Back to publications
Narrative 2026-03-06

পঞ্চম শ্রেণিতে কত শিশু ঝরে পড়ে?

প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের আড়ালে লুকানো ব্যর্থতা

পঞ্চম শ্রেণিতে কত শিশু ঝরে পড়ে?

পর্ব ১: রিমার গল্প, ৯৮% ভর্তির আড়ালে

রিমার বয়স ছিল ৮ বছর যখন সে স্কুল ছেড়ে দিলো।

কুড়িগ্রামের একটা চরে তার বাড়ি। বাবা নৌকায় মাছ ধরে। মা অন্যের বাড়িতে ধান সিদ্ধ করে। রিমা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বই বিনামূল্যে, উপবৃত্তি মাসে ১৫০ টাকা। সবকিছু ঠিক ছিল, কাগজে কলমে।

কিন্তু ছেলেদের পিছিয়ে পড়াটা একটা নতুন সংকট তৈরি করছে। এই ছেলেরা শিক্ষা ছাড়া বড় হচ্ছে, দক্ষতা নেই, কাজ পাচ্ছে না।
৮.২%
কারা ঝরে পড়ে, কোথায় ঝরে পড়ে
৪৫.৮%
লিঙ্গ সমতা অর্জন, কিন্তু নতুন সমস্যা
২,৪৫০ ডলার
টাকা কোথায়, শিক্ষক কোথায়

কিন্তু বাস্তবটা অন্যরকম। স্কুলে যেতে দুই কিলোমিটার হাঁটতে হতো। বর্ষায় রাস্তা ডুবে যেত। শিক্ষক আসতেন একজন, দুটো ক্লাস একসাথে নিতেন। রিমা ক্লাসে বসতো ঠিকই, কিন্তু কিছু বুঝতো না। তৃতীয় শ্রেণিতে সে নিজের নাম ছাড়া আর কিছু লিখতে পারতো না। যোগ করতে পারতো আঙুলে গুনে, বিয়োগ পারতো না।

একদিন বাবা বললো, "আর স্কুলে যেতে হবে না। তোর মা অসুস্থ, ছোট ভাইকে দেখ।"

রিমা সরকারি হিসাবে "ড্রপআউট"। একটা সংখ্যা। DPE-র বার্ষিক রিপোর্টে একটা দশমিকের পেছনে লুকানো গল্প।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় একটা অসাধারণ কাজ করেছে। ভর্তির হার প্রায় ৯৮%। মেয়েদের ভর্তিতে ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটা একটা বিরল সাফল্য। কিন্তু ভর্তি আর শেষ করা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা গল্প।

এই চার্টটা ভালো করে দেখুন। নীল লাইন: ভর্তির হার, ৯৮% এর কাছাকাছি, প্রায় সমতল। লাল লাইন: সমাপনী হার, অনেক নিচে। ২০০৫ সালে ছিল ৫৫%, ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৮৫%। অনেক অগ্রগতি হয়েছে, অস্বীকার করবো না। কিন্তু এখনো ব্যবধান ১৩ শতাংশ পয়েন্ট। মানে প্রতি ১০০ শিশু যারা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়, তাদের ১৫ জন পঞ্চম শ্রেণি শেষ করতে পারে না।

সংখ্যাটা ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ শিশু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ১৫% মানে প্রায় ৬ লাখ শিশু। প্রতি বছর ৬ লাখ। এটা গোটা সিলেট শহরের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।


পর্ব ২: কারা ঝরে পড়ে, কোথায় ঝরে পড়ে

ঝরে পড়া একটা ধীর প্রক্রিয়া। হঠাৎ করে হয় না। আগে বোঝা দরকার, কোন শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি শিশু হারিয়ে যায়।

দুটো পিক আছে। প্রথম শ্রেণিতে ৮.২%, এরা মূলত সেই শিশুরা যারা ভর্তি হয়েও স্কুলের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। কিন্তু আসল ধাক্কাটা পঞ্চম শ্রেণিতে: ১৭.৪%। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার আগেই প্রায় প্রতি ৫ জনে ১ জন হারিয়ে যায়। কেউ পরীক্ষায় ফেল করে, কেউ পরীক্ষাই দেয় না, কেউ আগেই চলে যায়।

কিন্তু কারা এই ঝরে পড়া শিশু? এরা কি সমানভাবে সব পরিবার থেকে আসে?

না। ঝরে পড়া দারিদ্র্যের রোগ। সবচেয়ে দরিদ্র ২০% পরিবারে ঝরে পড়ার হার ৩২.৫%। প্রতি তিনজনে একজন। আর সবচেয়ে ধনী ২০% পরিবারে? মাত্র ৩.১%। দরিদ্র পরিবারে ঝরে পড়ার হার ধনীদের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।

এটা শুধু টাকার অভাবের গল্প না। দরিদ্র পরিবারে শিশু কাজ করে। মেয়ে শিশু রান্না করে, ছোট ভাইবোন দেখে। ছেলে শিশু বাবার সাথে মাঠে যায়, চায়ের দোকানে কাজ করে, ইটভাটায় ইট বহন করে। এদের কাছে স্কুল একটা বিলাসিতা, বাঁচতে হলে আগে খেতে হয়।

উপবৃত্তি আছে। মাসে ১৫০ টাকা। কিন্তু একটা শিশু দিনমজুরি করলে দিনে ১০০-১৫০ টাকা পায়। মাসে ৩,০০০-৪,০০০ টাকা। ১৫০ টাকা উপবৃত্তি দিয়ে সেই সুযোগ ব্যয় (opportunity cost) কি মেটানো যায়?

ভৌগোলিকভাবে, চরাঞ্চল, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম, উপকূল: এই এলাকাগুলোতে ঝরে পড়ার হার জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ। কুড়িগ্রামে ২৮%। সুনামগঞ্জে ২৬%। বান্দরবানে ৩০%। এসব জায়গায় স্কুল আছে, কিন্তু পৌঁছানো যায় না। শিক্ষক আছে, কিন্তু আসে না। বই আছে, কিন্তু পড়ার পরিবেশ নেই।


পর্ব ৩: ক্লাসে আছে, শিখছে না

ঝরে পড়া শুধু শারীরিকভাবে স্কুল ছেড়ে দেওয়া না। আরেকটা ঝরে পড়া আছে যেটা চোখে দেখা যায় না: শেখা থেকে ঝরে পড়া। শিশু ক্লাসে বসে আছে, কিন্তু কিছু শিখছে না। একে বলে "silent dropout" বা "silent exclusion"।

ASER বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণিতে মাত্র ৩৫% শিশু একটা সাধারণ বাংলা অনুচ্ছেদ পড়ে বুঝতে পারে। পঞ্চম শ্রেণিতেও এই হার ৫৫%। মানে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করা প্রায় অর্ধেক শিশু তাদের বয়স অনুযায়ী পড়তে পারে না।

শব্দ পড়তে পারে ৭৮%, কিন্তু পড়ে বুঝতে পারে ৫৫%। এই ব্যবধানটা গুরুত্বপূর্ণ। শব্দ শনাক্ত করা আর অর্থ বোঝা দুটো আলাদা দক্ষতা। আমাদের স্কুলে মূলত মুখস্থ করানো হয়, বোঝানো হয় না।

গণিতের চিত্র আরো ভয়াবহ।

পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের মাত্র ৩৪% সাধারণ ভাগ অঙ্ক করতে পারে। বিয়োগ পারে ৬১%। এরা পাঁচ বছর স্কুলে গেছে। প্রতিদিন গণিত ক্লাস হয়েছে। পরীক্ষায় পাশ করেছে। কিন্তু ভাগ করতে পারে না। তাহলে পাঁচ বছরে কী শিখলো?

বিশ্বব্যাংক এটাকে বলে "schooling without learning"। স্কুলে যাওয়া হচ্ছে, কিন্তু শেখা হচ্ছে না। বাংলাদেশে Learning Poverty (শিক্ষা দারিদ্র্য) ৫৮%। মানে ১০ বছর বয়সী শিশুদের ৫৮% একটা সাধারণ গল্প পড়ে বুঝতে পারে না। এই হার সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশের চেয়েও খারাপ।


পর্ব ৪: লিঙ্গ সমতা অর্জন, কিন্তু নতুন সমস্যা

বাংলাদেশের একটা বড় সাফল্য হলো শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরে মেয়েদের ভর্তি ছেলেদের সমান বা বেশি। এটা দক্ষিণ এশিয়ায় অসাধারণ, যেখানে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে মেয়েরা এখনো স্কুলে যেতে পারে না।

কিন্তু ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে একটা চমকপ্রদ পরিবর্তন ঘটেছে।

২০১০ সালে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার ছিল ৪৫.৮%, ছেলেদের ৪২.৫%। দুটোই ভয়াবহ। কিন্তু এরপর মেয়েদের ঝরে পড়া দ্রুত কমেছে। ২০২৪ সালে মেয়েদের হার ১৩.৮%, আর ছেলেদের ১৭.২%। মানে এখন ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি ঝরে পড়ছে।

কেন? একটা বড় কারণ উপবৃত্তি। মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি বেশি, শর্ত কম। আরেকটা কারণ সামাজিক: ছেলেদের "কামাই করতে হবে" এই চাপটা তীব্র। ১২-১৩ বছরের ছেলে যখন দেখে বন্ধুরা গ্যারেজে কাজ করে মাসে ৫,০০০ টাকা পাচ্ছে, সে স্কুলে বসে থাকার যুক্তি খুঁজে পায় না। বিশেষ করে যখন স্কুলে শেখার চেয়ে না-শেখাই বেশি।

এটা ভালো খবর না। মেয়েদের অগ্রগতি অবশ্যই ভালো। কিন্তু ছেলেদের পিছিয়ে পড়াটা একটা নতুন সংকট তৈরি করছে। এই ছেলেরা শিক্ষা ছাড়া বড় হচ্ছে, দক্ষতা নেই, কাজ পাচ্ছে না। হতাশ যুবক তৈরি হচ্ছে।


পর্ব ৫: টাকা কোথায়, শিক্ষক কোথায়?

ঝরে পড়ার পেছনে শুধু দারিদ্র্য দায়ী না। ব্যবস্থাও দায়ী। সেই ব্যবস্থার দুটো মূল সমস্যা: অর্থ আর শিক্ষক।

বাংলাদেশ প্রতিটা প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ব্যয় করে মাত্র ২১৫ ডলার (PPP)। ভারত ৬২০ ডলার, বাংলাদেশের তিন গুণ। ভিয়েতনাম ৭৮০ ডলার, প্রায় চার গুণ। মালয়েশিয়া ২,৪৫০ ডলার, এগারো গুণেরও বেশি। বিশ্ব গড় ১,২০০ ডলার।

২১৫ ডলারে কী হয়? বই দেওয়া যায়। একজন শিক্ষকের বেতনের একটা অংশ দেওয়া যায়। ব্যস। ল্যাব নেই, কম্পিউটার নেই, ভালো শিক্ষক রাখার সামর্থ্য নেই। ক্লাসরুম ভাঙা, চেয়ার নেই, বোর্ড নেই। অনেক স্কুলে শৌচাগার নেই, যেটা মেয়েদের ঝরে পড়ার একটা বড় কারণ ছিল।

আর শিক্ষক? যে প্রাণ পুরো ব্যবস্থাটাকে চালায়, তার হাল কেমন?

বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতির হার ১৬%। মানে প্রতি ছয় কর্মদিবসে একদিন শিক্ষক ক্লাসে নেই। এটা ভারতের চেয়ে ভালো (২৪%), কিন্তু ভিয়েতনামের চেয়ে তিন গুণ বেশি (৫%)। ফিনল্যান্ডে মাত্র ২%।

শিক্ষক কেন আসে না? কারণ বেতন কম, ১২,০০০-১৮,০০০ টাকা (entry level)। কারণ স্কুল দূরে, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ। কারণ জবাবদিহিতা নেই। কারণ অনেক শিক্ষক রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছে, তাদের শেখানোর ইচ্ছা বা দক্ষতা কোনোটাই নেই। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটা প্রচলিত দৃশ্য: দুইজন শিক্ষক পাঁচটা ক্লাস সামলাচ্ছে, বাকি তিনজন ছুটিতে।

উপবৃত্তির কথা বলি?

সরকার গর্ব করে বলে ১ কোটি ৪৫ লাখ শিশু উপবৃত্তি পাচ্ছে। সংখ্যাটা চমকপ্রদ। কিন্তু পরিমাণটা? মাসে ১৫০ টাকা। ২০১০ সালে ছিল ১০০ টাকা, ২০২২ সালে বাড়িয়ে ১৫০ করা হয়েছে। চৌদ্দ বছরে মাত্র ৫০ টাকা বৃদ্ধি। এই চৌদ্দ বছরে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে প্রায় ১০০%। মানে ক্রয়ক্ষমতায় উপবৃত্তি আসলে কমেছে।

শ্রীলঙ্কায় প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি মাসে ৫০০ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০০)। ভারতে মিড-ডে মিল প্রোগ্রাম ১২ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেয়। বাংলাদেশে? ১৫০ টাকা। একটা বাচ্চা দুই দিন নাস্তা কিনলেই শেষ।


পর্ব ৬: কী করলে রিমারা স্কুলে থাকবে?

এবার আন্তর্জাতিক তুলনাটা দেখি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাথমিক ঝরে পড়ার হার ০.৫%। মালয়েশিয়ায় ২.১%। ভিয়েতনামে ৩.৮%। বাংলাদেশে ১৪.৯%। পাকিস্তানে ২২.৭%।

বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ভালো, এটা সত্য। কিন্তু ভিয়েতনামের চেয়ে চার গুণ খারাপ। ১৯৯০ সালে ভিয়েতনাম আর বাংলাদেশ একই জায়গায় ছিল। আজ ভিয়েতনামের প্রাথমিক সমাপনী হার ৯৮%। পার্থক্যটা হলো বিনিয়োগ, জবাবদিহিতা, আর অগ্রাধিকার।

সমাধান কী? পাঁচটা কাজ এখনই শুরু করা দরকার।

এক. উপবৃত্তি বাড়ানো, কমপক্ষে মাসে ৫০০ টাকা। শুধু নগদ না, মিড-ডে মিল চালু করা। ভারতের মডেল অনুসরণ করা যায়। যখন শিশু জানবে স্কুলে গেলে দুপুরে খাবার পাবে, সে আসবে। বাবা-মাও পাঠাবে। খরচ বছরে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা, সরকারের বার্ষিক ভর্তুকি বাজেটের ৫% এর কম।

দুই. শিক্ষক অনুপস্থিতিতে শূন্য সহনশীলতা। বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করা। যে শিক্ষক ক্লাস নেন না, তার বেতন কাটা। একই সাথে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো, ন্যূনতম ২৫,০০০ টাকা। ভালো বেতন দিলে ভালো মানুষ আসবে, জবাবদিহিতা চাইলে ফাঁকিবাজ যাবে।

তিন. ঝুঁকিপূর্ণ শিশু চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা। প্রতিটা স্কুলে একটা সাধারণ ট্র্যাকিং সিস্টেম। যে শিশু পরপর তিন দিন অনুপস্থিত, তার বাড়িতে খোঁজ নেওয়া। সমস্যা জানা, সমাধান খোঁজা। ব্রাজিলের Bolsa Familia প্রোগ্রাম এভাবেই কাজ করে।

চার. প্রথম তিন শ্রেণিতে শেখার মানোন্নয়ন। পড়া আর গণিতে ন্যূনতম দক্ষতা নিশ্চিত করা। যে শিশু তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তে পারে না, সে চতুর্থ শ্রেণিতে টিকবে না। "Teaching at the Right Level" পদ্ধতি, ভারতে প্রথম ফাউন্ডেশন যেটা সফলভাবে চালু করেছে, বাংলাদেশেও চালু করা দরকার।

পাঁচ. শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো। জিডিপির ১.৯% থেকে কমপক্ষে ৩% এ নিয়ে যাওয়া। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মান বাড়াতে হবে। ভবন আর অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিখন উপকরণ, আর মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।


এবার ফিরে যাই রিমার কাছে।

রিমার বয়স এখন ১২। সে এখন মায়ের সাথে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। ছোট ভাই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে, কিন্তু তারও নাম লেখা ছাড়া কিছু পারে না। রিমা মাঝে মাঝে ভাইয়ের বই হাতে নিয়ে দেখে। সে পড়তে চেয়েছিল। পারেনি।

বাংলাদেশ "ভর্তির হার ৯৮%" বলে গর্ব করে। কিন্তু সেই ৯৮% এর ভেতরে কতজন আসলে শিখছে? কতজন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত টিকছে? আর যারা টিকছে, তারা কি সত্যিই পড়তে, লিখতে, গুনতে পারছে?

প্রতি বছর ৬ লাখ রিমা স্কুল ছাড়ে। আরো ১০ লাখ ক্লাসে বসে থেকেও কিছু শেখে না। এরা কোনো পরিসংখ্যানের বড় সংখ্যায় লুকিয়ে যায়। কিন্তু এরা আসল মানুষ। রিমার মতো, কুড়িগ্রামের চর থেকে, সুনামগঞ্জের হাওর থেকে, বান্দরবানের পাহাড় থেকে।

একটা দেশ কতটা উন্নত, সেটা বোঝা যায় সেই দেশের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুটা কতটা শিখতে পারছে তা দিয়ে। সেই মাপকাঠিতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে।

৯৮% ভর্তির পেছনের আসল প্রশ্নটা এই: ভর্তির পর কী হয়?

উত্তরটা এই গল্পে আছে। আর এই গল্প বদলানোর দায়িত্ব আমাদের সবার।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50