঞ্চম: বিকল্প উপকরণে বিনিয়োগ। বাংলাদেশ পাটের দেশ। পাট থেকে তৈরি ব্যাগ, প্যাকেজিং, এমনকি জিও-টেক্সটাইল, সবই সম্ভব। পাট শিল্পকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা একটা অর্থনৈতিক সুযোগও।
পর্ব ৬: ৮ লাখ টনের হিসাব
আসুন শেষ করি একটা সহজ হিসাব দিয়ে।
বাংলাদেশ বছরে ৮ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করে। এই পরিমাণ প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা শহরকে ১ ফুট পুরু স্তরে ঢেকে দেওয়া যায়। প্রতিদিন ২,২০০ টনেরও বেশি। প্রতি ঘণ্টায় ৯০ টন। আপনি এই লেখাটা পড়তে যত সময় নিয়েছেন, সেই সময়ে বাংলাদেশে আরো কয়েক টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়ে গেছে।
এই প্লাস্টিকের ৯৫% কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ড্রেন বন্ধ করছে, নদী দূষিত করছে, মাটি নষ্ট করছে, আমাদের খাদ্যচক্রে ঢুকছে, আমাদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়ে জমা হচ্ছে।
২০০২ সালে বাংলাদেশ পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছিল। আজ সেই পথ হারিয়ে গেছে। কিন্তু পথ আবার খুঁজে পাওয়া অসম্ভব না। দরকার শুধু ইচ্ছা, সততা, আর হিসাব। ৮ লাখ টনের হিসাব কেউ করবে কি?