Back to publications
Narrative 2026-03-06

গ্রাম ছেড়ে শহরে, শহরে ঠাঁই কোথায়?

অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ধাক্কা ও টান

গ্রাম ছেড়ে শহরে, শহরে ঠাঁই কোথায়?

পর্ব ১: শিরিনের ট্রেন

কমলাপুর স্টেশনে ট্রেন থামলো ভোর পাঁচটায়। প্ল্যাটফর্মে ভিড় তখনো কম। শিরিন, বাইশ বছর, একটা ফুটো ব্যাগ আর একটা প্লাস্টিকের ঝোলা নিয়ে নামলো। ভোলা থেকে এসেছে। দুইদিনের যাত্রা, লঞ্চ থেকে বাস, বাস থেকে ট্রেন।

শিরিনের বাবা ছিলেন কৃষক। মেঘনার পাড়ে তিন বিঘা জমি ছিল। ২০২৩ সালে নদী সেই জমি গিলে খেলো। ঘরবাড়ি, গোয়ালঘর, আমগাছ, সব। প্রথমে বাঁধের ওপাশে আশ্রয় নিলো পরিবার। তারপর আত্মীয়ের বাড়ি। তারপর? তারপর আর কোনো "তারপর" ছিল না ভোলায়।

আর এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে কম আলোচিত, অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটা।
প্রায় ৭.৭ লাখ মানুষ
যখন মাটি সরে যায়
৩০০-৪০০ টাকা
ধাক্কা ও টান
২৫-৩০%
ফাঁকা গ্রাম

শিরিন ঢাকায় এসেছে কাজ খুঁজতে। গুলশানে একটা বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ পেয়েছে। মাসে পাঁচ হাজার টাকা, খাওয়া-থাকা ফ্রি। পরিবারকে তিন হাজার পাঠায়। বাকি দুই হাজার? ওষুধ, ফোনের রিচার্জ, আর মাসে একবার নিজের জন্য একটা চুড়ি কেনার স্বপ্ন।

শিরিনের মতো কতজন আসে ঢাকায় প্রতিদিন? শুধু ঢাকায় না, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সব শহরে?

উত্তরটা বিশাল। আর এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে কম আলোচিত, অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটা।

একটু জুম আউট করি।

১৯৭০ সালে বাংলাদেশের মাত্র ৮% মানুষ শহরে থাকতো। ২০০০ সালে ২৩%। ২০২৫ সালে প্রায় ৪০%। মানে পঞ্চাশ বছরে শহুরে জনসংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়েছে। আর এই বৃদ্ধির সিংহভাগ এসেছে গ্রাম থেকে অভিবাসনের মাধ্যমে, জন্মহার বৃদ্ধি থেকে নয়।

কোথায় যাচ্ছে এই মানুষেরা? বেশিরভাগ ঢাকায়।

প্রতি বছর তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ ঢাকায় আসে। কেউ স্থায়ীভাবে, কেউ মৌসুমি কাজের জন্য। কেউ গার্মেন্টসে, কেউ রিকশায়, কেউ নির্মাণ সাইটে। শিরিনের মতো কেউ গৃহকর্মী হিসেবে। তারা আসে কারণ গ্রামে আর বিকল্প নেই।

কিন্তু কেন বিকল্প নেই? তারা কেন গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে? আর শহর কি তাদের ঠাঁই দিতে পারছে?


পর্ব ২: ধাক্কা ও টান

মানুষ শহরে আসে দুটো কারণে। একটাকে বলে "পুশ ফ্যাক্টর", যেটা গ্রাম থেকে ঠেলে দেয়। আরেকটাকে বলে "পুল ফ্যাক্টর", যেটা শহরে টেনে আনে।

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে পুশ ফ্যাক্টর প্রধান। মানে মানুষ শহরে আসছে সুযোগের টানে না, বরং গ্রামে থাকতে না পেরে। এটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। সুযোগের টানে আসা মানে পছন্দ। গ্রামে থাকতে না পারা মানে বাধ্যতা।

কী কী ধাক্কা দিচ্ছে?

প্রথমত, জলবায়ু। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটা। নদীভাঙন প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা। দক্ষিণের উপকূলে কৃষি প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে লবণাক্ততার কারণে।

দ্বিতীয়ত, মঙ্গা। উত্তরবঙ্গে আমন ধান রোপণ আর কাটার মাঝে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাস কাজ থাকে না। এটাকে বলে "মঙ্গা"। লাখ লাখ কৃষি শ্রমিক এই সময় ঢাকায় বা অন্য শহরে আসে রিকশা চালাতে, দিনমজুরি করতে। কেউ ফিরে যায়, কেউ থেকে যায়।

তৃতীয়ত, ভূমিহীনতা। বাংলাদেশে গ্রামীণ পরিবারের প্রায় ৪০% কার্যত ভূমিহীন (০.০৫ একরের কম জমি)। জমি ভাগ হতে হতে এত ছোট হয়ে গেছে যে চাষ করে সংসার চালানো যায় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভাগ হওয়ার পর একটা পরিবারের জমি হয়তো একটা ঘরের সমান।

চতুর্থত, টান। ঢাকায় গার্মেন্টস শিল্পে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করে। নির্মাণ খাতে আরো লাখ লাখ। গৃহকর্মী, রিকশাচালক, দোকানকর্মী, হকার, সবমিলিয়ে ঢাকা একটা বিশাল অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের যন্ত্র। গ্রামে দিনমজুরি ৩০০-৪০০ টাকা, ঢাকায় ৫০০-৭০০ টাকা। এই পার্থক্যটাই টেনে আনে।

কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী পুশ ফ্যাক্টরটা নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলতে হবে। সেটা হলো জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি।


পর্ব ৩: যখন মাটি সরে যায়

বাংলাদেশে প্রতি বছর নদীভাঙনে গড়ে ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এটা শুনতে শুষ্ক পরিসংখ্যান মনে হতে পারে। কিন্তু একটু ভাবুন। প্রতি বছর একটা ছোট শহরের সমান মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা, জীবিকা হারাচ্ছে। নদী তাদের সবকিছু গিলে খাচ্ছে।

এই সংখ্যাটা বছর বছর ওঠানামা করে, কারণ বন্যার তীব্রতা ভিন্ন হয়। ২০২০ সালে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৮০,০০০ মানুষ শুধু নদীভাঙনেই বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। এর সাথে যোগ করুন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে বাস্তুচ্যুত মানুষদের। মোট সংখ্যাটা অনেক বড়।

আর শুধু নদীভাঙন না। দক্ষিণ উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। লবণাক্ততা ঢুকছে কৃষিজমিতে। সুন্দরবনের উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটে চিংড়ি ঘের আর লবণপানি ফসলি জমি নষ্ট করছে। এই এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে উত্তরে সরে যাচ্ছে।

কোন এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতি হচ্ছে?

বরিশাল, খুলনা, রংপুর, এই তিন বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি হয়। বরিশালে নদীভাঙন, খুলনায় লবণাক্ততা, রংপুরে মঙ্গা ও বন্যা। এই তিন বিভাগ থেকে মানুষ যাচ্ছে মূলত ঢাকা আর চট্টগ্রামে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: IDMC (Internal Displacement Monitoring Centre) এর হিসাবে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৭.৭ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের একটা বড় অংশ আর কখনো ফিরে যায় না। তারা শহরের বস্তিতে থিতু হয়।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ০.৫ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ১৭% ভূমি তলিয়ে যাবে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। দুই কোটি। এরা সব কোথায় যাবে?

ঢাকায়? চট্টগ্রামে? যে শহরগুলো এখনই ফেটে পড়ছে?

কিন্তু এই গল্পের আরেকটা দিক আছে। আমরা শুধু দেখছি কে শহরে আসছে। কিন্তু গ্রামে কী হচ্ছে? যখন যুবকেরা চলে যায়, গ্রামের কী অবস্থা হয়?


পর্ব ৪: ফাঁকা গ্রাম

শিরিনের গ্রামে ফিরে যাই। ভোলার চরফ্যাশনের কাছে একটা গ্রাম। পাঁচ বছর আগে এখানে প্রায় দুইশো পরিবার ছিল। এখন একশো-এর কম। বাকিরা কোথায়? ঢাকায়, চট্টগ্রামে, গাজীপুরে, কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যে।

যারা রয়ে গেছে তারা কারা? বয়স্করা। যাদের যাওয়ার শক্তি নেই বা সাহস নেই। আর শিশুরা, যাদের বাবা-মা শহরে কাজ করে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছে রেখে গেছে।

গ্রামে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত শহরের তুলনায় অনেক বেশি। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা না। এটা সরাসরি অভিবাসনের ফল। কর্মক্ষম তরুণরা চলে যাচ্ছে, পড়ে থাকছে বৃদ্ধ আর শিশুরা।

এর ফলাফল কী?

কৃষিশ্রমিকের সংকট। ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। মজুরি বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা বাড়ছে না। কোনো কোনো এলাকায় জমি পতিত পড়ে থাকছে কারণ চাষ করার লোক নেই।

স্থানীয় অর্থনীতির সংকোচন। বাজার ছোট হয়ে যাচ্ছে। দোকান বন্ধ হচ্ছে। স্কুলে ছাত্রসংখ্যা কমছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার আসতে চায় না কারণ রোগী কম।

আর রেমিট্যান্স নির্ভরতা। যারা শহরে গেছে, তারা গ্রামে টাকা পাঠায়। এই টাকা দিয়ে পরিবার চলে। কিন্তু গ্রামের নিজস্ব আয়ের উৎস কমে যাচ্ছে।

কিছু বিভাগে গ্রামীণ পরিবারের আয়ের ২৫-৩০% আসে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স থেকে। সিলেটে এই সংখ্যা আরো বেশি। এটা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হতে পারে (টাকা তো আসছে), কিন্তু গভীরভাবে দেখলে এটা একটা ফাঁদ। গ্রামের নিজস্ব উৎপাদনশীলতা কমছে, নির্ভরতা বাড়ছে। যেদিন রেমিট্যান্স কমবে, সেদিন গ্রাম দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না।

এই "ফাঁকা হয়ে যাওয়া" শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না। চীনের গ্রামাঞ্চলে একই ঘটনা ঘটেছে (সেখানে বলে "hollow villages")। জাপানে ঘটেছে, ইউরোপের গ্রামে ঘটছে। কিন্তু বাংলাদেশে পার্থক্য হলো, এখানে গ্রাম ফাঁকা হচ্ছে কিন্তু শহর প্রস্তুত না। মানুষ আসছে, কিন্তু শহর তাদের জায়গা দিতে পারছে না।


পর্ব ৫: শহর কি ধারণ করতে পারছে?

শিরিন গুলশানে একটা বাসায় কাজ করে। কিন্তু থাকে কোথায়? করাইলে। ঢাকার বৃহত্তম বস্তিগুলোর একটা। গুলশান আর বনানীর ঝকঝকে অ্যাপার্টমেন্ট আর অফিসের ঠিক পাশেই, একটা নিচু জলাভূমিতে, টিনের চালা, বাঁশের বেড়া, সরু গলি। লাখ লাখ মানুষ। একটা পায়খানা পঞ্চাশজনের জন্য। পানি আসে দিনে দুবার, লাইন ধরতে হয়।

এটা শুধু করাইল না। ঢাকায় এরকম চার হাজারের বেশি বস্তি আছে। সারাদেশে শহুরে বস্তিবাসী প্রায় ২.২ কোটি।

বস্তির জনসংখ্যা বাড়ছে শহরের জনসংখ্যার চেয়ে দ্রুত। মানে শহর বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেই বৃদ্ধি পরিকল্পিত আবাসনে না, বস্তিতে। নতুন আসা মানুষদের বেশিরভাগের প্রথম ঠিকানা বস্তি।

আর কাজ? শহরে কাজ আছে, কিন্তু কী ধরনের কাজ?

শহুরে শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫-৮০% কাজ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে। মানে কোনো চুক্তি নেই, কোনো সুবিধা নেই, কোনো নিরাপত্তা নেই। রিকশাচালক, হকার, দিনমজুর, গৃহকর্মী, ছোট দোকানদার। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। দুর্ঘটনায় পড়লে ক্ষতিপূরণ নেই। বৃদ্ধ হলে পেনশন নেই।

গার্মেন্টস শিল্প কিছুটা ভালো, অন্তত সেখানে আনুষ্ঠানিক চাকরি, নির্দিষ্ট বেতন, কারখানা আইন। কিন্তু ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা। ঢাকায় একটা ঘর ভাড়া ৪,০০০-৫,০০০ টাকা। খাবার, যাতায়াত, বাকিটা দিয়ে কীভাবে চলে?

আর শুধু ঢাকা না। চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সব জায়গায় একই চিত্র। কিন্তু একটা আশার জায়গা আছে, সেটা হলো মাধ্যমিক শহরগুলো।

রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, এই শহরগুলোতে জনসংখ্যা বাড়ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। কিন্তু ঢাকার তুলনায় এদের অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অনেক পিছিয়ে।

প্রশ্ন হলো: আমরা কি চাইলে এই শহরগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, যাতে সব চাপ ঢাকার ওপর না পড়ে?

অন্যান্য দেশ এটা করেছে। চীন গত তিন দশকে শত শত মাধ্যমিক শহর গড়ে তুলেছে, পরিকল্পিতভাবে শিল্প ছড়িয়ে দিয়েছে। ভিয়েতনাম হো চি মিন আর হ্যানয়ের বাইরে শিল্প অঞ্চল গড়েছে। এমনকি ভারতও স্মার্ট সিটি মিশনের মাধ্যমে ১০০টা শহর উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশে? ঢাকার বাইরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন ধীর। রাজশাহীতে একটা আইটি পার্ক হয়েছে, কিন্তু সেখানে কতজন কাজ পাচ্ছে? খুলনায় শিল্প কারখানা কটা? সিলেটে পর্যটন ছাড়া আর কী আছে?

যতদিন ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি না হবে, ততদিন মানুষ ঢাকায়ই আসবে। আর ঢাকা? ঢাকা ইতিমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটা। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬,০০০ মানুষ (তুলনায় নিউইয়র্কে ১১,০০০, টোকিওতে ৬,০০০)। যানজটে প্রতিদিন ৩.৮ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বায়ুদূষণে বছরে ২৪,০০০ মানুষ মারা যায়। বুড়িগঙ্গায় জীবন নেই।


আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।

শিরিন আজ রাতেও করাইলের ছোট ঘরে ফিরবে। ভোলায় তার বাবা নদীর দিকে তাকিয়ে বসে থাকবে, যে নদী তার সব নিয়ে গেছে। তার ছোট ভাই স্কুলে যায় না, কারণ স্কুলটাও নদীতে গেছে। পরের স্কুল পাঁচ কিলোমিটার দূরে।

এটা একটা পরিবারের গল্প। কিন্তু এটা লাখ লাখ পরিবারের গল্প। গ্রাম ফাঁকা হচ্ছে, শহর ফেটে পড়ছে। মাঝখানে মানুষ, না গ্রামে ঠাঁই আছে, না শহরে।

বাংলাদেশের নগরায়ণ অনিবার্য। কোনো দেশ শিল্পায়ন ছাড়া নগরায়ণ ঠেকাতে পারেনি। কিন্তু নগরায়ণ পরিকল্পিত হতে পারে, নাকি এভাবে বিশৃঙ্খলভাবে চলবে? মানুষকে কি ঢাকার বস্তিতে ঠেলে দিতে হবে, নাকি মাধ্যমিক শহরগুলোতে মানসম্মত জীবনের সুযোগ তৈরি করা যায়? গ্রাম কি শুধু ফাঁকা হয়ে যাবে, নাকি কৃষি আধুনিকায়ন আর গ্রামীণ শিল্পের মাধ্যমে গ্রামেও কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব?

শিরিন জানে না এসব প্রশ্নের উত্তর। সে শুধু জানে, ভোলায় ফেরার কিছু নেই। আর ঢাকায়? ঢাকায় সে বেঁচে আছে। কিন্তু এটাকে কি "বাঁচা" বলে?

Created: 2026-03-07 03:06:27 Updated: 2026-03-07 14:41:50