শিক্ষকের বেতন কত, পাঠদান কেমন?
পর্ব ১: একজন শিক্ষকের দিনলিপি
রংপুর জেলার একটা গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম ধরা যাক "দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।" শিক্ষক আছেন তিনজন। শিক্ষার্থী ১৮০। পাঁচটা ক্লাস। প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম সাহেব, বয়স ৫২। চাকরি করছেন ২৫ বছর। মাসিক বেতন ২২,০০০ টাকা। যেটা শুনতে খারাপ লাগে না, যতক্ষণ না আপনি জানেন যে উপজেলা পর্যায়ের একজন অফিস সহকারীর বেতনও প্রায় একই।
করিম সাহেব সকাল সাতটায় স্কুলে আসেন। তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটা ক্লাস চালাতে হয়। মানে একই সময়ে দুটো ক্লাস শিক্ষক ছাড়া থাকে। বাচ্চারা গোলমাল করে, দৌড়াদৌড়ি করে, সময় নষ্ট হয়। করিম সাহেব একটা ক্লাসে ঢুকলে আরেকটা ক্লাসের বাচ্চারা বই খুলে বসে থাকে, কিন্তু কিছু শেখে না।
দুপুর দেড়টায় স্কুল ছুটি। করিম সাহেব বাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার খান। তারপর বিকালে? টিউশনি। কারণ ২২,০০০ টাকায় পরিবার চলে না। ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন, মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জমাচ্ছেন, বাবা-মা অসুস্থ। টিউশনি থেকে আরো ৮,০০০-১০,০০০ টাকা আসে। সেটা দিয়ে কোনোরকমে চলেন।
করিম সাহেবের গল্প ব্যতিক্রম না। বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের বেশিরভাগই এই একই বাস্তবতায় আছেন। কম বেতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আর শূন্য পদের বোঝা।
আর এই শিক্ষকদের হাতেই আমরা তুলে দিয়েছি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের যা দিচ্ছি, তার বিনিময়ে যা আশা করছি, সেটা একটু হিসাব করে দেখা দরকার।
পর্ব ২: শূন্য পদের মহামারী
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্য পদ একটা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। কিন্তু এটা কতটা গুরুতর সেটা সংখ্যা ছাড়া বোঝা কঠিন।
২০১৫ সালে মোট শূন্য পদ ছিল ২৫%। ২০২০ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২%। আর ২০২৪ সালে? ৩৮%। প্রতি দশটা পদের মধ্যে প্রায় চারটা খালি। গ্রামাঞ্চলে এই হার আরো বেশি, কিছু উপজেলায় ৫০% ছাড়িয়ে যায়।
এর মানে কী? একটা স্কুলে যেখানে ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে আছেন তিনজন বা চারজন। বাকি ক্লাসগুলো হয় মাল্টিগ্রেড (একই ঘরে দুই ক্লাস একসাথে), নয়তো শিক্ষার্থীরা নিজেরা বসে থাকে।
আর এই শূন্য পদের বোঝা সব বিভাগে সমান না।
রংপুর আর ময়মনসিংহ বিভাগে শিক্ষক শূন্যতা সবচেয়ে বেশি, যথাক্রমে ৪৮% আর ৪৫%। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে কম, ২২%। এটা স্বাভাবিক। কেউ রংপুরের গ্রামে গিয়ে মাসে ১১,০০০ টাকায় পড়াতে চায় না, যখন ঢাকায় একটা দোকানের সেলসম্যান ১৫,০০০ টাকা পায়।
কিন্তু শুধু শূন্য পদ দিয়ে পুরো ছবিটা দেখা যায় না। যে শিক্ষকরা আছেন, তাদের অনেকেই স্কুলে আসেন না।
বিশ্বব্যাংকের সার্ভিস ডেলিভারি ইন্ডিকেটরস (SDI) জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের গড় অনুপস্থিতির হার ১৬%। মানে প্রতি ছয় কর্মদিবসে একদিন শিক্ষক স্কুলে নেই। গ্রামাঞ্চলে এই হার ২০% ছাড়িয়ে যায়। কেন? কম বেতন, দুর্বল তদারকি, দূরবর্তী পোস্টিং, আর "পড়াশোনার বাইরে" কাজের চাপ (সরকারি জরিপ, নির্বাচনী দায়িত্ব, ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন)। শিক্ষকরা শিক্ষকতার বাইরে এতকিছু করেন যে শিক্ষকতাটাই গৌণ হয়ে যায়।
পর্ব ৩: বেতনের অপমান
বাংলাদেশে একজন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেড অনুযায়ী মাসিক ১১,০০০ টাকা (মূল বেতন)। ভাতা-ভাড়া মিলিয়ে মোট ১৬,০০০-১৮,০০০ টাকা। একজন গার্মেন্টস সুপারভাইজার পান ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা। একজন ব্যাংকের ক্যাশিয়ার পান ২৫,০০০ টাকা। একজন পুলিশ কনস্টেবল পান ১৬,৫০০ টাকা (ঝুঁকিভাতা ছাড়া)।
দেখুন, একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন সরকারি চাকরির অন্যান্য পদের তুলনায় কোথায়। ১৩তম গ্রেড, যেখানে অফিস সহকারী, পিয়ন, ড্রাইভার থাকে। এই দেশে যে মানুষটা পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন, তার সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা একজন অফিস পিয়নের সমান।
এবার অন্য পেশার সাথে তুলনা করুন।
প্রাথমিক শিক্ষকের মাসিক আয় ১৬,০০০ টাকা। মাধ্যমিক শিক্ষকের ২২,০০০। কলেজ প্রভাষকের ৩৫,০০০। ব্যাংক অফিসারের ৪৫,০০০। ডাক্তারের (সরকারি) ৫৫,০০০। BCS ক্যাডারের ৪৫,০০০-৬০,০০০।
একজন মেধাবী তরুণ কেন প্রাথমিক শিক্ষকতা বেছে নেবে? উত্তরটা সহজ: নেবে না। যার হাতে অন্য কোনো সুযোগ আছে, সে শিক্ষকতায় আসে না। শিক্ষকতা হয়ে গেছে "শেষ আশ্রয়।" আর শেষ আশ্রয়ে আসা মানুষদের হাতে আমরা দিচ্ছি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা।
এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না, কিন্তু বাংলাদেশ এই সমস্যায় চরম পর্যায়ে আছে।
আন্তর্জাতিক তুলনায় দেখুন। শিক্ষকের বেতন মাথাপিছু জিডিপির অনুপাতে। ফিনল্যান্ডে একজন প্রাথমিক শিক্ষক মাথাপিছু জিডিপির ১.২ গুণ পান। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১.৫ গুণ। মালয়েশিয়ায় ১.৩ গুণ। ভিয়েতনামে ১.১ গুণ। ভারতে ১.০ গুণ। বাংলাদেশে? ০.৬ গুণ। মানে বাংলাদেশের শিক্ষকরা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার তুলনায়ও কম পান। শুধু দরিদ্র দেশ বলে কম পাচ্ছেন এমন না, দরিদ্র দেশের মানদণ্ডেও কম পাচ্ছেন।
পর্ব ৪: প্রশিক্ষণ ছাড়া পাঠদান
বেতন কম হলেও যদি শিক্ষকরা ভালো প্রশিক্ষণ পেতেন, তাহলে কিছুটা হলেও মান বজায় রাখা যেতো। কিন্তু সেখানেও চিত্র হতাশাজনক।
সরকারি হিসাবে বলা হয় ৬৫% প্রাথমিক শিক্ষক C-in-Ed বা DPEd প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কিন্তু এই প্রশিক্ষণের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। NCTB (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) ২০২৩ সালে নতুন কারিকুলাম চালু করেছে, কিন্তু সেই কারিকুলামে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মাত্র ২৮% শিক্ষক। বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ (গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি) পেয়েছেন মাত্র ১৮%। আইসিটি ব্যবহারে সক্ষম মাত্র ১২%।
মানে কী দাঁড়ালো? নতুন বই এসেছে, কিন্তু শিক্ষক জানেন না কীভাবে পড়াতে হবে। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছে, কিন্তু শিক্ষক নিজেই সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না। ডিজিটাল কন্টেন্ট বানানো হয়েছে, কিন্তু শিক্ষক কম্পিউটার চালাতে জানেন না।
আর শিক্ষকদের যোগ্যতার চিত্রটাও দেখা দরকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৮% শিক্ষকের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমান। ৪২% স্নাতক। মাত্র ১৫% স্নাতকোত্তর। আর ৫% এর কম B.Ed বা M.Ed ডিগ্রিধারী। তুলনা করুন ফিনল্যান্ডের সাথে: সেখানে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষকের ন্যূনতম যোগ্যতা মাস্টার্স ডিগ্রি। সিঙ্গাপুরে শিক্ষক হতে হলে বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি লাগে। বাংলাদেশে? এইচএসসি পাশ করলেই চলে।
এই সমস্যাটা আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন আমরা ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের দিকে তাকাই।
২০১০ সালে প্রাথমিকে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ছিল ৪৭:১। সেটা কমে ২০২৫ সালে ৪০:১ হয়েছে। কমেছে, কিন্তু যথেষ্ট না। UNESCO-র সুপারিশ ৩০:১ বা তার কম। মাধ্যমিকে অবস্থা আরো খারাপ: ৪৫:১। একজন শিক্ষক ৪৫ জন কিশোর-কিশোরীকে একসাথে পদার্থবিদ্যা বা রসায়ন পড়াচ্ছেন। ল্যাবের কথা না হয় বাদই দিলাম।
পর্ব ৫: MPO ব্যবস্থা, এক অদ্ভুত সমাধান
বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষার ৯৭% বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য সরকারের একটা অনন্য ব্যবস্থা আছে: MPO (Monthly Payment Order)। সরকার বেসরকারি স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকদের মূল বেতনের একটা অংশ সরাসরি দেয়। ২০২৪ সালে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক MPO-ভুক্ত।
কিন্তু এই ব্যবস্থায় বিশাল সমস্যা আছে।
MPO শিক্ষকদের বেতন দেরিতে আসে। ২০২০ সালে গড় বিলম্ব ছিল ৩ মাস। ২০২২ সালে ৪ মাস। ২০২৪ সালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে। একজন শিক্ষক ছয় মাস বেতন পান না, কিন্তু ক্লাস নেওয়া চালিয়ে যান। এটা কোনো পেশা না, এটা দানধ্যান।
MPO ব্যবস্থায় আরো কিছু সমস্যা আছে। প্রথমত, MPO পেতে অনেক সময় ঘুষ দিতে হয়। একটা পদের MPO ভুক্তির জন্য ৫-১০ লাখ টাকা খরচ হওয়ার অভিযোগ সাধারণ। দ্বিতীয়ত, MPO শিক্ষকরা শুধু মূল বেতন পান, পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পান না। তৃতীয়ত, নন-MPO শিক্ষকরা (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার) সরকারের কাছ থেকে কিছুই পান না। তাদের বেতন আসে স্কুলের নিজস্ব আয় থেকে, যা অনেক গ্রামীণ স্কুলে নেই বললেই চলে।
MPO ব্যবস্থাটা মূলত একটা অস্থায়ী সমাধান ছিল যেটা স্থায়ী হয়ে গেছে। বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করার সাহস সরকারের নেই (খরচ বেশি), আবার পুরোপুরি বেসরকারি ছেড়ে দিতেও পারছে না (রাজনৈতিক চাপ)। ফলে এই মাঝামাঝি ব্যবস্থা চলছে, যেখানে শিক্ষকরা না সরকারি না বেসরকারি, একটা ধূসর এলাকায় আটকে আছেন।
পর্ব ৬: সমাধানের রূপরেখা
সমস্যাগুলো স্পষ্ট। শিক্ষকের সংকট, নিম্ন বেতন, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, MPO জটিলতা। কিন্তু সমাধান কি আছে? আছে। এবং এটা রকেট সায়েন্স না। পৃথিবীর অনেক দেশ এই সমস্যা সমাধান করেছে।
প্রথম কাজ: শিক্ষকের বেতন বাড়ানো। প্রাথমিক শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন ১১,০০০ থেকে ন্যূনতম ২৫,০০০ টাকা করতে হবে। এটা বাজেটে কত চাপ ফেলবে? মোটামুটি বছরে ৮,০০০-১০,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত। বাংলাদেশ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু জ্বালানি ভর্তুকিতে ৩২,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো অসম্ভব না, অগ্রাধিকারের প্রশ্ন।
দ্বিতীয় কাজ: শূন্য পদ দ্রুত পূরণ। ৩৮% শূন্য পদ মানে প্রায় ১ লাখ পদ খালি। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। জেলা পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষমতা দিলে প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। আর দুর্গম এলাকায় পোস্টিংয়ের জন্য বিশেষ ভাতা (hardship allowance) চালু করতে হবে, যেমন ভারতের কিছু রাজ্যে আছে।
তৃতীয় কাজ: প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ। শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ না, আসল দক্ষতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ। NCTB-র নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষককে ন্যূনতম ৬০ ঘণ্টা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ডিজিটাল লিটারেসি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
চতুর্থ কাজ: MPO ব্যবস্থা সংস্কার অথবা জাতীয়করণ। এই ধূসর এলাকা আর চলবে না। হয় বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি করুন (ভিয়েতনাম মডেল), অথবা MPO বেতন সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করুন এবং পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দিন।
পঞ্চম কাজ: শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা। বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি, কর্মজীবনে উন্নতির সুযোগ তৈরি করতে হবে। পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ইনসেন্টিভ চালু করতে হবে। সিঙ্গাপুরে প্রতি বছর শিক্ষকদের মূল্যায়ন হয়, এবং সেরা শিক্ষকরা "মাস্টার টিচার" বা "সিনিয়র টিচার" পদে উন্নীত হন, যেখানে বেতন দ্বিগুণ হয়। বাংলাদেশে শিক্ষকদের কর্মজীবনে কোনো উন্নতির পথ নেই। সহকারী শিক্ষক হিসেবে ঢোকেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন (যদি ভাগ্য ভালো থাকে)। মাঝে কিছু নেই।
ফিরে যাই করিম সাহেবের কাছে।
আজ সন্ধ্যায় করিম সাহেব টিউশনি শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। রাতের খাবার খাবেন। তারপর আগামীকালের ক্লাসের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। নতুন কারিকুলামের বইটা খুলবেন, কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকায় বুঝতে পারবেন না ঠিক কীভাবে পড়াতে হবে। তাই পুরনো পদ্ধতিতেই পড়াবেন, মুখস্থ করাও, পরীক্ষায় লেখো।
করিম সাহেব খারাপ মানুষ না। তিনি চেষ্টা করেন। কিন্তু একটা ব্যবস্থা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করছে। কম বেতন দিয়ে, প্রশিক্ষণ না দিয়ে, সহকর্মী না দিয়ে, তারপর বলা হচ্ছে "শিক্ষার মান বাড়াও।"
শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। শিক্ষকের মান বাড়াতে হলে শিক্ষকের বেতন, প্রশিক্ষণ, আর সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে হবে। এটা শুধু শিক্ষানীতির প্রশ্ন না। এটা জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্ন।
বাংলাদেশ যদি সত্যিই উন্নত দেশ হতে চায়, তাহলে প্রথম প্রশ্নটা হওয়া উচিত: "আমরা কি আমাদের শিক্ষকদের যথেষ্ট দিচ্ছি?" উত্তরটা এখন পর্যন্ত একটাই: না।