চালের দাম বাড়লে কে কাঁদে?
পর্ব ১: রহিমার হিসাব
রহিমার স্বামী রিকশা চালায়। নাম আবদুল করিম। ঢাকার মিরপুরে একটা টিনের ঘরে থাকে পাঁচজন, রহিমা, করিম, দুই ছেলেমেয়ে, আর করিমের বৃদ্ধা মা। করিম সারাদিন রিকশা চালিয়ে আনে ৫০০-৬০০ টাকা। ভালো দিনে ৭০০। খারাপ দিনে, বৃষ্টিতে বা বন্ধের দিনে, শূন্য।
রহিমা প্রতিদিন সকালে বাজারে যায়। তার হাতে থাকে ২০০ টাকা। এই ২০০ টাকায় পাঁচজনের সারাদিনের খাবার কিনতে হবে। চাল লাগে দেড় কেজি, দাম ৯৩ টাকা। আলু আধা কেজি, ২০ টাকা। ডাল পাও কেজি, ২৮ টাকা। সবজি কিছু, ৩০ টাকা। তেল, মসলা, লবণ মিলিয়ে আরো ২৫ টাকা। মোট? ১৯৬ টাকা। বাকি ৪ টাকা।
মাছ? মাংস? ডিম? এগুলো রহিমার হিসাবে নেই। সপ্তাহে একদিন হয়তো ডিম কেনে, চারটা, পুরো পরিবারের জন্য। বাচ্চারা একটা করে পায়, করিম পায় একটা, রহিমা আর শাশুড়ি ভাগ করে খায় একটা। মাছ? মাসে দুই-তিনবার। ছোট মাছ, যেগুলো তুলনামূলক সস্তা। মুরগি? ঈদে।
এখন থেকে পাঁচ বছর আগে, ২০২০ সালে, রহিমার এই একই হিসাব অনেক সহজ ছিল। চালের দাম ছিল ৪০ টাকা কেজি। দেড় কেজিতে ৬০ টাকা। আজ ৯৩ টাকা। শুধু চালের দামই বেড়েছে ৫৫%। তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। ডালের দাম দেড়গুণ। রহিমার বাজেট কিন্তু বাড়েনি। করিমের রিকশার ভাড়া সেই একই আছে, যাত্রীরা বেশি দিতে রাজি না।
এটা শুধু রহিমার গল্প না। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ রহিমার মতো হিসাব করে প্রতিদিন। তাদের জীবন একটা সংখ্যার উপর নির্ভর করে: চালের দাম প্রতি কেজি কত।
এই চার্টটা দেখুন।
মোটা চালের দাম ২০১৫ সালে ছিল কেজিতে ৩২ টাকা। ২০২০ সালে ৪০ টাকা। ২০২৫ সালে ৬২ টাকা। দশ বছরে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু শুধু চাল দিয়ে তো পেট ভরে না। পুরো খাদ্য ঝুড়ির খরচ কোথায় গেছে?
এই চার্টটা দেখুন।
পাঁচজনের একটা পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ৬,৮০০ টাকা। ২০২৫ সালে সেটা ১৫,৫০০ টাকা। দশ বছরে ১২৮% বৃদ্ধি। ধূসর ডটেড লাইনটা দেখুন, সেটা গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, ১২,৫০০ টাকা। ২০২৩ সাল থেকে পাঁচজনের পরিবারের শুধু খাদ্য খরচই একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের পুরো মাসিক আয়ের চেয়ে বেশি।
এর মানে কী? মানে হলো, বাংলাদেশের লাখ লাখ পরিবারে একজনের আয়ে পরিবারের খাবারই জোটে না। দ্বিতীয় উপার্জনকারী লাগে। নাহলে খাদ্যের মান কমাতে হয়। কম খেতে হয়। বাচ্চাদের কম দিতে হয়।
পর্ব ২: সংখ্যার গল্প
রহিমার হিসাবটা আসলে একটা বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার ক্ষুদ্র প্রতিফলন। বাংলাদেশে গত এক দশকে মজুরি বেড়েছে, সেটা সত্য। কিন্তু খাদ্যমূল্য বেড়েছে তার চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলাফল? প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।
এই চার্টটা দেখুন।
নীল লাইন হলো মজুরি সূচক, ২০১৫ সালকে ১০০ ধরে। লাল লাইন হলো খাদ্যমূল্য সূচক। ২০১৫ সালে দুটো একই জায়গায় ছিল। এখন? মজুরি বেড়েছে ৪৮%, কিন্তু খাদ্যমূল্য বেড়েছে ১২৮%। দুটো লাইনের মধ্যে যে ফাঁকটা দেখছেন, সেটাই রহিমার হারানো ক্রয়ক্ষমতা। সেটাই সেই ডিম যেটা সপ্তাহে একদিন থেকে মাসে দুইদিনে নেমে গেছে। সেটাই সেই মাছ যেটা আর কেনা হয় না।
এই ফাঁকটা শুধু সংখ্যা না। এটা পুষ্টি সংকট। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৮% খর্বকায় (stunted)। মানে তাদের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা কম। কেন? কারণ তারা যথেষ্ট প্রোটিন পায় না। যথেষ্ট পুষ্টিকর খাবার পায় না। রহিমার ছেলেমেয়ে যে সপ্তাহে একটা ডিম পায়, তাতে কি বাড়বে?
প্রোটিনের দাম কোথায় গেছে, সেটাও দেখুন।
ডিম, মুরগি, মাছ, তিনটাই গত দশ বছরে প্রায় দ্বিগুণ বা তার বেশি দামি হয়েছে। ২০১৫ সালে চার ডিমের (এক হালি) দাম ছিল ২৮ টাকা। এখন ৬৪ টাকা। মুরগি ছিল ১৬০ টাকা কেজি, এখন ৩৪০। রুই মাছ ছিল ২০০, এখন ৪২০। মাছ-মাংস এখন বাংলাদেশের নিম্নবিত্তের কাছে বিলাসদ্রব্য।
আর তেলের কথা তো আলাদা করে বলতে হয়।
সয়াবিন তেল বাংলাদেশের রান্নাঘরের প্রাণ। ভাত ছাড়া যদি কিছু থাকে যেটা প্রতিবেলা লাগে, সেটা তেল। ২০১৫ সালে লিটার ৮৫ টাকা। ২০২০ সালে ১০৫ টাকা। তারপর? ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলো। বাংলাদেশ সয়াবিন তেলের প্রায় পুরোটা আমদানি করে, বেশিরভাগ ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা থেকে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ভোজ্যতেলের সরবরাহ বিপর্যস্ত হলো, দাম লাফিয়ে উঠলো ১৮৫ টাকায়। একটা পরিবার মাসে ৩-৪ লিটার তেল খরচ করে। মানে শুধু তেলের পেছনে মাসে ৫০০-৭০০ টাকা। রহিমার ২০০ টাকার দৈনিক বাজেটের প্রায় তিন দিনের সমান।
পর্ব ৩: শহর, গ্রাম, আর অসমতার মানচিত্র
খাদ্যমূল্যের যন্ত্রণা সবার সমান না। কোথায় থাকেন, কতটা আয় করেন, সেটার উপর নির্ভর করে এই যন্ত্রণার মাত্রা।
প্রথমে, শহর আর গ্রামের পার্থক্য দেখুন।
শহরে প্রায় প্রতিটা খাদ্যপণ্যের দাম গ্রামের চেয়ে ৮-১৫% বেশি। মোটা চাল শহরে ৬৫ টাকা, গ্রামে ৫৮। পেঁয়াজ শহরে ৮০, গ্রামে ৬৫। কিন্তু এই পার্থক্যটা প্রতারণামূলক। গ্রামে দাম কম, ঠিক আছে। কিন্তু গ্রামে আয়ও অনেক কম। কৃষি দিনমজুর দিনে ৩৫০-৪০০ টাকা পায়। ঢাকায় রিকশাচালক পায় ৫০০-৬০০। অনুপাতের হিসাবে গ্রামের মানুষ আসলে বেশি ভোগে।
আর একটা ব্যাপার আছে যেটা সংখ্যায় ধরা পড়ে না: গ্রামে বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য কম। শহরে আপনি সস্তা বিকল্প খুঁজতে পারেন, ব্র্যান্ড বদলাতে পারেন, পাইকারি বাজারে যেতে পারেন। গ্রামে একটাই বাজার, একটাই দোকান, দাম যা বলবে তাই দিতে হবে।
এবার বড় ছবিটা দেখি। বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কেমন?
খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত দশ বছরে প্রায় সবসময় অ-খাদ্য মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৪ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৪%, যেখানে অ-খাদ্য ছিল ৯.১%। এর মানে দরিদ্র মানুষ, যারা আয়ের বেশিরভাগ খাদ্যে খরচ করে, তারা ধনীদের চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির শিকার। মূল্যস্ফীতি সবার জন্য সমান না, এটা দরিদ্রদের বেশি মারে।
এবার প্রতিবেশীদের সাথে তুলনা করুন।
পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা অবশ্যই বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। পাকিস্তানে ২০২৪ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৩৮.৫%। শ্রীলঙ্কা ২০২৩ সালে ৬১% দেখেছে। কিন্তু ভারত? ভারতে ২০২৫ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫.২%। বাংলাদেশে ১০.৮%। দ্বিগুণ। ভারত আমাদের প্রতিবেশী, একই অঞ্চল, একই জলবায়ু, অনেকটা একই খাদ্যাভ্যাস। তাহলে পার্থক্য কেন? কারণ ভারতের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি সংগঠিত। তাদের Public Distribution System (PDS) দিয়ে ৮০ কোটি মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল-গম দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এরকম কিছু আছে? ওএমএস (Open Market Sale) আছে, কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।
আর শুধু মূল্যস্ফীতি না, খাদ্যের প্রকৃত খরচের তুলনাটাও দেখুন।
দৈনিক ২,০০০ ক্যালরির খরচ (PPP ডলারে)। বাংলাদেশে $৩.৯২। ভারতে $৩.২৮। ভিয়েতনামে $২.৮৪। বাংলাদেশে ক্যালরি কেনা প্রতিবেশীদের চেয়ে দামি। এটা শুধু দাম বেশি বলে না। এর পেছনে আছে সরবরাহ শৃঙ্খলের অদক্ষতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভ, দুর্বল স্টোরেজ ব্যবস্থা, আর আমদানি নির্ভরতা।
পর্ব ৪: সবচেয়ে বেশি কে কাঁদে?
খাদ্যমূল্য বাড়লে সবাই কষ্ট পায়। কিন্তু সবাই সমান কষ্ট পায় না। একটা সহজ প্রশ্ন করুন: আপনার আয়ের কত শতাংশ খাবারে যায়?
যদি আপনি উচ্চ মধ্যবিত্ত হন, হয়তো ২০-২৫%। চালের দাম ৫ টাকা বাড়লে আপনি টের পাবেন, কিন্তু জীবন বদলাবে না। কিন্তু যদি আপনি রহিমার মতো হন? আয়ের ৬০-৬৫% খাবারে যায়। চালের দাম ৫ টাকা বাড়লে মানে মাসে ২২৫ টাকা বেশি লাগবে শুধু চালে। সেই ২২৫ টাকা কোথা থেকে আসবে? ডিম বাদ। মাছ বাদ। সবজি কমাও। বাচ্চার খাতার টাকা থেকে কাটো।
এই চার্টটা দেখুন।
সবচেয়ে গরিব ২০% মানুষ তাদের আয়ের ৬২% খাদ্যে খরচ করে। সবচেয়ে ধনী ২০%? মাত্র ২২%। এটাকে অর্থনীতিতে বলে Engel's Law: আয় যত কম, আয়ের তত বেশি অংশ খাদ্যে যায়।
এর মানে কী? মানে হলো, খাদ্য মূল্যস্ফীতি আসলে একটা "দরিদ্র কর" (poor tax)। সরকার যখন বলে "মূল্যস্ফীতি ৯%", সেটা গড় হিসাব। ধনী মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি হয়তো ৬-৭% (কারণ তাদের খরচের বেশিরভাগ অ-খাদ্য খাতে)। কিন্তু গরিব মানুষের জন্য? প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ১৩-১৫%। কারণ তাদের খরচের সিংহভাগ খাদ্যে, আর খাদ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।
এটা একটা দুষ্টচক্র।
খাদ্যের দাম বাড়ে। গরিব পরিবার কম খায়। বাচ্চারা পুষ্টি পায় না। তারা অসুস্থ হয়, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। বড় হয়ে কম আয় করে। তাদের বাচ্চারাও গরিব থাকে। দারিদ্র্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলে যায়। আর এই পুরো চক্রের শুরুতে আছে একটা সংখ্যা: চালের দাম প্রতি কেজি কত।
পর্ব ৫: কী করা যায়?
সমস্যাটা বিশাল। কিন্তু সমাধান অসম্ভব না। অন্য দেশগুলো এই সমস্যার মোকাবেলা করেছে। আমরাও পারি। কয়েকটা দিক দেখা যাক।
- সরবরাহ শৃঙ্খল সংস্কার। বাংলাদেশে কৃষক যে দামে ধান বেচে, আর ভোক্তা যে দামে চাল কেনে, তার মধ্যে পার্থক্য ৪০-৬০%। এই পার্থক্যটা মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যায়। ফড়িয়া, আড়তদার, পাইকার, খুচরা, প্রতিটা ধাপে লাভ যোগ হয়। ভারত আর ইন্দোনেশিয়া এই সমস্যা মোকাবেলা করেছে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা, কৃষকের সরাসরি বাজারে প্রবেশ, আর ডিজিটাল মূল্য তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে। বাংলাদেশের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (DAM) আছে, কিন্তু তাদের সক্ষমতা সীমিত।
- খাদ্য মজুদ ব্যবস্থা। বাংলাদেশে ফসল তোলার সময় দাম পড়ে যায়, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার মৌসুমের বাইরে দাম লাফিয়ে ওঠে, ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেন? কারণ পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নেই। পর্যাপ্ত সরকারি গুদাম নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মজুদ ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
- সামাজিক সুরক্ষা জাল। ভারতের PDS মডেল হুবহু কপি করতে হবে না। কিন্তু টার্গেটেড ফুড ট্রান্সফার প্রোগ্রাম দরকার। বর্তমানে সরকারের ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ কার্যক্রম আছে। কিন্তু এগুলোর কভারেজ কম, টার্গেটিং দুর্বল, আর দুর্নীতি আছে। ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে সরাসরি নগদ বা খাদ্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব। ভারত তাদের Aadhaar সিস্টেম দিয়ে এটা করছে। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র আর বিকাশ/নগদ নেটওয়ার্ক দিয়ে একই কাজ করা সম্ভব।
- আমদানি নির্ভরতা কমানো। সয়াবিন তেল, চিনি, গম, ডাল, এগুলো বাংলাদেশ বেশিরভাগ আমদানি করে। বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানো, ডাল চাষে ভর্তুকি, গম চাষের আধুনিকায়ন, এগুলো সময় নেবে, কিন্তু শুরু তো করতে হবে।
- বাজার তদারকি আর প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের ভোজ্যতেল বাজার মূলত চার-পাঁচটা কোম্পানির হাতে। চালের বাজারেও বড় আড়তদাররা দাম নিয়ন্ত্রণ করে। Competition Commission আছে, কিন্তু কার্যকর না। বাজারে সত্যিকারের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারলে দাম প্রাকৃতিকভাবেই কমবে।
এগুলোর কোনোটাই নতুন ধারণা না। কোনোটাই অসম্ভব না। শুধু দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
রহিমা আজ সন্ধ্যায় রান্না করবে। ভাত, আলু ভর্তা, ডালের পানি। শুক্রবার হলে হয়তো একটু মাছ। বাচ্চারা খাবে, করিম খাবে। রহিমা সবার শেষে খাবে, যা থাকে। অনেকদিন কিছু থাকে না।
রহিমা জানে না মূল্যস্ফীতি কী। সে জানে না CPI কীভাবে হিসাব করে। সে জানে না Engel's Law কী। সে শুধু জানে গতবছর ২০০ টাকায় যা কিনতে পারতো, এবছর পারে না। সে জানে ছেলেটা রোগা হয়ে যাচ্ছে। সে জানে মেয়েটা স্কুলে মাঝে মাঝে মাথা ঘোরার কথা বলে, কারণ সকালে কিছু খায়নি।
চালের দাম বাড়লে কে কাঁদে? পরিসংখ্যান কাঁদে না। গ্রাফ কাঁদে না। GDP কাঁদে না।
রহিমা কাঁদে।
আর রহিমার মতো কোটি কোটি মা কাঁদে, যারা প্রতিদিন ২০০ টাকার হিসাব মেলাতে গিয়ে নিজের পেটে টান দেয়, যেন বাচ্চাদের পেটটা অন্তত ভরে।
এই কান্না বন্ধ করার ক্ষমতা আমাদের আছে। প্রশ্ন হলো, ইচ্ছা আছে কিনা।