মুরগির মাংস এত সস্তা কেন?
পর্ব ১: জব্বারের খামার
জব্বার মিয়া গাজীপুরের কালিগঞ্জে একটা ব্রয়লার খামার চালায়। ছোট একটা টিনের শেড, ভেতরে ১,০০০ মুরগি। তিন বছর আগে ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ধার করে শুরু করেছিল। প্রথম বছর লাভ হয়েছিল। দ্বিতীয় বছর সমান সমান। তৃতীয় বছর? লোকসান। কারণ সোজা: ফিডের দাম বেড়েছে ৪০%, কিন্তু মুরগির দাম বাড়েনি। কেজিতে ১৫০ টাকায় বেচতে হয় পাইকারদের কাছে। আর ভোক্তা বাজারে কেনে ২৮০-৩০০ টাকায়। মাঝখানের ১৩০ টাকা কোথায় যায়? জব্বার জানে না।
জব্বার জানে শুধু একটা কথা: মুরগি পালা সহজ, কিন্তু মুরগিতে টিকে থাকা কঠিন।
কিন্তু একটু দূরে সরে দেখুন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের গল্পটা আসলে বিস্ময়কর। গত বিশ বছরে এই শিল্পটা ১০ গুণ বেড়েছে। একটা দেশ, যেখানে ১৯৯০ সালে মুরগি ছিল বিলাসদ্রব্য, সেখানে আজ মুরগি সবচেয়ে সস্তা মাংস। এটা কীভাবে হলো? আর এই বিপ্লবের পেছনে কী দাম দিতে হচ্ছে?
এই চার্টটা দেখুন।
২০০৫ সালে বাংলাদেশে বছরে মুরগির মাংস উৎপাদন হতো প্রায় ১.৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৫ সালে সেটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বিশ বছরে ১২ গুণ। এই প্রবৃদ্ধির হার থাইল্যান্ড বা ব্রাজিলের পোল্ট্রি বিপ্লবের সাথে তুলনীয়। পার্থক্য হলো, থাইল্যান্ড আর ব্রাজিল রপ্তানিমুখী, বাংলাদেশের পুরোটাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায়।
আর এই উৎপাদন বিস্ফোরণের সরাসরি ফল? দাম কমেছে। প্রকৃত মূল্যে (মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে) মুরগির দাম আসলে কমেছে।
নমিনাল দামে মুরগি বেড়েছে, সেটা ঠিক। ২০০৫ সালে ব্রয়লার ছিল ৯০ টাকা কেজি, ২০২৫ সালে ২৮০ টাকা। কিন্তু মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে? আসল দাম কমেছে। একজন শ্রমিক ২০০৫ সালে একদিনের মজুরিতে ২ কেজি মুরগি কিনতে পারতো। ২০২৫ সালে পারে প্রায় ২.৫ কেজি। গরুর মাংস? ২০০৫ সালে ১.৫ কেজি, এখন ০.৮ কেজি। মাছ? আরও কমেছে। মুরগিই একমাত্র প্রোটিন যেটা সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে।
পর্ব ২: বিপ্লবের ইঞ্জিন
এই ১০ গুণ বিপ্লব আকাশ থেকে পড়েনি। এর পেছনে আছে তিনটা শক্তি: খামারের সংখ্যা বিস্ফোরণ, কর্পোরেট ইন্টিগ্রেশন, আর ফিড শিল্পের বিকাশ।
প্রথমে খামারের সংখ্যা দেখুন।
২০০৫ সালে সারা দেশে নিবন্ধিত পোল্ট্রি খামার ছিল প্রায় ৪০,০০০। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এই সংখ্যাটা প্রতারণামূলক। কারণ অনিবন্ধিত খামার ধরলে সংখ্যা আরও ২-৩ গুণ বেশি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: খামারের সংখ্যা বাড়লেও খামারের ধরন বদলে গেছে।
২০১০ সালে ছোট খামারিরা (৫,০০০ মুরগির নিচে) মোট উৎপাদনের ৬৫% দিতো। করপোরেট ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম দিতো ১৫%। ২০২৫ সালে? করপোরেট শেয়ার বেড়ে ৪৫%। ছোট খামারি কমে ৩০%। বাকিটা মাঝারি খামার।
এর মানে কী? মানে হলো, সিপি (CP Group), কাজী ফার্মস, প্যারাগন, নারিশ, এই কয়েকটা কোম্পানি পুরো শিল্পকে গ্রাস করছে। তারা ফিড তৈরি করে, বাচ্চা মুরগি (DOC) উৎপাদন করে, খামারিদের কন্ট্রাক্ট দেয়, আবার মুরগি কিনেও নেয়। পুরো সাপ্লাই চেইন তাদের হাতে। জব্বারের মতো স্বাধীন খামারি আসলে এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে দুর্বল অংশ।
জব্বার ফিড কেনে কাজী ফার্মস থেকে, ব্যাগ প্রতি ২,৮০০ টাকায়। বাচ্চা মুরগিও কেনে তাদের কাছ থেকে, প্রতিটা ৪০-৪৫ টাকায়। ওষুধ তাদের। ভ্যাকসিন তাদের। মুরগি বড় হলে বেচতে হয় তাদের ঠিক করা দামে। জব্বার আসলে তার নিজের খামারে একজন কন্ট্রাক্ট শ্রমিক, মালিক না।
আর এই পুরো ব্যবস্থার জ্বালানি হলো ফিড। বাংলাদেশের পোল্ট্রি ফিডের মূল উপাদান ভুট্টা আর সয়াবিন মিল। দুটোই বেশিরভাগ আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬০-৭০ লাখ মেট্রিক টন পোল্ট্রি ফিড ব্যবহার করে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ভুট্টার ৪৫-৫০% আমদানি। সয়াবিন মিলের ৯০% এর বেশি আমদানি। মানে, বাংলাদেশের মুরগির দাম আসলে নিয়ন্ত্রণ করে আর্জেন্টিনার সয়াবিন ফসল, আমেরিকার ভুট্টা বাজার, আর ব্রাজিলের রপ্তানি নীতি। বৈশ্বিক পণ্যবাজারে দাম বাড়লে জব্বারের পকেটে সরাসরি টান পড়ে।
পর্ব ৩: অ্যান্টিবায়োটিকের অন্ধকার
পোল্ট্রি বিপ্লবের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। এটা শুধু পশু স্বাস্থ্যের বিষয় না, এটা জনস্বাস্থ্যের সংকট।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে বছরে আনুমানিক ৫০০-৬০০ মেট্রিক টন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়। এর একটা বড় অংশ "গ্রোথ প্রমোটার" হিসেবে, মানে মুরগি দ্রুত বড় করতে। চিকিৎসার জন্য না, ব্যবসার জন্য। EU এবং অনেক উন্নত দেশ গ্রোথ প্রমোটার হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই।
ফলাফল? অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। মুরগির শরীরে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তারা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ঢোকে মাংসের মাধ্যমে, পানির মাধ্যমে, পরিবেশের মাধ্যমে। icddr,b-র গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পোল্ট্রি মাংসের ৬০-৭০% নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। WHO এটাকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সস্তা মুরগি খাচ্ছেন? ভালো কথা। কিন্তু সেই মুরগির সাথে আপনি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াও খাচ্ছেন। আজ থেকে দশ বছর পরে, যখন একটা সাধারণ সংক্রমণে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না, তখন আমরা বুঝবো কী দাম দিয়েছি।
আর আরেকটা ভয়? বার্ড ফ্লু।
বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে একাধিকবার বার্ড ফ্লু (Avian Influenza H5N1) ছড়িয়েছে। ২০০৭-২০১২ সময়কালে বড় আকারে প্রাদুর্ভাব হয়েছে, লাখ লাখ মুরগি মেরে ফেলতে হয়েছে। পরে প্রাদুর্ভাব কমলেও, ভাইরাস কিন্তু নির্মূল হয়নি। পোল্ট্রিতে এখনো H5N1 ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় আছে। ঘন ঘন খামার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, আর দুর্বল বায়োসিকিউরিটি মিলিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ফ্লুর জন্য একটা "পার্ফেক্ট পেট্রি ডিশ"।
পর্ব ৪: খামারির কান্না
সস্তা মুরগি ভোক্তার জন্য ভালো। কিন্তু যে মানুষটা মুরগি পালছে, তার কী হচ্ছে?
একজন ছোট পোল্ট্রি খামারির (১,০০০-২,০০০ মুরগি) গড় মাসিক নিট আয় ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ১২,০০০ টাকা। ২০২৫ সালে? মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬,০০০-৭,০০০ টাকায়। অর্ধেক। কেন? কারণ ফিডের দাম বেড়েছে, ওষুধের দাম বেড়েছে, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কিন্তু মুরগির দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি।
পোল্ট্রি শিল্পে একটা ভয়ংকর চক্র আছে। যখন মুরগির দাম ভালো থাকে, সবাই খামার দেয়। সরবরাহ বাড়ে। দাম পড়ে যায়। খামারি লোকসান গুনে। কিছু খামার বন্ধ হয়। সরবরাহ কমে। দাম আবার বাড়ে। আবার সবাই খামার দেয়। এই "boom-bust cycle" প্রতি ১৮-২৪ মাসে ঘুরে আসে। প্রতিবার ক্ষুদ্র খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তাদের আর্থিক বাফার নেই। বড় কোম্পানিগুলো লোকসানের সময় টিকে থাকতে পারে, ক্ষুদ্র খামারি পারে না।
মজার বিষয়, মুরগির পাশাপাশি ডিমের বাজারটাও একই গতিতে বেড়েছে।
বাংলাদেশে বছরে ডিম উৎপাদন ২০০৫ সালে ছিল প্রায় ৫০০ কোটি। ২০২৫ সালে সেটা ২,৩০০ কোটির বেশি। প্রায় ৫ গুণ। মাথাপিছু ডিম প্রাপ্যতা ৩৫ থেকে বেড়ে ১০৪ হয়েছে বছরে। কিন্তু জাতীয় পুষ্টি পরিষদের সুপারিশ? বছরে ১০৪ টা। মানে আমরা সবে মাত্র ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারছি। উন্নত দেশে মাথাপিছু ডিম ভোগ ২০০-৩০০ টার মতো।
পর্ব ৫: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পোল্ট্রি বিপ্লবটা কি অনন্য? না। থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, ভারত, সবাই একই পথে হেঁটেছে। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
থাইল্যান্ড ১৯৮০-র দশকে তাদের পোল্ট্রি বিপ্লব শুরু করে এবং আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুরগি রপ্তানিকারক। তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ। EU-তে রপ্তানি করতে হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হয়েছে। ফলে থাইল্যান্ডের পুরো শিল্প আন্তর্জাতিক মানে উঠে এসেছে।
ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম মুরগি রপ্তানিকারক। তাদের সুবিধা হলো সয়াবিন আর ভুট্টা নিজেরাই উৎপাদন করে, ফিডের খরচ কম। বাংলাদেশের ঠিক উল্টো অবস্থা।
ভারতের পোল্ট্রি শিল্প বাংলাদেশের চেয়ে ১০ গুণ বড়, কিন্তু তাদেরও একই সমস্যা: ক্ষুদ্র খামারির সংকোচন, কর্পোরেট আধিপত্য, অ্যান্টিবায়োটিক অপব্যবহার। তবে ভারত ফিড উপাদানের ক্ষেত্রে অনেকটাই স্বনির্ভর, যেটা তাদের বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধা দেয়।
বাংলাদেশ রপ্তানি তো করতে পারেই না (মান পূরণ হয় না), উল্টো ফিড আমদানি করে ডলার খরচ করে। এই নির্ভরতার কাঠামো বদলাতে না পারলে, পোল্ট্রি বিপ্লবের ভিত্তি নড়বড়ে থাকবে।
পর্ব ৬: কী করা দরকার?
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। উৎপাদনের পরিমাণগত সাফল্য অনস্বীকার্য। কিন্তু গুণগত দিক, টেকসইতা, আর ন্যায্যতার প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেলে এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
কয়েকটা জরুরি পদক্ষেপ:
- অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ন্ত্রণ। গ্রোথ প্রমোটার হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। থাইল্যান্ড পেরেছে, বাংলাদেশও পারবে।
- ফিড স্বনির্ভরতা। দেশে ভুট্টা চাষের এলাকা বাড়াতে হবে। উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যে ভুট্টা চাষ বাড়ছে, এটাকে আরও উৎসাহিত করা দরকার। সয়াবিন মিলের বিকল্প হিসেবে ফিশ মিল, ক্যানোলা মিল, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভার মতো নতুন ফিড উপাদান নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।
- ক্ষুদ্র খামারি সুরক্ষা। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে ন্যূনতম মূল্যের গ্যারান্টি দিতে হবে। বীমা ব্যবস্থা চালু করতে হবে যেন একটা মহামারিতে খামারি সর্বস্ব না হারায়। সমবায় ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র খামারিদের সংগঠিত করলে তারা দরকষাকষিতে শক্তিশালী হবে।
- বায়োসিকিউরিটি। বার্ড ফ্লু বা অন্য মহামারি ঠেকাতে খামারের বায়োসিকিউরিটি মান বাধ্যতামূলক করতে হবে। আবাসিক এলাকার মধ্যে খামার স্থাপনে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
- রপ্তানি সক্ষমতা তৈরি। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে রপ্তানিমুখী করতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে, যেটা অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ন্ত্রণ, ট্রেসেবিলিটি, আর প্রসেসিং মান উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব।
আসুন ফিরে যাই জব্বারের কাছে।
জব্বার গত মাসে তার ১,০০০ মুরগি বেচেছে। ১৫০ টাকা কেজিতে। মোট বিক্রি হয়েছে আড়াই লাখ টাকার মতো। খরচ? ফিড, বাচ্চা মুরগি, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিক মিলিয়ে আড়াই লাখ পনেরো হাজার। মানে, পনেরো হাজার টাকা লোকসান। পাঁচ সপ্তাহের খাটুনি, দিনরাত মুরগি দেখাশোনা, আর ফলাফল? মাইনাস।
জব্বার ভাবছে পরের ব্যাচ দেবে কিনা। ব্যাংকের কিস্তি বাকি আছে। ছেলেমেয়ের স্কুলের বেতন দিতে হবে। স্ত্রী বলছে ছেড়ে দিতে। কিন্তু জব্বার ছাড়বে কোথায়? গ্রামে জমি নেই। শহরে যোগ্যতা নেই। মুরগিই তার একমাত্র জানা কাজ।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি বিপ্লব আমাদের সস্তা মুরগি দিয়েছে, সেটা সত্য। কিন্তু এই বিপ্লবের মূল্য দিচ্ছে জব্বারের মতো লাখ লাখ ক্ষুদ্র খামারি, যারা প্রতিদিন আরেকটু গরিব হচ্ছে। মূল্য দিচ্ছে আমাদের জনস্বাস্থ্য, যেটা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় ভরে যাচ্ছে। মূল্য দিচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা, যেটা ফিড আমদানিতে বেরিয়ে যাচ্ছে।
সস্তা মুরগি মানে সস্তা জীবন না। আমাদের এই পার্থক্যটা বুঝতে হবে।