Back to publications
Narrative 2026-03-06

একটা টি-শার্ট বানাতে কত পানি লাগে?

গার্মেন্টস শিল্পের পানি পদচিহ্ন ও ভূগর্ভস্থ পানির সংকট

একটা টি-শার্ট বানাতে কত পানি লাগে?

পর্ব ১: একটা টি-শার্টের লুকানো মূল্য

আপনার গায়ে যে টি-শার্টটা আছে, সেটার দাম কত দিয়েছিলেন? ৩০০ টাকা? ৫০০ টাকা? ইউরোপে হয়তো ১০ ইউরো, আমেরিকায় ১২ ডলার?

এটা সেই টি-শার্টের দোকানের দাম। আসল দাম অন্য জায়গায়।

কিন্তু আপনি যদি রিচার্জের চেয়ে বেশি তোলেন, তাহলে? ব্যালেন্স শূন্যের দিকে যাবে।
২ কোটি মানুষ
ডুবন্ত শহর
৪৫ লাখ মানুষ
কী করা যায়
৫০-৮০%
সবুজের ঢেউ

একটা সাধারণ সুতির টি-শার্ট বানাতে প্রায় ২,৭০০ লিটার পানি লাগে। একজন মানুষ যে পরিমাণ পানি পান করে তিন বছরে, সেই পরিমাণ পানি দরকার হয় একটা মাত্র টি-শার্টের জন্য। তুলা চাষে সেচ, সুতা তৈরিতে ধোয়া, কাপড় বোনায় প্রক্রিয়াকরণ, রং করায় ডাইং, আর শেষে ওয়াশিং। প্রতিটা ধাপে পানি, পানি, আর পানি।

এই চার্টটা দেখুন:

একটা টি-শার্টে ২,৭০০ লিটার। একটা জিন্সে ১০,০০০ লিটার। একটা শার্টে ২,৫০০ লিটার। গার্মেন্টস শিল্প পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পানি ভোক্তা, কৃষির পরেই। আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক।

এখন একটু হিসাব করুন।

বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটি পিস গার্মেন্টস রপ্তানি করে। এর সাথে আছে স্থানীয় বাজারের পোশাক। শুধু রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে বছরে পানি খরচ হয় আনুমানিক ১,৫০০ বিলিয়ন লিটারের বেশি। ১,৫০০,০০০,০০০,০০০ লিটার। এই সংখ্যাটা এত বড় যে মাথায় ঢোকে না। তাই অন্যভাবে বলি: ঢাকার পুরো জনগোষ্ঠীর এক বছরের পানির চাহিদার চেয়ে বেশি পানি খরচ করে শুধু টেক্সটাইল সেক্টর।

এই পানি কোথা থেকে আসছে? ভূপৃষ্ঠের নদী, খাল, বিল থেকে কিছুটা। কিন্তু বেশিরভাগ? মাটির নিচ থেকে। ভূগর্ভস্থ পানি। গভীর নলকূপ দিয়ে টেনে তোলা হচ্ছে বছরের পর বছর। আর এখানেই সংকটের শুরু।

কারণ ভূগর্ভস্থ পানি অসীম না। এটা একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো। আপনি যত তুলবেন, ব্যালেন্স কমবে। বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে গিয়ে ব্যালেন্স বাড়ায়, সেটাকে বলে রিচার্জ। কিন্তু আপনি যদি রিচার্জের চেয়ে বেশি তোলেন, তাহলে? ব্যালেন্স শূন্যের দিকে যাবে। আর ঢাকায় ঠিক এটাই হচ্ছে।


পর্ব ২: ডুবন্ত শহর

ঢাকার নিচে যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আছে, সেটাকে বলে ডুপি টিলা অ্যাকুইফার। এই অ্যাকুইফার থেকে ঢাকার ৮৭% পানি সরবরাহ হয়। বাকি ১৩% আসে ভূপৃষ্ঠের উৎস থেকে। ২ কোটি মানুষের পানির চাহিদার প্রায় পুরোটাই মাটির নিচ থেকে তোলা হচ্ছে।

আর ঢাকার আশেপাশে শত শত টেক্সটাইল কারখানা, ডাইং ফ্যাক্টরি, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, সবাই একই অ্যাকুইফার থেকে পানি তুলছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, এই এলাকাগুলোতে কারখানার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। আর পানির স্তর নামছে সবচেয়ে দ্রুত।

এই চার্টটা দেখুন:

ভয়ংকর ছবি। ১৯৯০ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ মিটার নিচে। ২০২৫ সালে? ৭৫ মিটারেরও বেশি নিচে। প্রতি বছর গড়ে ২ থেকে ৩ মিটার করে নামছে। কোনো কোনো এলাকায় ৫ মিটার পর্যন্ত। এই হারে চলতে থাকলে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে ঢাকার অনেক এলাকায় পানি পাওয়া যাবে না।

গাজীপুরের অবস্থা আরো খারাপ। যেখানে টেক্সটাইল কারখানার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, সেখানে পানির স্তর ১০০ মিটারেরও নিচে নেমে গেছে। কিছু কারখানা ১৫০ মিটার গভীর থেকে পানি তুলছে। সাধারণ নলকূপে আর পানি ওঠে না। গ্রামের মানুষ পানি পাচ্ছে না কারণ পাশের কারখানা মাটির নিচের পানি শুষে নিচ্ছে।

গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, তিনটা শিল্পাঞ্চলে পানির স্তর নামার হার সবচেয়ে বেশি। এগুলো একই সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস হাব। এটা কাকতালীয় না, সরাসরি কারণ ও ফলাফল।

আর শুধু পরিমাণের কথা না। মান নিয়েও কথা আছে। কারণ কারখানাগুলো যে পানি তুলে ব্যবহার করে, সেটা ব্যবহারের পর কোথায় যায়?


পর্ব ৩: বিষাক্ত স্রোত

একটা টেক্সটাইল কারখানায় কাপড় রং করার প্রক্রিয়াটা ভাবুন। সাদা কাপড় আসে। তাকে প্রথমে ব্লিচ করা হয়। তারপর রং করা হয়, যেটাকে বলে ডাইং। এই ডাইং-এ ব্যবহার হয় রাসায়নিক রঞ্জক, ভারী ধাতু (ক্রোমিয়াম, সীসা, ক্যাডমিয়াম), কস্টিক সোডা, সালফিউরিক এসিড, ফর্মালডিহাইড। এরপর ওয়াশিং হয়, কখনো কখনো একটা কাপড় ৮-১০ বার ধোয়া হয়। প্রতিবার ধোয়ার পানিতে রাসায়নিক মিশে যায়।

এই বিষাক্ত পানি কোথায় যায়? নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা কারখানায় ETP (Effluent Treatment Plant) থাকার কথা। ETP বর্জ্য পানি পরিশোধন করে নিরাপদ মাত্রায় এনে তারপর ছাড়বে। কিন্তু বাস্তবতা?

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে প্রায় ৪,০০০ টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানা আছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০% এ ETP স্থাপিত আছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু ETP থাকা আর চালু থাকা এক কথা না। যেগুলোতে ETP আছে, তার অর্ধেকের বেশি হয় বন্ধ থাকে, নয়তো এত কম ক্ষমতায় চলে যে কোনো কাজ হয় না। কারণ? ETP চালাতে বিদ্যুৎ লাগে, রাসায়নিক লাগে, প্রশিক্ষিত লোক লাগে। মালিকরা এই খরচ এড়াতে চায়। রাতের বেলা ETP বন্ধ রেখে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ছেড়ে দেওয়া সাধারণ ঘটনা।

ফলাফল? প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার অপরিশোধিত টেক্সটাইল বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল, জলাভূমিতে পড়ছে।

তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, এই নদীগুলো ঢাকার শিল্পাঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এদের রং এখন প্রাকৃতিক না। কখনো নীল, কখনো লাল, কখনো কালো। নির্ভর করে সেদিন কোন রঙের কাপড় ডাই হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় এমন দিন আছে যেদিন পানি এতটাই রাসায়নিকযুক্ত যে হাত ডোবালে চামড়া জ্বলে। জেলেরা মাছ ধরা ছেড়ে দিয়েছে। কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছে না। পাশের গ্রামের মানুষ চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারে ভুগছে।

আর একটা ভয়ংকর ব্যাপার আছে। ভূপৃষ্ঠে ফেলা এই দূষিত পানির একটা অংশ মাটির নিচে চুইয়ে যায়। ভূগর্ভস্থ পানিকেও দূষিত করে। মানে আমরা একই সাথে দুটো কাজ করছি: মাটির নিচের পানি টেনে শেষ করছি, আর যেটুকু বাকি আছে সেটা বিষাক্ত করে দিচ্ছে।

ঢাকার আশেপাশে ভূগর্ভস্থ আর ভূপৃষ্ঠের পানি, দুটোই সংকটে। ভূপৃষ্ঠের পানি দূষিত, ব্যবহারের অযোগ্য। ভূগর্ভস্থ পানি দ্রুত কমছে। দুই দিক থেকে চাপ। আর মাঝখানে ২ কোটি মানুষ, হাজার হাজার কারখানা, আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত।


পর্ব ৪: সবুজের ঢেউ

কিন্তু গল্পটা শুধু অন্ধকার না। একটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটছে বাংলাদেশে যেটা বেশিরভাগ মানুষ জানে না।

বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি LEED-সার্টিফাইড সবুজ কারখানা আছে। ২০০টিরও বেশি। আমেরিকার USGBC (US Green Building Council) যে LEED সার্টিফিকেশন দেয়, সেটা পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সর্বোচ্চ মানদণ্ড। আর এই মানদণ্ডে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, সবাইকে পেছনে ফেলে।

২০১২ সালে বাংলাদেশে LEED সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল শূন্য। ২০২৫ সালে ২০০-এর বেশি। এই বৃদ্ধি অবিশ্বাস্য। রানা প্লাজা ধসের পর (২০১৩) আন্তর্জাতিক ক্রেতারা (H&M, Zara, Primark) চাপ দিয়েছে। বাংলাদেশের কিছু উদ্যোক্তা সেই চাপকে সুযোগে পরিণত করেছে।

এই সবুজ কারখানাগুলো কী করে? পানি পুনর্ব্যবহার করে। ৫০-৮০% পানি রিসাইকেল করে আবার ব্যবহার করে। সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে। আধুনিক ETP দিয়ে বর্জ্য পানি প্রায় পান করার যোগ্য পর্যায়ে পরিশোধন করে। এদের পানি খরচ প্রচলিত কারখানার তুলনায় ৪০-৫০% কম।

কিন্তু সমস্যাটা হলো সংখ্যায়। ২০০+ সবুজ কারখানা চমৎকার, কিন্তু মোট কারখানার সংখ্যা ৪,০০০-এর বেশি। মানে মাত্র ৫% কারখানা সবুজ মানদণ্ডে চলছে। বাকি ৯৫%? পুরনো প্রযুক্তি, অতিরিক্ত পানি খরচ, অপরিশোধিত বর্জ্য নিষ্কাশন।

আর এই ৫% সবুজ কারখানা বড় কারখানা, যেগুলোর মালিকদের পুঁজি আছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো (যেগুলো সংখ্যায় বেশি) সবুজ হওয়ার সামর্থ্য রাখে না। একটা আধুনিক ETP বসাতে ২-৫ কোটি টাকা লাগে। পানি রিসাইক্লিং সিস্টেমে আরো ৩-৭ কোটি। ছোট কারখানার মালিকের কাছে এই টাকা নেই।

ফলে একটা দ্বৈত অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। উপরের ৫% চকচকে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার পায়, সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। নিচের ৯৫% আগের মতোই চলছে, নদীতে বিষ ঢালছে, মাটির নিচের পানি শুষছে।


পর্ব ৫: আন্তর্জাতিক তুলনা

বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের পানি ব্যবহার কি আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কেমন? এই চার্টটা দেখুন:

প্রতি কেজি কাপড় উৎপাদনে বাংলাদেশ গড়ে ১৫০-২০০ লিটার পানি ব্যবহার করে। চীনে এই সংখ্যা ৮০-১০০ লিটার। তুরস্কে ৬০-৮০। ইউরোপে ৪০-৬০। মানে বাংলাদেশ ইউরোপের তুলনায় তিন গুণ বেশি পানি খরচ করছে একই পরিমাণ কাপড় বানাতে।

এর কারণ কী? পুরনো যন্ত্রপাতি, অদক্ষ প্রক্রিয়া, আর পানি পুনর্ব্যবহারের অভাব। ইউরোপে একটা ডাইং ইউনিটে পানি ৩-৪ বার রিসাইকেল করা হয়। বাংলাদেশে বেশিরভাগ কারখানায় একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। কারণ পানি এখানে "সস্তা"। ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে শুধু পাম্পের বিদ্যুৎ খরচ। কোনো পানি কর নেই, কোনো ব্যবহার সীমা নেই, কোনো মিটারিং নেই।

পানি যখন বিনামূল্যে পাওয়া যায়, তখন কেউ বাঁচিয়ে ব্যবহার করে না। এটা অর্থনীতির মৌলিক নিয়ম। যেটার দাম নেই, সেটার অপচয় হবেই।


পর্ব ৬: কী করা যায়?

সমস্যাটা বিশাল, কিন্তু সমাধান অসম্ভব না। তিনটা পদক্ষেপ নেওয়া যায় যেগুলো বাস্তবসম্মত এবং অন্য দেশে পরীক্ষিত।

প্রথম পদক্ষেপ: শিল্প পানির মূল্য নির্ধারণ।

বাংলাদেশে শিল্প খাতে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কোনো কার্যকর মূল্য নেই। চীন ২০১৪ সালে শিল্প পানিতে কর বসিয়েছে। পানি তোলার পরিমাণের উপর ভিত্তি করে। ফলাফল? পাঁচ বছরে শিল্প খাতে পানি ব্যবহার ২৫% কমেছে। কারখানাগুলো নিজে থেকেই রিসাইক্লিং শুরু করেছে, কারণ নতুন পানি কেনার চেয়ে পুরনো পানি পরিশোধন করা সস্তা হয়ে গেছে।

বাংলাদেশেও একই কাজ করা সম্ভব। প্রতি ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় ৫-১০ টাকা কর বসান। ছোট কারখানার জন্য ছাড় দিন। বড় কারখানার জন্য কঠোর হন। এই করের টাকা দিয়ে ছোট কারখানাগুলোকে ETP বসাতে সাবসিডি দিন। একটা সুচক্র তৈরি হবে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: বাধ্যতামূলক পানি পুনর্ব্যবহার।

বর্তমানে সবুজ কারখানাগুলো স্বেচ্ছায় পানি রিসাইকেল করছে। এটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। নতুন আইন: ২০২৮ সালের মধ্যে সকল ডাইং ও ওয়াশিং কারখানায় ন্যূনতম ৫০% পানি পুনর্ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০%। না মানলে লাইসেন্স বাতিল।

তুরস্কের বুরসা প্রদেশে ২০১৫ সালে এই ধরনের নিয়ম চালু হয়েছে। পাঁচ বছরে শিল্প পানি ব্যবহার ৪০% কমেছে। নদীগুলোর পানি পরিষ্কার হতে শুরু করেছে।

তৃতীয় পদক্ষেপ: কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন।

প্রতিটা কারখানায় আলাদা ETP বসানো ব্যয়বহুল, বিশেষত ছোট কারখানার জন্য। বিকল্প? কেন্দ্রীয় ETP (CETP)। একটা শিল্পাঞ্চলের সব কারখানার বর্জ্য পানি পাইপলাইনে একটা বড় পরিশোধন কেন্দ্রে যাবে। খরচ ভাগ হবে। দক্ষতা বাড়বে। ভারতের তিরুপুর (দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল হাব) এই মডেল সফলভাবে চালু করেছে।

বাংলাদেশের পাঁচটা বড় শিল্পাঞ্চলে (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ) CETP স্থাপন করলে ৮০% টেক্সটাইল বর্জ্য পরিশোধন সম্ভব। আনুমানিক খরচ? ৫,০০০-৮,০০০ কোটি টাকা। শুনতে অনেক মনে হয়, কিন্তু বাংলাদেশের বার্ষিক গার্মেন্টস রপ্তানি ৪৫ বিলিয়ন ডলার, প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। পুরো সেক্টরের আয়ের মাত্র ১-২% দিয়ে এই কাজ হয়ে যায়।


আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।

আপনার গায়ের সেই টি-শার্টটার কথা। ৩০০ টাকা বা ১২ ডলার দিয়ে কেনা। এর পেছনে ২,৭০০ লিটার পানি খরচ হয়েছে। সেই পানির একটা অংশ এসেছে ঢাকার নিচের অ্যাকুইফার থেকে, যেটা প্রতি বছর ২-৩ মিটার নামছে। আর সেই পানি ব্যবহারের পর রাসায়নিকমিশ্রিত হয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে শীতলক্ষ্যায় বা তুরাগে, যেখানে মাছ আর বাঁচে না।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ৪৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান দেয়। দেশের মোট রপ্তানির ৮৪%। এই শিল্প ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়াতে পারে না। কেউ বলছে না এই শিল্প বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে পানির ব্যবহার টেকসই করতে হবে। নদী বাঁচাতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি বাঁচাতে হবে।

২০০+ সবুজ কারখানা দেখিয়ে দিয়েছে, এটা সম্ভব। এখন দরকার বাকি ৩,৮০০ কারখানাকে সেই পথে আনা। সময় কম। ঢাকার অ্যাকুইফার অপেক্ষা করবে না।

একটা টি-শার্টের আসল দাম ৩০০ টাকা না। আসল দাম হলো একটা নদী, একটা অ্যাকুইফার, আর লাখো মানুষের ভবিষ্যতের পানি। সেই দাম কে দেবে?

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50