ট্রাফিক জ্যামে প্রতিদিন ৫০ লাখ ঘণ্টা নষ্ট
পর্ব ১: রফিকের সকাল
রফিক সাহেব প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৫টায় ওঠেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে থাকেন, অফিস মতিঝিলে। দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। গুগল ম্যাপে দেখায় ৩৫ মিনিটের পথ। বাস্তবে রফিক সাহেবের লাগে আড়াই ঘণ্টা। কখনো তিন। বৃষ্টির দিনে সাড়ে তিন।
রিকশায় টঙ্গী স্ট্যান্ড, সেখান থেকে বাস, আবদুল্লাহপুরে ট্রাফিক জ্যাম, মিরপুর রোডে আরেকটা জ্যাম, ফার্মগেটে তৃতীয় জ্যাম। বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা, ঘামে ভেজা, ব্যাগ বুকে চেপে ধরা। এসি বাসের ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই, স্বাভাবিক বাসে জানালা খোলা, বাইরে থেকে ধুলো আসে, ট্রাকের কালো ধোঁয়া ঢোকে।
অফিসে পৌঁছান ৯টায়। ক্লান্ত, বিরক্ত, শরীরে ব্যথা। সন্ধ্যায় আবার একই যাত্রা, উল্টোদিকে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে ৯টা। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা শুধু রাস্তায়।
রফিক সাহেব একা নন। ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। তাদের গড় যাতায়াত সময় প্রতিদিন সাড়ে ৩ ঘণ্টা (দুইদিকে মিলিয়ে)। হিসাব করলে দিনে প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা শুধু রাস্তায় নষ্ট হয়। ৫০ লাখ ঘণ্টা, প্রতিদিন।
এই সময়টা কত টাকার? এই চার্টটা দেখুন:
BUET-এর ২০২৪ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার যানজটের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। জিডিপির প্রায় ৩.৫%। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ কর্মঘণ্টার অপচয় (১.৬ বিলিয়ন), তারপর জ্বালানির অপচয় (০.৯ বিলিয়ন), পণ্য পরিবহনে বিলম্ব (০.৭ বিলিয়ন), স্বাস্থ্যগত ক্ষতি (০.৪ বিলিয়ন), আর যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (০.২ বিলিয়ন)।
৩.৮ বিলিয়ন ডলার কতটা? এই টাকা দিয়ে প্রতি বছর ৪টা পদ্মা সেতু বানানো যেত। অথবা ঢাকার সব বস্তিবাসীকে পাকা ঘর দেওয়া যেত। অথবা ১০ লাখ শিশুকে আন্তর্জাতিক মানের স্কুলে পড়ানো যেত। কিন্তু এই টাকা কোথাও যাচ্ছে না, শুধু গলিয়ে যাচ্ছে রাস্তায়, ধোঁয়ায়, হতাশায়।
কিন্তু শুধু সংখ্যা দিয়ে এই ক্ষতি বোঝা যায় না। একজন মানুষের জীবন থেকে কত সময় চুরি হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে:
ঢাকায় একজন কর্মজীবী মানুষ বছরে গড়ে ১,২০০ ঘণ্টা যাতায়াতে ব্যয় করে। দিনে ৩.৫ ঘণ্টা, ৩৪৫ কর্মদিবস ধরে। ১,২০০ ঘণ্টা মানে ৫০ দিন। বছরে দেড় মাস শুধু রাস্তায়। একজন মানুষের কর্মজীবন যদি ৩৫ বছর হয়, তাহলে সে জীবনে প্রায় ৪ বছর ৪ মাস শুধু ঢাকার রাস্তায় আটকে থেকে কাটাবে। লন্ডনে এই সংখ্যা ৩২৫ ঘণ্টা, টোকিওতে ৩৯০, নিউইয়র্কে ৪১০। ঢাকায়? তিন গুণ বেশি।
পর্ব ২: গাড়ি বাড়ে, রাস্তা বাড়ে না
ঢাকার যানজটের মূল কারণ কী? অনেকে বলবেন খারাপ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। সেটা একটা কারণ, কিন্তু আসল কারণ আরো গভীরে। ঢাকায় গাড়ি বাড়ছে পাগলের মতো, কিন্তু রাস্তা বাড়ছে না।
BRTA-র তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহন ২০১০ সালে ছিল প্রায় ৮ লাখ। ২০২৫ সালে সেটা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। পনেরো বছরে চার গুণেরও বেশি। প্রতি বছর গড়ে ১০% হারে বাড়ছে। এই বৃদ্ধির হার চীন বা ভারতের মেগাসিটিগুলোর চেয়েও বেশি। কিন্তু চীন বা ভারত একই সাথে রাস্তা বানিয়েছে, মেট্রো বানিয়েছে, BRT চালু করেছে। ঢাকায় সেসব হয়নি।
তাহলে ঢাকায় কতটুকু রাস্তা আছে? একটা শহরে সুস্থভাবে যানবাহন চলাচলের জন্য শহরের মোট জমির কমপক্ষে ২৫% রাস্তার জন্য দরকার। এটা নগর পরিকল্পনার প্রাথমিক নিয়ম।
ঢাকায় শহরের জমির মাত্র ৭% রাস্তা। সিঙ্গাপুরে ১৫%, টোকিওতে ২২%, নিউইয়র্কে ৩৬%। আদর্শ মানের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এই ৭% রাস্তায় আবার অনেকটা দখল করে রাখে পথচারী, হকার, রিকশা, আর পার্কিং। কার্যকর রাস্তার পরিমাণ আরো কম, হয়তো ৪ থেকে ৫%। এত কম রাস্তায় ৩৫ লাখ যানবাহন চলানোর চেষ্টা করলে যা হওয়ার কথা তাই হচ্ছে। প্রতিটা রাস্তায়, প্রতিদিন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জ্যাম।
পর্ব ৩: গণপরিবহনের মৃত্যু, দুর্ঘটনার উত্থান
ঢাকার যানজটের আরেকটা বড় কারণ গণপরিবহন ব্যবস্থার ভয়াবহ অবস্থা। পৃথিবীর অন্যান্য মেগাসিটিতে গণপরিবহনে যাত্রীদের বড় অংশ চলাচল করে। ঢাকায়? গণপরিবহনের অংশ ক্রমাগত কমছে।
২০০৫ সালে ঢাকায় ৪৫% যাত্রী গণপরিবহন ব্যবহার করতো। ২০২৫ সালে সেটা নেমে এসেছে ৩৭%-এ। বাকিরা? রিকশা (২৫%), ব্যক্তিগত গাড়ি (১৫%), মোটরসাইকেল (১২%), পায়ে হাঁটা (১১%)। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের অংশ ক্রমশ বাড়ছে।
কেন মানুষ গণপরিবহন ছেড়ে দিচ্ছে? কারণ ঢাকার বাস সিস্টেম ভয়ংকর। কোনো নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ নেই, সময়সূচি নেই, মানসম্পন্ন বাস নেই। বাসগুলো পুরোনো, জীর্ণ, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই। চালকরা প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তোলে, রাস্তায় ইচ্ছামতো থামে, দুর্ঘটনা ঘটায়। নারী যাত্রীদের জন্য পরিবেশ বিশেষভাবে অনিরাপদ।
আর এই বেপরোয়া বাস চালানোর মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঢাকার রাস্তায় প্রতি বছর কত মানুষ মারা যায়, সেটা দেখুন:
বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় প্রায় ৫,০০০ মানুষ (সরকারি হিসাব)। বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০। সরকারি হিসাব ব্যাপকভাবে কম দেখানো হয় কারণ অনেক দুর্ঘটনার এফআইআর হয় না, আহত হয়ে পরে মারা গেলে গোনা হয় না। শুধু ঢাকা বিভাগেই বছরে ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ মানুষ মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ২০ জন। এটা যুদ্ধক্ষেত্রের সংখ্যা, শান্তিকালীন একটা শহরের না।
আর এই দুর্ঘটনার সাথে যানজটের সরাসরি সম্পর্ক। যত বেশি গাড়ি, যত বেশি বিশৃঙ্খলা, যত বেশি চালকের হতাশা, তত বেশি বেপরোয়া চালানো।
পর্ব ৪: ধোঁয়ায় টাকা পোড়ে, ফুসফুসও পোড়ে
যানজটের একটা অদৃশ্য কিন্তু ভয়ংকর খরচ আছে: জ্বালানির অপচয়। গাড়ি যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, ইঞ্জিন চালু থাকে (idling), তখন জ্বালানি পোড়ে কিন্তু গাড়ি এগোয় না।
ঢাকায় যানজটের কারণে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ কোটি লিটার জ্বালানি নষ্ট হয়। স্বাভাবিক গতিতে (৩০ কিমি/ঘণ্টা) একটা গাড়ি প্রতি কিলোমিটারে যতটুকু জ্বালানি খরচ করে, জ্যামে আটকে থাকলে (৫ কিমি/ঘণ্টা) সেই খরচ ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত জ্বালানির মূল্য বছরে প্রায় ০.৯ বিলিয়ন ডলার। পুরোটাই আমদানি করা জ্বালানি, মানে ডলারে কিনতে হয়।
আর এই জ্বালানি পুড়ে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, সেটা ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করছে:
ঢাকার বাতাসে PM2.5 এর ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ মানের ১০ গুণেরও বেশি। এর প্রায় ৪০% আসে যানবাহনের ধোঁয়া থেকে। যানজটের সাথে দূষণের সম্পর্ক সরাসরি। গাড়ি যখন দাঁড়িয়ে থাকে, প্রতি কিলোমিটারে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দূষণকারী কণা ছড়ায়।
IQAIR-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা পৃথিবীর ২য় সবচেয়ে দূষিত রাজধানী (দিল্লির পরে)। ঢাকায় প্রতি বছর বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রায় ২৪,০০০ মানুষ অকালে মারা যায় (State of Global Air 2024)। শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বাধা। এই মৃত্যুগুলো হেডলাইন হয় না, কারণ একসাথে মরে না, ধীরে ধীরে মরে।
পর্ব ৫: মেট্রো এসেছে, কিন্তু যথেষ্ট?
MRT Line-6 ঢাকার প্রথম আধুনিক গণপরিবহন। উত্তরা থেকে মতিঝিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়মতো চলে। ঢাকার ইতিহাসে এটা একটা মাইলফলক। কিন্তু একটা লাইন দিয়ে কতটুকু হবে?
MRT Line-6 এর বর্তমান দৈনিক যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩.৫ লাখ। পূর্ণ সক্ষমতায় এটা ৫ লাখ পর্যন্ত যেতে পারে। ঢাকায় প্রতিদিন মোট ট্রিপ হয় ২.৫ কোটি। মানে মেট্রো কভার করছে মোট যাতায়াতের ২%। ভবিষ্যতে MRT Line-1, Line-2, Line-5 চালু হলে সেটা হয়তো ১০ থেকে ১৫% হবে। কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ চালু হতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ততদিনে ঢাকায় যানবাহন আরো ৫০% বাড়বে।
মেট্রো রেল একটা ভালো শুরু, কিন্তু একা যথেষ্ট না। ঢাকার দরকার সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা: মেট্রো, BRT, সংগঠিত বাস রুট, নদীপথ, সব একসাথে। গত ১০ বছরে ঢাকায় পরিবহন খাতে সরকারি ব্যয়ের ৫৫% গেছে ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে, ৩০% মেট্রো রেলে, মাত্র ৫% গণপরিবহন উন্নয়নে। মানে খরচের সিংহভাগ গেছে ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধার্থে। পৃথিবীর সফল শহরগুলো উল্টো করেছে। সিউল, টোকিও, সিঙ্গাপুর, বোগোতা, এরা সব পরিবহন বাজেটের ৬০ থেকে ৭০% খরচ করেছে গণপরিবহনে। ঢাকা করেছে ৫%।
পর্ব ৬: পৃথিবীর সবচেয়ে ধীর শহর
ঢাকার সমস্যা কি অনন্য? না। ব্যাংকক, জাকার্তা, মুম্বাই, কায়রো, সবাই একই সমস্যায় ভুগেছে বা ভুগছে। কিন্তু অনেকে সমাধানের পথে এগিয়েছে। ঢাকা এগোয়নি।
TomTom Traffic Index অনুযায়ী ব্যাংককে ১০ কিমি যেতে গড়ে ২৭ মিনিট লাগে, জাকার্তায় ২৯, মুম্বাইতে ৩২, কায়রোতে ৩১, ঢাকায় ৪৫। ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতির মেগাসিটি।
ব্যাংকক ২০২০ সালে BTS Skytrain ও MRT সিস্টেম প্রসারিত করেছে। ১০ বছরে ৫ লাইন থেকে ১২ লাইন হয়েছে। যানজট সম্পূর্ণ কমেনি, কিন্তু পিক আওয়ারে যাত্রাকাল ২০% কমেছে। জাকার্তা TransJakarta BRT চালু করেছে, পৃথিবীর দীর্ঘতম BRT নেটওয়ার্ক, ২৫১ কিলোমিটার, প্রতিদিন ১০ লাখ যাত্রী বহন করে। মুম্বাই তার শতবর্ষী লোকাল ট্রেন নেটওয়ার্ক (প্রতিদিন ৮০ লাখ যাত্রী) ছাড়াও মেট্রো রেল বানাচ্ছে, ১৪টা লাইন, ৩৩৭ কিলোমিটার।
ঢাকায় ১টা মেট্রো লাইন আছে। ২০ কিলোমিটার।
সমাধান কি আছে? হ্যাঁ, আছে। মেট্রো নেটওয়ার্ক ৬ থেকে ৮ লাইনে সম্প্রসারণ করা দরকার। BRT চালু করা দরকার প্রধান করিডোরগুলোতে। বাস রুট সংগঠিত করা দরকার, সমন্বিত ভাড়া কার্ড চালু করা দরকার। নদীপথে ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করা দরকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যায়। ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, সিঙ্গাপুরের COE মডেলে।
কিন্তু এর কোনোটাই কেউ করছে না। ফ্লাইওভার বানানো সহজ, কারণ সেটা দেখা যায়, ভোটারদের দেখানো যায়, উদ্বোধনে ফিতা কাটা যায়। গণপরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার কঠিন, কারণ সেটা অদৃশ্য, দীর্ঘমেয়াদি, আর ক্ষমতাশালী বাস মালিক সমিতির স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
রফিক সাহেব আজ রাতেও আড়াই ঘণ্টা ধরে বাসায় ফিরবেন। ক্লান্ত শরীরে ঘরে ঢুকে দেখবেন ছেলে ঘুমিয়ে গেছে, কারণ ছেলের ঘুমের সময়ের আগে বাবা বাসায় ফিরতে পারেন না। সকালে বের হন যখন ছেলে ঘুমিয়ে থাকে, রাতে ফেরেন যখন ছেলে আবার ঘুমিয়ে যায়। কর্মদিবসে বাবা-ছেলের দেখা হয় না।
রফিক সাহেবের ছেলের বয়স ৬। সে যখন বড় হবে, ২০৪০ সালে, ঢাকায় যানবাহন হবে ৫৫ লাখ (এখন ৩৫ লাখ), রাস্তা থাকবে একই ৭%। গড় গতি নামবে ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটারে। তখন রাস্তায় গাড়ি চলবে না, দাঁড়িয়ে থাকবে। শুধু দাঁড়িয়ে থাকবে।
প্রশ্ন হলো: আমরা কি এমন একটা শহর চাই যেখানে মানুষ তাদের জীবনের এক-পঞ্চমাংশ রাস্তায় ফেলে দেয়? যেখানে বাবা ছেলেকে দেখতে পায় না? যেখানে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর ধোঁয়া হয়ে মিলিয়ে যায়?
সমাধান জানা আছে। টাকা আছে (যানজটের ক্ষতির অর্ধেক দিয়েই গণপরিবহন বানানো যায়)। প্রযুক্তি আছে। শুধু নেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস। আর প্রতিদিন যে ৫০ লাখ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেটা আর কখনো ফিরে আসবে না।