রংপুরে জন্ম নিলে আপনার ভাগ্য অর্ধেক
পর্ব ১: দুটো শিশু, একটা দেশ
২০২৬ সালের ৬ মার্চ। ভোর ৫টায় ঢাকার গুলশানে একটা প্রাইভেট হাসপাতালে একটা শিশু জন্ম নিলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপারেশন থিয়েটার, তিনজন ডাক্তার, নিওনেটাল আইসিইউ পাশের রুমে। বাবা একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করেন, মাসিক আয় দুই লাখ টাকার উপরে। মায়ের পরিবার উত্তরায় একটা ফ্ল্যাটের মালিক। নবজাতকের নাম রাখা হলো আরাফ।
ঠিক একই সময়ে, ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে কুড়িগ্রামের একটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরেকটা শিশু জন্ম নিলো। ডাক্তার একজন, তিনিও ছুটিতে ছিলেন, নার্স ডেলিভারি করিয়েছেন। বিদ্যুৎ ছিল না, মোমবাতির আলোতে কাজ চলেছে। বাবা একজন দিনমজুর, দিনে কাজ পেলে আয় ৩০০-৪০০ টাকা, না পেলে শূন্য। মায়ের বয়স ১৯, এটা দ্বিতীয় সন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হলো রহিম।
আরাফ আর রহিম। একই দেশে, একই দিনে জন্ম। কিন্তু তাদের ভাগ্য জন্মের মুহূর্তে আলাদা হয়ে গেছে।
আরাফের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৯৯% এর বেশি। রহিমের? কুড়িগ্রামে প্রতি হাজারে ৫০ এর বেশি শিশু পাঁচ বছরের আগে মারা যায়। আরাফ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়বে, ল্যাপটপে কোডিং শিখবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। রহিম? যদি স্কুলে যেতে পারে, সেটাই অনেক। কুড়িগ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ৪০% এর উপরে।
একটু জুম আউট করুন। আরাফ আর রহিমের গল্প ব্যক্তিগত না। এটা কাঠামোগত। এটা বাংলাদেশের আটটা বিভাগের মধ্যে একটা গভীর, নিষ্ঠুর, পরিকল্পিত বৈষম্যের গল্প।
এই চার্টটা দেখুন:
রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার ৪৭.২%। প্রায় প্রতি দুজনে একজন দরিদ্র। ঢাকায়? ১৬.০%। সিলেটে ২৬.২%। চট্টগ্রামে ১৮.৪%। রংপুর আর ময়মনসিংহ সবার নিচে, প্রায় একই দেশের দুটো আলাদা জগৎ।
কিন্তু দারিদ্র্যের হার একটা মাত্র মাপকাঠি। আসল ছবিটা আরো গভীর।
পর্ব ২: সংখ্যার নির্মম ভাষা
দারিদ্র্য শুধু টাকার হিসাব না। দারিদ্র্য মানে খাবারের অভাব, শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার অভাব, বিদ্যুতের অভাব, ইন্টারনেটের অভাব। প্রতিটা সূচকে রংপুর বিভাগ তলানিতে।
আয়ের কথা ধরুন:
ঢাকা বিভাগে মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৮০০ ডলার। রংপুরে? ৯৮০ ডলার। তিন ভাগের একভাগ। একই দেশের নাগরিক, কিন্তু আয়ে তিনগুণ ব্যবধান। এটা কোনো আফ্রিকান দেশ আর ইউরোপীয় দেশের তুলনা না। এটা একই দেশের দুটো বিভাগ।
শিক্ষার চিত্রটাও একই রকম:
ঢাকায় সাক্ষরতার হার ৭৬%। রংপুরে ৫৫%। বরিশালে ৫৮%। সিলেটে ৫২%। জাতীয় গড়ের নিচে থাকা বিভাগগুলো সেই একই: রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল। ঢাকা আর চট্টগ্রাম উপরে, বাকিরা নিচে।
বিদ্যুতের কথা বলি? ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী:
ঢাকায় গ্রিড বিদ্যুৎ সংযোগ ৯৬%। রংপুরে ৭৮%। কুড়িগ্রামের কিছু উপজেলায় ৬০% এর নিচে। বিদ্যুৎ নেই মানে রাতে পড়াশোনা নেই, ফ্রিজ নেই (খাদ্য সংরক্ষণ নেই), ফ্যান নেই (গরমে ঘুম নেই), মোবাইল চার্জ নেই (তথ্য নেই)।
আর স্বাস্থ্য? এখানে পার্থক্যটা জীবন-মৃত্যুর:
রংপুর বিভাগে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫২। ঢাকায় ২৮। প্রায় দ্বিগুণ। মানে রংপুরে জন্ম নিলে একটা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা ঢাকার তুলনায় দ্বিগুণ। শুধু ভূগোলের কারণে। শুধু জন্মস্থানের কারণে।
ইন্টারনেটের কথাও বলা দরকার, কারণ ২০২৬ সালে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস শুধু বিনোদন না, এটা অর্থনৈতিক সুযোগ:
ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৬৫%। রংপুরে ২৫%। কুড়িগ্রামে ১৫% এর কাছাকাছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়, কিন্তু দেশের উত্তরাংশ এখনো ডিজিটাল অন্ধকারে।
এই সব সূচক মিলিয়ে একটা ছবি তৈরি হয়: বাংলাদেশে দুটো দেশ আছে। একটা ঢাকা-চট্টগ্রাম অক্ষ, যেখানে শিল্প আছে, অবকাঠামো আছে, সুযোগ আছে। আরেকটা রংপুর-ময়মনসিংহ-বরিশাল, যেখানে কিছুই নেই। এই দুটো দেশের মধ্যে ব্যবধান কমছে না, বরং বাড়ছে।
কিন্তু কেন? রংপুর কেন এত পিছিয়ে? এটা কি দুর্ভাগ্য, নাকি ডিজাইন?
পর্ব ৩: রংপুর কেন গরিব থাকলো
রংপুর বিভাগের দারিদ্র্য কোনো দুর্ঘটনা না। এটা ভূগোল, ইতিহাস, আর নীতিগত উপেক্ষার যৌথ ফসল।
প্রথমত, ভূগোল। রংপুর বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কোণে। ঢাকা থেকে দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি, কিন্তু সড়কপথে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা। রেল যোগাযোগ দুর্বল। যমুনা নদী মাঝখানে, ব্রিজ একটাই (বঙ্গবন্ধু সেতু)। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা রংপুরকে ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনীতি থেকে আলাদা করে রেখেছে।
দ্বিতীয়ত, মঙ্গা। বাংলায় "মঙ্গা" শব্দের মানে হলো মৌসুমি দুর্ভিক্ষ। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর, আমন ধান কাটার আগে, উত্তরবঙ্গে কাজ থাকে না। দিনমজুররা বেকার হয়ে পড়ে। পরিবারে খাবার কমে আসে। একবেলা খায়, কখনো তাও পায় না।
মঙ্গা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না। এটা কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যা। যদি শিল্প থাকতো, বিকল্প কর্মসংস্থান থাকতো, মঙ্গা হতো না। কিন্তু রংপুরে শিল্প নেই বললেই চলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-গাজীপুর করিডোরে গার্মেন্টস আছে, ফার্মাসিউটিক্যাল আছে, সিরামিক আছে। রংপুরে কী আছে? কৃষি। আর কৃষি মানে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা।
তৃতীয়ত, নদীভাঙন। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, এই নদীগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমি গ্রাস করে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, এই জেলাগুলোতে প্রতি বর্ষায় মানুষ সর্বস্বান্ত হয়। ঘর যায়, জমি যায়, ফসল যায়। পুনর্বাসন? খুবই সীমিত। সরকারি ত্রাণ? কয়েকদিনের চাল আর সামান্য টাকা। তারপর? নিজে বাঁচো।
চতুর্থত, ঐতিহাসিক উপেক্ষা। ব্রিটিশ আমল থেকে রংপুর ছিল প্রান্তিক অঞ্চল। পাকিস্তান আমলে সব বিনিয়োগ গেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। স্বাধীনতার পর? ঢাকা আর চট্টগ্রামে। রংপুরে কোনো বড় সরকারি প্রকল্প হয়নি, কোনো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হয়নি, কোনো শিল্পনীতি রংপুরকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি।
পঞ্চমত, তিস্তার পানি সমস্যা। ভারত ফারাক্কা ও গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে নেয়। শুকনো মৌসুমে তিস্তা প্রায় মরা নদী। সেচের পানি নেই, মাছ নেই, নৌপথ নেই। রংপুরের কৃষক শুকনো মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করে, যেটা ক্রমশ কমে আসছে।
এই পাঁচটা কারণ মিলে রংপুরকে একটা দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে রেখেছে। গরিব বলে শিল্প আসে না, শিল্প নেই বলে গরিব থাকে। রাস্তা খারাপ বলে বিনিয়োগ আসে না, বিনিয়োগ নেই বলে রাস্তা হয় না। শিক্ষিত মানুষ ঢাকায় চলে যায়, মেধা পালিয়ে যায়, রংপুর আরো দরিদ্র হয়।
কিন্তু সবকিছু অন্ধকার না। কিছু জেলা এই চক্র ভেঙেছে।
পর্ব ৪: যারা পথ দেখিয়েছে
বাংলাদেশের দরিদ্র জেলাগুলোর মধ্যে কিছু জেলা গত দশ-পনেরো বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাদের গল্প গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা প্রমাণ করে যে দারিদ্র্য অপরিবর্তনীয় না। সঠিক হস্তক্ষেপ থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।
নীলফামারী: এক দশক আগে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০% এর উপরে। এখন ৩৫% এর কাছাকাছি। কী হয়েছে? মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম, বিশেষত গ্রামীণ ব্যাংক আর ব্র্যাকের কার্যক্রম ব্যাপক ছিল। সোলার প্যানেল বিতরণ বিদ্যুৎ সমস্যার আংশিক সমাধান করেছে। সবচেয়ে বড় কাজ করেছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যেমন VGD, VGF, ওল্ড এজ অ্যালাউন্স।
জামালপুর: চরাঞ্চলের জেলা, নদীভাঙনে বিধ্বস্ত। কিন্তু গত এক দশকে চরাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব হয়েছে। চরে বাদাম, ভুট্টা, মিষ্টি আলু চাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এনজিওদের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচি কাজ করেছে। চরাঞ্চলের মানুষ নিজেরাই নতুন কৌশল শিখেছে।
সাতক্ষীরা: উপকূলীয় জেলা, লবণাক্ততার সমস্যা। কিন্তু চিংড়ি চাষ আর ক্র্যাব ফ্যাটেনিং একটা নতুন অর্থনীতি তৈরি করেছে। রপ্তানিমুখী এই খাত স্থানীয় আয় বাড়িয়েছে।
এই জেলাগুলোর সাফল্যের মধ্যে কিছু সাধারণ সূত্র আছে। এক, এনজিও আর সরকারি কর্মসূচির সমন্বয়। দুই, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা। তিন, সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটা সবচেয়ে দরিদ্রদের সামান্য হলেও সুরক্ষা দিয়েছে। চার, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, বিশেষত মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে।
কিন্তু এগুলো স্থানীয় সাফল্য। জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্য কমাতে হলে সরকারি নীতি আর বরাদ্দে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
পর্ব ৫: যে বাজেট ঢাকায় থেকে যায়
বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটের নাম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP)। এটা দিয়ে রাস্তা, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হয়। প্রশ্ন হলো: এই বাজেট কোথায় যায়?
ঢাকা বিভাগে মাথাপিছু উন্নয়ন বরাদ্দ প্রায় ৪,৮০০ টাকা। রংপুরে? ২,১০০ টাকা। অর্ধেকেরও কম। যে বিভাগ সবচেয়ে গরিব, সেখানে সবচেয়ে কম খরচ হয়। যে বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সবচেয়ে কম বিনিয়োগ। এটা উন্নয়ন নীতি না। এটা বৈষম্যের পুনরুৎপাদন।
কেন এমন হয়? কারণ বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেট রাজনৈতিক। যেখানে ক্ষমতাশালী এমপি আছেন, সেখানে প্রকল্প যায়। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা, সবচেয়ে বেশি লবিং, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ। রংপুরে? প্রান্তিক কণ্ঠস্বর, দুর্বল রাজনৈতিক প্রভাব, কম বরাদ্দ।
এই বৈষম্যের চূড়ান্ত পরিণতি দেখা যায় জাতীয় গিনি সহগে:
গিনি সহগ হলো বৈষম্য মাপার আন্তর্জাতিক মাপকাঠি। শূন্য মানে সবাই সমান, এক মানে সবকিছু একজনের হাতে। বাংলাদেশের গিনি সহগ ২০০০ সালে ছিল ০.৪৫। ২০১৬ সালে বেড়ে হয়েছে ০.৪৮২। ২০২২ সালে ০.৪৯৯। ক্রমশ বাড়ছে। মানে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ধনী হচ্ছে, কিন্তু সেই সম্পদ কিছু মানুষের আর কিছু অঞ্চলের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। গরিবরা আগের চেয়ে ভালো আছে, সেটা সত্য। কিন্তু ধনীরা অনেক অনেক বেশি ভালো আছে। ব্যবধান বাড়ছে।
এখন একটু ভাবুন। বাংলাদেশ যদি এভাবে চলতে থাকে, দশ বছর পরে কী হবে?
ঢাকা হবে দক্ষিণ এশিয়ার একটা চকচকে মেগাসিটি। উবার, ফুডপান্ডা, কো-ওয়ার্কিং স্পেস, ক্যাফে। রংপুর? এখনকার মতোই থাকবে। মঙ্গা আসবে, দিনমজুর কাজ খুঁজবে, শিশুরা স্কুল ছেড়ে দেবে, তরুণরা ঢাকায় পালাবে।
এই ব্যবধান শুধু অন্যায় না। এটা বিপজ্জনক। কারণ যখন একটা দেশের অর্ধেক মানুষ মনে করে ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করে না, তখন সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে না।
আসুন ফিরে যাই যেখানে শুরু করেছিলাম।
আরাফ আর রহিম। একই দেশে, একই দিনে জন্ম। কিন্তু আরাফের পৃথিবী আর রহিমের পৃথিবী সম্পূর্ণ আলাদা।
আরাফ স্কুলে যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, চাকরি পাবে, বিদেশে পড়তে যেতে পারবে। রহিম? যদি ভাগ্য ভালো থাকে, মাধ্যমিক পাশ করবে। তারপর ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ খুঁজবে, বা মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার জন্য দালালের কাছে ঋণ করবে।
এটা রহিমের দোষ না। এটা ব্যবস্থার দোষ। একটা ব্যবস্থা যেটা ঢাকায় সব কিছু ঢেলে দিয়েছে আর রংপুরকে ভুলে গেছে।
প্রশ্ন হলো: আমরা কি এই ব্যবস্থা মেনে নেবো? নাকি আমরা জিজ্ঞেস করবো, কেন একটা শিশুর ভাগ্য তার জন্মস্থান দিয়ে নির্ধারিত হবে?
রহিম একটা সুযোগ ডিজার্ভ করে। একটা ন্যায্য সুযোগ। শুধু বেঁচে থাকার না, বেড়ে ওঠার। শুধু খাবারের না, স্বপ্নের।
সেই সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। কারণ রহিমও এই দেশের নাগরিক। তারও অধিকার আছে। সেই অধিকার অস্বীকার করা শুধু অন্যায় না, এটা পুরো দেশের জন্য ক্ষতিকর। কারণ রংপুরের এক কোটি আশি লাখ মানুষের সম্ভাবনা যদি কাজে না লাগে, সেটা শুধু রংপুরের ক্ষতি না। সেটা বাংলাদেশের ক্ষতি।