Back to publications
Narrative 2026-03-06

নদীভাঙনে সব হারানো: কোনো ক্ষতিপূরণ নেই

প্রতি বছর ১০,০০০+ হেক্টর জমি নদীগর্ভে

নদীভাঙনে সব হারানো: কোনো ক্ষতিপূরণ নেই

পর্ব ১: করিমনের জমি নদীতে গেছে

করিমন বিবির বাড়ি ছিল সিরাজগঞ্জের চরলক্ষ্মীপুরে। "ছিল" বলছি কারণ সেই বাড়ি আর নেই। যমুনা নিয়ে গেছে। ২০১৯ সালের বর্ষায় একদিন রাতে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করলো। সকালে উঠে দেখলো বাড়ির আধা অংশ পানিতে। পরদিন বাকিটাও গেলো।

করিমনের স্বামী জহুরুল ইসলাম জেলে ছিল। দুই বিঘা জমি ছিল, তিন কাঠা বাড়ির জায়গা। সব নদীতে। সরকারি খাতায় জমির দলিল আছে, কিন্তু জমি নেই। নদীর তলায়। মৌজা ম্যাপে জায়গাটা চিহ্নিত, কিন্তু বাস্তবে সেখানে এখন পানি বয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ক্ষতিপূরণের অনুপস্থিতি। বাংলাদেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ কাঠামো নেই।
৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন টাকা
সরকার কী করছে
প্রায় ১৫ থেকে ২০%
নদীভাঙন থেকে বস্তিতে
১.২%
বিশ্ব কী করছে, বাংলাদেশ কোথায়

করিমন এখন ঢাকার মিরপুরে থাকে। একটা বস্তিতে। ছেলে রিকশা চালায়, মেয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে। করিমন নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সরকার থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। কোনো পুনর্বাসন হয়নি। কোনো সাহায্য আসেনি। শুধু একটা ত্রাণের প্যাকেট পেয়েছিল, পাঁচ কেজি চাল আর আধা লিটার তেল।

করিমনের গল্প শুনলে মনে হতে পারে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এটা বিচ্ছিন্ন না। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়। তাদের প্রায় কেউই ক্ষতিপূরণ পায় না।

এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে নীরব দুর্যোগ। বন্যা হলে খবর হয়, ঘূর্ণিঝড় এলে টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ চলে। কিন্তু নদীভাঙন ধীরে ধীরে ঘটে, নীরবে ঘটে, আর মানুষ নীরবেই সব হারায়।


পর্ব ২: সংখ্যা যা বলছে

বাংলাদেশে কতটুকু জমি নদীভাঙনে হারাচ্ছে? এই চার্টটা দেখুন:

প্রতি বছর গড়ে ১০,০০০ হেক্টরের বেশি জমি নদীগর্ভে যাচ্ছে। কোনো কোনো বছর ১৫,০০০ হেক্টরের বেশি। ২০১৭ সালে প্রায় ১৬,০০০ হেক্টর। এটা কতটুকু? ঢাকা শহরের মোট আয়তন প্রায় ৩০,০০০ হেক্টর। মানে প্রতি দুই বছরে ঢাকার সমান একটা শহর নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে।

এই জমি হারানোর সাথে সাথে মানুষও হারাচ্ছে সবকিছু।

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১০ সালে আনুমানিক ৫০,০০০ মানুষ। ২০২৫ সালে প্রায় ১,০০,০০০। এই সংখ্যা শুধু সরাসরি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের। পরোক্ষভাবে প্রভাবিতদের ধরলে, যাদের বাজার ডুবেছে, স্কুল ভেঙেছে, রাস্তা নষ্ট হয়েছে, সংখ্যাটা এর কয়েক গুণ।

কিন্তু সব নদী সমান ভাঙে না। কোন নদী সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে?

যমুনা সবচেয়ে ভয়ংকর। বাংলাদেশের মোট নদীভাঙনের প্রায় ৪০% ঘটে যমুনা তীরে। কারণটা ভূতত্ত্ব: যমুনা একটা braided river, মানে নদীটা অনেক শাখায় ভাগ হয়ে আবার মিলে যায়। এই ধরনের নদী খুব অস্থির, ক্রমাগত দিক বদলায়, নতুন চর তৈরি করে, পুরনো পাড় ভাঙে। পদ্মা দ্বিতীয়, প্রায় ৩০%। মেঘনা তৃতীয়, ১৫%। এই তিন নদী মিলে বাংলাদেশের ৮৫% নদীভাঙনের জন্য দায়ী।

সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, এই জেলাগুলোর মানুষ প্রতি বর্ষায় আতঙ্কে থাকে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখে মাটি ভেঙে পানিতে পড়ছে। কখনো ধীরে, কখনো হঠাৎ বিশাল একটা খণ্ড একবারে। স্থানীয়রা বলে "তলা ফুটে গেছে", মানে নদীর তলদেশের মাটি সরে গেছে, তার পর ওপরের স্তর নিজে নিজে ধসে পড়ে।


পর্ব ৩: সরকার কী করছে?

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) নদীভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ কাজ (bank protection works) করে। কংক্রিট ব্লক, জিও-ব্যাগ, বোল্ডার ফেলে নদীর পাড় রক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু কতটুকু খরচ হচ্ছে?

BWDB-র তীর সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, ২০১৫ সালে প্রায় ৮ বিলিয়ন টাকা থেকে ২০২৫ সালে ২২ বিলিয়ন টাকা। কিন্তু এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনার পাড় সম্পূর্ণ রক্ষা করতে হলে শুধু সেই একটা নদীতেই বছরে ৫০ বিলিয়ন টাকা দরকার। পুরো দেশে ১০০ বিলিয়নের বেশি। মানে যা খরচ হচ্ছে, তা প্রয়োজনের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।

আর যেটুকু কাজ হচ্ছে, তার মানও প্রশ্নবিদ্ধ। BWDB-র প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিম্নমানের কংক্রিট ব্লক, অপর্যাপ্ত জিও-ব্যাগ, ভুল জায়গায় বোল্ডার ফেলা। এক বর্ষায় যা তৈরি হয়, পরের বর্ষায় তা ভেঙে যায়। একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করে বলেছিলেন, "আমরা নদীকে ঠেকাতে পারি না, কারণ আমরা নদীর শক্তিকে অবমূল্যায়ন করি, আর ঠিকাদারদের ক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করি।"

এই ব্যয়ের তুলনায় নদীভাঙনের অর্থনৈতিক ক্ষতি কত?

নদীভাঙনে প্রতি বছর আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন টাকার সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। জমি, বাড়িঘর, ফসল, অবকাঠামো, সব মিলিয়ে। ২০২৪ সালে এই ক্ষতি প্রায় ৯৫ বিলিয়ন টাকা। তুলনায় BWDB খরচ করেছে ২০ বিলিয়ন। মানে প্রতি ১ টাকা সুরক্ষায় খরচের বিপরীতে প্রায় ৫ টাকার সম্পদ হারাচ্ছে দেশ।

কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ক্ষতিপূরণের অনুপস্থিতি।

বাংলাদেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ কাঠামো নেই। সরকারি ত্রাণ আসে, কিন্তু সেটা সাময়িক, কয়েক কেজি চাল আর সামান্য নগদ টাকা। পুনর্বাসনের যে সরকারি কর্মসূচি আছে, "আশ্রয়ণ প্রকল্প" বা অন্যান্য, সেগুলোতে ক্ষতিগ্রস্তদের একটা ক্ষুদ্র অংশ জায়গা পায়। ২০২৪ সালে আনুমানিক ৯০,০০০ পরিবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে সরকারি পুনর্বাসন পেয়েছে ৮,০০০ এর কম, মাত্র ৯%। ত্রাণ পেয়েছে প্রায় ৩৫%। বাকি ৫৬% কিছুই পায়নি। কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কোনো পুনর্বাসন নেই, কোনো বিকল্প জমি নেই।

তুলনা করুন: ভারতে নদীভাঙনে জমি হারানো মানুষ কিছু রাজ্যে ক্ষতিপূরণ পায়। চীনে Three Gorges Dam-এর জন্য উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে সরকার পুনর্বাসিত করেছে, জমি দিয়েছে, টাকা দিয়েছে। বাংলাদেশে? শূন্য।


পর্ব ৪: স্যাটেলাইট যা দেখছে

আধুনিক প্রযুক্তি নদীভাঙনের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে। স্যাটেলাইট ইমেজারি, বিশেষত Landsat আর Sentinel-2, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের নদী তীরের পরিবর্তন ধরে রেখেছে।

স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ নদীভাঙনে প্রায় ১,৮০,০০০ হেক্টর জমি হারিয়েছে। CEGIS (Center for Environmental and Geographic Information Services) প্রতি বছর স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে নদীভাঙনের মানচিত্র তৈরি করে। এই তথ্য থেকে পরিষ্কার: ভাঙনের হার ত্বরান্বিত হচ্ছে। ১৯৭০ আর ৮০-র দশকে গড়ে বছরে ৭,০০০ হেক্টর। ২০১০-এর দশকে ১২,০০০। ২০২০-এর দশকে ১৩,০০০ এর বেশি।

কেন বাড়ছে? জলবায়ু পরিবর্তন। হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে, নদীতে পানি বাড়ছে। বৃষ্টির ধরন বদলেছে, অল্প সময়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, নদীর স্রোত তীব্র হচ্ছে। উজানে ভারতের ব্যারাজ আর বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ অনিয়মিত হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে কম পানি, বর্ষায় হঠাৎ বেশি। এই অনিয়মিত প্রবাহ পাড় ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে।

কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে: নদী শুধু ভাঙে না, নতুন জমিও তৈরি করে।

নদীভাঙনের বিপরীতে accretion বা চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু সমস্যা তিনটা। প্রথমত, ভাঙন সবসময় accretion-এর চেয়ে বেশি। নেট ক্ষতি প্রতি বছর ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ হেক্টর। দ্বিতীয়ত, যেখানে জমি ভাঙে আর যেখানে চর জাগে, দুটো আলাদা জায়গা। করিমনের জমি সিরাজগঞ্জে ভেঙেছে, নতুন চর হয়তো জেগেছে ভোলায় বা নোয়াখালীতে। করিমনের সেই চরে কোনো অধিকার নেই। তৃতীয়ত, নতুন চর জাগতে সময় লাগে, আর জাগলেও সেটা দখল করে ফেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চরের জমি পায় না, পায় জোতদার আর রাজনৈতিক ক্যাডাররা।


পর্ব ৫: নদীভাঙন থেকে বস্তিতে

করিমনের ছেলে রিয়াজ ঢাকায় এসেছে কারণ গ্রামে কিছু নেই। সে একা না। নদীভাঙনে ভূমিহীন হওয়া মানুষদের একটা বড় অংশ ঢাকায় চলে আসে। তারাই ঢাকার বস্তির জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে।

গবেষণা বলছে, ঢাকার বস্তিবাসীদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০% নদীভাঙনে ভূমিহীন হয়ে আসা মানুষ। এটা বিশাল সংখ্যা। ঢাকায় আনুমানিক ৪০ লাখ বস্তিবাসীর মধ্যে ৬ থেকে ৮ লাখ নদীভাঙনের শিকার, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

তারা আসে কড়াইলে, কল্যাণপুরে, বাউনিয়াবাদে, কামরাঙ্গীরচরে। দিনমজুর হয়, রিকশা চালায়, গার্মেন্টসে কাজ করে, ইটভাটায় শ্রম দেয়। তারা শহরের সবচেয়ে সস্তা শ্রম সরবরাহ করে, কিন্তু শহর তাদের মানবিক জীবন দেয় না।

এদের বেশিরভাগ আর গ্রামে ফেরে না। কারণ ফেরার কিছু নেই। জমি নদীতে, বাড়ি নদীতে, পুকুর নদীতে। তারা স্থায়ীভাবে শহুরে দরিদ্র হয়ে যায়। গ্রামের কৃষক থেকে শহরের ভাসমান শ্রমিক, এই রূপান্তর ঘটে কয়েক দিনে। একটা বর্ষায়। একটা নদীভাঙনে।


পর্ব ৬: বিশ্ব কী করছে, বাংলাদেশ কোথায়?

নদীভাঙন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না। পৃথিবীর অনেক দেশে নদীভাঙন হয়। কিন্তু তারা কীভাবে মোকাবেলা করছে?

নেদারল্যান্ডস তার GDP-র ১.২% ব্যয় করে পানি ব্যবস্থাপনায়। চীন বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নদী নিয়ন্ত্রণে খরচ করে। এমনকি ভারতও ফারাক্কা ব্যারাজের ভাটিতে নদীভাঙন রোধে বড় প্রকল্প নিয়েছে। বাংলাদেশ? GDP-র ০.১% এর কম ব্যয় করে নদীভাঙন রোধে। এটা যেকোনো হিসেবে অপ্রতুল।

সমস্যাটা শুধু অর্থের না, নীতির। বাংলাদেশে নদীভাঙনকে "প্রাকৃতিক দুর্যোগ" হিসেবে দেখা হয়, যেন কিছু করার নেই। কিন্তু সত্য হলো অনেক কিছু করার আছে।

প্রথমত, একটা জাতীয় ক্ষতিপূরণ নীতি দরকার। নদীভাঙনে জমি হারানো মানুষকে বিকল্প জমি বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা করুণা না, এটা অধিকার। রাষ্ট্র যদি নদীভাঙন রোধ করতে না পারে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

দ্বিতীয়ত, BWDB-র সংস্কার দরকার। তীর সংরক্ষণ কাজে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। নেদারল্যান্ডসের Delta Works-এর মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

তৃতীয়ত, চর জমি বণ্টনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন জেগে ওঠা চরের জমি প্রথমে সেই মানুষদের দিতে হবে যারা নদীভাঙনে জমি হারিয়েছে। এটার জন্য একটা ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম দরকার, যেটা স্যাটেলাইট ডেটা আর ভূমি রেকর্ড মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নতুন চর চিহ্নিত করবে।

চতুর্থত, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন আদায় করতে হবে। নদীভাঙন জলবায়ু পরিবর্তনে ত্বরান্বিত হচ্ছে। Loss and Damage তহবিল থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ এখানে ব্যয় করা উচিত।


ফিরে যাই করিমনের কাছে। মিরপুরের বস্তিতে।

করিমন জানে না CEGIS কী, জানে না Landsat কী, জানে না Delta Works কী। কিন্তু সে জানে তার বাড়ি নদীতে গেছে। জানে কেউ তাকে কিছু দেয়নি। জানে তার ছেলে যে রিকশা চালায়, সেটা পছন্দ করে করে না, বাধ্য হয়ে করে।

বাংলাদেশে করিমনের মতো লাখ লাখ মানুষ আছে। তাদের জমি নদীতে গেছে, বাড়ি নদীতে গেছে, জীবন নদীতে গেছে। তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। কোনো পুনর্বাসন পায়নি। তারা শুধু সরে গেছে, নীরবে, শহরের বস্তিতে, অন্যের জমিতে, অনিশ্চয়তার মধ্যে।

প্রতি বছর ১০,০০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে যাচ্ছে। প্রতি বছর ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। আর সরকারের কাছে তাদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ নীতি নেই।

নদী থামবে না। নদীর কাজ ভাঙা আর গড়া। কিন্তু রাষ্ট্র কি থামবে? নাকি রাষ্ট্রও দেখতে থাকবে, নদীর মতো নির্লিপ্ত?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এখনই। কারণ করিমনের মতো আরো লাখো মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। আক্ষরিক অর্থেই।

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50