কাজ নেই, কাজের মানুষও নেই
পর্ব ১: পাঠাও রাইডার রাকিব
রাকিবের বয়স ২৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছে। রেজাল্ট ভালো, ক্লাসে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে। সিভি তৈরি, ইন্টারভিউ দেওয়া, লিখিত পরীক্ষা, সব করেছে। দুই বছর ধরে করছে। ৪৭টা চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছে। একটাতেও হয়নি। কোথাও বলে অভিজ্ঞতা নেই, কোথাও বলে "আমাদের প্রয়োজন নেই", কোথাও বলে কিছুই না, শুধু কল আসে না।
এখন রাকিব পাঠাওতে বাইক চালায়। দিনে ১০-১২ ঘণ্টা। মাসে আয় ১৮,০০০-২০,০০০ টাকা। বাসা ভাড়া, খাবার, বাইকের কিস্তি দিলে হাতে থাকে ৩,০০০-৪,০০০ টাকা। মায়ের ওষুধের টাকা পাঠাতে পারে না সবসময়।
রাকিবের বাবা গ্রামে ধান চাষ করেন। ছেলেকে পড়াতে জমি বিক্রি করেছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে অফিসার হবে, টাই বেঁধে অফিসে যাবে। এখন ছেলে হেলমেট পরে ঢাকার রাস্তায় মানুষ পৌঁছে দেয়।
রাকিব বাংলাদেশের একটা নাম্বার। সে ওই ৪.২% বেকারত্বের হারের বাইরে, কারণ সে "কর্মরত"। সে পাঠাওতে কাজ করে, তাই সরকারি হিসাবে সে বেকার না। কিন্তু সে কি আসলে "কর্মসংস্থান" পেয়েছে? একজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তরুণ দিনে ১২ ঘণ্টা বাইক চালাচ্ছে, কোনো চুক্তি নেই, কোনো বিমা নেই, কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এটাকে কর্মসংস্থান বলা কি ঠিক?
আসুন সংখ্যাগুলো দেখি।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বেকারত্বের হার ৪-৫%। বিশ্ব গড়ের নিচে। এই সংখ্যা দেখলে মনে হবে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের কোনো সমস্যা নেই। সবাই কাজ পাচ্ছে। সরকারি ভাষ্যেও তাই বলা হয়।
কিন্তু এই সংখ্যাটা মিথ্যা। পুরোপুরি মিথ্যা না, তবে চরমভাবে বিভ্রান্তিকর। কারণ বাংলাদেশে "বেকার" এর সংজ্ঞা হলো, গত সপ্তাহে এক ঘণ্টাও কাজ করেনি এমন ব্যক্তি। মানে, আপনি যদি সপ্তাহে একদিন কারো বাড়িতে গিয়ে দুই ঘণ্টা বাসন মেজে ১০০ টাকা পান, আপনি "কর্মরত"। আপনি যদি বাবার চায়ের দোকানে বসে থাকেন বিনা বেতনে, আপনি "কর্মরত"। আপনি যদি মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হন, ফসলের মৌসুমে কাজ পান আর বাকি ছয় মাস বেকার থাকেন, জরিপটা যদি মৌসুমে হয়, আপনি "কর্মরত"।
আসল ছবি দেখতে হলে বেকারত্বের হারের বাইরে তাকাতে হবে। তাকাতে হবে NEET হারের দিকে।
পর্ব ২: সংখ্যা যা বলে না
NEET মানে Not in Education, Employment, or Training। যেসব তরুণ (১৫-২৪ বছর) পড়াশোনাও করছে না, কাজও করছে না, কোনো প্রশিক্ষণও নিচ্ছে না। তারা কোথায়? বাড়িতে বসে আছে। কিছু করছে না। কিছু করতে পারছে না।
বাংলাদেশে এই সংখ্যাটা ভয়াবহ।
বাংলাদেশের তরুণদের প্রায় ৩০% NEET। প্রতি তিনজন তরুণের একজন না পড়ছে, না কাজ করছে, না কিছু শিখছে। এটা প্রায় ১.৫ কোটি তরুণ। একটা দেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল বয়সের জনগোষ্ঠী ঘরে বসে আছে।
আর যারা কাজ করছে, তাদের অবস্থাটাও বুঝতে হবে। বাংলাদেশে "কাজ" মানে কী?
বাংলাদেশের ৮৫% কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক। মানে, কোনো চুক্তি নেই, কোনো নূন্যতম মজুরি নেই, কোনো ছুটি নেই, কোনো পেনশন নেই, কোনো স্বাস্থ্য বিমা নেই। রিকশাচালক, দিনমজুর, চায়ের দোকানদার, ফেরিওয়ালা, গৃহশ্রমিক, এরা সবাই "কর্মরত"। কিন্তু এরা কি নিরাপদ? এদের পরিবারের ভবিষ্যৎ কি নিশ্চিত? অসুস্থ হলে কি চিকিৎসা পাবে? বুড়ো হলে কে দেখবে?
ফিলিপাইনে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার ৫৬%। ইন্দোনেশিয়ায় ৬০%। ভিয়েতনামে ৫৫%। বাংলাদেশে ৮৫%। পার্থক্যটা বিশাল। মানে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক, সুরক্ষিত, চুক্তিবদ্ধ কাজ পাওয়া একটা বিলাসিতা। বেশিরভাগ মানুষ জীবন চালাচ্ছে, কিন্তু "কর্মসংস্থান" পায়নি।
এখন প্যারাডক্সটা দেখুন। একদিকে ১.৫ কোটি তরুণ কিছু করছে না। অন্যদিকে, গার্মেন্টস সেক্টর শ্রমিক পায় না, কনস্ট্রাকশনে মিস্ত্রি নেই, কৃষিতে লোক কমে যাচ্ছে। কাজ আছে, কিন্তু কাজের মানুষ নেই। কাজের মানুষ আছে, কিন্তু কাজ নেই। দুটোই একসাথে সত্য। এটাই বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্যারাডক্স।
কেন এটা হচ্ছে? কারণ অর্থনীতির কাঠামো বদলে যাচ্ছে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থা বদলায়নি।
বিশ বছরে কৃষিতে কর্মসংস্থান ৪৮% থেকে কমে ৩৩% হয়েছে। সেবা খাত ৩৭% থেকে বেড়ে ৪৫% হয়েছে। শিল্প? প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে, ১৪% থেকে ২১%। এটাই সমস্যা।
একটা সুস্থ অর্থনৈতিক রূপান্তরে কৃষি থেকে মানুষ আগে শিল্পে যায়, তারপর সেবায়। চীন এটা করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া করেছে, ভিয়েতনাম করছে। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষি থেকে মানুষ সরাসরি অনানুষ্ঠানিক সেবা খাতে ঢুকছে। কারখানায় না, অফিসে না, বরং রিকশায়, পাঠাওতে, কিংবা রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে।
আর ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানের মাত্রা দেখলে ছবিটা আরো পরিষ্কার হয়।
বাংলাদেশে ৬৩% শ্রমিক হয় স্বনিযুক্ত, নয়তো অবৈতনিক পারিবারিক শ্রমিক। মানে তারা নিজের একটা ছোট কিছু করছে (চায়ের দোকান, ভ্যান চালানো, ফেরি করা) অথবা পরিবারের কাজে সাহায্য করছে বিনা বেতনে। এদের আয় অনিশ্চিত, অনিয়মিত। একটা অসুখ, একটা বন্যা, একটা মহামারি তাদের আয় শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে।
তাহলে ৪.২% বেকারত্বের আড়ালে আসল ছবি কী? ৩০% তরুণ কিছুই করছে না। ৮৫% শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে। ৬৩% ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানে। শিল্প খাত আটকে আছে। কৃষি থেকে মানুষ বের হচ্ছে কিন্তু উৎপাদনশীল কাজ পাচ্ছে না।
আর এই পুরো ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটো গোষ্ঠী: নারী আর তরুণ।
পর্ব ৩: নারী, মজুরি, আর পালানোর রাস্তা
বাংলাদেশের নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের গল্পটা দুই অধ্যায়ের। প্রথম অধ্যায় ছিল সাফল্যের। ২০০০ সালের দিকে যখন গার্মেন্টস সেক্টর বড় হতে শুরু করলো, লাখ লাখ গ্রামীণ নারী ঢাকায় এলো কাজ করতে। নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ ২৬% থেকে বেড়ে ৩৬% হলো। এটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিশাল অগ্রগতি ছিল।
তারপর দ্বিতীয় অধ্যায়। থেমে গেলো।
২০১২ সালের পর থেকে নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ ৩৬% এ আটকে আছে। বাড়ছে না। কেন? কারণ গার্মেন্টস ছাড়া নারীদের জন্য আনুষ্ঠানিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি। গার্মেন্টস যতটুকু শোষণ করতে পারে, করেছে। এরপর? সেবা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ কম (সামাজিক বাধা, নিরাপত্তা, পরিবহন)। প্রযুক্তি খাতে দক্ষতার ঘাটতি। কৃষিতে অবৈতনিক শ্রম দেয় কিন্তু সেটা কেউ গোনে না।
আর যারা কাজ করছে, তারাও কম পাচ্ছে। একই কাজের জন্য নারী শ্রমিকরা পুরুষের তুলনায় ৩০-৪০% কম মজুরি পায়। এটা শুধু গার্মেন্টসে না, কৃষিতে, দিনমজুরিতে, সব খাতে।
এদিকে, পুরো শ্রমবাজারে মজুরি বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতার তুলনায় অনেক কম।
২০১০ থেকে ২০২৫ এর মধ্যে শ্রম উৎপাদনশীলতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত মজুরি বেড়েছে মাত্র ২৭%। মানে শ্রমিকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন করছে, কিন্তু সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের ফল তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। মুনাফা যাচ্ছে মালিকদের কাছে।
এই পরিস্থিতিতে তরুণদের জন্য দুটো পালানোর রাস্তা: বিদেশে যাও, নয়তো সহ্য করো।
প্রতি বছর ৭-১০ লাখ মানুষ বিদেশে কাজ করতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে সংখ্যাটা ১০ লাখ ছাড়িয়েছিল। কোভিডের সময় ভয়াবহভাবে কমেছিল, তারপর আবার বেড়েছে। এই মানুষগুলো দেশে কাজ পায়নি বলেই যাচ্ছে। কিংবা দেশে যে কাজ পাওয়া যায়, তার মজুরি এত কম যে বিদেশে কঠিন পরিবেশেও যাওয়াটা ভালো মনে হয়।
বিদেশে যাওয়া একটা সমাধান, কিন্তু টেকসই সমাধান না। কারণ বিদেশে গিয়ে অধিকাংশ বাংলাদেশি শ্রমিক নিম্ন-দক্ষ কাজ করে। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, গৃহকর্ম। দক্ষতা বাড়ে না, আয় বাড়ে না। ১০ বছর পর যখন ফেরে, তখন দেশে কী করবে সেটা জানে না।
তাহলে কি কোনো আশার আলো নেই?
পর্ব ৪: ডিজিটাল আশা, কিন্তু শর্তসাপেক্ষ
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের Online Labour Index-এ বাংলাদেশ ভারতের পরেই দ্বিতীয়। প্রায় ৬.৫ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে Upwork, Fiverr, Freelancer.com সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। এটা একটা সাফল্যের গল্প।
কিন্তু সংখ্যার গভীরে তাকালে আশার সাথে উদ্বেগও আছে।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় ৮ ডলার। ভারতে ১৮ ডলার, ফিলিপাইনে ১৫ ডলার, ইউক্রেনে ২২ ডলার। কেন এত কম? কারণ বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা মূলত নিম্ন-মূল্যের কাজ করে। ডাটা এন্ট্রি, সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন। উচ্চ-মূল্যের কাজ (সফটওয়্যার আর্কিটেকচার, AI/ML, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং, UX রিসার্চ) করার দক্ষতা অধিকাংশের নেই।
দক্ষতার এই ঘাটতি কোথা থেকে আসছে? শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ২০ বছর আগের সিলেবাসে পড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞান পায় কিন্তু ব্যবহারিক দক্ষতা পায় না। কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র চার বছরে তত্ত্ব শিখলো কিন্তু একটা পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার প্রজেক্ট করেনি। ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র কেস স্টাডি পড়লো কিন্তু একটা আসল ব্যবসার কাছেও যায়নি।
কী করতে হবে? তিনটা জিনিস।
প্রথমত, কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। জার্মানি আর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ডুয়াল এডুকেশন সিস্টেম দরকার, যেখানে তরুণরা আধা সময় কারখানায় শেখে, আধা সময় ক্লাসে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় মাত্র ১৪% শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪০%। জার্মানিতে ৫০%। এই ব্যবধান না কমালে শিল্প খাত বাড়বে না, কারণ দক্ষ শ্রমিক পাবে না।
দ্বিতীয়ত, ফ্রিল্যান্সারদের উচ্চ-মূল্যের কাজে নিয়ে যেতে হবে। সরকার যদি AI, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটিতে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে, এবং ইংরেজি ভাষা দক্ষতায় বিনিয়োগ করে, তাহলে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের গড় আয় ৮ ডলার থেকে ১৫-২০ ডলারে উঠতে পারে। ৬.৫ লাখ ফ্রিল্যান্সারের গড় আয় যদি দ্বিগুণ হয়, সেটা বছরে অতিরিক্ত ২-৩ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।
তৃতীয়ত, নারীদের জন্য ডিজিটাল কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং একটা অসাধারণ সুযোগ নারীদের জন্য, কারণ ঘরে বসে কাজ করা যায়, পরিবহনের সমস্যা নেই, সামাজিক বাধা কম। কিন্তু বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে নারীর হার মাত্র ১৫-২০%। ফিলিপাইনে ৪০%। ভারতে ৩০%। গ্রামীণ নারীদের জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে পারলে শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের ৩৬% এর দেয়াল ভাঙা সম্ভব।
পর্ব ৫: রাকিবের জন্য কী আছে?
আসুন শেষ করি যেখানে শুরু করেছিলাম।
রাকিব আজকেও পাঠাওতে বাইক চালাবে। দুপুরে ধানমন্ডিতে কাউকে নামিয়ে দিয়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়াবে। ফোনে পরের রাইডের নোটিফিকেশন আসবে। গুলশান, উত্তরা, মিরপুর, ঢাকার এ-মাথা থেকে ও-মাথা। সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে রুমে ফিরবে। তিনজনের সাথে ভাগ করা মেসে। চুলায় ভাত বসাতে বসাতে ভাববে, এই জীবনটা কি এমনই থাকবে?
রাকিব একা না। বাংলাদেশে ১.৫ কোটি তরুণ তার মতো আটকে আছে। কেউ পাঠাওতে, কেউ দোকানে, কেউ বাড়িতে বসে, কেউ ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে "চাকরি দরকার"। এরা সবাই বাংলাদেশের "ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড"। এই শব্দটা আমরা অনেক শুনি। তরুণ জনসংখ্যা, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, উন্নয়নের সুযোগ। কিন্তু ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আপনা-আপনি আসে না। তরুণদের যদি দক্ষতা না দেওয়া হয়, কাজ না দেওয়া হয়, সুযোগ না তৈরি করা হয়, তাহলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পরিণত হয় ডেমোগ্রাফিক বোঝায়। লাখ লাখ হতাশ তরুণ কোনো দেশের জন্য সম্পদ না, ঝুঁকি।
বাংলাদেশের হাতে সময় আছে, কিন্তু অসীম সময় নেই। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তারপর বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে। জাপান, চীন, থাইল্যান্ড এই পথ আগেই পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু তারা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময়টা কাজে লাগিয়েছিল। বাংলাদেশ কি লাগাবে?
রাকিব জানে না এই প্রশ্নের উত্তর। সে শুধু জানে কাল সকালে আবার হেলমেট পরতে হবে। বাইক স্টার্ট দিতে হবে। ঢাকার ধুলো আর ধোঁয়ায় ১২ ঘণ্টা কাটাতে হবে। একটা মাস্টার্স ডিগ্রি তার ব্যাগে আছে, কিন্তু সেটা দিয়ে পেট চলে না।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার একটা প্যারাডক্স। কাজ নেই, কাজের মানুষও নেই। এই প্যারাডক্সের সমাধান হলো সেতু বানানো। শিক্ষা আর শিল্পের মধ্যে। দক্ষতা আর চাহিদার মধ্যে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা আর বাস্তবতার মধ্যে। সেতু বানাতে পারলে ১.৫ কোটি রাকিব হয়ে উঠবে এই দেশের ইঞ্জিন। না পারলে, তারা থেকে যাবে পাঠাও রাইডার। হেলমেটের নিচে চাপা পড়া স্বপ্ন নিয়ে।