বাংলাদেশের অটোমেশন-প্রকাশ: পাঁচ সমকক্ষ দেশের তুলনায়
গ্লোবাল অটোমেশন এটলাস (Garg, Crosta ও Baier, ২০২৬) ১২৪ দেশের কাজের অটোমেশন-ঝুঁকি; বাংলাদেশ ও পাঁচ গভর্নটুইন সমকক্ষ
বিডিপলিসি ল্যাব · 2026-05-20
গ্লোবাল অটোমেশন এটলাস (Garg, Crosta ও Baier, ২০২৬) ১২৪ দেশের কাজের অটোমেশন-ঝুঁকি পরিমাপ করেছে। বাংলাদেশের প্রকাশিত কাজের অংশ ৩৩.৩%। তুলনায়, গভর্নটুইন পাঁচ সমকক্ষ দেশের (ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন) গড় ৪৮.৪%; বাংলাদেশ −১৫.০ পয়েন্ট নিচে। ক্রমে ৪১তম।
এই দূরত্ব দুইভাবে পড়া যায়। প্রথম পাঠে এটি আশ্রয়: বাংলাদেশের কাজ এখনো এমন যেখানে এআই কম প্রযোজ্য, তাই স্বল্প-মেয়াদে কর্মসংস্থানে ধাক্কা কম। দ্বিতীয় পাঠে এটি ফাঁদ: এআই-পরিপূরক কাজও সমকক্ষের অর্ধেক, তাই দীর্ঘ-মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগও সীমিত। দুটি পাঠ পরস্পরের বিরোধী নয়; নীতিগত প্রশ্ন—বাংলাদেশ কোন পাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধান প্রাপ্তি
- বাংলাদেশের প্রকাশিত কাজের অংশ ৩৩.৩%; সমকক্ষ পাঁচ দেশের গড় ৪৮.৪%। ব্যবধান −১৫.০ পয়েন্ট। ১২৪ দেশের ক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম, অর্থাৎ নিচের এক-তৃতীয়াংশে।
- উচ্চ ঝুঁকির কাজের অংশ ২.৫%; সমকক্ষ গড় ৯.০%। মালয়েশিয়ার ১২.০%-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
- এআই-প্রতিস্থাপনযোগ্য কাজ ১১.৮% (সমকক্ষ ১৭.২%); এআই-পরিপূরক কাজ ১.৮% (সমকক্ষ ৪.৪%)। দুই দিকেই বাংলাদেশ পিছিয়ে — এআই যত কাজ প্রতিস্থাপন করবে তা কম, আবার যত কাজে কর্মীকে আরও দক্ষ করবে সেটিও কম।
- সর্বাধিক ঝুঁকিতে তিনটি পেশা: Word Processors and Typists, Bookkeeping, Accounting, and Auditing Clerks, Tellers। সবগুলোই অফিসের ক্লেরিকাল কাজ।
- সর্বাধিক ঝুঁকিতে তিনটি খাত: Wholesale of computers, computer peripheral equipm (ISIC 4651); Other information service activities n.e.c. (ISIC 6399); Publishing of directories and mailing lists (ISIC 5812)। এই ঝুঁকি-স্কোর কর্মসংস্থান-ভারিত নয়; খাতগুলো বাংলাদেশে ছোট হলেও কাজের গঠনে এআই-ঝুঁকি বেশি।
বাংলাদেশের প্রকাশিত কাজের অংশ ৩৩.৩%। ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের গড় ৪৮.৪%; বাংলাদেশ −১৫.০ পয়েন্ট নিচে। উচ্চ ঝুঁকির কাজের অংশ ২.৫%, যা সমকক্ষ গড়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
দেশভিত্তিক বিভাজন:
- বাংলাদেশ: প্রকাশিত ৩৩.৩%, উচ্চ ঝুঁকি ২.৫%, প্রতিস্থাপন ১১.৮%, পরিপূরক ১.৮%
- ভিয়েতনাম: প্রকাশিত ৪৮.৩%, উচ্চ ঝুঁকি ৯.১%, প্রতিস্থাপন ১৭.৭%, পরিপূরক ৩.৬%
- ভারত: প্রকাশিত ৫০.১%, উচ্চ ঝুঁকি ১০.৮%, প্রতিস্থাপন ১৮.২%, পরিপূরক ৪.০%
- শ্রীলংকা: প্রকাশিত ৪৪.৩%, উচ্চ ঝুঁকি ৪.৩%, প্রতিস্থাপন ১৪.১%, পরিপূরক ৬.৭%
- মালয়েশিয়া: প্রকাশিত ৫২.২%, উচ্চ ঝুঁকি ১২.০%, প্রতিস্থাপন ১৯.৪%, পরিপূরক ৪.২%
- ফিলিপাইন: প্রকাশিত ৪৬.৯%, উচ্চ ঝুঁকি ৮.৯%, প্রতিস্থাপন ১৬.৬%, পরিপূরক ৩.৫%
এই সংখ্যাগুলো কাজের প্রকাশযোগ্যতা পরিমাপ করে, কর্মসংস্থানের ক্ষতির সরাসরি অনুমান নয়। প্রতিটি কাজের জন্য দেশভেদে বিচার করা হয়েছে এলএলএম-ভিত্তিক মূল্যায়নে (Garg, Crosta ও Baier, ২০২৬)।
দুই ব্যাখ্যা, একই সংখ্যা
সমকক্ষের চেয়ে বাংলাদেশের কম প্রকাশ-অংশ দুইভাবে পড়া যায়।
প্রথম পাঠ: আশ্রয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬৭% কাজ 'neither' শ্রেণীতে — না প্রতিস্থাপনযোগ্য, না পরিপূরক। অর্থাৎ এআই এই কাজগুলোতে আজ প্রযোজ্য নয়। ফলে স্বল্প-মেয়াদে বিস্তৃত কর্মসংস্থান-ধাক্কার সম্ভাবনা কম।
দ্বিতীয় পাঠ: ফাঁদ। এআই-পরিপূরক কাজ মাত্র ১.৮% — সমকক্ষ গড় ৪.৪%-এর অর্ধেকেরও কম। অর্থাৎ এআই দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সম্ভাব্য কাজও বাংলাদেশে কম। কাজের বর্তমান গঠন ভবিষ্যৎ এআই-প্রযুক্তির সুফল থেকেও দূরে রাখবে।
দুটি পাঠ পরস্পরের বিরোধী নয়। নীতিগত প্রশ্ন—বাংলাদেশ আশ্রয়ে থাকতে চায়, না ফাঁদ থেকে বের হতে চায়।
প্রতিস্থাপন বনাম পরিপূরক
এআই-প্রতিস্থাপনযোগ্য ১১.৮%, এআই-পরিপূরক ১.৮% — অনুপাত প্রায় ৬.৬। সমকক্ষ দেশে এই অনুপাত অনেক কম: শ্রীলংকায় ২.১, ভারতে ৪.৬। ইঙ্গিত স্পষ্ট: বাংলাদেশের প্রকাশিত কাজে এআই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কর্মীর বিকল্প হবে, কর্মীর সহায়ক নয়।
নীতিগত উপসংহার: পরিপূরক কাজ বাড়াতে হলে কাজের গঠন বদলাতে হবে। শুধু প্রকাশিত পেশায় শ্রমিক যোগ করা যথেষ্ট নয়।
সর্বাধিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পেশা
- 43-9022.00 Word Processors and Typists: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.৪৪; প্রতিস্থাপন ৮০.০%, পরিপূরক ০.০%
- 43-3031.00 Bookkeeping, Accounting, and Auditing Clerks: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.৩১; প্রতিস্থাপন ৭৮.১%, পরিপূরক ০.০%
- 43-3071.00 Tellers: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.২৭; প্রতিস্থাপন ৭০.৩%, পরিপূরক ০.০%
- 43-3051.00 Payroll and Timekeeping Clerks: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.২৭; প্রতিস্থাপন ৮৪.৬%, পরিপূরক ০.০%
- 43-9111.00 Statistical Assistants: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.২৭; প্রতিস্থাপন ৬৬.৭%, পরিপূরক ০.০%
- 43-3021.00 Billing and Posting Clerks: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.২৪; প্রতিস্থাপন ৫০.০%, পরিপূরক ০.০%
- 43-4041.00 Credit Authorizers, Checkers, and Clerks: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.১৭; প্রতিস্থাপন ৫০.০%, পরিপূরক ০.০%
- 43-9081.00 Proofreaders and Copy Markers: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.১৭; প্রতিস্থাপন ৩৩.৩%, পরিপূরক ০.০%
- 43-4011.00 Brokerage Clerks: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.১৫; প্রতিস্থাপন ৬৯.২%, পরিপূরক ০.০%
- 41-3041.00 Travel Agents: গড় ঝুঁকি-স্কোর ২.১২; প্রতিস্থাপন ৭৫.০%, পরিপূরক ০.০%
তালিকার প্রায় সব পেশাই অফিসের ক্লেরিকাল কাজ। এর অর্থ এই নয় যে এই পেশাগুলো বাংলাদেশে বড়—তালিকাটি কাজের প্রকাশযোগ্যতার, কর্মসংস্থানের আকারের নয়। ইউএস O*NET-এর কাজের বিবরণ ব্যবহার করায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই একই পেশাগুলো শীর্ষে আসে।
সর্বাধিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশের খাত (ISIC Rev.4)
- ISIC 4651 Wholesale of computers, computer peripheral equipment and software: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.৬৯
- ISIC 6399 Other information service activities n.e.c.: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.২৮
- ISIC 5812 Publishing of directories and mailing lists: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.২১
- ISIC 4662 Wholesale of metals and metal ores: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.২০
- ISIC 6311 Data processing, hosting and related activities: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.১০
- ISIC 7990 Other reservation service and related activities: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.০৪
- ISIC 8219 Photocopying, document preparation and other specialized office support activities: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.০২
- ISIC 4791 Retail sale via mail order houses or via Internet: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.০২
- ISIC 5590 Other accommodation: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.০০
- ISIC 6920 Accounting, bookkeeping and auditing activities; tax consultancy: ভারিত ঝুঁকি-স্কোর ২.০০
এই তালিকাও কর্মসংস্থান-ভারিত নয়। ভারিত ঝুঁকি-স্কোর কোনো শতাংশ নয়, বরং খাতের সব ম্যাচড কাজের যোগফল। যেমন ‘২.৬৯’ মানে এই খাতে অনেক উচ্চ-প্রকাশ কাজ আছে—পুরো খাত ২৬৯% প্রকাশিত, এমন নয়।
নীতি-প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের কাজের বর্তমান গঠন স্বল্প-মেয়াদে অটোমেশন-ধাক্কা থেকে আপেক্ষিক সুরক্ষা দেয়। কিন্তু একই গঠনে এআই-পরিপূরক কাজও কম, যা দীর্ঘ-মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত করে।
এটুআই (a2i) বা এনএসডিএ-র দক্ষতা-পরিকল্পনায় শুধু প্রতিস্থাপিত পেশা থেকে শ্রমিক সরানোই যথেষ্ট নয়। কাজের গঠনে এআই-পরিপূরক অংশ বাড়ানোর জন্য নতুন পেশা ও দক্ষতা তৈরি করা প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদন একটি বহির্তথ্য-উৎসের (Garg et al. ২০২৬) ভিত্তিতে গঠিত। বিবিএস-এলএফএস ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ বিডি-এআইই সূচকের সঙ্গে পদ্ধতিগতভাবে আলাদা। এটিকে সমান্তরাল ক্রস-চেক হিসেবে পড়া উচিত, বিডি-এআইই-র বিকল্প হিসেবে নয়।
তথ্য ও পদ্ধতি
তথ্যের উৎস: Garg, Prashant, Tommaso Crosta ও Jasmin Baier (২০২৬), গ্লোবাল অটোমেশন এটলাস (https://automationatlas.org/paper/)। ১২৪ দেশের প্রতিটির জন্য, ইউএস O*NET ডেটাবেইসের প্রতিটি কাজে এআই কতটা প্রযোজ্য তা এলএলএম-ভিত্তিক মূল্যায়নে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশভেদে কাজগুলোকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে: প্রতিস্থাপন (substitution), পরিপূরক (augmentation), উভয় (both), এবং কোনোটি নয় (neither)। প্রকাশিত কাজের অংশ = প্রতিস্থাপন + পরিপূরক + উভয়। উচ্চ ঝুঁকির অংশ হলো উচ্চ-আস্থায় চিহ্নিত প্রকাশিত কাজ।
এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও পাঁচ গভর্নটুইন সমকক্ষ দেশের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে: ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন।
সীমাবদ্ধতা চারটি:
- ঝুঁকি-স্কোর কর্মসংস্থান-ভারিত নয়। অর্থাৎ কোন পেশা বাংলাদেশের কর্মীশক্তিতে কত বড়, সেই তথ্য এই সংখ্যাগুলোতে নেই।
- ঝুঁকি-লেবেল কর্মসংস্থানের ক্ষতির সরাসরি অনুমান নয়। কোনো কাজ এআই দিয়ে করা যায় কি না, আর সেটি বাস্তবে কতটা প্রয়োগ হবে—দুটি আলাদা প্রশ্ন।
- দেশভেদে বিচার পরিবেশ-চলকের (বিদ্যুৎ, ব্রডব্যান্ড, ইত্যাদি) ভিত্তিতে; কর্মীশক্তির বাস্তব গঠনের ভিত্তিতে নয়।
- এই সংখ্যাগুলো বিবিএস-এলএফএস কর্মী-পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বিডি-এআইই সূচক থেকে পদ্ধতিগতভাবে আলাদা।